আজঃ রবিবার ৩ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামে বেপরোয়া কিশোর গ্যাং ১০ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে একের পর বেপরোয়া হয়ে ওঠেছে কিশোর গ্যাং। এবার কিশোর গ্যাংরে ‘টর্চার সেলে’ ১০ ঘন্টা নির্যাতনের পর এক কিশোরকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। নির্যাতনের শিকার আরিফ হোসেনের ভাই জাতীয় জরুরি সেবা নম্বরে পুলিশের দ্বারস্থ হয়। পুলিশ রাতভর অভিযান চালিয়ে কিশোরকে উদ্ধারের পাশাপাশি এ ঘটনায় জড়িত আট জনকে গ্রেফতার করে। গ্রেফতার আট জন হলো- হেলাল বাদশা চৌধুরী (২৫), রাকিব হোসেন (২২), মো. কাউসার (২২), মেহেরাজ সামি (২১), শেখ সাদি হাসান (২০), সাগর হোসেন (২৭), আবদুর রহমান (২১) এবং সাইফুল ইসলাম শান্ত (২৬)। এই আটজনের বিরুদ্ধে আরিফের ভাই রাকিব হোসেন বাদী হয়ে একটি এবং পুলিশ বাদী হয়ে অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা দায়ের করেছে।
জানা গেছে, পকেটে একাধিক মোবাইল আছে বুঝতে পেরে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরকে জিম্মি করে মারধর শুরু করে উঠতি বয়সের কয়েক তরুণ; এলাকায় যারা ‘কিশোর গ্যাং’ হিসেবে পরিচিত। প্রথমে তাকে চোর সাজিয়ে মারধর করে চারটি মোবাইল ছিনিয়ে নেয়। এরপর তাকে তুলে নিয়ে ‘টর্চার সেলে’ প্রায় ১০ ঘণ্টা আটকে রেখে নির্যাতনের পাশাপাশি এক লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। নগরীর খুলশী থানার জিইসি মোড়ে এ ঘটনার সূত্রপাত হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।
খুলশী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শেখ মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ জানান, নগরীর জিইসি মোড়সহ আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত বাদশা একটি ‘কিশোর গ্যাং’ পরিচালনা করেন। গ্রেফতার সাত তরুণ ওই চক্রের সদস্য। এদের মধ্যে রাকিব হোসেন নিজেকে ওমরগণি এমইএস কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র বলে পরিচয় দিয়েছেন।
জানা গেছে, রাকিব ছাড়া বাকিদের কেউই পড়ালেখা করেন না। তবে এমইএস কলেজকেন্দ্রিক ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হিসেবে নিজেদের পরিচয় দেন। মূলত এ পরিচয়েই তারা জিইসি মোড়সহ আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
ঘটনার শিকার কিশোর বয়সী আরিফ হোসেন জানান, জিইসি মোড়ে নাসিরাবাদ সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গত শুক্রবার বিকেলে অনুষ্ঠিত ক্রিকেট টুর্নামেন্টে তার বড় ভাই রাকিব হোসেন অংশ নেন। ভাইয়ের খেলা দেখতে তিনি দুপুরে ওই মাঠে যান। এ সময় রাকিব তার নিজের এবং আরও দুই খেলোয়াড়ের দুটি মোবাইল আরিফকে রাখতে দেন। চারটি মোবাইল পকেটে নিয়ে তিনি কিছুক্ষণ খেলা দেখেন। পরে শরবত খাওয়ার জন্য মাঠ থেকে বেরিয়ে রাস্তায় আসেন।
আরিফ বলেন, আমি শরবত খেতে রাস্তায় বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বাদশা ও তার সঙ্গে থাকা আরও ৩/৪ জন আমার সামনে আসে। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তারা প্রথমে আমাকে থাপ্পড় মারে। এরপর আমাকে টেনেহিঁচড়ে তারা পাশে বাটা গলিতে নিয়ে যায়। সেখানে আরও ৩/৪ জন তাদের সঙ্গে যোগ দেয়। তারা আমাকে ঘুষি মারতে মারতে একপর্যায়ে আমার পকেট থেকে মোবাইলগুলো নিয়ে নেয়। তখন বুঝতে পারি, চারটা মোবাইল নেওয়ার কারণে আমার পকেট ফোলা ছিল। সেটা দেখে সেগুলো ছিনতাইয়ের জন্য তারা আমাকে ফলো করছিল।
তিনি বলেন, বাটা গলিতে পথচারীদের কেউ কেউ এসে আমাকে মারছে কেন, সেটা জিজ্ঞেস করেছিল। তারা বলে- আমি না কি মোবাইল চোর, মোবাইল চুরি করেছি এজন্য তারা আমাকে মারছে। এ সময় তারা আমাকে চোর সাজিয়ে মারধরের ভিডিও করে। বিকেল ৩টা থেকে সাড়ে ৩টার দিকে বাদশা আমাকে একটি বাইকে তুলে আকবর শাহ এলাকায় একটি নির্জন জায়গায় নিয়ে যায়। সেখানে রাত ১টা পর্যন্ত আমাকে আটকে রেখে মারধর করে।
নির্যাতনের বর্ণনা দিয়ে ওই কিশোর আরও বলেন, একেকজন আসছিল আর আমাকে মারধর করছিল। কেউ এসে থাপ্পড় মারছে, কেউ এসে লাঠি দিয়ে মেরেছে, কেউ হাতুড়ি দিয়ে হাঁটুতে আঘাত করছে, কেউ লোহার পাইপ দিয়ে মাথায় আঘাত করেছে। চাপাতি দিয়ে আমাকে কয়েকবার পেটে আঘাতের চেষ্টা করেছে। মাথায় অস্ত্র ধরে রেখেও আমাকে ভয় দেখিয়েছে। তখন বাদশা আমার কাছে এক লাখ টাকা দাবি করে। টাকা না দিলে আমাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয়।
ওসি শেখ মোহাম্মদ নেয়ামত উল্লাহ বলেন, আরিফের ভাই রাকিব তাকে উঠিয়ে নিয়ে যাওয়ার খবর জানতে পেরে ট্রিপল নাইনে ফোন দেয়। এর ভিত্তিতে আমরা অভিযান শুরু করি। বাটা গলি এবং আশপাশের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে জড়িতদের শনাক্ত করি। প্রথমে আরিফকে যে বাইকে করে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল, সেটা বাকলিয়া এলাকা থেকে জব্দ করি এবং সঙ্গে আবদুর রহমানকে গ্রেফতার করি।
তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আকবর শাহ্ থানার ইস্পাহানি রেলগেট এলাকায় পাহাড়িকা পেট্রোল পাম্পের পেছনে অভিযান চালাই। সেখান থেকে আরিফকে উদ্ধার করি এবং বাদশাসহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করি। সেই জায়গাটি বাদশা ও তার সহযোগীরা মূলত টর্চার সেল হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল বলে আমরা জানতে পেরেছি।
ওসি জানান, অভিযানে আরিফের ছিনিয়ে নেওয়া চারটি মোবাইল সেট, ঘটনায় ব্যবহৃত কিরিচ, লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া, হেলাল বাদশা চৌধুরীর দেওয়া তথ্যানুযায়ী বাটা গলিতে অভিযান চালিয়ে একটি এলজি ও দু’টি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে।
খুলশী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নুরুল আবছার বলেন, প্রাথমিক তদন্তে আমরা জানতে পেরেছি, আরিফের কাছে থাকা চারটি মোবাইল ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে কিশোর গ্যাং লিডার বাদশা ও তার সহযোগীরা। মোবাইল দিতে না চাওয়ায় তাকে প্রথমে বাটা গলিতে নিয়ে মারধর করা হয়। এরপর সেগুলো কেড়ে নিয়ে তাকে আবার তুলে নিয়ে আকবরশাহ এলাকায় যায়। সেখানে তাকে অন্তত ঘণ্টা দশেক অর্থাৎ আমরা উদ্ধার করা পর্যন্ত আটকে রেখে অনবরত পেটানো হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নেত্রকোণায় বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের উদ্যোগে বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নেত্রকোণায় বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবস পালিত হয়েছে। বাংলাদেশ প্রেসক্লাব নেত্রকোণা জেলা শাখার উদ্যোগে দিনটি উপলক্ষে র‌্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।

রবিবার (৩ মে) জেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার সংলগ্ন মূল সড়কে র‌্যালি ও বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব নেত্রকোণা জেলা শাখার মোক্তারপাড়াস্থ অস্থায়ী কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশ প্রেস ক্লাব নেত্রকোণা জেলা শাখার আহবায়ক মাহমুদুল হাসান শামীম তালুকদার এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট আলোচক প্রফেসর ননী গোপাল সরকার।

এ সময় আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন সিনিয়র সাংবাদিক অরবিন্দ ধর, সিনিয়র সাংবাদিক অধ্যাপক বিজয় দাস, সাংবাদিক সুস্হির সরকার,সাংবাদিক সারোয়ার, সাংবাদিক মোনায়েম খান, সাংবাদিক মানিক মিয়া, প্রভাষক সিরাজুল ইসলাম খান সোহেল,মেহেদী হাসান,সম্পাদক ও প্রকাশক ডেইলি নেত্রনিউজ,সাংবাদিক ওবায়দুল ইসলাম সাগর,সাংবাদিক মনিরুল ইসলাম,সাংবাদিক হাবীবুর রহমান,মাহবুব আলম, রফিক প্রমুখ।

ভাঙ্গুড়ায় অবৈধ মাটি কাটার অভিযোগে যুবককে পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদন্ড।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভাঙ্গুড়ায় অবৈধভাবে মাটি কাটার দায়ে এক যুবক কে পঞ্চাশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। শনিবার ২ মে বিকাল ৩ টার দিকে উপজেলাধীন খানমরিচ ইউনিয়ন এর মহিষবাথান এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে মোঃ শহিদুল ইসলাম (৪০), পিতা-
মো: আলহাজ্ব আফজাল প্রাং, সাং-মহিষবাথান, ভাঙ্গুড়া, পাবনা কে বালুমহাল ও মাটি ব্যাবস্থাপনা আইন, ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে ৫০,০০০ (পঞ্চাশ হাজার) টাকা জরিমানা করা হয়।
ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট জনাব মিজানুর রহমান। এ সময় ভাঙ্গুড়া থানার এসআই সুব্রত কুমার সহ পুলিশ টিম সার্বিক সহযোগিতা প্রদান করে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার কার্যক্রম চলছিল, যা কৃষিজমি ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছিল। বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এলে দ্রুত ভ্রাম্যমাণ আদালতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) জনাব মিজানুর রহমান জানান, অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবেশ ধ্বংসের বিরুদ্ধে প্রশাসনের এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ