গ্রেফতারকৃত কোকেনের বাহক স্টাসিযা শান্তে রোলি বাহামার স্টোরের বিক্রয়কর্মী

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

আন্তর্জাতিক মাদক পাচারে নিরাপদ রুট বাংলাদেশ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ী চক্ররা মাদক পাচারে নিরাপদ রুট হিসেবে বাংরাদেশকে ব্যবহার করছে। চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর থেকে কোকেনসহ ধরা পড়া বাহামা নাগরিক স্টাসিযা শান্তে রোলির মত বাহককে ওই চক্ররা ব্যবহার করছে। পুলিশের ধারণা স্টাসিয়া আন্তর্জাতিক মাদক ব্যবসায়ী চক্রে জড়িত হয়ে কোকেন বাহক হিসেবেই বাংলাদেশের রুট ব্যবহার করেছেন। তবে কয়েক দফা জিজ্ঞাসাবাদেও তার গন্তব্য ও উদ্দেশ্য উদঘাটন হয়নি।গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১টায় চট্টগ্রাম বিভাগীয় মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির মহাপরিচালক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান।
তিনি বলেন, স্টাসিয়া জানিয়েছেন তিনি বাহামার একটি স্টোরের বিক্রয়কর্মী। তিনি অবিবাহিত। তার বাবা-মায়ের সঙ্গে থাকেন। চিকিৎসার প্রয়োজনে বাংলাদেশে এসেছেন। এরবাইরে তার কাছ থেকে অন্য কোনো তথ্য জানা যায়নি। তবে আমরা ধারণা করছি, কোকেন চোরাচালানকারী চক্রের সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তিনি বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করার অপচেষ্টা করছিলেন। এখানে এই মাদকের ব্যবহার না থাকায় আমরা আপত দৃষ্টিতে বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করার বিষয়টি ধারণা করছি।
তার পাসপোর্টে কোন কোন দেশের ভিসা আছে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তিনি ব্রাজিলে গিয়ে এই চক্রের সাথে জড়িত হয়েছে বলে আমাদের ধারণা। তার পাসপোর্টে দুবাইয়ের ভিসা আছে। তিনি দুবাই থেকে বাংলাদেশে এসেছেন অন-এরাইভ্যাল ভিসা নিয়ে। এরপরে তার গন্তব্য কোথায় সেটা জানার জন্য তাকে গ্রেফতার দেখিয়ে একজন আইও (তদন্ত কর্মকর্তা) নির্বাচন করে তদন্ত করা হবে। তদন্তে এই চক্রের সাথে কারো জড়িত সেটাও জানার চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের সূত্রে যৌথভাবে গত ১২ জুলাই থেকে চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরে কোকেন বাহক স্টাসিয়া শান্তে রোলি এর জন্য যৌথভাবে অপেক্ষা করতে থাকেন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বাংলাদেশের একটি দল। ১৩ জুলাই সকাল ৮ টায় স্টাসিয়া শান্তে রোলি ফ্লাই দুবাইয়ের একটি (এফজে-০৫৬৩) ফ্লাইটে করে দুবাই থেকে চট্টগ্রাম বিমান বন্দরে অবতরণ করেন। ওই সময় তার কাছে কোনো ল্যাগেজ ছিল না। তিনি স্বাভাবিক নিয়মে বিমানবন্দর ত্যাগ করে আগ্রাবাদ হোটেলে অবস্থান করেন। ১৫ জুলাই তিনি তাঁর ল্যাগেজ নিতে চট্টগ্রাম বিমানবন্দরে আসলে ব্যাগ তল্লাশি করে একটি কার্টনের ভেতর প্রায় ৫০০-৬০০ গ্রাম ওজনের ৭ টি পলি প্যাকেট থেকে মোট ৩ কেজি ৯০০ গ্রাম কোকেন জব্দ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ এর আইনের আওতায় নগরের পতেঙ্গা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এছাড়া স্টাসিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদের জের ধরে কোকেনের বাংলাদেশে অবস্থান গ্রাহকদের নজরদারিতে রেখে সংশ্লিষ্ট আরও ২ জন নাইজেরিয়ানকে ঢাকায় গ্রেফতার করা হয়। প্রাপ্ত তথ্য যাচাই-বাছাই করে পরবর্তীতে সংশ্লিষ্টদের এই মামলায় গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনা হবে।
এর আগে গত সোমবার চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইনশঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ওই নারী যাত্রীর ব্যাগেজ তল্লাশি করে একটি ইউপিএস এর ভিতর থেকে ৩ কেজি ৯০০ গ্রাম ওজনের কোকেন এর প্যাকেট পাওয়া যায়।অভিযানে নেতৃত্বে দেন ঢাকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের একটি দল।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে মশাল মিছিলের চেষ্টায় ছাত্রলীগের ১৩ কর্মী আটক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের ১৩ কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তারা মশাল মিছিল করার জন্য জড়ো হয়েছিলেন বলে পুলিশ জানায়। রোববার রাতে নগরের চান্দগাঁও থানা থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। সোমবার তাদের আদালতে হাজিরের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেফতার ১৩ জন হলো, মোরশেদ আলম (৩৫), আয়াতুর রহমান হামিম (২০), সামি উদ্দিন (১৯), সাজ্জাদুল ইসলাম (২১), আরিফুর রহমান (২৮), দিদারুল ইসলাম বাবু (২৮), মাঈনুদ্দিন (৩৮), আজগর হোসেন (২৪), জাবেদুল ইসলাম (২৪), জুনাইদ হাসনাত ইফতি (১৯), সাজ্জাদ হোসেন (২৬), জিয়াউল হক রুবেল (২৭) এবং সাইফুদ্দিন (২২)।
চান্দগাঁও থানার ওসি জসিম উদ্দিন বলেন, গ্রেফতার কর্মীদের কাছ থেকে একটি ব্যানার ও ১০টি মশাল জব্দ করা হয়েছে। সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সবাইকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

চট্টগ্রামে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ গ্রেফতার-২

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীতে শীর্ষ সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মেট্টোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) বায়েজিদ বোস্তামী থানা পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা হলেন, মো. আসিফ (২৫) ও সাইদুল ইসলাম ওরফে আরিফ (২৪)। এর মধ্যে আসিফ একটি মামলার পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি।রোববার রাতে নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানার অক্সিজেন-কোয়াইশ সড়কের ওয়াজেদিয়া খেলার মাঠসংলগ্ন এলাকা থেকে বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলিসহ তাদের গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেফতার আসিফের বিরুদ্ধে ডাকাতির প্রস্তুতি, চাঁদাবাজি, দাঙ্গা, অস্ত্র আইন, সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলা ও হত্যাচেষ্টাসহ মোট ১১টি মামলা রয়েছে। এছাড়া আরিফের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির দুটি মামলা রয়েছে।

সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশনস্) মুহাম্মদ ফয়সাল আহম্মেদ বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রোববার রাতে পরোয়ানাভুক্ত আসামি আসিফকে ধরতে অভিযান চালানো হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছালে আসিফ ও তার সহযোগী পালানোর চেষ্টা করলে তাদের গ্রেফতার করা হয়। তল্লাশিতে আসিফের কোমর থেকে একটি বিদেশি পিস্তল ও ম্যাগাজিনে থাকা দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। এছাড়া আরিফের প্যান্টের পকেট থেকে আরও দুই রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও গুলি বহনের বৈধ কোনো লাইসেন্স বা কাগজপত্র তারা দেখাতে পারেননি।

তিনি আরও বলেন, এই দুজন নিজেদের চট্টগ্রামের আলোচিত চিহ্নিত সন্ত্রাসী ডেভিড ইমনের সহযোগী বলে স্বীকার করেন। তিনি আরও বলেন, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার করে চট্টগ্রাম মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার কথাও জানিয়েছেন বলে পুলিশের দাবি। এ ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় অস্ত্র আইনের একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ