
চট্টগ্রাম নগরীর চলমান খাল সংস্কার ও জলাবদ্ধতা নিরসন কার্যক্রমের কারণে সাময়িকভাবে কিছু এলাকায় পানি জমলেও পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, “এবার পানি দীর্ঘসময় স্থায়ী হয়নি। মাত্র ৪৫ মিনিট থেকে এক ঘণ্টার মধ্যেই পানি নেমে গেছে, যা আমাদের জন্য ইতিবাচক বার্তা।

শনিবার রাতে প্রবর্তক মোড় এলাকায় পরিদর্শনে এসে মেয়র বলেন, খাল সংস্কার ও বাঁধ অপসারণের কাজ চলমান থাকায় কিছু এলাকায় সাময়িক ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। তবে নগরবাসী ও গণমাধ্যমকে সহায়তার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড ও সিডিএ’কে অন্তত পাঁচ থেকে সাত দিন সময় দিতে হবে।তিনি জানান, হিজড়া খাল, জামালখান খাল, মুরাদপুর খাল ও রামপুর খালসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় ৩০টি বাঁধ অপসারণের কাজ চলছে। এসব কাজ সম্পন্ন করতে সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে পাঁচ দিন সময় চাওয়া হলেও শনিবার আবারও বৃষ্টি হওয়ায় কাজ বাধাগ্রস্ত হয়েছে তাই তিনি অতিরিক্ত আরও দুই দিন সময় লাগতে পারে। প্রয়োজনে আরও কয়েকদিন সময় বাড়ানো হতে পারে।
মেয়র বলেন, “যেকোনো ভারী বৃষ্টিতে কিছু সময়ের জন্য পানি জমতেই পারে। কিন্তু সেটি দীর্ঘসময় স্থায়ী হলেই কেবল তাকে জলাবদ্ধতা বলা যায়। আগে অনেক এলাকায় দুই থেকে তিন দিন পর্যন্ত পানি থাকত, এখন এক ঘণ্টার মধ্যেই নেমে যাচ্ছে। এটিকে ইতিবাচকভাবে দেখতে হবে।তিনি আরও বলেন, চলমান বর্ষা মৌসুম সামনে রেখে চসিক ইতোমধ্যে ১৫ এপ্রিল থেকে নালা-নর্দমা ও খাল পরিষ্কারের কার্যক্রম শুরু করেছে, যা আগামী ছয় মাস অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি নগরীর ২১টি খাল খননের জন্য ডিপিপি প্রণয়ন করা হচ্ছে।
ডা. শাহাদাত হোসেন জানান, সিডিএর অধীনে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং ব্রিগেড বিভিন্ন খাল ও সেতু সংলগ্ন এলাকায় কাজ করছে। তবে নগরবাসীর দুর্ভোগ বিবেচনায় কিছু স্থানে সাময়িকভাবে কাজ স্থগিত রেখে বাঁধ অপসারণ করা হয়েছে, যাতে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন হতে পারে।তিনি বলেন, “রিটেইনিং ওয়াল ও শিটপাইলের কিছু কাজ এখনই শেষ করা সম্ভব হবে না। কারণ এগুলো সরিয়ে ফেললে রাস্তা ও খালের ক্ষতি হতে পারে। তাই ধাপে ধাপে কাজ সম্পন্ন করা হবে।
মেয়র আরও জানান, আবহাওয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী ২৫ মে থেকে ভারী বর্ষণ শুরু হতে পারে। তাই এর আগেই ২০ মে’র মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো শেষ করার লক্ষ্য নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো কাজ করছে।
জলাবদ্ধতায় সাময়িক ভোগান্তির জন্য নগরবাসীর কাছে দুঃখ প্রকাশ করে মেয়র বলেন, “আমরা সবাই মিলে চট্টগ্রামকে জলাবদ্ধতামুক্ত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। তাই চলমান উন্নয়ন কার্যক্রমকে ইতিবাচকভাবে দেখা এবং সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া জরুরি।”
তিনি দাবি করেন, আগে যেসব এলাকায় দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতা ছিল, তার অনেকগুলোতেই এবার পানি জমেনি। তবে হিজড়া খাল, কাট্টলী, গেইটস মোড়, চকবাজার ও জামালখান এলাকার কিছু অংশে পানি জমার বিষয়গুলো বিশেষভাবে গুরুত্ব দিয়ে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।