আজঃ শনিবার ২১ মার্চ, ২০২৬

পুলিশশূন্য সিএমপি’র থানা ভবনগুলো

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরীর থানা ভবনগুলো পুলিশশূন্য রয়েছে। তালা লাগানো রয়েছে অঙ্গার হয়ে যাওয়া থানার গেটে। বাইরে লাঠি হাতে ঘোরাঘুরি করছিলেন কয়েকজন যুবক। সরেজমিনে এসব চিত্র দেথা গেছে।
সদরঘাট থানায় গিয়ে দেখা যায়, থানার সামনে সড়কে পড়ে আছে আলামতের শত শত মোটরসাইকেলের স্তূপ। থানার ভেতরে এলোমেলোভাবে পড়ে আছে পুড়িয়ে দেয়া যানবাহন। বন্ধ রাখা হয়েছে থানার গেট।সদরঘাট থানার অদূরে রয়েছে নগর পুলিশের ডাম্পিং ইয়ার্ড। যেখানে নগরীর বিভিন্ন থানার আলামতের হাজারো মোটরসাইকেলসহ নানা যানবাহন ছিল। ইয়ার্ডের পাশের এক দোকানদার জানান, সোমবার বিকেলের দিকে একদল যুবক থানায় হামলা চালায়। এ সময় পুলিশ সদস্যারা থানা থেকে প্রাণ নিয়ে কোনমতে বের হয়ে যান। পরে যুবকরা থানার সামনে থাকা গাড়িগুলোতে আগুন ধরিয়ে দেয়। থানায় আগুন দেয়ার পরপরই অদূরে থাকা ডাম্পিং ইয়ার্ড থেকে বের করে নিয়ে যাওয়া হয় শত শত মোটরসাইকেল। অনেকে নিয়ে গেছেন, আবার অনেকে কিছু মোটরসাইকেল সড়কে ফেলে গেছেন।
সরকার পতনের পরপরই গত সোমবার বিকেলে আগুন দেয়া হয় কোতোয়ালী থানায়। লুট করা হয় অস্ত্রাগারে থাকা অস্ত্র আর নানা সামগ্রী। পুলিশ সদস্যরা নিজেদের বাঁচাতে থানা থেকে বের হয়ে যান। এখন পুলিশশূন্য থানা ভবন। দেখলে মনে হবে পোড়া বাড়ির ধ্বংসস্তূপ। আঙিনায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে দগ্ধ গাড়ির কঙ্কাল। পুড়ে যাওয়া দামি সাদা সাঁজোয়া যানটি পড়ে আছে থানার সামনেই। ভেতর থেকে তখনও উঠছিল ধোঁয়ার কুণ্ডলী। এলোমেলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে পুড়ে যাওয়া নথিপত্র। অস্ত্রাগারে নেই কোন অস্ত্র।
থানার ভেতরে প্রবেশ করে দেখা যায়, নিচতলার অভ্যর্থনা কক্ষ, ওসির কক্ষ, দ্বিতীয় তলার উপ-পরিদর্শকদের কক্ষ আর পুলিশ ব্যারাকে মেঝেতে ছড়িয়ে আছে পুলিশের পোশাক আর নানা অসবাবপত্র। পুড়ে অঙ্গার হয়ে আছে পুলিশ সদস্যদের ঘুমানোর লোহার খাটগুলো।
সদরঘাট আর কোতোয়ালীর মতো একই অবস্থা পতেঙ্গা থানায়। পুড়ে যাওয়া থানা ভবনটি চেনা যাচ্ছিল না। পতেঙ্গা থানার ওসি মাহফুজুর রহমান জানান, সরকার পতনের পরপরই দুপুর আড়াইটার দিকে হাজারো মানুষ থানায় হামলা করে আগুন ধরিয়ে দেয়। পুলিশ সদস্যরা প্রাণ বাঁচাতে থানা থেকে বের হয়ে যে যেদিকে পারে চলে যায়। থানায় আগুন দেয়ার আগে অস্ত্রাগার লুট করে তারা।
পাহাড়তলী থানায় গিয়ে দেখা যায়, থানা ভবনের সামনে শত শত মানুষের ভিড়। ভেঙে ফেলা হয়েছে থানার পশ্চিম অংশের সীমানা দেয়াল। ভেতরে ১০-১৫ জন যুবক মেঝেতে পড়ে থাকা পুড়ে যাওয়া বিভিন্ন আসবাবপত্র উল্টিয়ে দেখছিল। তারা থানার প্রতিটি কক্ষে ঘুরছিল নির্বিঘ্নে। থানার সামনেই পড়ে আছে পুড়িয়ে দেয়া নানাধরনের যানবাহন। পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে থানার সবকটি কক্ষ।
স্থানীয় এক দোকানদার জানান, বিকেল সাড়ে চারটার দিকে লাঠি, লোহার রড আর কিরিচ হাতে একদল যুবক থানার গেট ভেঙে প্রবেশ করে। আর কিছু যুবক থানার পশ্চিম অংশে দেয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এ সময় পুলিশ সদস্যরা থানার পেছনের গেট দিয়ে বের হয়ে যায়। থানার ভেতর থেকে যে যা পারে লুট করে। এর মধ্যে থানার সামনে থাকা গাড়ি ও ভেতরে আগুন জ্বালিয়ে দেয়া হয়। একই কায়দায় পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে নগরীর ডবলমুরিং, ইপিজেড, আকবরশাহ ও হালিশহর থানা। প্রতিটি থানা থেকে যে যা পারে লুট করে নেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, গত সোমবার সরকার পতনের পরপরই একদল উশৃঙ্খল যুবক থানায় হামলা চালায়। এ সময় সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তাদের ফোন করেও কোন সহযোগিতা পাইনি। সিনিয়র কর্মকর্তারা ফোন ধরেননি। অথচ আমরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশ পালন করেছি মাত্র।
দুইটার সময় নগর পুলিশের সদর দপ্তর দামপাড়া পুলিশ লাইন্সে গিয়ে দেখা যায় মূল ফটক তালা দেয়া। বাইরের কোন লোককে প্রবেশ করতে দেয়া হচ্ছে না। তবে গেটে থাকা এক যুবক জানান, পুলিশ কমিশনার অফিসে কোন কর্মকর্তা আসেননি। একইভাবে বন্ধ ছিল নগরীর দুই নম্বর গেট জেলা পুলিশ সুপার অফিস, মনসুরাবাদ পুলিশ লাইন্স এবং বড়পুল জেলা পুলিশ লাইন্সও।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিরা ঈদুল ফিতরের দিন স্বজনদের সাথে কথা বলতে পারবেন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের বন্দিরা ঈদুল ফিতরের দিন স্বজনদের সাথে কথা বলতে পারবেন। কারা কতৃপক্ষ জানিয়েছেন -বন্দিদের ঈদের দিন স্বজনদের সাথে কথা বলার সুযোগ দেয়া হবে। এর পাশাপাশি রয়েছে বিশেষ খাওয়া দাওয়ার আয়োজন।এছাড়া বাড়ি থেকে পাঠানো খাবার খাওয়ার সুযোগ মিলছে বলে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সৈয়দ শাহ্ শরীফ জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, প্রতিবছরের মত এবারও ঈদের দিন সকালে ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। ঈদের দিন সকালে বন্দিদের জন্য থাকছে পায়েস ও মুড়ি। আর দুপুরে থাকবে পোলাও, গরু অথবা খাসি, সালাদ, মিষ্টি, পান-সুপারি। আর রাতের বেলায় সাদা ভাত, আলুর দম ও রুই মাছের আয়োজন করা হয়েছে।

জেলার শাহ্ শরীফ আরো জানান-এছাড়া ঈদের পরদিন বন্দিরা বাড়ি থেকে পাঠানো খাবার খাওয়ার সুযোগ পাবেন। ঈদের দিন থেকে তিন দিন বন্দিরা স্বজনদের সাথে পাঁচ মিনিট করে টেলিফোনে এবং একবার স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাত করতে পারবেন।

সাধারণ সময়ে হাজতিরা মাসে দুই বার এবং কয়েদীরা মাসে একবার করে স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পেলেও ঈদের সময় বিশেষ ভাবে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন।একই ভাবে ১০ টাকার বিনিময়ে মাসে দুই বার স্বজনদের সাথে টেলিফোনে ১০ মিনিট কথা বলার সুযোগ পান বন্দীরা। তবে ঈদে বিনামূল্যে পাঁচ মিনিট করে কথা বলার সুযোগ পাবেন।বর্তমানে কারাগারে হাজতি ও কয়েদী মিলে পাঁচ হাজার ৮৫৮ জন বন্দি রয়েছেন।

ঈদের আনন্দ অসহায় মানুষের মাঝেও ছড়িয়ে দিতে হবে: মেয়র শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে চট্টগ্রামের নগরবাসী, বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী, পেশাজীবী এবং দেশ-বিদেশে অবস্থানরত প্রবাসীসহ সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি বলেন, পবিত্র রমজান মাস ধৈর্য, সংযম, ত্যাগ এবং সহমর্মিতার এক অনন্য শিক্ষা দেয়। দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনার পর ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর মাঝে বয়ে আনে আনন্দ ও প্রশান্তি। ঈদের মূল শিক্ষা হলো সব ভেদাভেদ ভুলে সাম্য, ভ্রাতৃত্ব ও মানবিকতার বন্ধনে আবদ্ধ হওয়া।তিনি আরও বলেন, ঈদের আনন্দ শুধু ব্যক্তিগতভাবে উদযাপন না করে সমাজের অসহায় ও দুস্থ মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া উচিত।শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি সাম্প্রতিক ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে জনগণের বিপুল সমর্থনের কথা উল্লেখ করে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

তিনি বলেন, জনগণের দেওয়া এই দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করে একটি আধুনিক, বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবার সহযোগিতা কামনা করেন।ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, গণতন্ত্র ও অধিকার আদায়ের আন্দোলনে অতীতের মতো ভবিষ্যতেও জনগণ পাশে থাকবে—এটাই প্রত্যাশা।

তিনি হিংসা-বিদ্বেষ পরিহার করে পারস্পরিক সম্প্রীতি জোরদারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ঈদের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি চট্টগ্রাম শহরকে পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য রাখতে সচেতন নাগরিক হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জাতির কল্যাণে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ