আজঃ বৃহস্পতিবার ২ এপ্রিল, ২০২৬

চট্টগ্রামে একযুগ আগে ফ্লাইওভার ধসের মামলায় ৮ জনের কারাদণ্ড

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাটে নির্মাণাধীন ফ্লাইওভার ধসে ১৩ জনের মর্মান্তিক প্রাণহানির ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় পৃথক দুই ধারায় মোট সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। এক যুগ আগে এ মামলায় গতকাল বুধবার চট্টগ্রামের চতুর্থ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শরীফুল আলম ভূঁঞা এ রায় দেন। এছাড়া দায়িত্ব পালনে গাফেলতির মাধ্যমে অবহেলাজনিত মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের আট কর্মকর্তাকে এ সাজা দেওয়া হয়েছে।
দণ্ডিতরা হলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের তৎকালীন প্রকল্প ব্যবস্থাপক গিয়াস উদ্দিন, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মনজুরুল ইসলাম, প্রকল্প প্রকৌশলী আব্দুল জলিল, আমিনুর রহমান, আব্দুল হাই, মো. মোশাররফ হোসেন রিয়াজ, মান নিয়ন্ত্রণ প্রকৌশলী শাহজান আলী ও রফিকুল ইসলাম।রায় ঘোষণার সময় জামিনে থাকা আট আসামির প্রত্যেকে আদালতে হাজির ছিলেন। পরে আদালতের নির্দেশে সাজামূলে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এছাড়া একই রায়ে আদালত দণ্ডবিধির ৩৩৮ ধারায় প্রত্যেক আসামিকে আরও দুই বছর করে সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। উভয় সাজা একটির পর আরেকটি কার্যকর হবে বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন।আদালত রায়ে আরও উল্লেখ করেন, আসামিরা মাঠপর্যায়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি বা কর্মকর্তা হিসেবে নির্মাণকাজ তদারকির দায়িত্বে ছিলেন। তারা যেমন হতাহতের ঘটনার দায় এড়াতে পারেন না এবং তাদের মাধ্যমে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দায়ের বিষয়টিও প্রতীয়মান হয়। দুর্ঘটনার পর ফ্লাইওভার নির্মাণকারী মূল কর্তৃপক্ষ সিডিএ একজন নিহতের পরিবারকে ডেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দেন বলে তদন্তে এসেছে। এর মধ্য দিয়ে সিডিএ দুর্ঘটনায় ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের দায়ের বিষয়টি স্বীকার করে নেয় বলে আদালত রায়ে উল্লেখ করেছেন।
আদালতের বেঞ্চ সহকারি ওমর ফুয়াদ জানিয়েছেন, দণ্ডবিধির ৩৩৪(এ) ধারায় আট আসামির প্রত্যেককে পাঁচ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও তিন লাখ টাকা করে জরিমানা দেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। জরিমানা অনাদায়ে তাদের আরও ছয় মাস কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে। জরিমানার টাকা আদায় করে ফ্লাইওভার ধসে হতাহতের স্বজনদের ক্ষতিপূরণ হিসেবে দেওয়ার জন্য আদালত নির্দেশনা দিয়েছেন।
জানা গেছে, ২০১২ সালের ২৪ নভেম্বর সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম নগরীর বহদ্দারহাট এলাকায় নির্মাণাধীন ফ্লাইওভারের তিনটি গার্ডার ভেঙে ১৩ জন নিহত হন। আহত হন অর্ধশতাধিক। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) ফ্লাইওভার নির্মাণের কাজ করছিল। তখন সিডিএর চেয়ারম্যান ছিলেন বর্তমান সংসদ সদস্য আবদুচ ছালাম। এ ঘটনার পর ২৬ নভেম্বর নগরীর চান্দগাঁও থানায় একটি মামলা দায়ের হয়। মামলা করেছিলেন চান্দগাঁও থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) আবুল কালাম আজাদ। মামলায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) তিন কর্মকর্তাসহ মোট ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছিল। এরা হলেন- প্রকল্প পরিচালক সিডিএর তৎকালীন নির্বাহী প্রকৌশলী হাবিবুর রহমান, সহকারি প্রকৌশলী তানজিব হোসেন ও উপসহকারী প্রকৌশলী সালাহ উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী। এছাড়া ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মীর আক্তার অ্যান্ড পারিশা ট্রেড সিস্টেমসের ১০ জন এবং বেসরকারি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এসএআরএম অ্যাসোসিয়েটস অ্যান্ড ডিপিএমের ১২ জনকে আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে ২০১৩ সালের ২৪ অক্টোবর চান্দগাঁও থানার তৎকালীন পরিদর্শক (তদন্ত) এস এম শহীদুল ইসলাম আটজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে সিডিএর তিন কর্মকর্তা, ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ তিনজন এবং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ মতিনসহ ১২ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়।
২০১৪ সালের ১৮ জুন আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন তৎকালীন চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ এস এম মজিবুর রহমান। রাষ্ট্রপক্ষে মোট ২৮ জন সাক্ষীর মধ্যে ২২ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। সাতজন আসামি সাফাই সাক্ষ্য দেন। সাত কর্মদিবস পর গত ২৫ জুন রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক শেষ হয়। এরপর রায় ঘোষণার তারিখ নির্ধারণ করেন আদালত।
প্রসঙ্গত, ২০১০ সালে এম এ মান্নান (বহদ্দারহাট ফ্লাইওভার) ফ্লাইওভারের নির্মাণ কাজ শুরু করেছিল চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। নির্মাণ শেষে ২০১৭ সালে সেটি পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করা হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউ কে চিং-এর নামে পাড়ার নামকরণের দাবি সিএইচটি সম্প্রীতি জোটের।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


​পার্বত্য চট্টগ্রামের অবাঙ্গালি জাতির প্রখ্যাত ব্যক্তিত্ব ও বীর মুক্তিযোদ্ধা ইউ কে চিং বীর বিক্রমের অবদানকে স্মরণীয় করে রাখতে তাঁর নামে পাড়ার নামকরণের দাবি জানিয়েছে ‘সিএইচটি সম্প্রীতি জোট’। সংগঠনের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার থোয়াইচিং মং চাক সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই জোরালো দাবি উত্থাপন করেন।

​ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং চাক তাঁর বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে পার্বত্য অঞ্চলের জাতিগোষ্ঠীগুলোর যে বীরত্বগাথা রয়েছে, তার অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র ইউ কে চিং বীর বিক্রম। দেশের জন্য তাঁর আত্মত্যাগ এবং সাহসিকতা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। তিনি মনে করেন, তাঁর নামে একটি পাড়ার নামকরণ করা হলে তা কেবল তাঁর স্মৃতির প্রতি সম্মান জানানোই হবে না, বরং এই অঞ্চলের মানুষের মধ্যে দেশপ্রেম এবং সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় করবে।

​ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং চাক আরও উল্লেখ করেন যে, সিএইচটি সম্প্রীতি জোট সবসময় পাহাড়ের উন্নয়নের পাশাপাশি এখানকার বীর সন্তানদের মর্যাদা রক্ষায় কাজ করে যাচ্ছে। ইউ কে চিং-এর নামে নামকরণের এই দাবি এলাকার সাধারণ মানুষের প্রাণের দাবি হিসেবেও তিনি উল্লেখ করেন।​পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থানীয় প্রশাসন এবং সরকারের সংশ্লিষ্ট মহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি এই দাবি দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে কাভার্ডভ্যান-মাইক্রোবাস সংঘর্ষে নিহত-১, আহত-৪

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কেমাইক্রোবাস ও মিনি কাভার্ডভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষে এক কিশোর নিহত হয়েছে। এই ঘটনায় একই পরিবারের আরও চারজন আহত হয়েছেন। বুধবার দুপুর আড়াইটার দিকে ওই মহাসড়কের চুনতি ইউনিয়নের খান দিঘি এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

দোহাজারী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাহ উদ্দিন চৌধুরী জানান, পুলিশ ফোর্স ঘটনাস্থলে পাঠানোর পর দুর্ঘটনা কবলিত গাড়িগুলো জব্দ করা হয়। একজন মৃত্যুর খবর পেয়েছি। তবে নিহতের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, ওমরাহ হজ পালন শেষে মাইক্রোবাসযোগে এক প্রবাসী ও তার পরিবারের সদস্যরা চট্টগ্রাম বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজারের ঈদগাহ নিজ বাড়িতে ফিরছিলেন। মাইক্রোবাসটি চুনতি এলাকায় পৌঁছালে বিপরীতমুখী একটি কাভার্ডভ্যানের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে মাইক্রোবাসটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের বিলে উল্টে যায়। স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা সদরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক ওই কিশোরকে মৃত ঘোষণা করেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ