আজঃ সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬

আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা দায়িত্ব পেল তিনজন

চসিক সেবা নিশ্চিতে ৪১টি ওয়ার্ড ৬ অঞ্চলে বিভক্ত

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ছবি-২
চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) সেবা নিশ্চিত করতে কর্পোরেশনের ৪১ টি ওয়ার্ড কে ৬ (ছয়) অঞ্চলে বিভক্ত করে তিন জনকে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সচিবালয় বিভাগের সংস্থাপন শাখার এক অফিস আদেশে এ দায়িত্ব দেয়া হয় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন।আদেশে আরো বলা হয়েছে, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তিন কর্মকর্তাগণ তাঁদের নামের পার্শ্বে বর্ণিত অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ প্রসঙ্গে সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন জানান, ‘যথাযথ কর্তৃপক্ষের অনুমোদনক্রমে এ আদেশ জারি করা হয়েছে। যা পহেলা সেপ্টেম্বর থেকে কার্যকর হবে।
জানা গেছে, তিন কর্মকর্তার প্রতি জনকে দুটি করে জোনের দায়িত্ব দেয়া হয়। অবশ্য দেড় বছর আগে আন্দরকিল্লাস্থ নগর ভবনে একটি জোনের কার্যক্রম শুরু করেছিল চসিক। ভবনটি নতুন করে নির্মাণের জন্য ভেঙে ফেলা হয়। এরপর থেকে জোনটির কার্যক্রমও বন্ধ হয়ে যায়। জোনটির আঞ্চলিক কর্মকর্তা ছিলেন রেজাউল করিম। জোনের কার্যক্রম বন্ধ হলে তাকে স্টেট অফিসারের দায়িত্ব দেয়া হয়।
নতুন জোন প্রসঙ্গে চসিকে প্রশাসক তোফায়েল ইসলাম বলেন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাদের সচল করতে পারলে বিভিন্ন সেবা গ্রহণের জন্য নগরবাসীকে আর চসিকের প্রধান কার্যালয় পর্যন্ত আসতে হবে না।
এর আগে ২০১২ সালে ২০ নভেম্বর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ওয়ার্ডগুলোকে ছয়টি অঞ্চল বা জোনে ভাগ করে। এরপর বিভিন্ন সময়ে প্রেষণে আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তাও নিয়োগ দেয় মন্ত্রণালয়। বর্তমানেও তিনজন আঞ্চলিক কর্মকর্তা আছেন সংস্থাটিতে। যদিও চসিক জোনগুলোকে কার্যকর করেনি। কার্যক্রম না থাকায় আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের একজন স্টেট অফিসারের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বাকি দুইজন বিভিন্ন ভ্রাম্যমাণ আদালতের নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। এ অবস্থায় গত ১৯ আগস্ট চসিকে প্রশাসক পদে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. তোফায়েল ইসলাম দায়িত্ব নেয়ার পর জোনগুলোকে সচল করার উদ্যোগ নেন। যা আগামী রোববার থেকে কার্যকর হবে।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৯ এপ্রিল প্রকৌশলীদের মাঝে জোনভিত্তিক দায়িত্ব বণ্টন করা হয়। জোন সচল হলে নির্বাহী ও সহকারী প্রকৌশলীদের স্ব স্ব জোনে অফিস করতে হবে। বর্তমানে তারা প্রধান কার্যালয়ে অফিস করেন। এদিকে আঞ্চলিক নির্বাহীদের মধ্যে দায়িত্ব বণ্টনের পর তাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। তারা বলছেন, জোন ভাগ করলেও অবকাঠামাগতভাবে জোন অফিসগুলো গড়ে ওঠেনি। ফলে কাজ করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হবে তাদের।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, এক নম্বর অঞ্চলে রয়েছে চসিকের ১, ২, ৩, ৭ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ড। অঞ্চলভুক্ত এলাকাগুলো হচ্ছে-দক্ষিণ পাহাড়তলী, জঙ্গল দক্ষিণ পাহাড়তলী, কুলগাঁও, জালালাবাদ, পাঁচলাইশ, পশ্চিম ষোলশহর, শোলকবহর, মুরাদপুর (অংশ), পূর্ব নাসিরাবাদ ও খুলশী। দুই নম্বর অঞ্চলে রয়েছে ৪, ৫, ৬, ১৭, ১৮, ১৯ ও ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড। অঞ্চলভুক্ত এলাকাগুলো হচ্ছে– চান্দগাঁও, চর রাঙামাটিয়া, মোহরা, চরমোহরা, পূর্ব ষোলশহর, বাকলিয়া, পাথরঘাটা (অংশ) ও আন্দরকিল্লা (অংশ)।তিন নম্বর অঞ্চলে রয়েছে ১৪, ১৫, ১৬, ২০, ২১, ২২, ৩১, ৩২, ৩৩ ও ৩৪ নম্বর ওয়ার্ড। অঞ্চলভুক্ত এলাকাগুলো হচ্ছে-লালখানবাজার, দক্ষিণ পাহাড়তলী (অংশ), উত্তর পাহাড়তলী, খুলশী, জয়পাহাড়, আলম শাহ, কাঠগড়, ইমামগঞ্জ, চন্দনপুরা, নিজশহর, কাসিমবাজার, মুরাদপুর (অংশ), রুমঘাটা, আন্দরকিল্লা, রহমতগঞ্জ, দক্ষিণ পাহাড়তলী, এনায়েতবাজার, বটতলী, ফিরিঙ্গীবাজার, গুরিবাজার, মনোহরখালী, পাথরঘাটা (অংশ), সুজা কাঠগড়। চার নম্বর অঞ্চলে রয়েছে ২৩, ২৪, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০ ও ৩৬ নম্বর ওয়ার্ড। অঞ্চলভুক্ত এলাকাগুলো হচ্ছে– পাঠানটুলী, আগ্রাবাদ আসকারবাদ, গোসাইলডাঙ্গা, মোগলটুলি, মাদারবাড়ি, মগবাজার ও নলসা। পাঁচ নম্বর অঞ্চলে রয়েছে ৯, ১০, ১১, ১২, ১৩, ২৫ ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ড। অঞ্চলভুক্ত এলাকাগুলো হচ্ছে– উত্তর পাহাড়তলী, লট ৯ পাহাড়তলী, পূর্ব পাহাড়তলী, উত্তর কাট্টলী, দক্ষিণ কাট্টলী, সরাইপাড়া, পশ্চিম নাসিরাবাদ, দক্ষিণ পাহাড়তলী (অংশ), রামপুর ও উত্তর হালিশহর। ছয় নম্বর অঞ্চলে রয়েছে ৩৭, ৩৮, ৩৯, ৪০ ও ৪১ নম্বর ওয়ার্ড। অঞ্চলটির আওতাভুক্ত এলাকাগুলো হচ্ছে মধ্যম হালিশহর, দক্ষিণ হালিশহর, উত্তর পতেঙ্গা, দক্ষিণ পতেঙ্গা ও পূর্ব পতেঙ্গা।
জানা গেছে, মো. রেজাউল করিমকে ১ ও ৫ নম্বর অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এছাড়া শাহরিন ফেরদৌসীকে ৪ ও ৬ নম্বর অঞ্চল এবং রক্তিম চৌধুরীকে ২ ও ৩ অঞ্চলের আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। ১ ও ৫ নম্বর জোনের কার্যালয় হচ্ছে- ফইল্যাতলী বাজার কিচেন মার্কেট, ৪ ও ৬ অঞ্চলের কার্যালয় ২৭ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয় ভবন এবং ২ ও ৩ অঞ্চলের কার্যালয় হচ্ছে- লালদীঘি পাড়স্থ চসিকের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ভবন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কালিয়াকৈরে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে যুবক নিহত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার হাটুরিয়াচালা–লস্করচালা এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটাকে কেন্দ্র করে আবারও একটি তাজা প্রাণ ঝরে গেছে। শনিবার (১৫ মার্চ) রাতে ড্রাম ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে মাসুম নামে এক যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটা ও পরিবহন কার্যক্রম চলছিল। শনিবার রাতে মাটি পরিবহনের সময় একটি ড্রাম ট্রাক চলাচলের সময় মাসুম নামে ওই যুবক ট্রাকের নিচে পড়ে যান। এতে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতদের বেপরোয়া কর্মকাণ্ডের কারণেই এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এলাকাবাসীর দাবি, প্রশাসনের নজরদারির অভাবে দীর্ঘদিন ধরে এসব অবৈধ কার্যক্রম চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং বিষয়টি তদন্ত করছে।এ বিষয়ে কালিয়াকৈর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার নাছির উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্: চট্টগ্রাম মহানগরে ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম শুরু হয়েছে। শনিবার সকাল ১০টায় নগরীর ডিসি হিলে এই কার্যক্রমে অংশ নেন চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার মো. জিয়াউদ্দীন, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা এবং জেলার সিভিল সার্জন জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। এ সময় বিভাগীয় কমিশনার বলেন, সামনে বর্ষাকাল আসছে। তার আগেই যদি আমাদের শহরকে পরিচ্ছন্ন করতে পারি তাহলে ডেঙ্গু মশার বিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে। এতে নগরবাসী উপকৃত হবে। ডেঙ্গু প্রতিরোধটাই সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ। সরকার এ কাজে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।

অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেন, মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম মাসব্যাপী চলছে। এ কাজে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হচ্ছে মানুষকে সচেতন করা ও পরিষ্কার করা। চট্টগ্রামে যেসব জায়গা বেশি অরক্ষিত, যেখানে ডেঙ্গু বেশি বিস্তার ঘটতে পারে সেগুলো আমরা পরিষ্কার করব এবং নিরাপদ ও সুস্থ চট্টগ্রাম আমরা গড়ে তুলব।
বেলুন উড়িয়ে মাসব্যাপী এই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। এরপর পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে প্রশাসনের কর্মকর্তারা, স্কাউটের সদস্য এবং পরিচ্ছন্ন কর্মীরা অংশ নেন। এরপর চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে ‘ডেঙ্গু রোগের ভয়াবহতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে’ আলোচনা সভার আয়োজন করে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ