ভোলা:

ভোলার শিল্পকলা একাডেমিগুলোকে প্রাণপণে ঢেলে সাজাবেন ডিসি আরিফুজ্জামান

রিপন শান:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সুস্থ সুন্দর উন্নত প্রগতিশীল ভোলা জেলা বাস্তবায়নের জন্য ভোলার মানুষের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ ও সাংস্কৃতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা জরুরি বলে মনে করছেন ভোলা জেলার জনবান্ধব প্রশাসক আরিফুজ্জামান। তিনি মনে করছেন- ভোলার আর্থ সামাজিক অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি যদি ভোলার মানুষকে বহুমাত্রিক সাংস্কৃতিক উন্নয়ন উপহার দেয়া যায় ; তাহলে ভোলার অগ্রগতি সাধন হবে বিপুল বৈভবে ।

এজন্য তিনি ভোলা জেলা শিল্পকলা একাডেমি সহ ভোলার সকল উপজেলা শিল্পকলা একাডেমিকে দ্রুত সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন । ২৮ আগস্ট ২০২৪ দুপুরে ভোলা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গৃহীত এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে এক প্রশ্নের জবাবে আরিফুজ্জামান বলেন- আবহমান কাল থেকেই দ্বীপজেলা ভোলাতে বহুমতের মিশ্র এক অবিমিশ্র সংস্কৃতির উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় । প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ ভোলার জনজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ । নদীবিধৌত পলিমাটির জনপদ ভোলার জনজীবন প্রকৃতির বিচিত্র স্বাদ ও সাধনায় ভরপুর । এখানকার মানুষের বিচিত্র জীবন ও জীবিকা, লোকেদের ব্যবহার করা রকমারি আঞ্চলিক ভাষার বিষয় ও বৈচিত্র্য, যুগ যুগ ধরে লালন করা অতিথিপরায়নতা, বিয়েবাড়ির বহুমাত্রিক আয়োজন, গ্রামীন খেলাধূলার বাহার, ঈদ ও পূজা পার্বণে সার্বজনীন উৎসবমুখরতা, কৃষিভিত্তিক জীবনসংগ্রাম, মাছ ধরার নানানরকম উৎসব ইত্যাদি নানান জীবানুসঙ্গ দ্বীপজেলা ভোলার সংস্কৃতিকে ব্যাপকভাবে সমৃদ্ধ করেছে। ভোলার সংস্কৃতি সমৃদ্ধ বলেই ভোলার সাহিত্য উর্বর ।জাতীয় মঙ্গলের কবি মোজাম্মেল হক , কথাসাহিত্যিক মোশাররফ হোসেন শাজাহান দেশবরেণ্য সুরকার শহিদুল ইসলাম, উপমহাদেশের বিখ্যাত কণ্ঠশিল্পী পাপড়ি সারোয়ার, বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত কবি নাসির আহমেদ, শিক্ষাবিদ প্রফেসর মোহাম্মদ হানিফ, শিক্ষাবিদ সালাউদ্দিন আহমাদ মিয়া, ইতিহাস গবেষক অধ্যাপক মোহাম্মদ হোসেন, মোস্তফা হারুন, মুহাম্মদ শওকাত হোসেন, কবি ও গবেষক অধ্যক্ষ কায়সার আহমেদ দুলাল, কবি ও কণ্ঠশিল্পী হাসান মাহমুদ, সাংবাদিক ও সংগঠক নজরুল হক অনু, কবি অনন্ত জাহিদ, কবি শাহ মতিন টিপু, কবি ও নাট্যকার রিপন শান, কবি ফয়সল নোই, কবি মাসুদ হাসান , কবি জুননু রাইন, কবি নীহার মোশাররফ , শিশুসাহিত্যিক মামুন সারওয়ার, কবি হাওলাদার মাকসুদ, কবি আল মনির , কবি জুলফিকার আলী, কবি দিলরুবা জ্যাসমিন, কবি জেসমিন জাহিদ,কবি কামাল হোসেন শাহীন, কবি গাজী তাহের লিটন, কবি এরশাদ সোহেল, কবি ফারজানা স্নিগ্ধা, অভিনেতা সাঈদ তপু, অভিনেতা রাশেদ সীমান্ত, আবৃত্তিশিল্পী সামস মিঠু, নেয়ামত উল্যাহ, মশিউর রহমান পিংকু, নাট্যশিল্পী মরহুম আবুল কাশেম দুলাল, শাহজামাল দুলাল, অতনু করঞ্জাই, নাসির লিটন, মনির আহমদ শুভ্র, আবুল কাশেম মেলেটারী, বাদল কৃষ্ণ দেবনাথ, জিল্লুর রহমান তুহিন, মাঈনুল ইসলাম মনির, কণ্ঠশিল্পী আলম আরা মিনু , মনজুর আহমেদ, মনি দে, উত্তম ঘোষ, রেহেনা ফেরদৌস, বাঁধন তালুকদার , আবিদুল আলম, ফারজানা লিয়ানা, নৃত্যশিল্পী নাদিয়া হাওলাদার মিস্টি সহ একঝাঁক আলোকিত মানুষ তাদের জীবন ও কর্মের অমূল্য আরশীতে ভোলার স্হানীয় ইতিহাসসহ জাতীয় সাংস্কৃতিক ইতিহাসকে আলোকিত ও সমৃদ্ধ করেছে। ক্ষেত্রবিশেষে এই আলো পৌঁছে গেছে বৈশ্বিক পরিমন্ডলে।
ভোলার সংস্কৃতিবান্ধব ডিসি আরিফুজ্জামান বলেন- ভোলাতে আমার জন্ম না হলেও ভোলাকেই আমি আমার জন্মস্থান জ্ঞান করছি । প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আর ভৌগলিক শোভায় আমার গ্রাম আর ভোলার গ্রামের মধ্যে কোনো তফাত নেই। ভোলাকে আমি ভীষণভাবে ভালোবাসে ফেলেছি এবং ভোলাকে আমি হৃদয়ের সমস্ত অনুভব দিয়ে উপভোগ করছি ।
ডিসি আরিফুজ্জামান আরো বলেন – এমনও দেখা গেছে, আমরা সরকারি আয়োজন ছাড়াই ভোলার শিল্পীরা ভোলার শিক্ষার্থীরা জাতীয় পর্যায়ে নিজেদের ট্যালেন্ট থ্রো করে নানান পুরস্কার নিয়ে এসেছে। ভোলার মুখ উজ্জ্বল করছে ।
অন্য এক প্রশ্নের জবাবে আরিফুজ্জামান বলেন- আমি জেলা প্রশাসক হিসেবে ভোলাতে এসেছি আজ একবছর এক মাস । আমি লক্ষ্য করেছি ভোলায় জেলা শিল্পকলা একাডেমির কোন সুসংগঠিত কমিটি নেই। জেলা কালচারাল অফিসারকে দিয়ে সাধারণ সম্পাদকের শূন্যস্থান চালিয়ে নেয়া হয় । আমার কখনোই কালচারাল অফিসার কে খুব একটা কালচারড মনে হয়নি । ভোলার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নানান প্রতিভার সমাবেশ আমি লক্ষ্য করেছি । কিন্তু তাদের মধ্যে ঐক্য নেই । আমি মনে করি ভোলার সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যে দলাদলি ও গ্রুপিং মোকাবেলা করে যদি একটি সার্বজনীন ঐকতান তৈরি করা যায় , তাহলে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সর্বজন গ্রহনযোগ্য একটি শক্তিশালী কমিটি গঠন করা যাবে । আর জেলা শিল্পকলা একাডেমি ঠিক হলে, সকল উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি এমনিতেই ঠিক হয়ে যাবে।
অতিসম্প্রতি জেলা প্রশাসন আয়োজিত পিঠা উৎসবের বর্ণনা দিতে গিয়ে ডিসি আরিফুজ্জামান বলেন – পিঠা উৎসবের পারফরম্যান্সে আমি লক্ষ্য করেছি উপজেলাগুলোর পরিবেশনা তেমন গুছানো নয়। অনেক উপজেলার পারফরমেন্স ছিল “করার জন্যই করা” গোছের। এর কারণ- দক্ষ এবং যোগ্য লিডারশিপের অভাব। বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক বিবেচনায় গঠন করা উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির ‘পকেট কমিটি’ আর নামসর্বস্ব রিহার্সাল দিয়ে তো আর অধিকতর ফলন আশা করা যায় না !!
আরিফুজ্জামান আরো বলেন- অনতিবিলম্বে ভোলা জেলা শিল্পকলা সহ সকল উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির মেয়াদোত্তীর্ণ ও অকার্যকর কমিটি বিলুপ্ত করে দক্ষ যোগ্য দায়িত্বের প্রতি কমিটেড দেশপ্রেমিক ব্যক্তিদের সংযুক্ত করে ভোলার সকল শিল্পকলার কমিটি গঠন করা হবে । দায়িত্ব জ্ঞানহীন, সামাজিকভাবে বিতর্কিত ও মাদকাসক্ত কেউ যেন কমিটিতে আসতে না পারে ; সেজন্য সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবো ।
জেলা সাহিত্য মেলা ২০২২(২০২৩) এর সফলতা উল্লেখ করে আগামী দিনে এটি কন্টিনিউ করবে কীনা এমন এক প্রশ্নের জবাবে সম্পুর্ন সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে থেকে উঠে আসা দ্বীপজেলা ভোলার ডিসি আরিফুজ্জামান জানান- আমার সর্বাত্মক চেষ্টা থাকবে। ভোলাতে জাতীয় কবিতা পরিষদের কমিটি গঠন হয়েছে শুনে আমি ভীষণ আনন্দিত এবং অভিভূত। যে কোনো সভ্যতার উৎকৃষ্ট ব্যারোমিটার হচ্ছে তার কবি সাহিত্যিক। জাতীয় কবিতা পরিষদ ভোলা ; ভোলার আবহমান ইতিহাস ঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতির নির্যাসকে হৃদয়ে ধারণ করে বহুদূর এগিয়ে যাবে বলে আমার দৃঢ় বিশ্বাস । শুধু জেলা প্রশাসক হিসেবে নয় একজন কবিতাশ্রমিক হিসেবে আমি আছি ভোলার কবিদের সাথে। আমি মনে করি কবিতা পরিষদ আমাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করলে খুব শীঘ্রই কুইন আইল্যান্ড ভোলাতে একটি “নদীমাতৃক জাতীয় কবিতা উৎসব” সফলভাবে আয়োজন করা সময়ের ব্যাপার মাত্র । আপনারা আমাকে দোয়া করবেন, বৈষম্য বিরোধী আজকের এই নতুন বাংলাদেশে শিক্ষা শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতির সৌরভে আমি যেন এক নতুন ভোলা উপহার দিয়ে যেতে পারি। এক্ষেত্রে দেশপ্রেম ও ঐক্যবদ্ধতার কোনো বিকল্প নেই। আর আমাদের মনে রাখতে হবে- ভোলা মানে শুধু ভোলা সদর নয় । ইলিশার প্রান্ত থেকে চরকুকরিমুকরির সাগরছোঁয়া সর্বশেষ সীমান্ত অর্থাৎ ভোলা সদর, বোরহানউদ্দিন, দৌলতখান, লালমোহন, তজুমদ্দিন, চরফ্যাসন , মনপুরার প্রতিটি জনপদের সম্মিলিত নাম দ্বীপজেলা ভোলা । ভোলায় জনম যার শতমুখি গর্ব তার ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ৫৮ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ উদীচী শিল্পীগোষ্ঠীর ৫৮তমপ্রতিষ্ঠাবার্ষিকী,উপলক্ষ্য উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের উদ্যোগে আয়জন করা হয় আলোচনা সভা,সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, আবৃত্তি এবং এস এস সি উত্তীর্ণ সম্মাননা। আজ ৩১ অক্টোবর সন্ধ্য ছয়টায় মোমিন রোডস্থ চট্টগ্রাম একাডেমী প্রাঙ্গনে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি এবং চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সভাপতি বিশিষ্টা প্রাবন্ধিক জসীম চৌধুরী সবুজ।উদীচী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের সাধারন সম্পাদক এডভোকেট অসীম বিকাশ দাশের সঞ্চালনায় কথা মালায় অংশ নেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী কেন্দ্রীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হাবিবুল আলম,চট্টগ্রাম জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি এডভোকেট রেজাউল করিম চৌধুরী,

চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমীর কালচারাল অফিসার আয়াজ মাবুদ,এবং উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী চট্টগ্রাম জেলা কমিটির সহসভাপতি সুনীল ধর,প্রমুখ। কথামালায় অংশ নিয়ে বক্তারা বলেন, ১৯৬৮ সালের এই দিনে মেহনতি মানুষের সার্বিক মুক্তির স্বপ্ন বুকে নিয়ে শিল্পী-সাহিত্যিক-সংগ্রামী সত্যেন সেন, রণেশ দাশগুপ্ত, শহীদুল্লাহ কায়সার প্রমুখের নেতৃত্বে যাত্রা শুরু করেছিল উদীচী। প্রতিষ্ঠার প্রায় ছয় দশক ধরে উদীচী কেবল একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন হিসেবে নয়; বরং রাজনৈতিক গণ-আন্দোলনের এক নিরন্তর ধারায় শোষিত-নির্যাতিত মানুষের দ্রোহের মশাল হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। সত্যেন সেন খুব সচেতনভাবেই শিল্পী-জনতার এই সংগঠনটির নাম রেখেছিলেন ‘উদীচী’—যার অর্থ ধ্রুবতারা বা উত্তর দিক। দিগ্‌ভ্রান্ত নাবিক যেমন দূর দিগন্তের ধ্রুবতারা দেখে লক্ষ্য স্থির করেন, তেমনি বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও গণমানুষের অধিকারের সংগ্রামকে মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক ও বহুত্ববাদের চেতনায় সঠিক পথ দেখাতে উদীচী ধ্রুবতারার মতোই আলোকবর্তিকা হয়ে পথ চলছে ৫৭ বছর ধরে। যুদ্ধবিধ্বস্ত এই সময়ে বিকারগ্রস্তের রাজত্বে উদীচী তার ৫৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর স্লোগান ঠিক করেচে “ফিরিয়ে নাও ঘাতক কাঁটা,এবার আমি গোলাপ নিব,” এই দ্ব্যর্থহীন স্লোগানই আজকের সংক্ষুব্ধ সময়ের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক বাস্তবতা।

প্রধান অতিথির বক্তব্য হাবিবুল আলম বলেন,সারা পৃথিবী আজ এক নজিরবিহীন যুদ্ধোন্মাদনা ও সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট। সাম্রাজ্যবাদ আর সাম্প্রদায়িকতার প্রত্যক্ষ মদদে নিরীহ মানুষের রক্ত ঝরছে দেশে দেশে, আধিপত্য আর মুনাফার লোভে চলছে মানবতাবিনাশী ধ্বংসযজ্ঞ। প্রিয় স্বদেশও আজ এই আগ্রাসী থাবার নির্মম শিকার। নানা ভূরাজনৈতিক ষড়যন্ত্রে বাংলাদেশ আজ সাম্রাজ্যবাদী শক্তিগুলোর দাবার ঘুঁটিতে পরিণত হচ্ছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তথাকথিত কৌশলগত অংশীদারত্বের আড়ালে যে জনবিরোধী দাসত্বমূলক চুক্তি হয়েছে, তা আমাদের রক্তস্নাত সার্বভৌমত্বকে ঠেলে দিয়েছে চরম সংকটের মুখে। আমাদের জাতীয় অর্থনীতির প্রাণকেন্দ্র চট্টগ্রাম বন্দরকে বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার রাষ্ট্রঘাতী অপতৎপরতা আমাদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে দিয়েছে। উদীচী তার জন্মলগ্ন থেকেই সাম্রাজ্যবাদ ও আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে আপসহীন। দেশের সম্পদে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে গণ-প্রতিরোধের মাধ্যমে উদীচীর লড়াই অব্যাহত থাকবে আজ ও আগামীতে।

এডভোকেট রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন,,সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের পাশাপাশি দেশের অভ্যন্তরীণ সমাজ ও রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার বিষবাষ্প ছড়িয়ে পড়েছে। মহান মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে যে অসাম্প্রদায়িক, বহুত্ববাদী ও ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, তা আজ সুপরিকল্পিতভাবে পদদলিত করার অপচেষ্টা চলছে। সমাজ ও রাষ্ট্রে বিজ্ঞানমনস্ক, সাংস্কৃতিক ও মুক্তচিন্তার ধারাকে রুদ্ধ করে বিভাজনের কূপমণ্ডূকতা চাপিয়ে দেওয়ার এই বিনাশকালে সাম্প্রদায়িক অপশক্তি আজ আক্রমণ করছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে। আমাদের অস্তিত্ব, ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার লড়াই ও মননচর্চার প্রধান বাতিঘর রবীন্দ্রনাথের ওপর আজ বারবার আঘাত হানা হচ্ছে। অথচ ১৯৬১ সালে পাকিস্তানি সামরিক জান্তার রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে এই বাংলার মানুষ লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে রবীন্দ্রনাথকে নিজের করে নিয়েছিল। একষট্টির সেই লড়াই ছিল আমাদের মুক্তিযুদ্ধের প্রধানতম সাংস্কৃতিক ভিত্তি।

পাকিস্তান সরকারের রবীন্দ্রসংগীত নিষেধাজ্ঞার অন্যায় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে প্রবল প্রতিরোধ গড়ে বাংলার মানুষ সেদিন প্রমাণ করেছিল রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক কেবলই সাংস্কৃতিক নয়, রাজনৈতিকও বটে। উদীচী দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, রবীন্দ্রনাথের রচনা ও দর্শন কেবল সাহিত্য বা শিল্পচর্চাই নয়; এটি বাংলাদেশের মানুষের আত্মমর্যাদা ও ধর্মনিরপেক্ষ জাতিসত্তা টিকিয়ে রাখার মৌলিক সাংস্কৃতিক পরিচয়। এ কারণেই এই সাংস্কৃতিক পরিচয় রক্ষার রাজনৈতিক লড়াইয়ে উদীচী একাত্তরের চেতনাকেই একমাত্র আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করেছে। তাই যেখানেই রবীন্দ্রবিরোধিতা ও অন্ধকারের আস্ফালন, সেখানেই উদীচীর কর্মীরা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছেন কণ্ঠে প্রতিরোধের গান-কবিতা নিয়ে।

জসীম চৌধুরী সবুজ বলেন,প্রায় ছয় দশক ধরে উদীচীর এই পথচলা সহজ ছিল না। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে উদীচীর শিল্পী-কর্মীরা যেমন কাঁধে রাইফেল তুলে নিয়ে লড়াই করেছিলেন, তেমনি স্বাধীন দেশে সামরিক দুঃশাসন, স্বৈরতন্ত্র ও সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াই করেছেন। মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের রাজনৈতিক সত্তাকে গণমানুষের নিজস্ব ভাষায় রূপান্তরের প্রয়াসেই উদীচী আজও কাজ করে যাচ্ছে। এই আপসহীন দ্রোহের কারণেই প্রতিক্রিয়াশীল অপশক্তির নির্মম আক্রমণের শিকার হতে হয়েছে উদীচীকে। ১৯৯৯ সালের ৬ মার্চ যশোর টাউন হলের দ্বাদশ জাতীয় সম্মেলনে বর্বরোচিত বোমা হামলা এবং ২০০৫ সালের ৪ ডিসেম্বর নেত্রকোনার কার্যালয়ে উগ্র ধর্মান্ধ জঙ্গিদের বোমা হামলায় উদীচী হারিয়েছে তার নিবেদিতপ্রাণ কর্মী-সংগ্রামীদের। কিন্তু রক্তের বিনিময়েও উদীচী মুক্তিযুদ্ধের অসাম্প্রদায়িক আদর্শ থেকে একচুলও বিচ্যুত হয়নি। ভবিষ্যতেও হবে না।প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই আয়োজন মুক্তিযুদ্ধের স্বপ্ন বাস্তবায়ন, একটি বৈষম্যহীন, অসাম্প্রদায়িক এবং সাম্যবাদী রাষ্ট গঠনে রাজপথের লড়াইকে আরও শাণিত করার এক নতুন শপথ। আলোচনা সভা শেষে

সংগীতপরিবেশনকরেন,বিশ্বতান”,আবৃত্তি করেন জয়শ্রী মজুমদার, এবং গণসংগীত পরিবেশন করেন উদীচী শিল্পীগোষ্ঠী চট্টগ্রাম জেলা সংসদের শিল্পীকর্মীরা।সাংস্কৃতিক পরিবেশনার পরপরই এস এস সি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান করা হয়।

বোয়ালখালী ফুটবল একাডেমির সম্মেলন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

L

চট্টগ্রামের বোয়ালখালী ফুটবল একাডেমির ২০২৬–২০২৮ মেয়াদের কার্যনির্বাহী কমিটি বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলার একটি হোটেলে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে উপজেলার ক্রীড়া সংস্থা সদস্য সচিব হাজি আবু আকতার সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্য মোঃ শওকত আলম। সকল সদস্য সিদ্ধান্ত নিয়ে উপস্থিতি সম্মেলনে প্রেস ক্লাবের সভাপতি ও একাডেমি উপদেষ্টা মোঃ সিরাজুল ইসলাম কমিটি ঘোষণা করেন

৭১ সদস্যবিশিষ্ট এ কমিটিতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা সদস্য সচিব হাজী আবু আকতার এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন জাতীয় ফুটবল খেলোয়াড় তৌহিদুল আলম।

কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে রয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা রেফারি ও ক্রীড়া সংগঠক হেলাল উদ্দিন টিপু। সহ-সভাপতি পদে রয়েছেন আবুল হাশেম মতি, ইয়াসিন আলী, মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, কাজী জসিম উদ্দিন, মো. নাজিম উদ্দিন, মীর মোহাম্মদ হারুন, জাফর ইকবাল, মোঃ ইউনুচ, মো. লোকমান (কান্তরি), হাফিজুর রহমান খোকন, মহসিন খোকন, মো. লোকমান ও কপিল উদ্দিন চৌধুরী ।

সহ-সাধারণ সম্পাদক হিসেবে সুজন পৌরহিত দেবু, যুগ্ম সম্পাদক হিসেবে শামশুল আলম এবং সহযুগ্ম সম্পাদক হিসেবে মো. রিপন দায়িত্ব পালন করবেন। সাংগঠনিক সম্পাদক একরামুল হক বাপ্পী এবং সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কেলভেন।

এ ছাড়া অর্থ সম্পাদক হিসেবে মো. নাজিম উদ্দিন (কান্তরি), সহ-অর্থ সম্পাদক মো. সৌরভ জাহেদ, ক্রীড়া সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন হাসান, সহক্রীড়া সম্পাদক মো. জোনায়েদ হোসেন, প্রচার সম্পাদক মারুফ উল হুদা আসিফ, সাংস্কৃতিক সম্পাদক আবরার ইমন, সহ-প্রচার সম্পাদক প্রলয় চৌধুরী মুক্তি, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক ইমনানুল হক জিকু, ক্রীড়া ও বিনোদন সম্পাদক সৈয়দ জসিম উদ্দিন, দপ্তর সম্পাদক মোহাম্মদ শফিউল করিম, সহ-দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, প্রকাশনা সম্পাদক মো. মোরশেদ এবং সহ-প্রকাশনা সম্পাদক রফিকুল ইসলাম রাসেল কমিটিতে রয়েছেন।

কমিটিতে সিনিয়র সদস্য হিসেবে বশির আহমেদ, সৈয়দ মো. নজরুল ইসলাম, ইয়াছিন চৌধুরী, পূজন সেন, তৌহিদুর রহমান, মো. ইউনুচ, মো. জামাল ও মেহেদী হাসান সাগরসহ বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। এ ছাড়া মিনহাজ আলম, জিসান আলম, রাশেদুল ইসলাম ফয়সাল, মো. সাজ্জাদ, কামরুল হাসান, মো. নাসিম, আমিন উল্লাহ সোহান, হোসেন রবিন, তানভীর ইসলাম নয়ন, সাইদুর আরমান, জয়নাল আবেদীন জুবায়ের, রোকন উদ্দিন, মোঃ লিটন, মোঃ সাইদ, মোঃ জাহেদ, মোঃ বাহাদুর, মোঃ খোরশেদ, মোঃ ইমন, মোঃ হামিদ, নয়ন দাস, মোঃ সুমন, মোহরাজ, প্রমুখ।

প্রধান উপদেষ্টা হলেন আলহাজ্ব এরশাদ উল্লাহ সহ উপদেষ্টা হলেন আলহাজ্ব আজিজুল হক চেয়ারম্যান, মোঃ শওকত আলম, শহীদুল ইসলাম সহ ৩১জন উপদেষ্টা করা হয়। সহ আরও অনেকে সদস্য হিসেবে রয়েছেন।

২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত বোয়ালখালী ফুটবল একাডেমি উপজেলা সদর, বোয়ালখালী, চট্টগ্রাম থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। একাডেমিটির মূল স্লোগান—‘ক্রীড়াই ঐক্য’।নতুন কমিটির মাধ্যমে একাডেমির সাংগঠনিক কার্যক্রম, খেলোয়াড়দের উন্নয়ন এবং স্থানীয় পর্যায়ে ফুটবলের প্রসারে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ