আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

রূপগঞ্জে জঙ্গি আস্তানায় অভিযানে উদ্ধারকৃত তিনটি বোমা নিষ্ক্রিয়

মাহাবুবুর রহমান রনি, রূপগঞ্জ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার বরপা আড়িয়াবো এলাকার একটি চার তলা ভবনে অভিযান চালিয়ে উদ্ধারকৃত তিনটি বোমা নিষ্ক্রিয় করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। জঙ্গি আস্তানার খবর পেয়ে গতকাল ২জুলাই মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টায় আড়িয়াবো এলাকার জাকির হোসেনের বাড়িতে তারা এ অভিযান চালায়। অভিযানে পুলিশ, অ্যান্টি টেরোরিজম ও সোয়াদ ইউনিটের সদস্যরা অংশ নেয়।

জানা গেছে, গত মার্চ মাসে রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার আড়িয়াবো গ্রামের জাকির হোসেনের চার তলা বাড়ির তৃতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট আনসারউল্লাহ বাংলা টিমের(এবিটি) সক্রিয় একজন সদস্য ভাড়া নেয়। সেখানে তিনি তার দুই সন্তান ও স্ত্রী নিয়ে বসবাস করেন। এলাকায় কিংবা আশপাশের কারো সঙ্গে যোগাযোগ না করেই তিনি তার মতো বসবাস করে আসছিলেন। বাড়ির মালিক জাকির হোসেনের গ্রামের বাড়ি ব্রা²ণবাড়িয়া জেলায়। তিনি সৌদী প্রবাসী। তবে এবিটির সদস্যের নাম পরিচয় জানা যায়নি।
অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের পুলিশ সুপার (মিডিয়া অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস) সানোয়ার হোসেন জানান, গতকাল ২জুলাই মঙ্গলবার সকাল থেকেই এটিইউর একটি দল নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বরপা আড়িয়াবো এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে চারতলা একটি বাড়ি ঘেরাও করে রাখে। নেত্রকোণা জেলার জঙ্গি ঘটনায় জঙ্গি সংগঠনের সদস্য একজন নারীকে কক্সবাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়। ওই নারীর দেয়া তথ্য অনুযায়ী এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
এলাকাবাসী জানায়, গত আট বছর আগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সৌদি প্রবাসী জাকির হোসেন নামের এক ব্যক্তি চার তলা এই ভবনটি নির্মাণ করে ভাড়া দেন। অনেক সময় অপরিচিত লোকজনের এ বাড়িতে আসা-যাওয়া করতে দেখা গেছে। নেত্রকোণার জঙ্গির ঘটনার পর গত ৩/৪ দিন ধরে তাদেরকে এ বাড়িতে দেখা যায়নি। জাকির হোসেনের পাশাপাশি তার স্ত্রী বকুলী বেগমও এ বাড়িতে আসা যাওয়া করতেন।
নারায়ণগঞ্জ জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (‘গ’-সার্কেল) হাবিবুর রহমান বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা এ অভিযান পরিচালনা করে। উদ্ধারকৃত তিনটি বোমার একটি বোমা বিষ্ফোরণের আশঙ্কায় ভবনের ভেতরেই তাদের ফ্ল্যাটে বিষ্ফোরিত করে নিষ্ক্রিয় করা হয়। অপর দু’টি বোমা ভবনের পাশে খালি মাঠে গর্ত করে বিশেষ প্রক্রিয়ায় বিষ্ফোরিত করে নিষ্ক্রিয় করা হয়।
সোয়াদের কমান্ডার শাহেদ আহমেদ বলেন, তিনটি ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস(আইইইডি) বোমা উদ্ধার করা হয়। এই বোমা তাৎক্ষণিক উদ্ভাবিত বোমা। তাৎক্ষণিক উদ্ভাবিত বিস্ফোরক বলতে প্রচলিত সামরিক পদ্ধতি অপেক্ষা অন্য কোনও উপায়ে নির্মিত বোমা হতে পারে। এটি একটি বিস্ফোরক ব্যবস্থার সাথে সংযুক্ত একটি আর্টিলারি শেলের মতো সামরিক বিস্ফোরক নির্মিতও হতে পারে।
রূপগঞ্জ থানা ওসি দীপক চন্দ্র সাহা বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারে পুলিশ তৎপর রয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে আহত নিহতদের মাঝে চেক বিতরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও জেলায় বিভিন্ন স্থানেসড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ নিহত ও আহত ৭ টি পরিবারের মাঝে চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেল এর আয়োজনে এই চেক বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম ফেরদৌস, ঠাকুরগাঁও বিআরটি এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জি: মোহাম্মদ আলী আহসান মিলন, মোটরযান পরিদর্শক মাফুজ রানা, উচ্চমান সহকারী রুস্তম আলীসহ অন্যান্যরা।সেখানে সাতটি পরিবারের মাঝে ২১ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ সীমান্তে বিজিবির পৃথক অভিযানে মাদক উদ্ধার, আটক- ২

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় পৃথক দুটি অভিযানে দুইজনকে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় একটি ট্রাক, ২ হাজার ৮৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ, ৫৮৫ পিস ইয়াবা ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে। উদ্ধার করা মালামালের মোট আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্ত এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)। পৃথক দুটি অভিযানে দুইজনকে আটক করার পাশাপাশি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ, ইয়াবা, একটি ট্রাক ও দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।

বিজিবি সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে ৫৯ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত কোয়ার্টার মাস্টার এডি শেখ মনোয়ারুল ইসলামের নেতৃত্বে সোনামসজিদ বিওপির একটি টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের বালিয়াদিঘী গ্রামের প্রাণিসম্পদ কোয়ারেন্টাইনের পাশের সড়কে অভিযান চালায়।

অভিযানের সময় ঢাকা মেট্রো-ট ২০-৯৯৯০ নম্বরের একটি ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে সাতটি প্লাস্টিকের বস্তায় রাখা ২ হাজার ৮৫ বোতল ভারতীয় নেশাজাতীয় ‘এসকাফ’ সিরাপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ট্রাকচালক মো. রিয়াদ হোসেন (২০)কে আটক করা হয়েছে। তিনি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার পাশাপুর গ্রামের বাসিন্দা।এ সময় ট্রাকটির পাশাপাশি একটি মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। উদ্ধার করা সিরাপ, ট্রাক ও মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য ৬৮ লাখ ৩৪ হাজার ৫০০ টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

অন্যদিকে একই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে চৌকা বিওপির নায়েক সুরজিত নাগের নেতৃত্বে একটি বিশেষ টহল দল শিবগঞ্জ উপজেলার বিনোদপুর ইউনিয়নের খাসেরহাট এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ৫৮৫ পিস ভারতীয় ইয়াবা ট্যাবলেট এবং একটি মোবাইল ফোনসহ মো. নাঈম ইসলাম (১৮) নামে এক যুবককে আটক করা হয়। তিনি শিবগঞ্জ উপজেলার জমিনপুর গ্রামের বাসিন্দা।উদ্ধার করা ইয়াবা ও মোবাইল ফোনের আনুমানিক মূল্য ২ লাখ ৫০০ টাকা।

বিজিবি জানিয়েছে, পৃথক দুটি অভিযানে জব্দ করা ট্রাক, নেশাজাতীয় সিরাপ, ইয়াবা ও মোবাইল ফোনের মোট সিজার মূল্য প্রায় ৭০ লাখ ৩৫ হাজার টাকা।
আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিবগঞ্জ থানায় হস্তান্তর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদক পাচার প্রতিরোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ