আজঃ রবিবার ১৫ মার্চ, ২০২৬

পানির স্ত্রোতে তলিয়ে যাওয়া আজিজুল হাকিম ইমন

চট্টগ্রামে খাল থেকে জেলে ও শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে বর্ষণের মধ্যে চট্টগ্রামে খাল থেকে দু’জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে আছাদগঞ্জে চাক্তাই খালে এবং বোয়ালখালী উপজেলায় ছন্দারিয়া খাল থেকে লাশ দু’টি উদ্ধার করা হয়। এদিকে খালে পড়ে নিহত হওয়া যুবকের পরিচয় মিলেছে। গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ জানিয়েছে, ওই যুবক নগরীর একটি বেসরকারি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি খালের পাশে প্রস্রাব করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে ডুবে মারা গেছেন।
এর আগে ২৭ মে বিকেলে নগরীর আছাদগঞ্জে চাক্তাই খালে ওই কলেজ শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত আজিজুল হাকিম ইমন (২২) নগরীর ২৫ নম্বর রামপুরা ওয়ার্ডের এয়াকুব আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এলাকার কাজী মোহাম্মদ ইকবালের ছেলে। তিনি ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাথরঘাটা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পুলক খাস্তগীর জানান, বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে নগরীর আছাদগঞ্জের শুটকিপট্টির পেছনে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় চাক্তাই খাল থেকে এক যুবককে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এরপর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কাউন্সিলর বলেন, খালের শুটকিপট্টির পেছনের অংশ এক সপ্তাহ আগেও ময়লা-আবর্জনায় ভরা ছিল। আমরা সেটা পরিষ্কার করেছি। বৃষ্টি এবং জোয়ারের কারণে পানির তীব্র স্রোত ছিল। দূর থেকে শুটকিপট্টির কয়েকজন তাকে পড়ে গিয়ে তলিয়ে যেতে দেখে। এ সময় কয়েক যুবক খালে নেমে দ্রুততার সঙ্গে তাকে তীরে তুলে আনে। চাক্তাই খালের তীরে ছেলেটি কেন গিয়েছিল, সেটা কেউ জানে না। ছেলেটিকে কেউ চিনতেও পারছে না।
কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম ওবায়দুল হক বলেন, যুবকের বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। পরনে সাদা গেঞ্জি ও জিনসের প্যান্ট ছিল। সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমরা খবর পেয়ে হাসপাতালে যাই।
কোতোয়ালি থানার উপ পরিদর্শক (এস আই) বাবুল পাল জানান, বিকেলের দিকে নগরীর আসাদগঞ্জ কলাবাগিচা খাল থেকে আজিজুল হক ইমনকে উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফেসবুক পোস্ট দেখে ইমনের পরিবারের সদস্যরা এসে তার লাশ শনাক্ত করেন।
এসআই বাবলু পাল বলেন, ইমনের মানসিক সমস্যা আছে বলে তার পরিবার আমাদের জানিয়েছে। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় সে তার মাকে বলেছে, আমি হজে যাচ্ছি। ইমন যে জায়গা থেকে খালে পড়েছে সেটা খুব সরু। সেখানে মানুষ প্রস্রাব করে। টানা বৃষ্টিতে খালের পাড় পিচ্ছিল ছিল। খালে স্রোত ছিল। সে ওই জায়গায় বসে প্রস্রাব করার সময় অসাবধানতাবশত খালে পড়ে ডুবে মারা গেছে।
এদিকে, দুপুর আড়াইটার দিকে বোয়ালখালী উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নের বাদুরতলা এলাকায় ছন্দারিয়া খালে ভেসে আসা মনসুল আলম (৬০) নামে একজনের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। মৃত মনসুর আলমের বাড়ি ওই ইউনিয়নে। বোয়ালখালী থানার ওসি আছহাব উদ্দিন বলেন, আমরা তথ্য পেয়েছি, বৃষ্টির মধ্যে সকালে তিনি খালে মাছ ধরতে বের হয়েছিলেন। দুপুরে উনার লাশ ভেসে আসে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয়দের ধারণা, জাল ফেলার পর টেনে তুলতে গিয়ে তিনি খালে পড়ে গিয়ে মারা গেছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় নগরীর ডিসি হিলে এই কার্যক্রমে অংশ নেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলার সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সামনে বর্ষাকাল আসছে। তার আগেই যদি আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে পারি তাহলে ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসী উপকৃত হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধটাই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। সরকার এ কাজে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম মাসব্যাপী চলছে। এ কাজে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা ও পরিষ্কার করা। চট্টগ্রামে যেসব জায়গা বেশি অরক্ষিত, যেখানে ডেঙ্গু বেশি বিস্তার ঘটতে পারে সেগুলো আমরা পরিষ্কার করব এবং নিরাপদ ও সুস্থ চট্টগ্রাম আমরা গড়ে তুলব।
বেলুন উড়িয়ে মাসব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রশাসনের কর্মকর্তারা, স্কাউটের সদস্য এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা অংশ নেন। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে’ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

চট্টগ্রামে রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে আগুন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম
নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে আগুন
ছবি-৩
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম মহানগরে বাংলাদেশ রেলওয়ের প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের (সিসিএস) কার্যালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়তলী এলাকায় অবস্থিত এই কার্যালয়ে শুক্রবার রাতে কার্যালয়ের একটি অংশে হঠাৎ করে আগুন লাগে। খবর পেয়ে রাত ১১টা ২৫ মিনিটে আগ্রাবাদ ফায়ার স্টেশন থেকে দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স চট্টগ্রাম কন্ট্রোল রুম। এদিকে প্রাথমিকভাবে আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত করে কিছু জানাতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা।
পাহাড়তলীতে অবস্থিত প্রধান সরঞ্জাম নিয়ন্ত্রকের এই কার্যালয় থেকে বাংলাদেশ রেলওয়ের বিভিন্ন সরঞ্জাম, যন্ত্রপাতি ও প্রয়োজনীয় মালামাল সংরক্ষণ ও সরবরাহ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ