আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

মাদকাসক্ত ভাতিজার হাতে চাচা খুন

ওবায়দুর রহমান গৌরীপুর ময়মনসিংহ।

ময়মনসিংহ:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে চাচা আব্দুল বারেক হাদিস (৫৫)কে মারধর করে খুন করার অভিযোগ উঠেছে মাদকাসক্ত ভাতিজা শাকিব উল্লাহ(৩২) ও রাজিবউল্লাহ(২৮) এর বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে মারধরের ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার তাতিরপায়া গ্রামে। চাচা আব্দুল বারেক হাদিস ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার দিবাগত রাতে মারা যায়।
এর আগে মারামারির ঘটনায় গৌরীপুর থানায় নিহতের ছেলে আনোয়ার (২০) বাদী হয়ে ৩ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। যার মামলা নং- ৫, তারিখ- ০৬/০৬/২০২৪ইং।
নিহত আব্দুল বারেক হাদিস মাওহা ইউনিয়নের তাতিরপায়া গ্রামের মৃত শাহনেওয়াজের ছেলে। খুনী শাকিব উল্লাহ (৩২) নিহতের আপন ভাই আব্দুল মোতালেব এর ছেলে।
স্থানীয় ও মামলাসূত্রে জানা গেছে, খুনি শাকিব উল্লাহ’র ভাই রাজিবুল্লাহ (২৮) আনুমানিক ৪ বছর পূর্বে এক সন্তানের জননী আপন চাচাতো ভাই বিল্লাল এর স্ত্রীর সাথে পরকীয়া করে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে ও গত ৫মাস পূর্বে ভাই মুনসুর আলী ও চাচাতো বোন সুলেমাকে পিঠিয়ে মাথা ফাটিয়ে দেয়। এসব ঘটনার প্রতিবাদ করেছিলো চাচা হাদিস।
প্রতিবাদের ঘটনায় পূর্ব থেকেই শাকিব ক্ষুব্ধ ছিলো চাচার প্রতি। মঙ্গলবার রাতে নিহত ব্যক্তি এশার নামাযের পর তার প্রকৃতির ডাকে সারা দিতে পুকুর পাড়ে যায়। খুনি শাকিব পুকুর পাড়ে মাছ ধরার কোঁচ নিয়ে বসে নেশা করছিল। হাদিস মিয়া ফিরার পথে সাকিবউল্লাহ তাঁর মুখে অনবরত টর্চ মারতে থাকে। মুখে টর্চ মারার ঘটনার প্রতিবাদ করায় শাকিব তাঁর হাতে থাকা কোচের লাঠি দিয়ে চাচার মাথায়, হাত ও পায়ে বেদম প্রহার করে রক্তাক্ত আহত করে। এ ঘটনার পর পরিবারের লোকজন হাদিসকে গুরুতর আহতবস্থায় উদ্ধার করে গৌরীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসে। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। সেখানেও তার শারিরীক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শনিবার গভীর রাতে আহত হাদিস মারা যান।
এ ঘটনায় নিহতের স্বজনরা মাদকাসক্ত খুনি শাকিব উল্লাহর ও তার ভাইয়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবী করেছেন।
গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সুমন চন্দ্র রায় বলেন, মারামারির ঘটনায় গৌরীপুর থানায় ইতোমধ্যে মামলা হয়েছে। যা বর্তমানে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়েছে। ঘটনার মূল আসামী ২ ভাইকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

বোয়ালখালীতে বসতঘর চুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীর বসতঘরে ভেন্টিলেটর ভেঙে নিয়ে গেছে নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার। উপজেলার পোপাদিয়ার আকুবদন্ডী মিনা গাজী মাজার এলাকার প্রবাসী জয়নাল মাস্টারের ঘরে এ ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে পরিবারের সদস্যরা নগরী থেকে বাড়িতে এসে এ ঘটনা জানতে পারেন।

পরিবারের সদস্য প্রবাসী মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন মানিক জানান, তার বড় ভাই জয়নাল মাস্টার গত সপ্তাহে পরিবার নিয়ে নগরের হালিশহরে মেয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সেমি-পাকা ঘরের ভেন্টিলেটর ভেঙে চোরের দল প্রবেশ করেছে। তারা আলমারি ভেঙে প্রায় ২ ভরি স্বর্ণের গয়না ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে এবং ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র এলোমেলো করে রেখেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ মামুন বলেন, ‘জয়নাল মাস্টার ঘরে না থাকার সুবাদে চোরের দল এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বলা হয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ