ভারতের পরে রাশিয়ার তেল সস্তা মূল্যে পাকিস্তানে পৌঁছেছে 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকেই বিশেষ ছাড়ে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কিনছে ভারত। সেই তেল ভারতে পরিশোধিত হয়ে আবার ইউরোপ, আমেরিকাতে পৌঁছচ্ছে। এতে লাভ হচ্ছে ভারতের সংস্থাগুলোর। অপরদিকে পাকিস্তানের অবস্থা এখন খুবই করুণ। আকাশছোঁয়া দাম হয়েছে পেট্রোলের।

এদিকে রাশিয়ান অপরিশোধিত তেলের প্রতীক্ষিত কার্গো ৫০ হাজার টন তেল নিয়ে রোববার পাকিস্তানের করাচি পোর্ট ট্রাস্টে নোঙর করেছে। রাশিয়ার কাছ থেকে ছাড়ে পাওয়া এই তেল ওমানের বন্দর হয়ে পাকিস্তানের জলসীমায় পৌঁছেছে।

পাকিস্তান স্টেট অয়েলের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, রাশিয়ান অপরিশোধিত পণ্য বহনকারী একটি কার্গো জাহাজ রোববার ভোর ৩টায় করাচি পোর্ট ট্রাস্ট (কেপিটি) এখতিয়ারে পৌঁছেছে এবং আনুষ্ঠানিকভাবে কেপিটিতে নোঙর করেছে।

তিনি বলেন, সোমবার (আজ) থেকে অপরিশোধিত তেল অফলোড করার প্রক্রিয়া শুরু হবে এবং পাকিস্তান রিফাইনারি লিমিটেড (পিআরএল) স্টোরে সংরক্ষণ করা হবে।

ওই কর্মকর্তা বলেন, অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করার পর তেলের গুণমান, ফলন, পরিবহন খরচ এবং বাণিজ্যিক কার্যকারিতা নিয়ে সরকারের কাছে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। প্রতিবেদনের অনুমোদনের পর, সরকার রাশিয়ার সাথে জিটুজি দীর্ঘমেয়াদী চুক্তিতে যাবে।

পাকিস্তানি কর্মকর্তা বলেন, রাশিয়ান কার্গো এক লাখ টন অপরিশোধিত তেল বহনকারী একটি পাইলট জাহাজ ২৭-২৮ মে ওমানে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে সেটি সময়সূচি পিছিয়ে ৭ জুন ডুকম ওমানি বন্দরে পৌঁছায়।

পরে ওমান থেকে ৫০ হাজার টন ধারণক্ষমতার একটি ছোট জাহাজে রাশিয়ান কর্তৃপক্ষ পাকিস্তানে অপরিশোধিত পণ্য পরিবহনের ব্যবস্থা করে। জাহাজটি ডুকমে ফিরে যাবে এবং ২০ জুনের মধ্যে অবশিষ্ট ৫০ হাজার টন অপরিশোধিত তেল পাকিস্তানে আনবে।

পাকিস্তান তার অপরিশোধিত তেলের ৭০ শতাংশ আমদানি করে। এগুলো পিআরএল, ন্যাশনাল রিফাইনারি লিমিটেড, পাক আরব রিফাইনারি লিমিটেড এবং বাইকো পেট্রোলিয়াম পরিশোধন করে।

বাকি ৩০ শতাংশ স্থানীয়ভাবে উৎপাদন এবং পরিশোধন করে অ্যাটক রিফাইনারি লিমিটেডসহ স্থানীয় শোধনাগারগুলো। বৈশ্বিক মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে পাকিস্তান তার তেল আমদানির উৎসকে বৈচিত্র্য আনতে চাইছে বলে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

ইউক্রেনে হামলার পর বহুমুখী নিষেধাজ্ঞায় পড়েছে রাশিয়া। এমন অবস্থায় বিশ্বের অপরিশোধিত তেলের অন্যতম উৎপাদক দেশটি ব্যাপক ছাড়ে তেল বিক্রি করছে। ভারত ব্যাপকভাবে রাশিয়া থেকে তেল ক্রয় বাড়িয়েছে। অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তানও রাশিয়া থেকে তেল ক্রয়ের চেষ্টা করছে।

প্রাথমিকভাবে এক লাখ টন তেল নেবে পাকিস্তান। সেটি ঠিকভাবে বাস্তবায়ন হলে চুক্তি বাড়াবে দুই দেশ। ব্যাংক অব চায়নার মাধ্যমে চীনা মুদ্রা ইউয়ানে রাশিয়াকে তেলের মূল্য পরিশোধ করবে পাকিস্তান।

সূত্র: দ্য নিউজ পিকে

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শেখ হাসিনার বক্তব্য দেয়ার সঙ্গে নয়াদিল্লির কোনও সম্পৃক্ততা নেই-রণধীর জয়সোয়াল


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য দেয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে অবস্থান জানালো ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল জানিয়েছেন, এই আয়োজনটি একটি বেসরকারি সংবাদ সংস্থার এবং এতে ভারত সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই।

৪ আগস্ট ব্রিফিংয়ে ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র দাবি করেন- ওই ফোরামে কোনো মতামত প্রকাশ করা হলে ভারত সরকার এর কোনোটিই সমর্থন করে না। এটি সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি একটি উদ্যোগ এমনটাই স্পষ্ট করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।তিনি স্পষ্ট বলেন, এ মঞ্চ থেকে উত্থিত কোনো বক্তব্যের সমর্থন করে না ভারত। একই সঙ্গে, পুরো বিষয়টির সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পর্ক নেই।

বিষয়টি নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের স্পষ্ট অবস্থান, তবে যতক্ষণ পর্যন্ত আদালতের আদেশ বহাল থাকবে, ততক্ষণ তা সবাইকে মেনে চলতে হবে।

শ্রীলঙ্কার একটি কারাগারে আবারও কয়েদিরা সংঘাত


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

শ্রীলঙ্কার একটি কারাগারে আবারও কয়েদিরা সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছেন। এবারের ঘটনায় এখন পর্যন্ত একজন কয়েদি নিহত এবং ছয়জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি সামলাতে কর্তৃপক্ষ সেনা মোতায়েন করেছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন


সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ