আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

চট্টগ্রামে সীমানা গুলোই সস্ত্রাসীদের নীরব আস্তানা : প্রশাসন নিরব

এম মনির চৌধুরী রানা চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী,পটিয়া,চন্দনাইশ ও রাঙ্গুনিয়া সীমান্তের জঙ্গলে গড়ে উঠেছে সন্ত্রাসীদের নিরাপদ আস্তানা। কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ (সিপিজি) সদস্যদের পোশাক পরে প্রায় প্রতিদিন বোয়ালখালী,পটিয়া,চন্দনাইশ ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পাহাড় থেকে ধরে নিয়ে যাচ্ছে নিরীহ লোকজন। পরে হাত পা বেঁধে গহীন জঙ্গলের কমলাছড়ি এলাকায় উপজাতিদের একটি চায়ের দোকানে আটকে রেখে আদায় করছে মুক্তিপণ। ফলে বোয়ালখালী, পটিয়া,চনন্দনাইশ ও রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ে দেখা দিয়েছে (সিপিজি) সদস্য নিয়ে আতঙ্ক। রাঙ্গুনিয়ার পাহাড়ের বনায়ন রক্ষণাবেক্ষণের জন্য কমিউনিটি পেট্রোল গ্রুপ (সিপিজি) গঠন করা হলেও ওই সংগঠনের বেশ কয়েকজন সদস্য এখন নানা অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছে। তাদের সঙ্গে রয়েছে উপজাতিদের (মগ) একটি গ্রুপ বোয়ালখালী উপজেলার করলডেঙ্গা ইউনিয়নের তালুকদার বাড়ি থেকে পাহাড়ে কাজ করতে যাওয়া ৫ জন ও পটিয়া উপজেলার পূর্ব হাইদগাঁও গ্রামের ১০ জন দিনমজুরকে গত (৪ জুলাই) বৃহস্পতিবার ধরে নিয়ে যাওয়ার পর গহীন জঙ্গলে সন্ত্রাসীদের এই আস্তানার তথ্য পাওয়া যায়। তবে মুক্তিপণ আদায় করতে না পারলেও দিনমজুরদের বন্দুকের বাঁট দিয়ে পিটিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়। এই আতঙ্কে পাহাড়ের ঢালায় চাষাবাদ করা বিভিন্ন সবজি ক্ষেত, লেবু বাগান ও পেয়ারা বাগানের দিনমজুররা গত কয়েকদিন ধরে পাহাড়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছেন। বন বিভাগ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রামে বোয়ালখালী, পটিয়া, চন্দনাইশ ও রাঙ্গুনিয়া পাহাড়ি সড়ক হয়ে প্রতিদিন দিনমজুর ছাড়াও অসংখ্য লোক চলাচল করে থাকে। পটিয়া সীমান্তে শ্রীমাই বিট, রাঙ্গুনিয়া সীমান্তে বোয়ালখালী ও চন্দনাইশ সীমান্ত দিয়ে ধোপাছড়ি সীমান্ত রয়েছে কমলছড়ি বিট। বিটগুলোর মাঝামাঝি গহীন জঙ্গলে রয়েছে উপজাতিদের একটি চায়ের দোকান। সন্ত্রাসীরা পাহাড়ের শীলছড়ি ব্লক, শ্রীমাই ব্লক, ঢোল ছড়া, কমলাছড়ি, ভাতখোলা ধোপাছড়ি সহ আশপাশের পাহাড়ি এলাকা থেকে দিনমজুর ও সবজিচাষিদের ধরে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করছে। পাহাড়ের পটিয়া সীমানায় ঢুকে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ায় ইতিমধ্যে রাঙ্গুনিয়া (সিপিজি) ১৪জন সদস্যের মধ্যে (কমলাছড়ি-৮জন ও কালীছড়ি-৬ জন) আবু তাহের ও নুরুল হককে সতর্কও করেছে বলে নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়। অভিযোগ উঠেছে, কয়েকজন (সিপিজি) সদস্যদের সহযোগিতায় উপজাতির একটি গ্রুপ গহীন জঙ্গলে আস্তানা গড়েছে। পটিয়া উপজেলার পূর্ব-হাইদগাঁও গ্রামের দিনমজুর আবু তাহের (৪০), জাহেদুল হক (৪২) আবদুস ছালাম (৪৪), মো. সোলতান (২৭) ও মো. কালুুসহ (২৫) ১০ জন দিনমজুরকে পটিয়া থেকে ধরে নিয়ে প্রায় ৪ কিলোমিটার গহীন জঙ্গলের কমলাছড়ি বিট এলাকার উপজাতির চায়ের দোকানে হাত-পা বেঁধে মুক্তিপণের জন্য মারধর করার পর এই তথ্য ফাঁস হয়।
দক্ষিণ বন রেঞ্জের পটিয়া শ্রামীই বিট কর্মকর্তা এসএম কাউছার হোসেন এর সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, (সিপিজি) সদস্যদের পোশাক পরে উপজাতির একটি গ্রুপ নিরীহ লোকজন ধরে নিয়ে মুক্তিপণ আদায় করছে বলে শুনেছি। তা পুলিশ প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। মুক্তিপণ আদায় বন্ধ করতে হলে বোয়ালখালী, পটিয়া,চন্দনাইশ ও রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশের সহযোগিতা দরকার।
এ প্রসঙ্গে পটিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জসিম উদ্দীন বলেন, পোশাক পরে নিরীহ লোকজনকে ধরে নিয়ে মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে র‌্যাব সদস্য হত্যা মামলার আরও দুই আসামি গ্রেফতার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাব সদস্য হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের করা মামলার এজাহারভুক্ত পলাতক দুই আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, চাঁদপুর জেলার শাহরাস্তি উপজেলার নরুমপুর এলাকার শাহজাহান মোল্লা প্রকাশ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. মিজান (৫৩) ও সন্দ্বীপ থানার কালাভানিয়া এলাকার মৃত বোরহান উদ্দিনের ছেলে মো. মামুন (৩৮)।

র‌্যাব-৭ এর সহকারী পরিচালক (গণমাধ্যম) সহকারী পুলিশ সুপার এ আর এম মোজাফ্ফর হোসেন জানান, র‌্যাব সূত্র জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গত ২৫ জানুয়ারি নগরের খুলশী থানার ইস্পাহানি মোড় এলাকায় অভিযান চালিয়ে মামলার ১৬ নম্বর এজাহারভুক্ত পলাতক আসামি মো. মিজানকে গ্রেপ্তার করা হয়। এছাড়া ২৬ জানুয়ারি ভোরে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার বগুড়া নিবাস এলাকায় পৃথক অভিযানে সন্দেহভাজন পলাতক আসামি মো. মামুনকে গ্রেফতার করা হয়।
র‌্যাব-৭ জানায়, গত ১৯ জানুয়ারি জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারের উদ্দেশ্যে অভিযান চালানোর সময় দুর্বৃত্তরা অতর্কিত হামলা চালায়।

এতে চারজন র‌্যাব সদস্য গুরুতর আহত হন। পরে আহতদের উদ্ধার করে চট্টগ্রাম সিএমএইচে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একজন র‌্যাব সদস্যকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত অপর তিনজন বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।এ ঘটনায় র‌্যাব-৭ এর পক্ষ থেকে সীতাকুণ্ড থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ২৯ জনকে এজাহারনামীয় এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১৫০ থেকে ২০০ জনকে আসামি করা হয়।

কসাইকে ‘খুনের পর টুকরো লাশ ছড়িয়ে দেয়া প্রেমিকা’ গ্রেফতার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের বায়েজিদ এলাকায় পরকীয়া প্রেমের জেরে এক কসাইকে হত্যার পর তার লাশ টুকরো করে তার প্রেমিকা বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে দিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার দিনভর নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন শহীদনগর ও লোহারপুল এলাকার খাল ও বিভিন্ন স্থান থেকে খুন হওয়া আনিসের লাশের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়। তদন্তে উঠে এসেছে, নিহত মো. আনিছের (৩৮) সঙ্গে দীর্ঘদিনের সম্পর্ক থাকা সুফিয়া আক্তার (৩৯) নামে এক নারীর পরিকল্পনায় তাকে হত্যা করা হয়েছে।

পরিকল্পনা অনুযায়ী আনিছকে অভিযুক্ত নারী বাসায় ডেকে নিয়ে সহযোগীদের সহায়তায় পাথরের শীল ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হত্যা করে। পরবর্তীতে মরদেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত নারী সুফিয়া আক্তারকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, নিহত আনিছ চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার চিকদাইর এলাকার বাসিন্দা। এ ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া আসামি সুফিয়া আক্তার নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন পাঠানপাড়া এলাকায় বসবাস করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২০ জানুয়ারি দিবাগত রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে বায়েজিদ বোস্তামী থানার শহীদনগর চারতলার মোড় এলাকায় একটি কালো পলিথিনে মোড়ানো মানবদেহের দুটি কাটা হাত পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে ঘটনাস্থলে গিয়ে হাত দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

ঘটনার পরপরই অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত ও মরদেহের অবশিষ্ট অংশ উদ্ধারে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। তদন্তের একপর্যায়ে উদ্ধারকৃত জাতীয় পরিচয়পত্রের সূত্রে নিহত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা জানান, আনিছ গত ২০ জানুয়ারি থেকে নিখোঁজ ছিলেন।

পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পর হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের লক্ষে পুলিশ অভিযান শুরু করে। তারই ধারাবাহিকতায় রাত আনুমানিক চারটার দিকে শহীদনগর এলাকা থেকে সুফিয়া আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশ উত্তর জোনের উপ-কমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, পুলিশের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে সুফিয়া আক্তার হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান, নিহত আনিছের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ছিল।

পরবর্তীতে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ ও মনোমালিন্যের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে তিনি আনিছকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।তিনি আরও বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী ২০ জানুয়ারি বিকেলে আনিছকে পাঠানপাড়ার বাসায় ডেকে নেওয়া হয়। সেখানে পাথরের শীল দিয়ে মাথায় আঘাত করে তাকে গুরুতর আহত করা হয়।

পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলায় আঘাত করে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ টুকরা টুকরা করে কালো পলিথিনে ভরে আলামত গোপনের উদ্দেশ্যে শহীদনগর ও শীতলকর্ণা এলাকার বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়া হয়।গ্রেফতারকৃত আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহত ব্যক্তির মরদেহের খণ্ডিত বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত অন্যান্যদের শনাক্ত করা হচ্ছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ