মাদকাসক্ত ভাতিজার হাতে চাচা খুন

ওবায়দুর রহমান গৌরীপুর ময়মনসিংহ।

ময়মনসিংহ:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে চাচা আব্দুল বারেক হাদিস (৫৫)কে মারধর করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে মাদকাসক্ত ভাতিজা শাকিব উল্লাহ(৩২) ও রাজিবউল্লাহ(২৮) এর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মারধরের ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার তাতিরপায়া গ্রামে। চাচা আব্দুল বারেক হাদিস ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাতে মারা যায়।
এর আগে মারামারির ঘটনায় গৌরীপুর থানায় নিহতের ছেলে আনোয়ার (২০) বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং- ৫, তারিখ- ০৬/০৬/২০২৪ইং।
নিহত আব্দুল বারেক হাদিস মাওহা ইউনিয়নের তাতিরপায়া গ্রামের মৃত শাহনেওয়াজের ছেলে। খুনী শাকিব উল্লাহ (৩২) নিহতের আপন ভাই আব্দুল মোতালেব এর ছেলে।
স্থানীয় ও মামলাসূত্রে জানা গেছে, খুনি শাকিব উল্লাহ’র ভাই রাজিবুল্লাহ (২৮) আনুমানিক ৪ বছর পূর্বে এক সন্তানের জননী আপন চাচাতো ভাই বিল্লাল এর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া করে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে ও গত ৫মাস পূর্বে ভাই মুনসুর আলী ও চাচাতো বোন সুলেমাকে পিঠিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলো চাচা হাদিস।
প্রতিবাদের ঘটনায় পূর্ব থেকেই শাকিব ক্ষুব্ধ ছিলো চাচার প্রতি। মঙ্গলবার রাতে নিহত ব্যক্তি এশার নামাযের পর তার প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে পুকুর পাড়ে যায়। খুনি শাকিব পুকুর পাড়ে মাছ ধরার কোঁচ নিয়ে বসে নেশা করছিল। হাদিস মিয়া ফিরার পথে সাকিবউল্লাহ তাঁর মুখে অনবরত টর্চ মারতে থাকে। মুখে টর্চ মারার ঘটনার প্রতিবাদ করায় শাকিব তাঁর হাতে থাকা কোচের লাঠি দিয়ে চাচার মাথায়, হাত ও পায়ে বেদম প্রহার করে রক্তাক্ত আহত করে। এ ঘটনার পর পরিবারের লোকজন হাদিসকে গুরুতর আহতবস্থায় উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। সেখানেও তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার গভীর রাতে আহত হাদিস মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা মাদকাসক্ত খুনি শাকিব উল্লাহর ও তার ভাইয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সুমন চন্দ্র রায় বলেন, মারামারির ঘটনায় গৌরীপুর থানায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। যা বর্তমানে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে। ঘটনার মূল আসামী ২ ভাইকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি রাখার মামলায় যুবককে কারাদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে অবৈধ অস্ত্র ও গুলি রাখার মামলায় মো. হাবিবুল্লাহ ওরফে হাবিব (৩৭) নামের এক যুবককে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন একটি আদালত। সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-৮ এর বিচারক আফরোজা জেসমিন কলি এ রায় দেন।একই মামলায় তাকে আরও সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।দণ্ডপ্রাপ্ত হাবিবুল্লাহ পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার ধানীসাফা ইউনিয়নের সাফা বাজার মাওলানা তাজাম্বার আলী হাওলাদার বাড়ির চুন্নু মিয়ার ছেলে।রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানামূলে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, ছয়জন সাক্ষীর সাক্ষ্য ও উপস্থাপিত প্রমাণে অবৈধভাবে আগ্নেয়াস্ত্র ও গুলি রাখার অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় আদালত তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দেন। এছাড়া অন্য একটি ধারায় সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মামলার নথি থেকে জানা গেছে, ২০২১ সালের ১৯ জুন নগরের চান্দগাঁও থানার পশ্চিম মোহরা শিল্পনগরী এলাকার মেহরাজ খান চৌধুরী ঘাটসংলগ্ন ইউনিক বোর্ড মিলের (হাবিব কার্টুন ফ্যাক্টরি) ভেতরে অভিযান চালায় পুলিশ। এসময় হাবিবুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়।অভিযানে তার কাছ থেকে দুটি দেশীয় তৈরি এলজি ও তিন রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। পরে এ ঘটনায় চান্দগাঁও থানায় অস্ত্র আইনে মামলা করা হয়। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে পুলিশ। পরে ২০২১ সালের ২৩ নভেম্বর আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে মামলাটির রায় ঘোষণা করেন আদালত।

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন হিসেবে ফাহিম আহমেদ নামে আরও এক তরুণকে আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে সন্দেহভাজন হিসেবে ফাহিম আহমেদ নামে আরও এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে, তুহিন ও আনাস নামের দুই তরুণকে আটক করা হয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস।

সহকারী পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতিমের নিখোঁজের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। পরে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়েছে। দুইনজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে ফাহিম আহমেদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক। তিনি বলেন, তুহিন ও আনাসকে আটকের পর ফাহিমকে আটক করা হয়।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ