আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

ঈদুল আজহায় অতিরিক্ত ট্রেন’ ঈদে বন্ধ আন্তঃদেশীয় তিন ট্রেন

আনোয়ার হোসেন ডিমলা নিলফামারী:

নিলফামারী:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আগামী ১৭ জুন বাংলাদেশে পালিত হবে ঈদুল আজহা।
এই সময়ে বাংলাদেশের অতিরিক্ত ট্রেন পরিচালনা করা হবে।
বিভিন্ন রুটে ট্রেনের যাত্রা ঠিক রাখতে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে চলা
তিনটি আন্তঃদেশীয় যাত্রীবাহী ট্রেন বন্ধ রাখা হচ্ছে।
ঢাকা-কলকাতা রুটের মৈত্রী এক্সপ্রেস,
খুলনা – কলকাতার মধ্যে চলাচলকারী বন্ধন এক্সপ্রেস
এবং ঢাকা-নিউজলপাইগুড়ি রুটের মিতালী এক্সপ্রেস বন্ধ থাকবে।
১৪ থেকে ২২ জুন পর্যন্ত মৈত্রী এক্সপ্রেস, ১৬ থেকে ২০ জুন পর্যন্ত বন্ধন এক্সপ্রেস, ১২ থেকে ২০ জুন মিতালী এক্সপ্রেস বাতিল করা হয়েছে। ঈদের পর এই ট্রেন তিনটি পুনরায় আগের মতোই যাতায়াত করবে।

এই তিন ট্রেনের ভাড়াও বাড়ানো হয়েছে

ডলারের মূল্যবৃদ্ধির কারণে আন্তঃদেশীয় ৩টি ট্রেন মৈত্রী এক্সপ্রেস, বন্ধন এক্সপ্রেস এবং মিতালী এক্সপ্রেসের ভাড়া বাড়াচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আগামী ১৫ জুন থেকে নতুন ভাড়া কার্যকর হবে।
ঢাকা-কলকাতার মধ্যে চলাচল করা মৈত্রী এক্সপ্রেস ট্রেনের এসি সিটের বর্তমান ভাড়া ৪ হাজার ৯০০ টাকা। নতুন করে এসি সিটের ভাড়া ৫ হাজার ১১০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর ১৪০ টাকা বাড়িয়ে এসি চেয়ার আসনের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ হাজার ৭৪০ টাকা।
ঢাকা-খুলনার মধ্যে চলাচল করা আরেকটি ট্রেন বন্ধন এক্সপ্রেস। এতে বর্তমানে এসি সিটে ২ হাজার ৯৫০ টাকা থেকে ভাড়া বাড়িয়ে ৩ হাজার ৫৫ টাকায় করা হয়েছে। ৭০ টাকা বাড়িয়ে এসি চেয়ারের ভাড়া ২ হাজার ৩৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঢাকা-শিলিগুড়ির মধ্যে চলাচল করা মিতালী এক্সপ্রেস ট্রেনে এসি বার্থ আসনের বর্তমান ভাড়া ৬ হাজার ৭২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭ হাজার ২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। ২৩০
টাকা বাড়িয়ে এসি সিটের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ৫২০ টাকা। আর ১৫৫ টাকা বাড়িয়ে এসি চেয়ারের ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ হাজার ১৫ টাকা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাংলাদেশ ঐতিহাসিক আপোষহীন নেতৃত্ব হারাল – সৈয়দ মোস্তফা আলম মাসুম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন মানচিত্র নিয়ে ৫৫ বৎসর যাবৎ দাঁড়িয়ে আছে। সেই যুদ্ধের দীর্ঘ সময়ের বন্দী বাংলাদেশের একটি অতি সাধারণ মহিলা খালেদা জিয়া। যিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান ঘোষক, মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী।

আজ আমাদের বাংলাদেশের কোটি মানুষের প্রাণস্পন্দন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মহান রাব্বুল আলামীনের ডাকে সাড়া দিয়ে না ফেরার দেশে। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজেউন) শহীদ জিয়াউর রহমানের ১৯৮১ সালের ৩০ মে শাহাদাত বরণের দীর্ঘ পথ চলায় অসীম ধৈর্য্যরে সাথে প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন গৃহবধু বেগম খালেদা জিয়া। সাধারণ গৃহবধু থেকে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই পরিণত হন বাংলাদেশের ইতিহাসে আপোষহীন নেতৃত্বের একমাত্র মালিক।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এ কৃতিত্বের মালিক তাঁকেই মানিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের ১৯৯০ এর স্বৈরাচার পতনের পর গণ রায়ে নিরব ব্যালট বিপ্লবই বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের বাংলাদেশের প্রায় ১৮টি সংসদীয় আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। এই ইতিহাস একমাত্র তিনিই সৃষ্টি করেছেন।

বাংলাদেশের মানুষের আস্থা অর্জনের কারণেই কেবলমাত্র এটা সম্ভব হয়েছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়েই শিশু সন্তানকে নিয়ে কারাবন্দী। পরবর্তী বাংলাদেশেও আন্দোলন সংগ্রামের জন্য বার বার কারাবন্দী। দেশের মানুষের অন্তরে স্থান করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থানকারী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের আপোষহীন আইডল।

বিএনপি বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তরে স্থান করে নিয়েছে শহীদ জিয়ার আদর্শের এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের কারণেই। বাংলাদেশের মানুষের জন্য দেশনেত্রীর মৃত্যু অত্যন্ত শোকের।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী দেশনেত্রী বেগম জিয়াকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় কারাবন্দী করেছে পতিত সরকার। সে সময়ে কারাগারে দিনের পর দিন শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এই দেশনেত্রী। তার পরও পতিত সরকারের কাছে আপোষ করেন নি। পর্যায়ক্রমে দেশনেত্রীর শরীরে বিভিন্ন রোগের আক্রমণ হতে থাকে।বাংলাদেশের মানুষের চাওয়া ছিল দেশনেত্রী যাতে পতিত সরকারের পতন দেখে যেতে পারেন। রাব্বুল আলামীন তাঁর এ আশা এবং জনগণের আখাক্সক্ষা পূরণ করেছেন।

দেশনেত্রী বাংলাদেশের জনগণের অগাঢ় আস্থার প্রতীক। তাঁর অসীম ধৈর্য্যরে, সাহসিকতার এবং গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামের জন্য- এই আস্থা। বর্তমানে বাংলাদেশের একমাত্র দেশপ্রমিক দল বিএনপিকে এই আস্থা ধরে রাখতে হবে। শোককে দেশপ্রেমিক জনগণ শক্তিতে পরিণত করতে হবে। বাংলাদেশের তৃণমূলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে শক্তি যোগাতে হবে।

বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে দেশনেত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বকে ধারণ করে তাঁর সুযোগ্য সন্তান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণকে সাহস দিয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসতে এবং সচেতন হওয়াটাই এ সময়ের জন্য অনেকাংশে জরুরী।

এর মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি পরিবারের সদস্য একজন সফল প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, তাঁর কনিষ্ঠ সন্তান রাজনীতি না করেও ১/১১ তে নির্যাতিত আরাফাত রহমান কোকো এবং বাংলাদেশের অসীম ধৈর্য্যরে অধিকারী আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেশবাসী হারালেন।

মহান রাব্বুল আলামীনের নিকট দোয়া কামনা করি শহীদ জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো ও বেগম খালেদা জিয়াকে বেহেস্তের সর্বোচ্চ স্থানে স্থান যেন পান। কি অদ্ভুত রাব্বুল আল আমীনের সাদৃশ্য! ১৯৮১ সালের ৩০ মে শহীদ জিয়ার শাহাদাত হওয়া এবং ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেশের মানুষকে কাঁদিয়ে বিদায় নেওয়া।

যেন “৩০ মে ও ৩০ ডিসেম্বর” তারিখের এই মিল বাংলাদেশের মানুষ আজীবন স্মরণ রাখবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শক্তির সকল পর্যায়ের এবং বাংলাদেশের অপরাপর সকল রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতি আহ্বান- আসুন আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে এই মাতৃভূমি বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য শহীদ জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে, দেশনেত্রীর দীর্ঘ আপোষহীন নেতৃত্বকে সবসময় স্মরণ করে তারেক রহমান এর নেতৃত্বকে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

তাহলেই বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে এবং তখনই বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ ও সুফল ভোগ করবে এই প্রতাশা সবার।

 

“আপোষহীন নেতৃত্বের প্রতীক বেগম খালেদা জিয়া—ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম”

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বেগম খালেদা জিয়া গৃহবধূ থেকে রাজনীতিতে এসে ৪১ বছর পার করেছেন।১৯৮৪ সালের ১০ মে কাউন্সিলের মাধ্যমে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপাসন নির্বাচিত হন তিনি। এরপর থেকে মৃত্যুর দিন পর্যন্ত দলের চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেছেন দেশনেত্রী। 

বিএনপি চেয়ারপারসনের দায়িত্বে থাকার পাশাপাশি তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবেও নির্বাচিত হয়েছেন খালেদা জিয়া। এরশাদবিরোধী আন্দোলনের পর খালেদা জিয়াকে দেওয়া হয় আপসহীন নেত্রীর উপাধি। তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হয়ে ইতিহাস গড়েন।

বিএনপির চেয়ারপারসন আপসহীন নেত্রী, দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের ধারক, তিনবারের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী, সবচেয়ে বেশিসংখ্যক সংসদীয় আসনে একসময়কার বিজয়ী, আপসহীন সংগ্রামে দুটি স্বৈরশাসনকে (’৮২-৯০, ২০০৭-০৮) বিদায় দেওয়ার অসামান্য কৃতিত্বের অধিকারী বেগম খালেদা জিয়া। সময়ের পরিক্রমায় সাধারণ গৃহবধূ থেকে আপসহীন নেত্রী তিনি। যাঁকে বাংলাদেশের মানুষ ‘আপোষহিন নেত্রী’র খেতাব দিয়েছে। কিন্তু কেন তাঁকে এই উপাধী দেয়া হলো তা হয়ত জানে না এখনকার প্রজন্ম। জানার কথাও না। বিগত ১৬ বছরে সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হয়েছিলো বাংলাদেশের ইতিহাস থেকে জিয়া পরিবারের ভূমিকা মুছে ফেলার। কিন্তু পারেনি, বরং খালেদা জিয়া এখন বিএনপির ঐক্যের প্রতীক থেকে জাতীয় ঐক্যের প্রতীকে রূপান্তরিত হয়েছেন। এক সময়কার চার দেয়ালের মাঝ থেকে বেরিয়ে বিএনপির মত বড় দলের অভিযাত্রায় জেল, জুলুম, চিকিৎসাহীনতা সহ্য করে তিনি আপোষহীন নেত্রীর তকমা পেয়েছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর দলের ভবিষ্যৎ নিয়ে সৃষ্টি হয় অনিশ্চয়তা। ঠিক এ সময়ই বেগম খালেদা জিয়া দলের নেতৃত্ব নেন। বহুদলীয় গণতান্ত্রিক রাজনীতির চর্চার যে পথ সৃষ্টি করেছিলেন জিয়াউর রহমান, বেগম খালেদা জিয়া সেই পথ ধরেই এগিয়ে নেন বিএনপিকে। তার নেতৃত্বের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় ১৯৯০ সালে পতন হয় স্বৈরশাসক এরশাদের। ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিজয়ী হয় এবং তিনি বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ২০০১ সালেও বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন।

টানা ৪১ বছরেরও বেশি সময় ধরে জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থেকে তার। পাশাপাশি সইতে হয়েছে অচিন্তনীয় অমানবিক নির্যাতন। সশস্ত্র হুমকিতেও দেশ ছেড়ে যাননি শুধু বাংলাদেশের মানুষের পাশে থাকার জন্য। কর্মগুণে ও সততায় হয়ে গেছেন বাংলাদেশের ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।
আপোষহীন নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া জীবনের প্রতিটি অধ্যায়ে প্রমাণ করেছেন, ক্ষমতার প্রলোভন বা নিপীড়নের ভয়—কোনোটিই তাকে জনগণের স্বার্থ থেকে সরাতে পারেনি। “আপোষহীন নেত্রী” উপাধি তিনি পেয়েছেন রাজপথে রক্ত, কারাবাস ও অটল অবস্থানের বিনিময়ে।

১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি একটি অবাধ ও সুষ্ঠু সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন বেগম জিয়া। তার প্রধানমন্ত্রীত্বকালে বাংলাদেশ সংসদীয় গণতন্ত্রে পরিণত হয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তার মেয়াদে কিছু বড় অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল। কর্মসংস্থানের হার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায় এই সময় এবং শুধুমাত্র তৈরি পোশাকশিল্প খাতেই পাঁচ বছরে কর্মসংস্থানের বৃদ্ধি ছিল ২৯%। প্রায় দুই লাখ নারী এই সময় তৈরি পোশাকশিল্প খাতে যোগ দিয়েছেন।
তিনি জাতিসংঘে গঙ্গার পানি-বণ্টনের সমস্যা উত্থাপন করেন যাতে বাংলাদেশ গঙ্গার পানির ন্যায্য অংশ পায়। ১৯৯২ সালে তাকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানানো হলে সেখানে তিনি রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের সমস্যা উত্থাপন করেন এবং পরে মিয়ানমার সরকার ১৯৯০ দশকের প্রথম দিকে বাংলাদেশে আসা রোহিঙ্গা মুসলিম শরণার্থীদের প্রত্যাবাসনের জন্য বাংলাদেশের সাথে একটি চুক্তি করে।
স্বৈরাচার এরশাদবিরোধী আন্দোলনের পর ১৯৯১ সালে তিনি বাংলাদেশের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। এ পর্যন্ত তিন দফায় প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন খালেদা জিয়া। ১৯৯৩ সালে তিনি সার্কের প্রথম মহিলা চেয়ারপারসন হন।
১৯৯৬ সালে বিএনপির নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর খালেদা জিয়া টানা দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হন, কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর এবং পুনরায় নির্বাচনে অংশ নেওয়ার প্রতিশ্রুতির কারণে, তিনি এক মাসের মধ্যে পদত্যাগ করেন। যদিও বিএনপি ১৯৯৬ সালের জুনের নতুন নির্বাচনে হেরে যায়, দলটি বাংলাদেশের ইতিহাসে সংসদে সবচেয়ে বড় বিরোধী দল হিসেবে ১১৬টি আসন পায় সেই নির্বাচনে।
বিএনপি ১৯৯৯ বেগম জিয়ার নেতৃত্বে সালে বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি, জামায়াতে ইসলামী এবং ইসলামী ঐক্যজোটের সাথে চারদলীয় জোট গঠন করে এবং ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি আন্দোলন কর্মসূচি শুরু করে। বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি ও সন্ত্রাস নির্মূলের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ২০০১ সালের নির্বাচনে জয়ী হন। ফোর্বস ম্যাগাজিন নারী শিক্ষা ও নারীর ক্ষমতায়নে তার ভূমিকার জন্য ২০০৫ সালে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাধর নারীদের তালিকায় তাকে ২৯ নম্বরে স্থান দেয়।২০০১ সালের ১ অক্টোবরের নির্বাচনে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বাধীন চারদলীয় জোট নির্বাচনে জয়লাভের পর তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠন করে।
২০০৬ সালে, তিনি একটি তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করেন। ২০০৭ সালের সেপ্টেম্বরে, তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্বাসনে পাঠানোর একাধিক প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হয়ে দুর্নীতির তুচ্ছ এবং ভিত্তিহীন অভিযোগে স্বৈরাচারী সরকার গ্রেপ্তার করে।
ক্ষমতায় থাকাকালীন, খালেদা জিয়ার সরকার বাধ্যতামূলক বিনামূল্যে প্রাথমিক শিক্ষা, মেয়েদের জন্য দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা, ছাত্রীদের জন্য একটি শিক্ষা “উপবৃত্তি” এবং শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য খাদ্য প্রবর্তন করে শিক্ষা ক্ষেত্রে যথেষ্ট অগ্রগতি করেছিল। তার সরকার সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ২৭ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩০ বছর করে এবং শিক্ষা খাতে সর্বোচ্চ বাজেট বরাদ্দ করে।
বেগম জিয়া কোনো আসনেই পরাজিত না হওয়ার অনন্য রেকর্ডের অধিকারী। তিনি ১৯৯১ থেকে ২০০১ সালের সাধারণ নির্বাচনগুলোতে পাঁচটি পৃথক সংসদীয় আসনে নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০০৮ সালে, তিনি যে তিনটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন সেখানে তিনি জয়লাভ করেছিলেন।
২০০৯ সাল থেকে, যখন শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার বাংলাদেশকে একটি কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত করে, তখন তিনি গণতন্ত্রের জন্য তার লড়াই নতুন করে শুরু করেছিলেন। সরকার তাকে জোরপূর্বক তার বাড়ি থেকে বের করে দেয় এবং গণতন্ত্রের জন্য আন্দোলন শুরু করায় তাকে দুইবার গৃহবন্দী করা হয়ে। গণতন্ত্রের প্রতি তার ভূমিকার জন্য, তাকে ২০১১ সালে নিউ জার্সির স্টেট সিনেট “গণতন্ত্রের জন্য যোদ্ধা” উপাধিতে সম্মানিত করে।

পলাতক ফ্যাসিস্ট হাসিনার ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়ে মিথ্যা বানোয়াট মামলায় জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় ২০১৮ সালে বেগম খালেদা জিয়াকে ১৭ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। শুধুমাত্র আকাশচুম্বী জনপ্রিয়ই বেগম খালেদা জিয়ার অপরাধ।

“ভেবেছিলেন, আপস করবেন? দেশ ছেড়ে পালাবেন? না! ইতিহাস বলে, তিনি আপসহীন। ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৮, আদালতের বারান্দায় দাঁড়িয়ে তিনি জানিয়ে দিলেন — গণতন্ত্রের লড়াইয়ে কারাবাসই যদি হয় তার ভাগ্য, তবে তা তিনি মাথা পেতে নেবেন।”
২০২০ সালের কান্ট্রি রিপোর্টস অন হিউম্যান রাইটস প্র্যাকটিস প্রতিবেদনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের স্টেট ডিপার্টমেন্ট আন্তর্জাতিক এবং দেশীয় আইন বিশেষজ্ঞদের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছে যে, মূলত নির্বাচনী প্রক্রিয়া থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি রাজনৈতিক চক্রান্ত হিসেবেই তাঁকে সাজা দেয়া হয়েছিল। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে তার “ন্যায্য বিচারের অধিকারকে সম্মান করা হচ্ছে না।”
“আমি কোনো অন্যায় করিনি। আমি জনগণের জন্য রাজনীতি করি। আমার ওপর যে রায় দেয়া হয়েছে, তা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কিন্তু আমি মাথানত করবো না।
“দেশত্যাগ অথবা কারাগার— আওয়ামী লীগ সরকারের এমন শর্তের সামনে দাঁড়িয়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বেছে নিয়েছিলেন কারাগার। বিনা অপরাধে তাকে বন্দি করা হয়। শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বাস্তবায়ন করতে এক-এগারোর সেনাসমর্থিত সরকারের দায়ের করা মিথ্যা মামলায় ফরমায়েশি রায় ঘোষণা করা হয়।”
“নির্জন কারাগারে একাকী তিন বছর কাটান তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। অসুস্থতা তাকে কাবু করলেও, নত করেনি। তার পরিবারের পক্ষথেকে বিদেশে চিকিৎসার আবেদন বারবার নাকচ করে দেয় ফ্যাসিস্ট হাসিনার সরকার।”
হাসিনার সাজানো মিথ্যা দুর্নীতির মামলায় দণ্ডিত হয়ে ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি কারাগারে যান খালেদা জিয়া। দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ হলে ছয় মাসের জন্য সাজা স্থগিত করে ২০২০ সালের ২৫ মার্চ খালেদা জিয়াকে শর্ত সাপেক্ষে মুক্তি দেয় সরকার। তিনি বাসায় থেকে চিকিৎসা নেবেন এবং বিদেশে যেতে পারবেন না, এমন শর্তে সাজা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। সেই থেকে বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনি। এর মধ্যে কয়েক দফায় লিভার সিরোসিস, হার্টের জটিলতাসহ নানা রোগে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। বর্তমানে মেডিক্যাল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডন নিয়ে যাওয়া হয় বেগম জিয়া কে। দীর্ঘদিন বিনা চিকিৎসার কারনে নানাবিধ জটিল রোগে আক্রান্ত ১৮ কোটি মানুষের প্রিয় নেত্রী উন্নত চিকিৎসার জন্য লন্ডনের ডাক্তারদের অধীন চিকিৎসাধীন আছেন।
“২৫ মার্চ ২০২১, সরকারের নির্বাহী আদেশে শর্তসাপেক্ষে মুক্তি পান দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া। কিন্তু এটি ছিল একধরনের গৃহবন্দিত্ব। চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে চাইলেও, ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার শর্ত দেয়— রাজনীতি ছাড়তে হবে! কিন্তু আপসহীন বেগম খালেদা জিয়া তাতে রাজি হননি।”
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, বাংলাদেশের ইতিহাসে এক নতুন সকাল। ফ্যাসিবাদের পতন চূড়ান্ত হয়। নির্যাতন ও গৃহবন্দিত্বের অবসান ঘটে, মুক্তি পান নিরপরাধ খালেদা জিয়া। গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম দিনেই বাংলাদেশের জনগণ তাদের নেত্রীকে স্বাগত জানায়, ফিরে আসে ন্যায়বিচার ও গণতন্ত্রের স্বপ্ন।
গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। ৬ আগস্ট হাসিনার কোর্টের দেওয়া সাজা মওকুফ করেন রাষ্ট্রপতি। তিন বছরের গৃহবন্দিত্ব শেষে মুক্ত হয়ে তিনি ফিরে আসেন জনতার মাঝে, আর বাংলাদেশের রাজপথ ফিরে পায় তার অদম্য নেত্রীকে।
আজ বেগম খালেদা জিয়া কেবল একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী নন; তিনি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক চেতনার এক জীবন্ত প্রতীক। ক্ষমতার লোভ, কারাবাস, নির্যাতন—কোনো কিছুই তার রাজনৈতিক বিশ্বাসকে নড়াতে পারেনি। তার এই মৃত্যুতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গন স্বীকার করে—এদেশে গণতন্ত্রের পথ যতবার বিপন্ন হয়েছে, ততবার তিনি ছিলেন লড়াইয়ের সম্মুখসারিতে।

রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ৩৭ দিন দেশবিদেশের ডাক্তার-নার্সদের নিরলস পরিশ্রম আর দেশবাসী সহ বিশ্বের অগনিত মানুষের দোয়া সব কিছু বিফলে ফেলে ৩০ ডিসেম্বর মহান আল্লাহর ডাকে চলে গেছেন এই দুনিয়ার মায়া চেড়ে । শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের অজস্র সৈনিকের রাজনৈতিক মা, প্রিয় নেত্রী এদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব বেগম খালেদা জিয়া। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। বাংলাদেশ যতোদিন থাকবে ততোদিন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রতীক হিসেবে আমাদের মাঝে বেচে থাকবেন অনন্তকাল। তিনি শুধু শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সহধর্মিণীই নন, বরং নিজ গুণে ও নেতৃত্বে নিজেকে একজন শক্তিশালী ও শ্রদ্ধেয় জাতীয় নেত্রী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। গণতন্ত্রের জন্য তাঁর সংগ্রাম, আপসহীন মনোভাব এবং দেশপ্রেম ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য এক বিশাল অনুপ্রেরণা।

মা, মাটি ও মানুষের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এ দেশের জনগণের হৃদয়ে চিরকাল অম্লান হয়ে থাকবেন। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে তিনি গণতন্ত্রের প্রশ্নে আপসহীন ও অবিস্মরণীয় এক নেত্রী হিসেবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন। মহান আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের দরবারে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রূহের মাগফিরাত কামনা করছি এবং বিনীত ফরিয়াদ জানাই—মহান আল্লাহ যেন তাঁকে জান্নাতের সর্বোচ্চ মাকাম দান করেন।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ