আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামে সীমানা গুলোই সস্ত্রাসীদের নীরব আস্তানা : প্রশাসন নিরব

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী,পটিয়া,চন্দনাইশ ও রাঙ্গুনিয়া সীমান্তের জঙ্গলে গড়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা। কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ (সিপিজি) সদস্যদের পোশাক পরে প্রায় প্রতিদিন বোয়ালখালী,পটিয়া,চন্দনাইশ ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পাহাড় থেকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে নিরীহ লোকজন। পরে হাত পা বেঁধে গহীন জঙ্গলের কমলাছড়ি এলাকায় উপজাতিদের একটি চায়ের দোকানে আটকে রেখে আদায় করছে মুক্তিপণ। ফলে বোয়ালখালী, পটিয়া,চনন্দনাইশ ও রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ে দেখা দিয়েছে (সিপিজি) সদস্য নিয়ে আতঙ্ক। রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ের বনায়ন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ (সিপিজি) গঠন করা হলেও ওই সংগঠনের বেশ কয়েকজন সদস্য এখন নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে উপজাতিদের (মগ) একটি গ্রুপ বোয়ালখালী উপজেলার করলডেঙ্গা ইউনিয়নের তালুকদার বাড়ি থেকে পাহাড়ে কাজ করতে যাওয়া ৫ জন ও পটিয়া উপজেলার পূর্ব হাইদগাঁও গ্রামের ১০ জন দিনমজুরকে গত (৪ জুলাই) বৃহস্পতিবার ধরে নিয়ে যাওয়ার পর গহীন জঙ্গলে সন্ত্রাসীদের এই আস্তানার তথ্য পাওয়া যায়। তবে মুক্তিপণ আদায় করতে না পারলেও দিনমজুরদের বন্দুকের বাঁট দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। এই আতঙ্কে পাহাড়ের ঢালায় চাষাবাদ করা বিভিন্ন সবজি ক্ষেত, লেবু বাগান ও পেয়ারা বাগানের দিনমজুররা গত কয়েকদিন ধরে পাহাড়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। বন বিভাগ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে বোয়ালখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ ও রাঙ্গুনিয়া পাহাড়ি সড়ক হয়ে প্রতিদিন দিনমজুর ছাড়াও অসংখ্য লোক চলাচল করে থাকে। পটিয়া সীমান্তে শ্রীমাই বিট, রাঙ্গুনিয়া সীমান্তে বোয়ালখালী ও চন্দনাইশ সীমান্ত দিয়ে ধোপাছড়ি সীমান্ত রয়েছে কমলছড়ি বিট। বিটগুলোর মাঝামাঝি গহীন জঙ্গলে রয়েছে উপজাতিদের একটি চায়ের দোকান। সন্ত্রাসীরা পাহাড়ের শীলছড়ি ব্লক, শ্রীমাই ব্লক, ঢোল ছড়া, কমলাছড়ি, ভাতখোলা ধোপাছড়ি সহ আশপাশের পাহাড়ি এলাকা থেকে দিনমজুর ও সবজিচাষিদের ধরে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করছে। পাহাড়ের পটিয়া সীমানায় ঢুকে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় ইতিমধ্যে রাঙ্গুনিয়া (সিপিজি) ১৪জন সদস্যের মধ্যে (কমলাছড়ি-৮জন ও কালীছড়ি-৬ জন) আবু তাহের ও নুরুল হককে সতর্কও করেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। অভিযোগ উঠেছে, কয়েকজন (সিপিজি) সদস্যদের সহযোগিতায় উপজাতির একটি গ্রুপ গহীন জঙ্গলে আস্তানা গড়েছে। পটিয়া উপজেলার পূর্ব-হাইদগাঁও গ্রামের দিনমজুর আবু তাহের (৪০), জাহেদুল হক (৪২) আবদুস ছালাম (৪৪), মো. সোলতান (২৭) ও মো. কালুুসহ (২৫) ১০ জন দিনমজুরকে পটিয়া থেকে ধরে নিয়ে প্রায় ৪ কিলোমিটার গহীন জঙ্গলের কমলাছড়ি বিট এলাকার উপজাতির চায়ের দোকানে হাত-পা বেঁধে মুক্তিপণের জন্য মারধর করার পর এই তথ্য ফাঁস হয়।
দক্ষিণ বন রেঞ্জের পটিয়া শ্রামীই বিট কর্মকর্তা এসএম কাউছার হোসেন এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, (সিপিজি) সদস্যদের পোশাক পরে উপজাতির একটি গ্রুপ নিরীহ লোকজন ধরে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করছে বলে শুনেছি। তা পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। মুক্তিপণ আদায় বন্ধ করতে হলে বোয়ালখালী, পটিয়া,চন্দনাইশ ও রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতা দরকার।
এ প্রসঙ্গে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দীন বলেন, পোশাক পরে নিরীহ লোকজনকে ধরে নিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

স্ত্রীর মরদেহ রেখে পালালো স্বামী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খাদিজা আক্তার কাশফি নামের এক গৃহবধূর মরদেহ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে রেখে পালিয়ে গেছেন স্বামী মো. মারুফ। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) রাতে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, কাশফিকে মৃত অবস্থায় আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন স্বামী মারুফ।

কর্তব্যরত চিকিৎসক কাশফিকে মৃত ঘোষণার পরপরই মরদেহ জরুরি বিভাগে রেখে কৌশলে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান তিনি। নিহতের গলায় মোটা দাগ রয়েছে বলে জানিয়েছেন আনোয়ারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উপমা চৌধুরী। পরে কাশফির মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন স্বজনরা। পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশ হাসপাতাল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ঘটনার পর থেকে স্বামী পলাতক রয়েছেন।

বোয়ালখালীতে বসতঘর চুরি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বোয়ালখালীর বসতঘরে ভেন্টিলেটর ভেঙে নিয়ে গেছে নগদ টাকাসহ স্বর্ণালংকার। উপজেলার পোপাদিয়ার আকুবদন্ডী মিনা গাজী মাজার এলাকার প্রবাসী জয়নাল মাস্টারের ঘরে এ ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সকালে পরিবারের সদস্যরা নগরী থেকে বাড়িতে এসে এ ঘটনা জানতে পারেন।

পরিবারের সদস্য প্রবাসী মোহাম্মদ সাহাব উদ্দিন মানিক জানান, তার বড় ভাই জয়নাল মাস্টার গত সপ্তাহে পরিবার নিয়ে নগরের হালিশহরে মেয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সেমি-পাকা ঘরের ভেন্টিলেটর ভেঙে চোরের দল প্রবেশ করেছে। তারা আলমারি ভেঙে প্রায় ২ ভরি স্বর্ণের গয়না ও নগদ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে গেছে এবং ঘরের সমস্ত জিনিসপত্র এলোমেলো করে রেখেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য মোহাম্মদ মামুন বলেন, ‘জয়নাল মাস্টার ঘরে না থাকার সুবাদে চোরের দল এ ঘটনা ঘটিয়েছে। এ ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করার জন্য ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের বলা হয়েছে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ