আজঃ বৃহস্পতিবার ১৮ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম কাস্টমস

দেশের সর্ববৃহৎ শুল্ক স্টেশনে রাজস্ব আদায় ৬৮ হাজার ৫৬২ কোটি ৭২ লাখ টাকা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের সর্ববৃহৎ শুল্ক স্টেশন চট্টগ্রাম কাস্টমসে সদ্য বিদায়ী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৭৭ হাজার ৬১৬ কোটি টাকা, তবে রাজস্ব আদায় হয়েছে ৬৮ হাজার ৫৬২ কোটি ৭২ লাখ টাকা। গত ২০২২-২৩ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছিল ৬২ হাজার ৬৫৭ কোটি ৮১ লাখ টাকা। গত অর্থবছরের তুলনায় সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে রাজস্ব আদায় বেড়েছে নয় দশমিক ৪২ শতাংশ। তবে যে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল তা অর্জন হয়নি।
কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, কাস্টমসে নানা ধরনের অনিয়ম প্রতিরোধে নজরদারি বাড়ানোর ফলে ডলার সংকটসহ নানা সমস্যা থাকা স্বত্ত্বেও গত অর্থবছরের তুলনায় নয় দশমিক ৪২ শতাংশ রাজস্ব আদায় বেড়েছে। একইসঙ্গে মিথ্যা ঘোষণায় পণ্য নিয়ে আসার অপরাধে দ্বিগুণের বেশি জরিমানা আদায় রাজস্ব বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের কমিশনার মোহাম্মদ ফায়জুর রহমান বলেন, ডলার সংকটসহ নানা সমস্যার পরেও নানাবিধ উদ্যোগ নেয়ায় রাজস্ব আদায়ে রেকর্ড হয়েছে। এটি গত অর্থবছরের তুলনায় সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে রাজস্ব আদায় বেড়েছে নয় দশমিক ৪২ শতাংশ।
জানা গেছে, শুধুমাত্র আমদানিকৃত ১২ ধরনের পণ্য থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে সবচেয়ে বেশি। এর মধ্যে হাইস্পিড ডিজেল, ফার্নেস অয়েল, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস, আপেল, সিমেন্ট ক্লিংকার, পাম অয়েল, ভাঙা পাথর ও পেট্রোলিয়াম তেল উল্লেখযোগ্য। এসব পণ্য থেকে ১৯ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয় হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর আমদানি-রপ্তানি ও খালি কন্টেইনার মিলে ৩১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৯০ টিইইউএস কন্টেইনার পরিবহন করেছে, যা আগের অর্থবছরে পরিবহন করেছিল ৩০ লাখ ৭ হাজার। সদ্য বিদায়ী অর্থবছরে কন্টেইনার পরিবহনে বন্দরের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৫ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
একইভাবে বিদায়ী অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর কার্গো পরিবহন করেছে ১২ কোটি ৩২ লাখ ৪২ হাজার ৭৪৮ টন। যা আগের বছরে ছিল ১১ কোটি ৮৩ লাখ টন ছিল। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই বন্দরের বাল্ক কার্গো পরিবহনে বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪ দশমিক ১৮ শতাংশ। তবে ২০২২-২৩ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে ৪ হাজার ২৫৩টি জাহাজ আসলেও বিদায়ী ২০২৩-২৪ অর্থবছরে জাহাজ এসেছে ৩ হাজার ৯৭১টি। গতবছরের তুলনায় বিদায়ী অর্থবছরে ছয় দশমিক ৬৩ শতাংশ জাহাজ কম এসেছে।
বন্দরের সচিব ওমর ফারুক জানান, গত অর্থবছরের তুলনায় সমাপ্ত অর্থবছরে কন্টেইনার ও বাল্ক কার্গো পরিবহনে চট্টগ্রাম বন্দরের বার্ষিক প্রবৃদ্ধি হয়েছে। এটি বন্দরের কন্টেইনার ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং নতুন নতুন যন্ত্রপাতি সংযোজন করার মধ্যে দিয়ে সম্ভব হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বন্দরের আরও সক্ষমতা ও দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করে চলছে। তিনি আরও বলেন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, ডলার সংকট এবং মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতা সহ নানা সমস্যার কারণে সারাবিশ্বের অর্থনীতির মতো দেশের অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। এসব সংকটের পরেও বিদায়ী অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দরে কার্গো ও কন্টেইনার পরিবহনের যেই প্রবৃদ্ধি হয়েছে তাতে বোঝা যায় দেশের বৈদেশিক বাণিজ্য দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বোয়ালখালীতে সেচ পাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীতে এক রাতে দুই কৃষকের সেচপাম্পের ৪ টি ট্রান্সফরমারের খোলস ফেলে ভেতরের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত রবিবার রাতের কোনো এক সময় উপজেলার আমুচিয়া ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের নির্মল দে’র ৩ টি ও শ্রীপুর খরণদ্বীপ ইউনিয়নের জৈষ্টপুরা ৯ নং ওয়ার্ডের কৃষক মাদল চৌধুরীর ১টি ট্রান্সফরমারের যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যায়।

বুধবার (১৭ জুন) সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা গেছে সেখানকার ১টি বিদ্যুতের খুঁটিতে তার, পাম্পে মোটর ও অন্যান্য সামগ্রী থাকলেও নেই ট্রান্সফরমার। আরেকটিতে ৩ টির মধ্যে ২টি ট্রান্সফরমার খুটিতে থাকলেও ১টি নাই। পৃথক দুটি স্থানে পড়ে আছে ট্রান্সফরমারের খোলস, নেই ভেতরের যন্ত্রাংশ।

ভুক্তভোগী ককৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বোরো মৌসুমে জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য ভারাম্বা খালের আমুচিয়া ও জৈষ্টপুরা অংশে দুটি মোটরচালিত বৈদ্যুতিক সেচপাম্প দিয়ে ওই এলাকার মনতলা কালি বিল, আন্ধার বিল ও জৈষ্টপুরা এলাকার কুমার গাতা বিলে অন্তত ২০০ কানি জমির চাষাবাদ করা হয়।

বোরো মৌসুম শেষ হলে প্রতি বছরের মতো গত এক মাস আগে ১৭/৫/২৬ বিদ্যুৎ বিল পরিশোধ করে ট্রান্সফরমার নামিয়ে দেওয়ার জন্য পল্লী বিদ্যুৎ কতৃপক্ষকে বলা হয়েছে। এতোদিন ধরে না নামানোর কারণে ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে। সরকারি খরচে ট্রান্সফরমার স্থাপনের দাবি জানান ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নির্মল দে ও মাদল চৌধুরী।

চুরির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) স ম মিজানুর রহমান বলেন, বিভিন্ন কাজের চাপে যথাসময়ে খুঁটি থেকে ট্রান্সফরমার নামানো না হলেও চুরি প্রতিরোধে গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে সচেতন করা হচ্ছে। এছাড়া সেচ ও কলকারখানার ট্রান্সফরমার চুরি হলে গ্রাহককে নিজ খরচে তা স্থাপন করার বিধান আছে। প্রতিটি পাঁচ কেভিএ ধারণসম্পন্ন ট্রান্সফরমারের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ৬০ হাজার টাকা।

ঠাকুরগাঁওয়ে আহত নিহতদের মাঝে চেক বিতরণ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁও জেলায় বিভিন্ন স্থানেসড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্থ নিহত ও আহত ৭ টি পরিবারের মাঝে চেক হস্তান্তর করা হয়েছে। বুধবার সকালে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষ জেলা প্রশাসন ও বিআরটিএ ঠাকুরগাঁও সার্কেল এর আয়োজনে এই চেক বিতরণ করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল হক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক গোলাম ফেরদৌস, ঠাকুরগাঁও বিআরটি এর সহকারী পরিচালক ইঞ্জি: মোহাম্মদ আলী আহসান মিলন, মোটরযান পরিদর্শক মাফুজ রানা, উচ্চমান সহকারী রুস্তম আলীসহ অন্যান্যরা।সেখানে সাতটি পরিবারের মাঝে ২১ লক্ষ টাকার চেক বিতরণ করা হয়।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ