আজঃ মঙ্গলবার ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

পুলিশশূন্য সিএমপি’র থানা ভবনগুলো

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর থানা ভবনগুলো পুলিশশূন্য রয়েছে। তালা লাগানো রয়েছে অঙ্গার হয়ে যাওয়া থানার গেটে। বাইরে লাঠি হাতে ঘোরাঘুরি করছিলেন কয়েকজন যুবক। সরেজমিনে এসব চিত্র দেথা গেছে।
সদরঘাট থানায় গিয়ে দেখা যায়, থানার সামনে সড়কে পড়ে আছে আলামতের শত শত মোটরসাইকেলের স্তূপ। থানার ভেতরে এলোমেলোভাবে পড়ে আছে পুড়িয়ে দেয়া যানবাহন। বন্ধ রাখা হয়েছে থানার গেট।সদরঘাট থানার অদূরে রয়েছে নগর পুলিশের ডাম্পিং ইয়ার্ড। যেখানে নগরীর বিভিন্ন থানার আলামতের হাজারো মোটরসাইকেলসহ নানা যানবাহন ছিল। ইয়ার্ডের পাশের এক দোকানদার জানান, সোমবার বিকেলের দিকে একদল যুবক থানায় হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ সদস্যারা থানা থেকে প্রাণ নিয়ে কোনমতে বের হয়ে যান। পরে যুবকরা থানার সামনে থাকা গাড়িগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। থানায় আগুন দেয়ার পরপরই অদূরে থাকা ডাম্পিং ইয়ার্ড থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় শত শত মোটরসাইকেল। অনেকে নিয়ে গেছেন, আবার অনেকে কিছু মোটরসাইকেল সড়কে ফেলে গেছেন।
সরকার পতনের পরপরই গত সোমবার বিকেলে আগুন দেয়া হয় কোতোয়ালী থানায়। লুট করা হয় অস্ত্রাগারে থাকা অস্ত্র আর নানা সামগ্রী। পুলিশ সদস্যরা নিজেদের বাঁচাতে থানা থেকে বের হয়ে যান। এখন পুলিশশূন্য থানা ভবন। দেখলে মনে হবে পোড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ। আঙিনায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দগ্ধ গাড়ির কঙ্কাল। পুড়ে যাওয়া দামি সাদা সাঁজোয়া যানটি পড়ে আছে থানার সামনেই। ভেতর থেকে তখনও উঠছিল ধোঁয়ার কুণ্ডলী। এলোমেলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পুড়ে যাওয়া নথিপত্র। অস্ত্রাগারে নেই কোন অস্ত্র।
থানার ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, নিচতলার অভ্যর্থনা কক্ষ, ওসির কক্ষ, দ্বিতীয় তলার উপ-পরিদর্শকদের কক্ষ আর পুলিশ ব্যারাকে মেঝেতে ছড়িয়ে আছে পুলিশের পোশাক আর নানা অসবাবপত্র। পুড়ে অঙ্গার হয়ে আছে পুলিশ সদস্যদের ঘুমানোর লোহার খাটগুলো।
সদরঘাট আর কোতোয়ালীর মতো একই অবস্থা পতেঙ্গা থানায়। পুড়ে যাওয়া থানা ভবনটি চেনা যাচ্ছিল না। পতেঙ্গা থানার ওসি মাহফুজুর রহমান জানান, সরকার পতনের পরপরই দুপুর আড়াইটার দিকে হাজারো মানুষ থানায় হামলা করে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে থানা থেকে বের হয়ে যে যেদিকে পারে চলে যায়। থানায় আগুন দেয়ার আগে অস্ত্রাগার লুট করে তারা।
পাহাড়তলী থানায় গিয়ে দেখা যায়, থানা ভবনের সামনে শত শত মানুষের ভিড়। ভেঙে ফেলা হয়েছে থানার পশ্চিম অংশের সীমানা দেয়াল। ভেতরে ১০-১৫ জন যুবক মেঝেতে পড়ে থাকা পুড়ে যাওয়া বিভিন্ন আসবাবপত্র উল্টিয়ে দেখছিল। তারা থানার প্রতিটি কক্ষে ঘুরছিল নির্বিঘ্নে। থানার সামনেই পড়ে আছে পুড়িয়ে দেয়া নানাধরনের যানবাহন। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে থানার সবকটি কক্ষ।
স্থানীয় এক দোকানদার জানান, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে লাঠি, লোহার রড আর কিরিচ হাতে একদল যুবক থানার গেট ভেঙে প্রবেশ করে। আর কিছু যুবক থানার পশ্চিম অংশে দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা থানার পেছনের গেট দিয়ে বের হয়ে যায়। থানার ভেতর থেকে যে যা পারে লুট করে। এর মধ্যে থানার সামনে থাকা গাড়ি ও ভেতরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়। একই কায়দায় পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে নগরীর ডবলমুরিং, ইপিজেড, আকবরশাহ ও হালিশহর থানা। প্রতিটি থানা থেকে যে যা পারে লুট করে নেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত সোমবার সরকার পতনের পরপরই একদল উশৃঙ্খল যুবক থানায় হামলা চালায়। এ সময় সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের ফোন করেও কোন সহযোগিতা পাইনি। সিনিয়র কর্মকর্তারা ফোন ধরেননি। অথচ আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ পালন করেছি মাত্র।
দুইটার সময় নগর পুলিশের সদর দপ্তর দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে গিয়ে দেখা যায় মূল ফটক তালা দেয়া। বাইরের কোন লোককে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। তবে গেটে থাকা এক যুবক জানান, পুলিশ কমিশনার অফিসে কোন কর্মকর্তা আসেননি। একইভাবে বন্ধ ছিল নগরীর দুই নম্বর গেট জেলা পুলিশ সুপার অফিস, মনসুরাবাদ পুলিশ লাইন্স এবং বড়পুল জেলা পুলিশ লাইন্সও।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে মহানন্দা ব্যাটালিয়ান ৫৯ বিজিবি’র ১০ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ মহানন্দা ব্যাটালিয়ান (৫৯ বিজিবি)’র ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হয়েছে। বুধবার(৩ ডিসেম্বর) দুপুরে সদর উপজেলার গোবরাতলায় ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরে এই আয়োজন করা হয়।প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষে কেক কাটা, আলোচনা সভা, ব্যাটালিয়ন সমাবেশ, ও মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।

প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজিবি রাজশাহী সেক্টর কমান্ডার কর্ণেল কামাল হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ শাহাদাৎ হোসেন মাসুদ চাঁপাইনবাবগঞ্জ ব্যাটালিয়ন (৫৩ বিজিবি)’র অধিনায়ক লে. কর্ণেল মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জস্থ মহানন্দা ব্যাটালিয়ান (৫৯ বিজিবি)’র অধিনায়ক লেঃ কর্ণেল গোলাম কিবরিয়া, উপ-অধিনায়ক আব্দুল্লাহ আল আসিফ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ এ.এন.এম ওয়াসিম ফিরোজ, সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মারুফ আফজাল রাজন সহ জেলা বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা এবং প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকগন উপস্থিত ছিলেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে জেলা পুলিশের মাস্টার প্যারেড ও মাসিক কল্যান সভা 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইন্সে মাস্টার প্যারেড ও মাসিক কল্যান সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ লাইন্সে মাঠে মাষ্টার প্যারেডে সালাম গ্রহণ শেষে মাসিক কল্যান সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার গৌতম কুমার বিশ্বাস।


জেলা পুলিশ লাইন্সে ড্রিল শেডে মাসিক  কল্যান সভায় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পুলিশ সুপার
গৌতম কুমার বিশ্বাস উপস্থিত অফিসার ও ফোর্সদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য প্রদান করেন এবং অফিসার ও ফোর্সদের সার্বিক কল্যাণ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয় মনোযোগ সহকারে শোনেন এবং সংশ্লিষ্ট ইনচার্জবৃন্দকে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য নির্দেশ প্রদান করেন। 

উক্ত কল্যাণ আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ), এ.এন.এম. ওয়াসিম ফিরোজ, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) মোঃ একরামুল হক, পিপিএম, অ‌তি‌রিক্ত পু‌লিশ সুপার (সদর সা‌র্কেল) মোঃ ইয়াসির আরাফাত, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (গোমস্তাপুর সার্কেল) মোঃ হাসান তারেক, এএসপি (প্রবিঃ) সহ জেলার অফিসার ইনচার্জবৃন্দ, ইন্সপেক্টরবৃন্দ এবং জেলার অন্যান্য পুলিশ সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচিত খবর

আরব আমিরাতে ভিসা সংকটে বড় হুমকির মুখে বাংলাদেশি শ্রমবাজার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যের  অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। নতুন ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও কবে ভিসা উন্মুক্ত হবে— সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারছে না বাংলাদেশ মিশন। বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমিরাত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

ভিসা জটিলতা শ্রমবাজারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাব পড়ছে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, আয়-রোজগার এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে বসবাস, লিঙ্গ পরিবর্তন, সনদ জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ ওঠায় ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি করেছে আমিরাত সরকার। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

এদিকে দুবাইয়ে স্কিল ভিসা চালু থাকলেও সেখানেও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্র্যাজুয়েশন সনদ ছাড়া বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। সনদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন, পরে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যাচাই এবং শেষে আমিরাতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও জটিল এ প্রক্রিয়ায় হতাশ কর্মপ্রত্যাশীরা।

বাংলাদেশ মিশনের তথ্যানুসারে, স্কিল ভিসায় সনদ জালিয়াতি ঠেকাতে তিন মাস আগে চালু করা হয়েছিল বারকোড ব্যবস্থা। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটিও জাল করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযোগ আসছে। রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশিদের মানসিকতা না বদলালে ভিসা সংকট নিরসন সম্ভব নয়।

আবুধাবি বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, “গত সাত মাস ধরে ভিসা ইস্যুতে চেষ্টা চালিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি।কবে হবে সেটিও অনিশ্চিত। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, তবে বিষয়টি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ”

 

জনশক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা পরিবর্তনের জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে অনেক বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। অনেকেই জানেন না, ভিসা বাতিল হলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বর্তমানে যারা আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।

বাংলাদেশি প্রবাসী সংগঠকরা মনে করেন, এ অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসীদেরও ভিসা নীতিমালা মেনে চলা জরুরি। নইলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজারে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ