আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

পানির স্ত্রোতে তলিয়ে যাওয়া আজিজুল হাকিম ইমন

চট্টগ্রামে খাল থেকে জেলে ও শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে বর্ষণের মধ্যে চট্টগ্রামে খাল থেকে দু’জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে আছাদগঞ্জে চাক্তাই খালে এবং বোয়ালখালী উপজেলায় ছন্দারিয়া খাল থেকে লাশ দু’টি উদ্ধার করা হয়। এদিকে খালে পড়ে নিহত হওয়া যুবকের পরিচয় মিলেছে। গতকাল মঙ্গলবার পুলিশ জানিয়েছে, ওই যুবক নগরীর একটি বেসরকারি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন। তিনি খালের পাশে প্রস্রাব করতে গিয়ে অসাবধানতাবশত পানিতে পড়ে ডুবে মারা গেছেন।
এর আগে ২৭ মে বিকেলে নগরীর আছাদগঞ্জে চাক্তাই খালে ওই কলেজ শিক্ষার্থীর লাশ উদ্ধার করা হয়। নিহত আজিজুল হাকিম ইমন (২২) নগরীর ২৫ নম্বর রামপুরা ওয়ার্ডের এয়াকুব আলী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ এলাকার কাজী মোহাম্মদ ইকবালের ছেলে। তিনি ইসলামিয়া ডিগ্রি কলেজের ইংরেজি বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পাথরঘাটা ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পুলক খাস্তগীর জানান, বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে নগরীর আছাদগঞ্জের শুটকিপট্টির পেছনে কর্ণফুলী নদীর মোহনায় চাক্তাই খাল থেকে এক যুবককে উদ্ধার করে স্থানীয়রা। এরপর তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
কাউন্সিলর বলেন, খালের শুটকিপট্টির পেছনের অংশ এক সপ্তাহ আগেও ময়লা-আবর্জনায় ভরা ছিল। আমরা সেটা পরিষ্কার করেছি। বৃষ্টি এবং জোয়ারের কারণে পানির তীব্র স্রোত ছিল। দূর থেকে শুটকিপট্টির কয়েকজন তাকে পড়ে গিয়ে তলিয়ে যেতে দেখে। এ সময় কয়েক যুবক খালে নেমে দ্রুততার সঙ্গে তাকে তীরে তুলে আনে। চাক্তাই খালের তীরে ছেলেটি কেন গিয়েছিল, সেটা কেউ জানে না। ছেলেটিকে কেউ চিনতেও পারছে না।
কোতোয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) এস এম ওবায়দুল হক বলেন, যুবকের বয়স আনুমানিক ২৫ থেকে ৩০ বছরের মধ্যে। পরনে সাদা গেঞ্জি ও জিনসের প্যান্ট ছিল। সন্ধ্যা ৭টার দিকে আমরা খবর পেয়ে হাসপাতালে যাই।
কোতোয়ালি থানার উপ পরিদর্শক (এস আই) বাবুল পাল জানান, বিকেলের দিকে নগরীর আসাদগঞ্জ কলাবাগিচা খাল থেকে আজিজুল হক ইমনকে উদ্ধার করে স্থানীয় লোকজন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ফেসবুক পোস্ট দেখে ইমনের পরিবারের সদস্যরা এসে তার লাশ শনাক্ত করেন।
এসআই বাবলু পাল বলেন, ইমনের মানসিক সমস্যা আছে বলে তার পরিবার আমাদের জানিয়েছে। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় সে তার মাকে বলেছে, আমি হজে যাচ্ছি। ইমন যে জায়গা থেকে খালে পড়েছে সেটা খুব সরু। সেখানে মানুষ প্রস্রাব করে। টানা বৃষ্টিতে খালের পাড় পিচ্ছিল ছিল। খালে স্রোত ছিল। সে ওই জায়গায় বসে প্রস্রাব করার সময় অসাবধানতাবশত খালে পড়ে ডুবে মারা গেছে।
এদিকে, দুপুর আড়াইটার দিকে বোয়ালখালী উপজেলার পোপাদিয়া ইউনিয়নের বাদুরতলা এলাকায় ছন্দারিয়া খালে ভেসে আসা মনসুল আলম (৬০) নামে একজনের লাশ উদ্ধার করে স্থানীয়রা। মৃত মনসুর আলমের বাড়ি ওই ইউনিয়নে। বোয়ালখালী থানার ওসি আছহাব উদ্দিন বলেন, আমরা তথ্য পেয়েছি, বৃষ্টির মধ্যে সকালে তিনি খালে মাছ ধরতে বের হয়েছিলেন। দুপুরে উনার লাশ ভেসে আসে। স্থানীয়রা উদ্ধার করে বোয়ালখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। স্থানীয়দের ধারণা, জাল ফেলার পর টেনে তুলতে গিয়ে তিনি খালে পড়ে গিয়ে মারা গেছেন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব র‍্যাফেল ড্র বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের উদ্যোগে আয়োজিত র‍্যাফেল ড্র–এর বিজয়ীদের পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান সোমবার (২৬ জানুয়ারি) ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদ, সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, ক্রীড়া সম্পাদক রুবেল খান, পাঠাগার সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আব্দুল্লাহ, কার্যকরী সদস্য সাইফুল ইসলাম শিল্পী ও আরিচ আহমেদ শাহসহ প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ।

এ সময় বিজয়ী মোট ৩০ জন সদস্যের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়। আনন্দঘন ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানটি সদস্যদের মধ্যে উৎসাহ ও ভ্রাতৃত্ববোধ আরও দৃঢ় করেছে। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সদস্যগণ পেশাগত জীবনে র‍্যাফেল ড্র’তে পুরস্কারপ্রাপ্তি এবং অপ্রাপ্তি নিয়ে তাদের স্মৃতিচারণ করেন। অনুষ্ঠানে বিজয়ীদের আন্তরিক অভিনন্দন জানানো হয়।

সিভাসু’তে ‘দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনে শীর্ষক ১০ দিনের প্রশিক্ষণ ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি ও এনিম্যাল সাইন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিভাসু) ‘দ্গ্ধুজাত পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাতকরণ’ শীর্ষক দশ দিনের প্রশিক্ষণ কর্মসূচি আজ মঙ্গলবার শেষ হয়েছে। সিভাসু’র পোল্ট্রি রিসার্চ অ্যান্ড ট্রেনিং সেন্টার (পিআরটিসি) এবং ডেইরি ও পোল্ট্রি সাইন্স বিভাগের যৌথ উদ্যোগে এবং সমবায় অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন দুগ্ধ ঘাটতি উপজেলায় দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ শীর্ষক প্রকল্পের অর্থায়নে এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
মঙ্গলবার সকাল ১০টায় পিআরটিসি’র বোর্ড মিটিং কক্ষে প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন সমবায় অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও নিবন্ধক মো. ইসমাইল হোসেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ, ঢাকার যুগ্ম সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) সুব্রত কুমার সিকদার। এছাড়া, বিশেষ অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক ও প্রকল্প পরিচালক (প্রেষণ) তোফায়েল আহম্মদ এবং বাংলাদেশ ডেইরি অ্যান্ড ফ্যাটেনিং ফার্মার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও সিভাসু’র সিন্ডিকেট সদস্য মোহাম্মদ ইকবাল হোসাইন। সভাপতিত্ব করেন পিআরটিসি’র পরিচালক প্রফেসর ড. এ. কে. এম. হুমায়ুন কবির। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন সিভাসু’র প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ড. মো: ইনকেয়াজ উদ্দিন। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়।

দশ দিনের এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে দুধ থেকে দই, মিষ্টি, মাখন, ঘি, পনির, ছানা, লাবাং, বোরহানি, মাঠা ইত্যাদি তৈরির বিষয়ে হাতেকলমে প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়। প্রশিক্ষণ প্রদান করেন সিভাসু’র ডেইরি ও পোল্ট্রি সাইন্স বিভাগের প্রফেসর গৌতম কুমার দেবনাথ, প্রফেসর ড. এ. কে. এম. হুমায়ুন কবির, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আবুল হোসেন, প্রফেসর ড. মো: সাইফুল বারী ও ডা. উম্মে সালমা আমিন,

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম নিবন্ধক ও প্রকল্প পরিচালক (প্রেষণ) তোফায়েল আহম্মদ, সিভাসু’র প্রিন্সিপাল সাইন্টিফিক অফিসার ড. মো: ইনকেয়াজ উদ্দিন, জেলা কৃত্রিম প্রজনন কেন্দ্র, চট্টগ্রামের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ ওমর ফারুক, বিএসটিআই চট্টগ্রামের ফিল্ড অফিসার (সার্টিফিকেশন মার্কস উইং) প্রকৌ. মো: মাহফুজুর রহমান এবং ট্রেড গ্লোবাল লিমিটেড, ঢাকার সিনিয়র সার্ভিস ইঞ্জিনিয়ার মো: শরিফ হোসেন।

প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে ব্রাহ্মনবাড়িয়া, কুতুবদিয়া ও চকরিয়া অঞ্চলের দুগ্ধ ঘাটতি উপজেলায় দুগ্ধ সমবায়ের কার্যক্রম সম্প্রসারণ প্রকল্পের ২৫ জন সমবায় সমিতির সদস্য অংশগ্রহণ করেন।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ