আজঃ রবিবার ১৪ জুন, ২০২৬

গ্রেফতারকৃত কোকেনের বাহক স্টাসিযা শান্তে রোলি বাহামার স্টোরের বিক্রয়কর্মী

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

আন্তর্জাতিক মাদক পাচারে নিরাপদ রুট বাংলাদেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ী চক্ররা মাদক পাচারে নিরাপদ রুট হিসেবে বাংরাদেশকে ব্যবহার করছে। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে কোকেনসহ ধরা পড়া বাহামা নাগরিক স্টাসিযা শান্তে রোলির মত বাহককে ওই চক্ররা ব্যবহার করছে। পুলিশের ধারণা স্টাসিয়া আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ী চক্রে জড়িত হয়ে কোকেন বাহক হিসেবেই বাংলাদেশের রুট ব্যবহার করেছেন। তবে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদেও তার গন্তব্য ও উদ্দেশ্য উদঘাটন হয়নি।গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, স্টাসিয়া জানিয়েছেন তিনি বাহামার একটি স্টোরের বিক্রয়কর্মী। তিনি অবিবাহিত। তার বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে বাংলাদেশে এসেছেন। এরবাইরে তার কাছ থেকে অন্য কোনো তথ্য জানা যায়নি। তবে আমরা ধারণা করছি, কোকেন চোরাচালানকারী চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তিনি বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা করছিলেন। এখানে এই মাদকের ব্যবহার না থাকায় আমরা আপত দৃষ্টিতে বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি ধারণা করছি।
তার পাসপোর্টে কোন কোন দেশের ভিসা আছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি ব্রাজিলে গিয়ে এই চক্রের সাথে জড়িত হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। তার পাসপোর্টে দুবাইয়ের ভিসা আছে। তিনি দুবাই থেকে বাংলাদেশে এসেছেন অন-এরাইভ্যাল ভিসা নিয়ে। এরপরে তার গন্তব্য কোথায় সেটা জানার জন্য তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে একজন আইও (তদন্ত কর্মকর্তা) নির্বাচন করে তদন্ত করা হবে। তদন্তে এই চক্রের সাথে কারো জড়িত সেটাও জানার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের সূত্রে যৌথভাবে গত ১২ জুলাই থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে কোকেন বাহক স্টাসিয়া শান্তে রোলি এর জন্য যৌথভাবে অপেক্ষা করতে থাকেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বাংলাদেশের একটি দল। ১৩ জুলাই সকাল ৮ টায় স্টাসিয়া শান্তে রোলি ফ্লাই দুবাইয়ের একটি (এফজে-০৫৬৩) ফ্লাইটে করে দুবাই থেকে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে অবতরণ করেন। ওই সময় তার কাছে কোনো ল্যাগেজ ছিল না। তিনি স্বাভাবিক নিয়মে বিমানবন্দর ত্যাগ করে আগ্রাবাদ হোটেলে অবস্থান করেন। ১৫ জুলাই তিনি তাঁর ল্যাগেজ নিতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে আসলে ব্যাগ তল্লাশি করে একটি কার্টনের ভেতর প্রায় ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ৭ টি পলি প্যাকেট থেকে মোট ৩ কেজি ৯০০ গ্রাম কোকেন জব্দ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর আইনের আওতায় নগরের পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া স্টাসিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জের ধরে কোকেনের বাংলাদেশে অবস্থান গ্রাহকদের নজরদারিতে রেখে সংশ্লিষ্ট আরও ২ জন নাইজেরিয়ানকে ঢাকায় গ্রেফতার করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টদের এই মামলায় গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হবে।
এর আগে গত সোমবার চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইনশঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই নারী যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে একটি ইউপিএস এর ভিতর থেকে ৩ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের কোকেন এর প্যাকেট পাওয়া যায়।অভিযানে নেতৃত্বে দেন ঢাকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে ক্রিকেটার নাঈমকে হেনস্তায় এসআইসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফতার-১

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের স্পিনার নাঈম হাসানকে পুলিশ পরিচয়ে আটক, মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শকসহ (এসআই) তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার রাতে নগরের খুলশী থানায় মামলাটি দায়ের করেন ক্রিকেটার নাঈম হাসানের ভাই সাব্বির হাসান।মামলার পর একজনকে গ্রেপ্তার করেছে খুলশী থানা পুলিশ।মামলার আসামিরা হলেন- এসআই শফিকুল, কনস্টেবল রাসেল ও সোর্স সোহেল। এদিকে নাঈম হাসানকে মারধর ও হেনস্তার ঘটনায় শনিবার সকালে এসআই শফিকুল, কনস্টেবল রাসেল এবং আরেকজন কনস্টেবলকে বরখাস্ত করা হয়েছে বলে জানান খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফুর রহমান।

তিনি জানান, অভিযানের বিষয়ে এসআই শফিকুল ইসলাম আমাকে আগে থেকে কিছুই জানায়নি। থানায় আনার পরই তিনি ক্রিকেটার নাঈমের পরিচয় সম্পর্কে জানতে পারেন।বিষয়টি জানার পর দুঃখ প্রকাশ করে সম্মানের সঙ্গে নাঈমকে থানা থেকে চলে যাওয়ার অনুরোধ করা হয়। তিনি আরও বলেন, নাঈমের পক্ষ থেকে জানানো হয়- জড়িতদের শাস্তি না হওয়া পর্যন্ত তারা থানা ত্যাগ করবেন না।পরে এ ঘটনায় নাঈমের ভাই সাব্বির বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর আসামি সোহেলকে গ্রেফতার করা হয়।

রূপগঞ্জে বিপুল পরিমাণ মাদক দ্রব্যসহ ৬ মাদক কারবারি গ্রেফতার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

:

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার গোলাকান্দাইল, বরপা বাসস্ট্যান্ড, চনপাড়া পুনর্বাসনকেন্দ্র ও কায়েতপাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্যসহ ৬মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গতকাল ১০জুন বুধবার ভোরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৮৫ বোতল বিদেশী মদ, পাঁচশত গ্রাম গাঁজা, ৫৫ বোতল নেশাজাতীয় সিরাপ ফায়ারড্রিল, ৪১ পিস ইয়াবাসহ পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে।

গ্রেফতারকৃতরা হচ্ছে গোলাকান্দাইল এলাকার মকবুল হোসেন (২৯), বাবু লাল (২০), বরপা এলাকার আকাশ মিয়া(২৪), চনপাড়া পূর্নবাসন কেন্দ্রের ফরহাদ হোসেন (২২), রনি মিয়া (২৬) ও কায়েতপাড়া ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকার দিল মোহাস্মদ দিলু (৩০)।
রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে রূপগঞ্জ থানায় পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ