চট্টগ্রামে ‘প্রতিমা’ লক্ষ্য করে দুর্বৃত্তদের ছুঁড়া গরম পানি ঃ সনাতনী সম্প্রদায়ের বিক্ষোভ

জড়িতদের ছাড় দেয়া হবেনা - সহসমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম নগরীর চেরাগি মোড় দিয়ে গণেশ পূজার প্রতিমা নিয়ে যাওয়ার সময় ‘প্রতিমা’ লক্ষ্য করে উপর থেকে দুর্বৃত্তদের ছুঁড়া গরম পানি কাণ্ড নিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতিবাদে উত্তাল হয়েছিল চেরাগী মোড়। মধ্যরাতে মুহুর্তেই নেমে এসে হাজার হাজার ভক্তের ঢল। চরম উত্তেজনাকর পরিবেশে স্লোগানে উত্তাল পুরো চেরাগী মোড়ের সড়ক। আশেপাশের সড়কে যান চলাচল বন্ধ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর একাধিক টিম। অন্যদিকে এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার নগরের চেরাগি পাহাড় মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি ও বিক্ষোভ করেছেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। বিকেলে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা। দাবি অনুযায়ী দেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন বন্ধ না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। এ সময় দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে দ্রুত সময়ের মধ্যে সব হামলার ঘটনার বিচার দাবি করেন তারা।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ‘আমরা কেন স্বাধীন নই’, ‘আমার মন্দিরে হামলা কেন?’, ‘দেশ ছাড়তে হুমকি কেন? রাষ্ট্র জবাব চাই’, ‘মানবসেবা যাদের ধর্ম তাদের ওপর হামলা কেন?’, ‘বাঁচতে হলে লড়তে হবে, আঘাত আসবে যেখানে প্রতিরোধ হবে সেখানে’-ইত্যাদি প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন অংশগ্রহণকারীরা।
জানা গেছে, শুক্রবার রাতে ভ্যানগাড়িকে লক্ষ্য করে পাশের ভবন থেকে গরম পানি এবং ইট ছোঁড়ার অভিযোগ ওঠেছে। এ সময় দুই ব্যক্তিকে বেধড়ক মারধর করা হয়। ওই ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার দিবাগত গভীর রাতেই তাৎক্ষণিক চেরাগি পাহাড় মোড়ে বিক্ষোভ হয়েছে। এতে শত শত মানুষ যোগ দেন। তবে ভোর ৪টার দিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে অবস্থান নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। তবে ঘটনার পরপরই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ সংক্রান্ত নানা গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এসব গুজবে কান না দেয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী অনুরোধ জানিয়েছে।
এদিকে, চেরাগি মোড়ের ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর একটি অপচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে বলে জানিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রামের সহসমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি।
জানতে চাইলে বিক্ষোভকারী ব্যাটারিগলি ধোপাপাড়া সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদের একজন কর্মকর্তা বলেন, হাজারী লেন থেকে আমরা প্রতিমা নিয়ে ওই গাড়িতে করে ব্যাটারিগলি যাচ্ছিলাম। আমরা সুশৃঙ্খলভাবেই যাচ্ছিলাম। কদম মোবারক এলাকায় আমাদের ভ্যানগাড়ি দাঁড়ালে হঠাৎ পাশের বিল্ডিংয়ের উপর থেকে কিছু দুর্বৃত্ত গরম পানি নিক্ষেপ করে। এরপর কারণ জানতে বিল্ডিংয়ের উপরে উঠলে আমিসহ তিনজনকে আটকে রাখা হয়। আমি চলে আসতে সক্ষম হলেও অন্য দুজনকে বেধড়ক পিটুনি দেয়া হয়।
কোতোয়ালী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) নওশের কোরেশী জানান, বিক্ষোভের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ছুটে যান। ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনীর সদস্যরাও ছিলেন।
সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করা হচ্ছে অভিযোগ করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চট্টগ্রামের সহসমন্বয়ক খান তালাত মাহমুদ রাফি বলেন, চট্টগ্রামে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে এবং উস্কানিদাতাদের পরিকল্পনা সফল হয়নি। ঘটনার সাথে জড়িত কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। শীঘ্রই ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হবে।
তিনি বলেন, ধর্ম আমাদের আবেগের জায়গা এবং এটাকেই ব্যবহার করে কুচক্রিমহল সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধিয়ে অস্থিতিশীলতা তৈরি করার চেষ্টা করছে এবং করবেও। সেক্ষেত্রে ধর্মপ্রাণ সকলকেই সজাগ এবং সতর্ক থাকতে হবে। যারা সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাঁধানোর চেষ্টা করবে তাদেরকে আমরা সবাই মিলে প্রতিহত করবো।বিপ্লবকে ব্যাহত করার জন্য নানা ষড়যন্ত্র চলছে উল্লেখ করে রাফি বলেন, ‘কারো পাতা ফাঁদে পা দিলে আমাদের শহীদ ভাইদের রক্ত বৃথা যাবে।

**

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

কাঁচপুরে ভাঙারি ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী হত্যা: ২৪ ঘণ্টায় রহস্য উদঘাটন, আসামির স্বীকারোক্তি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সোনারগাঁ উপজেলার কাঁচপুরে লোমহর্ষক ভাঙারি ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী হত্যা মামলার মূল রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদঘাটন করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত দুই আসামির মধ্যে শাহিনুর ইসলাম আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

​গত বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে কাঁচপুর সোনাপুর এলাকার পরিত্যক্ত জালালাবাদ ওষুধ কারখানার পেছনের ডোবা থেকে হাত-পা বাঁধা বস্তাবন্দী অবস্থায় আইয়ুব আলীর রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহতের স্ত্রী মোসাঃ মাহফুজা আক্তার বাদী হয়ে সোনারগাঁ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন নারায়ণগঞ্জ পুলিশ সুপার মোঃ হাবিবুর রহমানের নির্দেশনায় এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (‘খ’ সার্কেল) দিপংকর ঘোষের নেতৃত্বে সোনারগাঁ থানা পুলিশের একটি চৌকস দল তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই

ঘটনার মূল রহস্য উন্মোচন করে। ​পুলিশ সূত্রে জানা যায়, পূর্বপরিকল্পনার অংশ হিসেবে ১০টি ইয়াবা ট্যাবলেট ও টাকার লোভ দেখিয়ে সহযোগী শাহীনের মাধ্যমে আইয়ুব আলীকে ভাঙারি দোকানে ডেকে আনা হয়। এরপর অত্যন্ত সুকৌশলে তাকে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কয়েকজন জড়িত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে। ​গ্রেপ্তারকৃত আসামিরা হল
​১. শাহিনুর ইসলাম (৩০): পিতা- মানিক মিয়া, সাং- মাস্টারপাড়া, থানা- নাগেশ্বরী, জেলা- কুড়িগ্রাম; বর্তমান ঠিকানা- কাঁচপুর উত্তরপাড়া (আলতু মিয়ার বাড়ির ভাড়াটিয়া)। তিনি আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জামির হোসেন (৫৭): পিতা- মৃত ছাহাদ আলী, সাং- কাঁচপুর উত্তরপাড়া, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ।​পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপ ​সোনারগাঁ থানা পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বাকি পলাতক আসামিদের গ্রেপ্তার এবং ঘটনায় ব্যবহৃত আলামত উদ্ধারে তাদের সাঁড়াশি অভিযান ও তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। অপরাধমূলক এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা অন্যান্য জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে। ​

মানবতাবিরোধী অপরাধে কাদের-আরাফাত -সাদ্দামসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক শেখ ওয়ালি আসিফ ইনানসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

একই রায়ে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ ও সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ রায় ঘোষণা করেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

প্রসিকিউশন সূত্রে জানা যায়, এ মামলার তদন্ত শুরু হয় ২০২৫ সালের ১৮ জুন। তদন্ত শেষে একই বছরের ৭ ডিসেম্বর চিফ প্রসিকিউটর কার্যালয়ে প্রতিবেদন জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তারা। যাচাই-বাছাই শেষে ১৮ ডিসেম্বর ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়। একই দিন অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ