আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় প্রাণনাশের হুমকি!

বাবুল আহমেদ মানিকগঞ্জ :

মানিকগঞ্জ:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার কলতা অভয়াচরণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচনে দুই অভিভাবক সদস্য প্রার্থীকে হত্যার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়টির সাবেক সভাপতির বিরুদ্ধে। এছাড়া এক প্রার্থীকে ভয় দেখিয়ে প্রত্যাহার ফরমে স্বাক্ষর নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি ভুক্তভোগীর।

এ ঘটনায় ভুক্তভোগী অভিভাবক সদস্য প্রার্থী মোঃ সোহানুর রহমান ও মো: জুলহাস হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় ঘিওর থানায় পৃথক দুটি অভিযোগ করেন। এরমধ্যে মোঃ সোহানুর রহমান হরিরামপুর উপজেলার গালা ইউনিয়ন আওয়ামী যুবলীগের লীগের সভাপতি। অপরদিকে মো: জুলহাস হোসেন নালী ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আগামী ১৫ জুন কলতা অভয়াচরণ বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নির্বাচন। এই নির্বাচনে অভিভাবক সদস্য পদে প্রার্থী হিসেবে গত বুধবার (২৯ মে) মনোনয়ন ফরম ক্রয় করার পর থেকে বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটির সাবেক সভাপতি মো. মঞ্জুর আলম খানের নির্দেশে আরিফুল ইসলাম সহ অজ্ঞাতনামা ২০ থেকে ২৫ জন বিবাদী ভুক্তভোগী দুই প্রার্থী মোঃ সোহানুর রহমান ও মো: জুলহাস হোসেনকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে এবং নির্বাচন থেকে সড়ে না দাঁড়ালে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে। পরবর্তীতে, গত বৃহস্পতিবার (৩০ মে) দুপুরে বিবাদীগণ কলতা বাজার থেকে অন্যান্য বিবদীগণদের সহায়তায় মোঃ সোহানুর রহমানের নিকট থেকে নির্বাচন হতে সরে দাড়ানোর জন্য জোরপূর্বক একটি প্রত্যাহার নামায় স্বাক্ষর নেয় এবং মো: জুলহাস হোসেনকে আরেকটি প্রত্যাহার নামায় জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়ার চেষ্টা করে। এছাড়াও বিবাদীগণ অনবরত মোঃ সোহানুর রহমান ও মো: জুলহাস হোসেনকে প্রাণনাশের হুমকি প্রদান করে আসছে বলে উল্লেখ করা হয় অভিযোগ পত্রে।

অভিভাবক সদস্য প্রার্থী মোঃ সোহানুর রহমান বলেন, মন্জুর আলম খান দীর্ঘদিন সভাপতি ছিলেন। নতুন আইন অনুযায়ী কেউ দুইবারের বেশি সভাপতি হতে পারবেন না, তাই এবার তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না।। এ কারণে তিনি চাচ্ছেন তার ছায়া হিসেবে কেউ সভাপতি হোক, যাকে সে নিজে নিয়ন্ত্রণ করবে। মন্জুর আলম খান তার লোকজন দিয়ে আমাকে এবং আরেকজন প্রার্থীকে বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি দেখাচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। ২০-২৫টা মোটরসাইকেল নিয়ে আমাদের বাড়ির সামনে দিয়ে মহড়া দেওয়াচ্ছে। আমরা খুবই শঙ্কায় আছি। আমরা নিরাপত্তা চাই এবং নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতে চাই।

আরেক অভিভাবক সদস্য প্রার্থী মো: জুলহাস হোসেন বলেন, মন্জুর আলম খান নির্বাচনের জন্য বিএনপি নেতাদের নিয়ে প্যানেল গঠন করেছে। তার প্যানেলে যুক্ত না হলে নির্বাচন করতে বাধা দিচ্ছে এবং বিভিন্ন ধরনের হুমকি প্রদান করছে।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোঃ মঞ্জুর আলম খান বলেন, কে বা কারা হুমকি দিয়েছে আমার জানা নেই। সেসময় আমি তো এলাকাতেই ছিলাম না। অভিযোগের বিষয়েও আমি কিছু জানিনা।

এ নিয়ে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সুকুমার বিশ্বাস বলেন, বিষয়টি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

বোয়ালখালীতে বসতঘর চুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীর বসতঘরে ভেন্টিলেটর ভেঙে নিয়ে গেছে নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার। উপজেলার পোপাদিয়ার আকুবদন্ডী মিনা গাজী মাজার এলাকার প্রবাসী জয়নাল মাস্টারের ঘরে এ ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে পরিবারের সদস্যরা নগরী থেকে বাড়িতে এসে এ ঘটনা জানতে পারেন।

পরিবারের সদস্য প্রবাসী মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন মানিক জানান, তার বড় ভাই জয়নাল মাস্টার গত সপ্তাহে পরিবার নিয়ে নগরের হালিশহরে মেয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সেমি-পাকা ঘরের ভেন্টিলেটর ভেঙে চোরের দল প্রবেশ করেছে। তারা আলমারি ভেঙে প্রায় ২ ভরি স্বর্ণের গয়না ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে এবং ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র এলোমেলো করে রেখেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ মামুন বলেন, ‘জয়নাল মাস্টার ঘরে না থাকার সুবাদে চোরের দল এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বলা হয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ