চট্টগ্রামে সীমানা গুলোই সস্ত্রাসীদের নীরব আস্তানা : প্রশাসন নিরব

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী,পটিয়া,চন্দনাইশ ও রাঙ্গুনিয়া সীমান্তের জঙ্গলে গড়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা। কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ (সিপিজি) সদস্যদের পোশাক পরে প্রায় প্রতিদিন বোয়ালখালী,পটিয়া,চন্দনাইশ ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পাহাড় থেকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে নিরীহ লোকজন। পরে হাত পা বেঁধে গহীন জঙ্গলের কমলাছড়ি এলাকায় উপজাতিদের একটি চায়ের দোকানে আটকে রেখে আদায় করছে মুক্তিপণ। ফলে বোয়ালখালী, পটিয়া,চনন্দনাইশ ও রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ে দেখা দিয়েছে (সিপিজি) সদস্য নিয়ে আতঙ্ক। রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ের বনায়ন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ (সিপিজি) গঠন করা হলেও ওই সংগঠনের বেশ কয়েকজন সদস্য এখন নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে উপজাতিদের (মগ) একটি গ্রুপ বোয়ালখালী উপজেলার করলডেঙ্গা ইউনিয়নের তালুকদার বাড়ি থেকে পাহাড়ে কাজ করতে যাওয়া ৫ জন ও পটিয়া উপজেলার পূর্ব হাইদগাঁও গ্রামের ১০ জন দিনমজুরকে গত (৪ জুলাই) বৃহস্পতিবার ধরে নিয়ে যাওয়ার পর গহীন জঙ্গলে সন্ত্রাসীদের এই আস্তানার তথ্য পাওয়া যায়। তবে মুক্তিপণ আদায় করতে না পারলেও দিনমজুরদের বন্দুকের বাঁট দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। এই আতঙ্কে পাহাড়ের ঢালায় চাষাবাদ করা বিভিন্ন সবজি ক্ষেত, লেবু বাগান ও পেয়ারা বাগানের দিনমজুররা গত কয়েকদিন ধরে পাহাড়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। বন বিভাগ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে বোয়ালখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ ও রাঙ্গুনিয়া পাহাড়ি সড়ক হয়ে প্রতিদিন দিনমজুর ছাড়াও অসংখ্য লোক চলাচল করে থাকে। পটিয়া সীমান্তে শ্রীমাই বিট, রাঙ্গুনিয়া সীমান্তে বোয়ালখালী ও চন্দনাইশ সীমান্ত দিয়ে ধোপাছড়ি সীমান্ত রয়েছে কমলছড়ি বিট। বিটগুলোর মাঝামাঝি গহীন জঙ্গলে রয়েছে উপজাতিদের একটি চায়ের দোকান। সন্ত্রাসীরা পাহাড়ের শীলছড়ি ব্লক, শ্রীমাই ব্লক, ঢোল ছড়া, কমলাছড়ি, ভাতখোলা ধোপাছড়ি সহ আশপাশের পাহাড়ি এলাকা থেকে দিনমজুর ও সবজিচাষিদের ধরে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করছে। পাহাড়ের পটিয়া সীমানায় ঢুকে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় ইতিমধ্যে রাঙ্গুনিয়া (সিপিজি) ১৪জন সদস্যের মধ্যে (কমলাছড়ি-৮জন ও কালীছড়ি-৬ জন) আবু তাহের ও নুরুল হককে সতর্কও করেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। অভিযোগ উঠেছে, কয়েকজন (সিপিজি) সদস্যদের সহযোগিতায় উপজাতির একটি গ্রুপ গহীন জঙ্গলে আস্তানা গড়েছে। পটিয়া উপজেলার পূর্ব-হাইদগাঁও গ্রামের দিনমজুর আবু তাহের (৪০), জাহেদুল হক (৪২) আবদুস ছালাম (৪৪), মো. সোলতান (২৭) ও মো. কালুুসহ (২৫) ১০ জন দিনমজুরকে পটিয়া থেকে ধরে নিয়ে প্রায় ৪ কিলোমিটার গহীন জঙ্গলের কমলাছড়ি বিট এলাকার উপজাতির চায়ের দোকানে হাত-পা বেঁধে মুক্তিপণের জন্য মারধর করার পর এই তথ্য ফাঁস হয়।
দক্ষিণ বন রেঞ্জের পটিয়া শ্রামীই বিট কর্মকর্তা এসএম কাউছার হোসেন এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, (সিপিজি) সদস্যদের পোশাক পরে উপজাতির একটি গ্রুপ নিরীহ লোকজন ধরে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করছে বলে শুনেছি। তা পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। মুক্তিপণ আদায় বন্ধ করতে হলে বোয়ালখালী, পটিয়া,চন্দনাইশ ও রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতা দরকার।
এ প্রসঙ্গে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দীন বলেন, পোশাক পরে নিরীহ লোকজনকে ধরে নিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের সন্দেহভাজন হিসেবে ফাহিম আহমেদ নামে আরও এক তরুণকে আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার ওরফে অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে সন্দেহভাজন হিসেবে ফাহিম আহমেদ নামে আরও এক তরুণকে আটক করেছে পুলিশ। এর আগে, তুহিন ও আনাস নামের দুই তরুণকে আটক করা হয়।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সহকারী পুলিশ সুপার (সদর দক্ষিণ সার্কেল) মোস্তাইন বিল্লাহ ফেরদৌস।

সহকারী পুলিশ সুপার জানান, অপ্রতিমের নিখোঁজের পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতীমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়। পরে তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়। তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিম আহমেদকে আটক করা হয়েছে। দুইনজনকেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এদিকে ফাহিম আহমেদের আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক। তিনি বলেন, তুহিন ও আনাসকে আটকের পর ফাহিমকে আটক করা হয়।

অপহরণের পর ধর্ষণের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন অবস্থায় তরুণীর মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়ন ফকিরাবাদে বকশিপাড়ায় স্বামীর পরিকল্পনায় ঠান্ডা মাথায় খুন করে তমা খাতুনকে। তমা খাতুনের স্বামী বক্কর হোসেন এখন ভেড়ামারা থানা পুলিশ হেফাজতে। তমা খাতুন (১৮) রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টা ৩০ মিনিটে মারা যান। নিহত তমা খাতুন ভেড়ামারা উপজেলার মোকারিমপুর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ বকশীপাড়া এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের মেয়ে।

নিহতের পরিবারের দাবি, গত ১৫ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে রক্তাক্ত অবস্থায় বাড়ির পাশে ফেলে রেখে যায়। স্বজন ও প্রতিবেশীরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

নিহতের মামাতো ভাই হাবিবুর রহমান জানান, এ ঘটনায় ৪-৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে ভেড়ামারা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। তমার মৃত্যুর পর এলাকায় শোক ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে অভিযুক্তদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার এবং আইনানুগ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। স্বামীর পরিকল্পনায় ঠান্ডা মাথায় খুন করে তমা খাতুনকে।

ভেড়ামারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মাদ জাহেদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ওই তরুণী মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আহত হয়েছিলেন বলে জানা গেছে। ধর্ষণের কোনো আলামত বা প্রমাণ পুলিশ পায়নি। রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।

ভেড়ামারা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মিজানুর রহমান বলেন, ১৫ সেপ্টেম্বর রাতে ওই তরুণীকে হাসপাতালে আনা হয়। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। তবে হাসপাতালে ভর্তির সময় পরিবারের পক্ষ থেকে ধর্ষণের বিষয়ে কোনো তথ্য জানানো হয়নি।

আলোচিত খবর

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্ক ও যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতায়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

যুক্তরাষ্ট্র ও ডেনমার্ক গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ইস্যুতে সমঝোতায় পৌঁছেছে । আগামী সপ্তাহে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের সাইড মিটিং এ দুই দেশের মধ্যে এ-সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এ বিষয়ে বক্তব্য স্পষ্ট, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে গ্রিনল্যান্ডের নিরাপত্তা ও প্রয়োজনীয় অন্যান্য ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণের সুযোগ পাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ