আজঃ বুধবার ২৯ এপ্রিল, ২০২৬

বাংলাদেশ ঐতিহাসিক আপোষহীন নেতৃত্ব হারাল – সৈয়দ মোস্তফা আলম মাসুম

লেখক: সাবেক ছাত্রদল নেতা, ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, বিএনপি নেতা, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে একটি স্বাধীন মানচিত্র নিয়ে ৫৫ বৎসর যাবৎ দাঁড়িয়ে আছে। সেই যুদ্ধের দীর্ঘ সময়ের বন্দী বাংলাদেশের একটি অতি সাধারণ মহিলা খালেদা জিয়া। যিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান ঘোষক, মুক্তিযোদ্ধা মেজর জিয়াউর রহমানের সহধর্মিনী।

আজ আমাদের বাংলাদেশের কোটি মানুষের প্রাণস্পন্দন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া মহান রাব্বুল আলামীনের ডাকে সাড়া দিয়ে না ফেরার দেশে। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্নাইলাহি রাজেউন) শহীদ জিয়াউর রহমানের ১৯৮১ সালের ৩০ মে শাহাদাত বরণের দীর্ঘ পথ চলায় অসীম ধৈর্য্যরে সাথে প্রতিটি পদক্ষেপ নিয়েছিলেন গৃহবধু বেগম খালেদা জিয়া। সাধারণ গৃহবধু থেকে আন্দোলন সংগ্রামের মাধ্যমেই পরিণত হন বাংলাদেশের ইতিহাসে আপোষহীন নেতৃত্বের একমাত্র মালিক।

বাংলাদেশের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটে এ কৃতিত্বের মালিক তাঁকেই মানিয়েছে। যার ফলশ্রুতিতে বাংলাদেশের ১৯৯০ এর স্বৈরাচার পতনের পর গণ রায়ে নিরব ব্যালট বিপ্লবই বাংলাদেশের ইতিহাসে গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হন। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ১৯৯১, ১৯৯৬, ২০০১ ও ২০০৮ সালের বাংলাদেশের প্রায় ১৮টি সংসদীয় আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। এই ইতিহাস একমাত্র তিনিই সৃষ্টি করেছেন।

বাংলাদেশের মানুষের আস্থা অর্জনের কারণেই কেবলমাত্র এটা সম্ভব হয়েছিল। স্বাধীনতা যুদ্ধের সময়েই শিশু সন্তানকে নিয়ে কারাবন্দী। পরবর্তী বাংলাদেশেও আন্দোলন সংগ্রামের জন্য বার বার কারাবন্দী। দেশের মানুষের অন্তরে স্থান করে জনপ্রিয়তার শীর্ষে অবস্থানকারী বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের আপোষহীন আইডল।

বিএনপি বাংলাদেশের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তরে স্থান করে নিয়েছে শহীদ জিয়ার আদর্শের এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আপোষহীন দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের কারণেই। বাংলাদেশের মানুষের জন্য দেশনেত্রীর মৃত্যু অত্যন্ত শোকের।

২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারী দেশনেত্রী বেগম জিয়াকে ষড়যন্ত্রমূলক মামলায় কারাবন্দী করেছে পতিত সরকার। সে সময়ে কারাগারে দিনের পর দিন শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন এই দেশনেত্রী। তার পরও পতিত সরকারের কাছে আপোষ করেন নি। পর্যায়ক্রমে দেশনেত্রীর শরীরে বিভিন্ন রোগের আক্রমণ হতে থাকে।বাংলাদেশের মানুষের চাওয়া ছিল দেশনেত্রী যাতে পতিত সরকারের পতন দেখে যেতে পারেন। রাব্বুল আলামীন তাঁর এ আশা এবং জনগণের আখাক্সক্ষা পূরণ করেছেন।

দেশনেত্রী বাংলাদেশের জনগণের অগাঢ় আস্থার প্রতীক। তাঁর অসীম ধৈর্য্যরে, সাহসিকতার এবং গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামের জন্য- এই আস্থা। বর্তমানে বাংলাদেশের একমাত্র দেশপ্রমিক দল বিএনপিকে এই আস্থা ধরে রাখতে হবে। শোককে দেশপ্রেমিক জনগণ শক্তিতে পরিণত করতে হবে। বাংলাদেশের তৃণমূলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে শক্তি যোগাতে হবে।

বাংলাদেশের গণতন্ত্র রক্ষার সংগ্রামে দেশনেত্রীর বলিষ্ঠ নেতৃত্বকে ধারণ করে তাঁর সুযোগ্য সন্তান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে বাংলাদেশের সর্বস্তরের জনগণকে সাহস দিয়ে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় এগিয়ে আসতে এবং সচেতন হওয়াটাই এ সময়ের জন্য অনেকাংশে জরুরী।

এর মধ্যে বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি পরিবারের সদস্য একজন সফল প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, তাঁর কনিষ্ঠ সন্তান রাজনীতি না করেও ১/১১ তে নির্যাতিত আরাফাত রহমান কোকো এবং বাংলাদেশের অসীম ধৈর্য্যরে অধিকারী আপোষহীন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেশবাসী হারালেন।

মহান রাব্বুল আলামীনের নিকট দোয়া কামনা করি শহীদ জিয়া, আরাফাত রহমান কোকো ও বেগম খালেদা জিয়াকে বেহেস্তের সর্বোচ্চ স্থানে স্থান যেন পান। কি অদ্ভুত রাব্বুল আল আমীনের সাদৃশ্য! ১৯৮১ সালের ৩০ মে শহীদ জিয়ার শাহাদাত হওয়া এবং ২০২৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দেশের মানুষকে কাঁদিয়ে বিদায় নেওয়া।

যেন “৩০ মে ও ৩০ ডিসেম্বর” তারিখের এই মিল বাংলাদেশের মানুষ আজীবন স্মরণ রাখবে।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী শক্তির সকল পর্যায়ের এবং বাংলাদেশের অপরাপর সকল রাজনৈতিক গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতি আহ্বান- আসুন আমরা সকলে ঐক্যবদ্ধভাবে এই মাতৃভূমি বাংলাদেশকে রক্ষার জন্য শহীদ জিয়ার আদর্শকে ধারণ করে, দেশনেত্রীর দীর্ঘ আপোষহীন নেতৃত্বকে সবসময় স্মরণ করে তারেক রহমান এর নেতৃত্বকে দক্ষিণ এশিয়ায় প্রতিষ্ঠিত করার জন্য ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা প্রয়োজন।

তাহলেই বাংলাদেশ বিশ্ব দরবারে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারবে এবং তখনই বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনতার প্রকৃত স্বাদ ও সুফল ভোগ করবে এই প্রতাশা সবার।

 

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দেড় মাসের শিশু নিয়ে কারাগারে যাওয়া মায়ের মুক্তি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুলকে হত্যাচেষ্টার মামলায় দেড় মাসের মেয়েকে নিয়ে কারাগারে যাওয়া যুব মহিলা লীগের কর্মী শিল্পী বেগম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।বুধবার বেলা ১২টার কিছু আগে কাশিমপুর কারাগার থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। এসময় পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।শিল্পীর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, গতকাল দুপুরে জামিন নামঞ্জুর করে শিল্পীকে কারাগারে পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে জামিন পান তিনি।

শিল্পীর স্বামী রহিম হোসেন সোহাগ বলেন-গরমে বাচ্চাটা একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ওর মা তো আগে থেকেই অসুস্থ। টেনশনের কারণে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছে।শিল্পী বেগম ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

তেজকুনিপাড়ার রেলওয়ে কলোনি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।স্বজনরা সে সময় বলেছিলেন, গত ৪ মার্চ ঢাকার আদ-দ্বীন হাসপাতাল সি সেকশনের মাধ্যমে শিল্পীর সন্তানের জন্ম হয়। এর পর বাথরুমে পড়ে বাঁ হাত ভেঙে যায় শিল্পীর।

জামিন নাকচ হওয়ার পর শিল্পী বলেন-সিজারের কাটা জায়গায় এখনো ব্যথা করে। বাচ্চাকে ঠিকমত খাওয়াতে পারি না। ও তো মরে যাবে।দেড় মাসের শিশুকে নিয়ে কারাগারে মা’– এমন খবর প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানামুখি আলোচনা শুরু হয়। সন্ধ্যায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক দিক বিবেচনা করে শিল্পীকে জামিন দেন।

রাতুলের হত্যা চেষ্টা মামলার বিবরণে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চানখারপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুল। সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান৷ সেখানে ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী তাদের আক্রমণ করেন।

পরে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় এজাহারভুক্ত আসামিরাসহ অচেনা ১২০/১৩০ জন ওই শিক্ষার্থীর তেজগাঁওয়ের বাসায় হামলা চালায়। বাসার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র ভাংচুর করায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। তিন লাখ টাকার বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান আসামিরা। শিল্পী ও অন্য আসামিরা ওই শিক্ষার্থীর বাবা সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ জানুয়ারি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১০৩ জনের নাম উল্লেখ করে অচেনা ১২০/১৩০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থী রাতুলের মা শাহনুর খানম তেজগাঁও থানায় মামলা করেন।

গ্যাস সরবরাহ কম, জ্বালানি সংকট চাকা ঘুরছেনা চট্টগ্রামের ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রের, চরম ভোগান্তি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে, ফলে ভ্যাপসা গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়, এমনকি দেখা দিয়েছে পানির সংকটও।জ্বালানি সংকটের কারণে এসব বিদ্যাৎকেন্দ্রগুলোর চাকা বন্ধ রয়েছে। যার ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। উৎপাদন কমে আসলেও গরমের কারণ বাড়ছে চাহিদা। ফলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে বাড়ছে ভোগান্তি। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, বৈশাখ মাসের গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।ফটিকছড়ির ব্যবসায়ী হামিদুল ইসলাম বলেন, দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। দোকানে অনলাইনভিত্তিক কাজ করতে হয়। বিদ্যুৎ ছাড়া কাজ করা যায় না। আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।পিডিবির চট্টগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান জানান, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া ও জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী লোডশেডিং কমবেশি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২১১ দশমিক ২০ মেগাওয়াট। উৎপাদন হয় ১ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। তবে এর মধ্যে ১৪২ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করায় স্থানীয়ভাবে ৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। এর আগে বেলা ১১টায় চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১ হাজার ২০০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ৯০ মেগাওয়াট।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি কেন্দ্র উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে এনলিমা (১১৬ মেগাওয়াট), জুডিয়াক (৫৪ মেগাওয়াট), জুলধা-২ ও ৩ (প্রতিটি ১০০ মেগাওয়াট), রাউজান ১ ও ২ (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট) এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্ট উল্লেখযোগ্য। পিডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা ১১টায় ১১টি ও সন্ধ্যা ৭টায় ১৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ছিল শূন্যের কোঠায়। এরমধ্যে ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সকাল-সন্ধ্যা উৎপাদনের বাইরে ছিল। এর মধ্যে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সকালে কিছু উৎপাদন মিললেও সন্ধ্যায় তা শূন্যে নেমে আসে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র দুটি।

বর্তমানে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত নির্ভর করছে কয়েকটি কেন্দ্রের ওপর। সন্ধ্যার হিসাব অনুযায়ী বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ৬১২ মেগাওয়াট, শিকলবাহা কেন্দ্র থেকে ২১৮ মেগাওয়াট এবং মিরসরাইয়ের বি-আর পাওয়ার কেন্দ্র থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেছে।

আলোচিত খবর

সৌদি আরব থেকে আসছে আরো ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সৌদি আরব থেকে ১ লাখ টন অপরিশোধিত তেল নিয়ে একটি জাহাজ চট্টগ্রামের পথে রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, আগামী ৫ মে রাতে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। রোববার চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে অপরিশোধিত তেল নিয়ে জাহাজটি আসছে।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের পতেঙ্গায় অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত তেল শোধনাগার ইস্টার্ণ রিফাইনারীতে (ইআরএল) কাঁচামাল হিসেবে ক্রুড অয়েল ব্যবহৃত হয়। আমদানিকৃত ক্রুড এখানে পরিশোধনের পর সরবরাহ করা হয় জ্বালানি তেল বিপণনকারী কোম্পানিগুলোর কাছে। মধ্যপ্রাচ্য সংঘাতের কারণে ক্রুড অয়েল আনতে না পারায় কাঁচামাল সংকটে গত ১২ এপ্রিল থেকে রিফাইনারিটির প্রধান প্ল্যান্টসহ দুটি প্ল্যান্ট বন্ধ রয়েছে। নতুন চালান এলে ইউনিট দুটি পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে সক্ষম হবে।

চট্টগ্রাম ইস্টার্ন রিফাইনারির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শরীফ হাসনাত জানান, সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নাইনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজ এক লাখ টন ক্রুড অয়েল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে আসছে। এটি এরইমধ্যে লোহিত সাগর অতিক্রম করেছে এবং নিরাপদ রুট ধরে বঙ্গোপসাগরের দিকে এগোচ্ছে। ইয়েমেন উপকূলের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে জাহাজটি বিকল্প পথ ব্যবহার করছে।

তিনি বলেন, জাহাজটি সৌদি আরবের ইয়ানবু বন্দর থেকে ২১ এপ্রিল সকালে যাত্রা শুরু করে। এর আগে, রাতভর তেল লোডিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। এই চালান দেশে পৌঁছালে ইস্টার্ন রিফাইনারির উৎপাদন কার্যক্রম স্বাভাবিক করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে। কাঁচামালের সংকটে সম্প্রতি শোধনাগারটির কার্যক্রম সীমিত হয়ে পড়েছিল। জাহাজ হরমুজ প্রণালীতে জটিল পরিস্থিতির কারণে আরেকটি তেলবাহী সৌদি আরবের রাস তানুরা বন্দরে আটকা পড়েছে।

জ্বালানি খাত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দেশে মোট চাহিদার বড় অংশই আমদানিনির্ভর। পরিবহন খাত সবচেয়ে বেশি জ্বালানি ব্যবহার করে। এরপর রয়েছে কৃষি, বিদ্যুৎ ও শিল্প খাত। এসব খাতে ডিজেলের চাহিদা সবচেয়ে বেশি। এর পরেই রয়েছে ফার্নেস অয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন এই চালান দেশে পৌঁছালে জ্বালানি সরবরাহে স্থিতিশীলতা ফিরে আসবে এবং উৎপাদন কার্যক্রমও স্বাভাবিক হবে বলে তারা মনে করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ