আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

খুবিতে ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেলেন ৪ শিক্ষক

নাহিদ হাসান  খুবি প্রতিনিধি 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪ স্কুলের ৪ জন শিক্ষককে ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড-২০২৩ প্রদান করা হয়েছে। আজ ১২ মে (রবিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় কেন্দ্রীয় গবেষণাগারের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত প্রত্যেক শিক্ষককে তিনি ৫০ হাজার টাকার চেক, সনদপত্র ও মেডেল তুলে দেন উপাচার্য প্রফেসর ড. মাহমুদ হোসেন।
অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকবৃন্দ হলেন- বিজ্ঞান, প্রকৌশল ও প্রযুক্তিবিদ্যা স্কুলভুক্ত কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. অনুপম কুমার বৈরাগী, সামাজিক বিজ্ঞান স্কুলভুক্ত অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দার, জীববিজ্ঞান স্কুলভুক্ত ফার্মেসী ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. শেখ জামাল উদ্দিন এবং কলা ও মানবিক স্কুলভুক্ত বাংলা ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মো. দুলাল হোসেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, শিক্ষা, গবেষণা ও অন্যান্য কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়কে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়কে রিসার্চ ফোকাসড ইউনিভার্সিটি হিসেবে গড়ে তুলতে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থা ও যুগোপযোগী কারিকুলা প্রণয়ন করা হয়েছে। এই কৃতিত্ব শিক্ষকমণ্ডলীর। আজ যে সকল শিক্ষকরা ভাইস-চ্যান্সেলর অ্যাওয়ার্ড পেলেন তাদের গর্বে পুরো বিশ্ববিদ্যালয় গর্বিত।
তিনি বলেন, শিক্ষকরা এখন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশন থেকে গবেষণা অনুদান পাচ্ছেন, কিন্তু আন্তর্জাতিক উৎস থেকে গবেষণা অনুদান কমে গেছে। শিক্ষকদের উচিত এখন গবেষণার জন্য আন্তর্জাতিক উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ করা। টানা দু’বছর ধরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় টাইমস হায়ার এডুকেশন র‌্যাঙ্কিং এবং কিউএস র‌্যাঙ্কিংয়ে স্থান করে নিয়েছে। এই র‌্যাঙ্কিং ধরে রাখতে আরও বেশি গবেষণা প্রয়োজন। এজন্য আন্তর্জাতিক উৎস থেকে তহবিল সংগ্রহ ও বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থার সাথে কোলাবরেশন প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের এখন থেকে ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবতে হবে। এজন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আহ্বানে সাড়া দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব গবেষণা তহবিল ‘রিসার্চ ইনডোমেন্ট ফান্ড’ গঠন করা হয়েছে। এই ফান্ডে ২০ কোটি টাকা জমা হলে, তা দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় নিজেদের গবেষণাকার্য নিজেরাই পরিচালনা করতে পারবে। এই ফান্ডে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৭৫ লাখ টাকা জমা হয়েছে। এই ফান্ডের অর্থ বৃদ্ধিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ডিসিপ্লিনের অ্যালামনাইদের এগিয়ে আসতে তিনি আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ট্রেজারার প্রফেসর অমিত রায় চৌধুরী। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) প্রফেসর খান গোলাম কুদ্দুস। রিসার্চ এন্ড ইনোভেশন সেন্টারের পরিচালক প্রফেসর ড. কাজী মোহাম্মদ দিদারুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সেন্টারের যুগ্ম পরিচালক প্রফেসর ড. তরুণ কান্তি বোস। সঞ্চালনা করেন সেন্টারের যুগ্ম পরিচালক প্রফেসর ড. মাসুদুর রহমান। অনুষ্ঠানে অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে অনুভূতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন অর্থনীতি ডিসিপ্লিনের প্রফেসর ড. মোহাম্মদ জিয়াউল হায়দার। এ সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন স্কুলের ডিন, ডিসিপ্লিন প্রধান, শিক্ষকবৃন্দ ও অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্ত শিক্ষকদের অভিভাবকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

আত্মসাত হওয়া ৬০ লাখ টাকার কাপড়ের রোল নোয়াখালীতে উদ্ধার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকায় নেওয়ার পথে আত্মসাত হওয়া ১৫৩টি কাপড়ের রোল উদ্ধার করেছে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। যার আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা। এসময় আবুল বাসার (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। সোমবার নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কাপড়ের রোলগুলো গুলো উদ্ধার করা হলেও মঙ্গলবার এ তথ্য জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মহানগর গোয়েন্দা (উত্তর) পুলিশের মো. জামির হোসেন জানান, গত ২৪ এপ্রিল রাত সাড়ে ১১টায় কলম্বিয়া অ্যাপারেলস লিমিটেডের আমদানিকৃত ১৬৩টি বিভিন্ন সাইজের কাপড়ের রোল চট্টগ্রাম বন্দর থেকে গাজীপুর নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। যার আনুমানিক মূল্য ৬০ লাখ টাকা। যাওয়ার পথে কার্ভাডভ্যানটি হালিশহর থানাধীন আব্বাসপাড়া টোলরোডস্থ চিটাগাং ফিলিং স্টেশনে রাখা হয়। এরপর দিবগাত রাত ৩টায় কাভার্ডভ্যানটি গাজীপুরের উদ্দেশ্যে রওয়ানা করলেও গাড়ির চালকসহ অন্যরা কাপড়ের রোলগুলো আত্মসাত করেন। এ ঘটনায় হালিশহর থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় তদন্ত শুরু করে ডিবি পুলিশ। গতকাল রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নোয়াখালী জেলার হাতিয়া থানাধীন ১নং হরিণী ইউনিয়নের আজিমনগর এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ৯৬টি কাপড়ের রোল উদ্ধার করা হয়। পরে চর জব্বর থানাধীন চর মজিদ ভুঁইয়ার হাট বাজার এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে আরও ৬৭টি কাপড়ের রোল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত আবুল বাসার (২৬) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করা হয়। অন্যান্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উপকূলে বাড়ছে বজ্রপাতের তাণ্ডব: জীবন রক্ষায় চাই বিশেষ সতর্কতা ও সচেতনতা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

​দক্ষিণাঞ্চলের শস্যভাণ্ডার হিসেবে পরিচিত খুলনা জেলার পাইকগাছাসহ উপকূলীয় উপজেলাগুলোতে এখন বোরো ধান কাটার মহোৎসব চলছে। তবে এই উৎসবের আমেজকে বিষাদে রূপ দিচ্ছে আকাশের ‘অগ্নিঝলক’ বা বজ্রপাত। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই অঞ্চলে বজ্রপাতের প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার প্রধান শিকার হচ্ছেন খোলা মাঠে কর্মরত কৃষকরা।

​পাইকগাছার বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ এবং লোনা পানির ঘের সংলগ্ন এলাকায় কোনো বড় গাছপালা বা উঁচু স্থাপনা নেই। ফলে বজ্রপাতের সময় খোলা মাঠে থাকা কৃষকরাই সরাসরি এর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হচ্ছেন। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের মতে, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা গরম ও আর্দ্র বাতাসের সাথে উত্তরের ঠান্ডা বাতাসের সংঘর্ষে এই উপকূলীয় অঞ্চলে মেঘের ঘর্ষণ বেশি হয়, যার ফলে বজ্রপাতের তীব্রতা ও সংখ্যা দুই-ই বাড়ছে।

​সাধারণত চৈত্র-বৈশাখ মাসে খুলনা অঞ্চলে দুপুরের পর থেকেই কালবৈশাখী ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকে। ঠিক এই সময়েই কৃষকরা ধান কাটা ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত থাকেন। পাইকগাছার অনেক কৃষকের মতে, হঠাত মেঘ জমলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আগেই বজ্রপাত শুরু হয়ে যায়। কাছাকাছি কোনো পাকা দালান বা উঁচু গাছ না থাকায় তারা চরম জীবনের ঝুঁকিতে থাকেন।

​বজ্রপাত থেকে বাঁচতে উপকূলীয় এলাকার মানুষের জন্য বিশেষ কিছু পরামর্শ , আকাশে ঘন কালো মেঘ বা বিদ্যুৎ চমকানো শুরু করলে দ্রুত পাকা দালান বা টিনের চালের নিচে আশ্রয় নিন, বজ্রপাতের সময় মাছের ঘের, নদী বা খোলা ধানখেত থেকে দ্রুত সরে আসতে হবে, বড় গাছ বা বিদ্যুতের খুঁটির নিচে দাঁড়ানো সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ,ছাতা বা কাস্তের মতো ধাতব হাতলযুক্ত কোনো কিছু এ সময় ব্যবহার করবেন না, .কাজ করার সময় রাবারের জুতো বা গামবুট ব্যবহার করলে কিছুটা সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব, বজ্রপাতের সময় মোবাইল ফোন ব্যবহার করা এড়িয়ে চলুন।

​বজ্রপাতকে বর্তমানে জাতীয় দুর্যোগ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারি উদ্যোগে তালগাছ রোপণের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র নির্মাণ এখন সময়ের দাবি। পাইকগাছাসহ দক্ষিণাঞ্চলের কৃষকদের জীবন সুরক্ষায় মাঠ পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতামূলক প্রচার চালানোর জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ