আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে ক্ষুরা রোগেক্রান্ত দেড় হাজার গরু

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে দেখা দিয়েছে মহামারী আকারে গরুর ক্ষুরা রোগের প্রাদুর্ভাব। এনিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন গরুর পালন পালনকারী কৃষকেরা। উপজেলার প্রাণি সম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালে গত দেড় মাসে ১৫০০ পশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের রেজিস্ট্রারের তথ্যানুযায়ী গত ১৭ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চিকিৎসা পেয়েছে ক্ষুরা রোগাক্রান্ত ১হাজার ৪১৪টি পশু। উপজেলার শ্রীপুর-খরণদ্বীপ ইউনিয়নে খামারি সুজন পাল বলেন, খামারের ১৩টি গরুর মধ্যে ৫ দিন পূর্বে ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ১টি ষাঁড়। ষাঁড়টির বাজার মূল্য লক্ষাধিক টাকা হবে। কোরবানি ঈদের ৩ দিন পূর্বে একই রোগে মারা গিয়েছিলো ৭৫ হাজার টাকা দামের ১টি বকনা। বর্তমানে ১টি বাছুর অসুস্থ হওয়ায় চিকিৎসা চলছে। কানুনগোপাড়ার কৃষক মো.আবচারের ২৬ দিনের গরুর বাচ্চাটিও মারা গেছে গত বুধবার (৩ জুলাই)।
জানা গেছে, ক্ষুরারোগে আক্রান্ত হয়ে গত দুই সপ্তাহে এ রোগে মারা গেছে ১০টির বেশি গরু। ক্ষুরা রোগের কারণে পশুর গলা ফুলাসহ নানা ধরনের উপসর্গ দেখা দিচ্ছে বলে জানান কৃষকরা। এছাড়া পশুর গায়ে গোলাকৃতির পক্সেও (লাম্পি স্ক্রিন) আক্রান্ত হচ্ছে। বোয়ালখালীর শ্রীপুর, আমুচিয়া, করলডেঙ্গা, সারোয়াতলী, চরখিজিরপুর গ্রামের প্রান্তিক কৃষকেরা বলছেন, ক্ষুরা রোগের চিকিৎসা ব্যয় বেশি। চিকিৎসকের পরামর্শ পেলেও ঔষধ খরচ অনেক। এ কারণে খামারি ও কৃষকেরা রোগাক্রান্ত গরু স্বল্প মূল্যে মাংস ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সেতু ভূষণ দাশ বলেন, কোরবানির ঈদের সময় দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে চট্টগ্রামে গরু আসে। এ সময় এই রোগের ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে। এ ছাড়া লাম্পি স্ক্রিনে আক্রান্ত হয়ে বড় গরুর চেয়ে বেশির ভাগ বাছুর মারা যাচ্ছে। এজন্য গবাদিপশুর এফএমডি ও লাম্পি স্কিন রোগ নিয়ন্ত্রণে সরকারি বেসরকারিভাবে পর্যাপ্ত পরিমাণে টিকা সরবরাহ জরুরি। তিনি আরও বলেন, আক্রান্ত গরুকে চিকিৎসা ও সুস্থ গরুকে টিকা দানের মাধ্যমে রোগ নিয়ন্ত্রণে মাঠে রয়েছি। প্রান্তিক কৃষক ও খামারিদের মাঝে সচেতনতা সৃষ্টির জন্য নানা ধরনের কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। তারপরও অনেকে প্রাণিসম্পদ অফিসের চিকিৎসকদের কাছে আসেন না। স্থানীয় গ্রাম্য হাতুড়ে ডাক্তার দিয়ে পশু চিকিৎসা করাচ্ছেন। এ অপচিকিৎসায় পশু মারা যাচ্ছে। উপজেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালে গত ৩ বছর ধরে ভেটেরিনারি সার্জন পদটি শুন্য রয়েছে জানিয়ে এ চিকিৎসক বলেন, দৈনিক শতাধিক রোগাক্রান্ত পশুকে চিকিৎসা দিতে হিমসিম খেতে হচ্ছে। অথচ বোয়ালখালীতে ছোট বড় মিলিয়ে গরুর খামার রয়েছে ১ হাজার ৭৫৭টি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ঠাকুরগাঁওয়ে পুষ্টিসমৃদ্ধ জিংক ব্রিধান-১০২ চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ে হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশ -এর বাস্তবায়নে “রিয়েক্টস-ইন” প্রজেক্টের আওতায় পুষ্টিসমৃদ্ধ “জিংক ব্রি ধান-১০২” চাষে উদ্বুদ্ধ করতে কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে ইএসডিও’র আয়োজনে ও পরিচালনায় ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলার হাজীপুর ইউনিয়নের সাটিয়া ঈদগাঁ মাঠে কৃষক মাঠ দিবসটি অনুষ্ঠিত হয়।

কৃষক মাঠ দিবসে উপস্থিত শতাধিক কৃষকের মাঝে হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশ -এর প্রজেক্ট ম্যানেজার কৃষিবিদ মোঃ শাহিনুল কবির এবং ইএসডিও রিয়েক্টস- ইন প্রজেক্টের প্রজেক্ট ফোকাল কৃষিবিদ মোঃ আশরাফুল আলম মানবদেহে জিংক এর প্রয়োজনীয়তা এবং জিংকের অভাব পূরণে জিংক সমৃদ্ধ ব্রিধান১০২, ব্রিধান-১০০, ব্রিধান৮৪ এবং ব্রিধান৭৪ এর ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। তারা তাদের বক্তব্যে সকলের প্রতি জিংক ধানের চাষাবাদ পদ্ধতি, জিংক ধানের আবাদের সম্প্রসারণ ও জিংক সমৃদ্ধ চালের ভাত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শোয়েবুর রহমান, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার মোছা: মাহফুজা খাতুন, সিঙ্গারোল সরকারি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ ওমর ফারুক মন্ডল, উক্ত গ্রামের ঈদগাঁ পাড়া জামে মসজিদের ইমাম সাহেব মোঃ কামরুজ্জামান এবং ইএসডিও রিয়েক্টস- ইন প্রজেক্টের প্রজেক্ট অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান সহ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব।

ঠাকুরগাঁওয়ে জিংক ব্রি ধান-১০২ শীর্ষক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঠাকুরগাঁওয়ে হারভেস্টপ্লাস বাংলাদেশ -এর বাস্তবায়নে ও রিয়েক্টস-ইন প্রজেক্টের আওতায় পুষ্টিসমৃদ্ধ জিংক ধান-১০২ শীর্ষক কৃষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। 
সোমবার (৮ জুন) বিকেলে ইএসডিও’র আয়োজনে ও পরিচালনায় ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার আউলিয়াপুর  ইউনিয়নের মাদারগঞ্জ গ্রামে কৃষক মাঠ দিবসটি অনুষ্ঠিত হয়। 

কৃষক মাঠ দিবসে উপস্থিত শতাধিক কৃষকের মাঝে হারভেস্টপ্লাসের প্রজেক্ট ম্যানেজার কৃষিবিদ মোঃ শাহিনুল কবির এবং ইএসডিও রিয়েক্টস- ইন প্রজেক্টের প্রজেক্ট ফোকাল কৃষিবিদ মোঃ আশরাফুল আলম মানবদেহে জিংক এর প্রয়োজনীয়তা এবং জিংকের অভাব পূরণে জিংক সমৃদ্ধ ব্রিধান১০২,  ব্রিধান১০০, ব্রিধান৮৪ এবং ব্রিধান৭৪ এর ভূমিকা নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।তারা তাদের বক্তব্যে সকলের প্রতি জিংক ধানের চাষাবাদ পদ্ধতি, জিংক ধানের আবাদের সম্প্রসারণ ও জিংক সমৃদ্ধ চালের ভাত খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে আহ্বান জানান।

এসময় উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শাহীন আলী ও উত্তম কুমার বর্মন, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার মোছা: জিন্নাতুন নেছা, মাদারগঞ্জ সরকারি হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোঃ আলমগীর হোসেন, উক্ত গ্রামের মাদারগঞ্জ পাড়া জামে মসজিদের ইমাম সাহেব মোঃ হায়দার আলী এবং ইএসডিও রিয়েক্টস- ইন প্রজেক্টের প্রজেক্ট অফিসার মোঃ আবু তালহা শিশির সহ মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। 

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ