আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রাম জেলা:

ফটিকছড়ি বখতপুরের ক্যান্সার আক্রান্ত এক শিক্ষকের মেয়ের বাঁচার আকুতি

মাসুদুল ইসলাম মাসুদ ফটিকছড়ি প্রতিনিধি:

ফটিকছড়ি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ছোট্ট ইনায়াতের জন্য বাঁচতে চান ক্যানসারে আক্রান্ত মা নুসরাত জাহান। ক্যান্সারে আক্রান্ত রোগীর নাম নুসরাত জাহান, বয়স ৩১,  পিতা : মরহুম আবুল কামাল (মাস্টার), মাতা : মরহুম খুরশিদা বেগম। বখতপুর ,শান্তিরহাট, ওয়ার্ড নং : ০৩, থানা : ফটিকছড়ি,চট্টগ্রাম পিতা ছিলেন একজন শিক্ষক। কালাম মাস্টার নামে পরিচিত। নুসরাত জাহান তারই মেয়ে। নুসরাতের কোল জুড়ে আছে একটি ফুটফুটে সন্তান। ২২ মাস বয়সী সন্তানের নাম ইনায়েত হাসান। বাবা মা সখ করে বাবার নামের সাথে মিল রেখে নাম রেখেছে ইনায়েত হাসান। ইনায়েতের বাবার নাম রাকিব হাসান। বাবা রাকিব হাসান আজ বড়ই অসহায়। জীবনের অর্ধাঙ্গিনী চোখের সামনে আস্তে আস্তে চলে যাচ্ছে এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে। চোখে মুখে অন্ধকার দেখতেছেন নুসরাতের স্বামী রাকিব। গভীর ভালবাসার মানুষ আস্তে আস্তে জীবনের বাঁধন করে ফেলতেছে একটু একটু আলগা। চোখের সামনে এক পা করে করে চলে যাচ্ছে তাকে একা করার পথে। নুসরাতের স্বামী রাকিব হাসান জানান, ১১ মাস আগে ডেঙ্গু জ্বর সন্দেহে রক্ত পরীক্ষা করান নুসরাত জাহানকে। সে সময় অন্যান্য পরীক্ষায় তাঁর শরীরে ধরা পরে ব্লাড ক্যানসার। এর পর থেকেই তাঁর চিকিৎসায় সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করেছেন স্বামী মোহাম্মদ রকিব হাসান। তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন। পরিবার নিয়ে থাকেন চট্টগ্রাম শহরে। রকিব হাসান বলেন, এখন পর্যন্ত সবটুকু সম্বল দিয়ে স্ত্রীর চিকিৎসা চালিয়েছেন তিনি। চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, নুসরাত কে  সুস্থ হতে বোনম্যারো ট্রান্সপ্ল্যান্টেশন (বিএমটি) বা স্টেম সেল প্রতিস্থাপন করতে হবে, যার আনুমানিক খরচ ৩০ থেকে ৩৫ লাখ টাকা। এই চিকিৎসা ব্যয় বহন করা তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ অবস্থায় স্ত্রীকে সুস্থ করার জন্য সবার কাছে সাহায্যের জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

এদিকে, ক্যান্সার আক্রান্ত নুসরাত বলেন আমার বাপের বাড়ি ফটিকছড়ি। আমার জন্ম ফটিকছড়ি। আমি জানি আমার ফটিকছড়ির  মানুষ খুব মানবিক। মানবিক কাজ করে ফটিকছড়ির অনেক অসুস্থ মানুষ সুস্থতার পথে ফিরে এনেছেন আল্লাহর দয়ায়। আমি আমার ফটিকছড়ির সকল স্তররের মানবিক সংগঠন, মানবিক টিম, মানবিক হৃদয়ের মানুষ সকলের কাছে সাহায্যের আবেদন করছি। আমি আমার জন্য না, আমি বাঁচতে চাই আমার কলিজার টুকরা ইনায়াত এর জন্য তার বাবার জন্য।  আমি তাদের অনেক ভালবাসি। দয়া করে আমার স্বামী সন্তানের কাছে থাকতে দেন।

আমার সন্তানের জন্য আমাকে বাঁচান।  নুসরাতের এই আকুতি শুনে হৃদয় টা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গিয়েছিল। আসলেই পৃথিবীর বড়ই নিষ্ঠুরতম। তা নাহলে কেন বাই এমন হয় নুসরাতদের সাথে।
মাকে দেখলেই চোখে-মুখে উচ্ছ্বাস ভেসে ওঠে ২২ মাস বয়সী শিশু ইনায়াত হাসানের। মা দেখলেই বাবার কোল  থেকে ঝাঁপ দিয়ে পড়তে চায় মায়ের কোলে কিন্তু শারীরিক অসুস্থতার কারণে ছেলেকে খুব বেশি কাছে পাওয়া হয় না নুসরাতের। প্রায় সময় পরে থাকতে হয় হাসপাতালের বিছানায়। মা কেন হাসপাতালের শয্যায়, সেটি বোঝারও বয়স  এখনো হয়নি ইনায়াতের।
ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত গৃহবধূ নুসরাত জাহান (৩১)। এর মধ্যে সন্তানের চেহারা দেখেই কিছুটা ভালো থাকার চেষ্টা করলেও যখন মনে পরে তার চিকিৎসার জন্য তো অনেক টাকার প্রয়োজন তখন বাঁচার স্বপ্ন হারিয়ে পেলে। এই ছোট্ট ইনায়াতের জন্য বাঁচতে চান নুসরাত। আসুননা আমরা সবাই আমাদের এক দিনের নাস্তার খরচটা নুসরাতের চিকিৎসার জন্য তার স্বামীর হাতে তুলে দি। তার স্বামী বলেন, মাসুদ ভাই আজ আমি অসহায়। ভাই আমার স্ত্রীর জন্য একটু সাহায্যের বাড়াতে বলেন সবাইকে।  আমি দুনিয়ার কিছু চাইনা শুধু আমার স্ত্রী কে চাই। কেন আমি তাকে এত ভালবাসলাম, কেন এত কাছে টেনে নিলাম। কেনই বা আমাকে ছেড়ে চলে যেতে চাচ্ছে। আমার স্ত্রীর জন্য আপনারা এগিয়ে আসুন। আমি আপনাদের একজন অসহায় ভাই , এক অসহায় বোনের জন্য সাহায্য চাচ্ছি। নুসরাত কে সাহায্যের জন্য বা যোগাযোগের জন্য
*যোগাযোগের ঠিকানা :*
নাম : মোহাম্মদ রকিব হাসান
ঠিকানা : গরিব উল্লাহ হাউসিং সোসাইটি, চট্টগ্রাম
বিকাশ/নগদ : *+8801911952486*
[email protected]
Bank Name: Dutch Bangla bank Limited
Branch: 129-O. R. Nizam Road Branch, Chattogram, Bangladesh
Account Name: Mohammad Rokib Hasan
Account No: 1291510002627
Routing No: 090151480
সাহায্য পাঠানোর জন্য যোগাযোগ করা যাবে রকিব হাসানের মুঠোফোন (০১৯১১৯৫২৪৮৬) নম্বরে। একই নম্বরে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে পাঠানো যাবে সাহায্য। এ ছাড়া ডাচ্‌–বাংলা ব্যাংক ও আর নিজাম রোড শাখার হিসাব (১২৯১৫১০০০২৬২৭) নম্বরেও পাঠানো যাবে আর্থিক সহায়তা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ৮০০ কেজি চিনিসহ ২ চোরাকারবারি আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে ৮০০ কেজি চোরাই চিনিসহ দুই চোরাকারবারিকে আটক করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড। শুক্রবার ভোর ৫টার দিকে পতেঙ্গা থানার চরপাড়া ঘাট সংলগ্ন মেরিন ড্রাইভ সড়কে কোস্ট গার্ড আউটপোস্ট পতেঙ্গার সদস্যরা অভিযান পরিচালনা করে এদের আটক করে।

কোস্ট গার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত জানান, একটি চক্র বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে অবৈধভাবে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে খালাস করা বিপুল পরিমাণ চিনি বাজারজাত করার উদ্দেশ্যে পরিবহন করবে গোপনে এমন তথ্যের ভিত্তিতে ওই এলাকায় বিশেষ অভিযান চালানো হয়।অভিযান চলাকালে একটি সন্দেহভাজন ট্রাকে তল্লাশি চালিয়ে প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার টাকা মূল্যের ৮০০ কেজি চিনি উদ্ধার করা হয়।

এ সময় চোরাচালানে ব্যবহৃত ট্রাকসহ দুই ব্যক্তিকে আটক করা হয়।লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সুমন আল মুকিত আরো বলেন, জব্দ করা চিনি, ট্রাক এবং আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ