আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে মৃত্যুর ৪০ দিন পর কবর থেকে লাশ উত্তোলন

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীর বায়েজিদে মৃত্যুর ৪০ দিন পর কবর থেকে এক গৃহবধূর লাশ উত্তোলন করা হচ্ছে।গতকাল বৃহস্পতিবার (১৩ জুন) সকাল ১০টার দিকে বায়েজিদ থানার চালিতাতলী বাজারের মসজিদ সংলগ্ন নুরুল আমিনের পারিবারিক কবরস্থান থেকে এ লাশ উত্তোলনের কার্যক্রম শুরু করে পিবিআই। নিহত গৃহবধূর নাম আলফা শাহরিন (২৬)। তিনি বায়েজিদ বোস্তামি থানার চালিতাতলী বাজারের দারোগা বাড়ির মৃত সিরাজুল মোস্তফার ছেলে মো. জাহেদুল মোস্তফার স্ত্রী এবং একই এলাকার নুরুল করিমের মেয়ে। জানা গেছে, যৌতুকের টাকা না পেয়ে শাশুড়ি, ননদ ও দেবর মিলে শাহরিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে এমন অভিযোগ এনে গত ৬ মে ওই ৩ জনকে আসামি করে চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ৭ এ একটি পিটিশন দায়ের করেন ভিকটিমের বাবা নুরুল করিম। আদালতের নির্দেশনা পেয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো। অভিযুক্ত ৩ আসামি হলেন, আলফা শাহরিনের শাশুড়ি বিবি আয়েশা (৪৮), তার ছেলে সামির (২১) ও মেয়ে আশফিকা (১৯)। পিবিআই মেট্রো শাখার সহকারী পুলিশ সুপার এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম জানান, কবর থেকে শাহরিনের লাশ তোলা হচ্ছে। হত্যা বা দূর্ঘটনা কোন ও তত্ত্বই উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। ময়না তদন্তের প্রতিবেদন হাতে পেলেই জানা যাবে শাহরিনের মৃত্যু রহস্য। গত ২৭ এপ্রিল বিকালে ‘রিকশার চাকায় ওড়না পেঁচিয়ে’ শাহরিনের ফাঁস লেগেছে বলে তার বাবার (বাদী) কাছে হোয়াটসঅ্যাপে কল করেন বিবি আয়েশা (শাশুড়ি)। খবর পেয়ে মেয়ের শ্বশুর বাড়ি পৌঁছে বেড রুমের বিছানায় মুমূর্ষ অবস্থায় মেয়েকে পড়ে থাকতে দেখেন নুরুল আমীন। এরপর মেয়েকে নগরীর বেসরকারি ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড ডেন্টাল হাসপাতালে নিয়ে যান নুরুল করিম। সেখানকার চিকিৎসকদের পরামর্শে শাহরিনকে নিয়ে যাওয়া হয় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে। আইসিইউ খালি না থাকায় শাহরিনকে নিয়ে যাওয়া হয় নগরীর বেসরকারি চট্টগ্রাম মেডিকেল সেন্টারে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ২৮ এপ্রিল ভোরে আলফা শাহরিনকে মৃত ঘোষণা করে মেডিকেল সেন্টারের চিকিৎসকেরা। ওই দিন বেলা ২টায় বাবা নুরুল আমীনের পারিবারিক কবরস্থানে শাহরিনকে দাফন করা হয়। দাফন করার আগে মরদেহের গোসল দেওয়া এক নারী শাহরিনের শরীরে একাধিক ‘আঘাতের চিহ্ন’ দেখে বাদীকে (নুরুল করিম) জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঈদ জামাত সকাল ৮টায়, প্রস্তুত চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ ময়দান :চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঈদ-উল-ফিতরের কেন্দ্রীয় জামাত উপলক্ষে চট্টগ্রামের জমিয়তুল ফালাহ ঈদগাহ ময়দান সম্পূর্ণ প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। বুধবার জমিয়তুল ফালাহ মসজিদ প্রাঙ্গণ পরিদর্শনকালে তিনি এ কথা বলেন। পরিদর্শনকালে মেয়র নগরবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান এবং রমজানের শিক্ষাকে হৃদয়ে ধারণ করে চট্টগ্রামের উন্নয়নে সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন- ইসলামিক ফাউন্ডেশন চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক মোস্তফা মনসুর আলম খান, চসিকের জনসংযোগ ও প্রটোকল কর্মকর্তা আজিজ আহমদ, নির্বাহী প্রকৌশলী আনু মিয়া, মেয়রের একান্ত সহকারী জিয়াউর রহমান জিয়া এবং সমাজকল্যাণ ও সংস্কৃতি কর্মকর্তা মামুনুর রশীদ।

পরিদর্শনকালে মেয়র বলেন, প্রায় ৬৫ হাজার বর্গফুট এলাকাজুড়ে বিশাল প্যান্ডেল নির্মাণ করা হয়েছে এবং নিচে কার্পেটিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। বৃষ্টির সম্ভাবনা মাথায় রেখে ওপরে টারপলিন দেওয়া হয়েছে, যাতে আবহাওয়া প্রতিকূল হলেও ঈদের জামাতে কোনো বিঘ্ন না ঘটে। এছাড়া প্রায় ২৫০টি পাখা, পর্যাপ্ত আলোকসজ্জা, ৫০টি মাইক এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে গত সাত দিন ধরে চসিকের উদ্যোগে এসব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে, যাতে মুসল্লিরা নির্বিঘ্নে ও স্বাচ্ছন্দ্যে নামাজ আদায় করতে পারেন।

ডা. শাহাদাত বলেন, প্রতিবছরের মতো এবারও প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মুসল্লি এই কেন্দ্রীয় জামাতে অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। অতিরিক্ত মুসল্লির কথা বিবেচনায় রেখে দুটি জামাতের সময় নির্ধারণ করা হয়েছে-প্রথম জামাত সকাল ৮টায় এবং দ্বিতীয় জামাত সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।তিনি আরও বলেন, মুসল্লিদের নির্বিঘ্ন প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য তিনটি গেট খোলা রাখা হবে, পাশাপাশি পেছনের গেটটিও ব্যবহারের উপযোগী করা হচ্ছে, যাতে কোনো ধরনের ভিড় বা হুড়োহুড়ি না হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশ বাহিনীর জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

নগরীর সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মেয়র বলেন, চট্টগ্রামকে একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে চসিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করছে। অপরাধ দমনে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) সঙ্গে নিয়মিত সমন্বয় চলছে এবং নগরের বিভিন্ন স্থানে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, গত ১৬ মাসে চট্টগ্রামে সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মধ্যে একটি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ তৈরি হয়েছে, যা একটি ‘সেফ সিটি’ বা নিরাপদ নগরী গড়ার জন্য অত্যন্ত জরুরি।

মাঠ পরিদর্শনকালে মেয়র আরো বলেন, প্রথম ও প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন জমিয়াতুল ফালাহ জাতীয় মসজিদের খতিব আলহাজ্ব সৈয়দ আবু তালেব মোহাম্মদ আলাউদ্দীন আল কাদেরী এবং দ্বিতীয় জামাতে ইমামতি করবেন মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা মোহাম্মদ আহমদুল হক আল কাদেরী।এছাড়া নগরীতে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের তত্ত্বাবধানে সকাল ৮টায় ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে যথাক্রমে লালদীঘি চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন শাহী জামে মসজিদ, হযরত শেখ ফরিদ (রঃ) চশমা ঈদগাহ মসজিদ, সুগন্ধা আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, চকবাজার সিটি কর্পোরেশন জামে মসজিদ, জহুর হকার্স মার্কেট জামে মসজিদ, দক্ষিণ খুলশী (ভিআইপি) আবাসিক এলাকা জামে মসজিদ, আরেফীন নগর কেন্দ্রীয় কবরস্থান জামে মসজিদ, সাগরিকা গরুবাজার জামে মসজিদ এবং মা আয়েশা সিদ্দিকী চসিক জামে মসজিদ (সাগরিকা জহুর আহমদ চৌধুরী স্টেডিয়াম সংলগ্ন)।

চট্টগ্রামে জরিমানা গুনল দুই পেট্টোল পাম্প, ওজন কম ও হালনাগাদ নেই

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে দুইটি পেট্টোল পাম্পকে জরিমানা করা হয়। বুধবার বিএসটিআইয়ের পৃথক ভ্রাম্যমাণ আদালতে এসব জরিমানা করা হয়। দুটি পেট্টোল পাম্পকে মোট ৪০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।ভ্রাম্যমাণ আদালতে দায়িত্ব পালন করেন বিএসটিআই চট্টগ্রামের পরীক্ষক প্রিময় মজকুরী জয়। অভিযানে নগরীর পাঁচলাইশ থানার নাসিরাবাদের বাদশা মিয়া অ্যান্ড সন্স পেট্টোল পাম্পের ডিসপেন্সিং ইউনিট যাচাই করে দেখা যায়, ডিজেল সরবরাহে প্রতি ৫ লিটারে ১২০ মিলিলিটার কম দেওয়া হয়। এ অপরাধে প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।অভিযান পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুমন মন্ডল অপু।

একইদিন, কাতালগঞ্জ এলাকার হাজি ইউনুস অ্যান্ড কোং নামের পেট্টোল পাম্পের ভেরিফিকেশন সনদ হালনাগাদ না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটিকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তবে তাদের ডিসপেন্সিং ইউনিটে পরিমাপের যথার্থতা সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। এ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সুব্রত হালদার। এছাড়া একই এলাকায় খান ব্রাদার্স সিএনজি প্রাইভেট লিমিটেডের পরিমাপ সঠিক এবং প্রয়োজনীয় সব সনদ হালনাগাদ থাকায় প্রতিষ্ঠানটিকে ধন্যবাদ জানানো হয়।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ