আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

জাতীয় সংসদে হিন্দুদের জন্য আসন বরাদ্দ থাকা উচিত : জামায়াতে ইসলামীর আমীর

চট্টগ্রাম ব্যুরো :

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় সংসদে হিন্দুদের জন্য সংখ্যানুপাতিক হারে আসন বরাদ্দের পক্ষে মত দিয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর আমীর শাহজাহান চৌধুরী। বুধবার সকালে চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার পুণ্ডরীক ধামে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের রাধাষ্টমী উৎসবে তিনি একথা বলেছেন বলে খবর বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহজাহান চৌধুরী বলেন, আমরা মনে করি, জাতীয় সংসদে হিন্দুদের জন্য সংখ্যানুপাতিক হারে আসন বরাদ্দ থাকা উচিত। জামায়াতে ইসলাম ১৯৫৪ সালের নির্বাচন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনেও এই দাবি তুলেছিল। যদি সংখ্যানুপাতিক আসন বরাদ্দ থাকে, তবে হিন্দুরাই তাদের নেতৃত্ব নির্বাচন করে সংসদে পাঠাতে পারবে। জামায়েতের রাজনীতি মানুষের জন্য এবং মানবতার কল্যাণের জন্য।
সনাতন সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি সনাতনী, আমি মুসলিম, আমি আপনার কাছ থেকে দূরে থাকবো, এ শিক্ষা ইসলাম দেয়নি। ইসলাম অমুসলিমদের জন্য ভালোবাসা ও নিরাপত্তার কথা বলেছে। বাংলাদেশে আমাদের মধ্যে তো কোনো বিভেদ ছিল না। কারা রাজনীতির জন্য হিন্দু-মুসলিমের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করলো ? দেশ আমার-আপনার, আমাদের সবার।
আমাদের আমীরে জামায়েত বলেছেন, আমরা নামাজ পড়তে যদি পাহারা দিতে না হয়, আমাদের মসজিদে যদি পাহারা দিতে না হয়, তবে হিন্দু ভাইদের মন্দিরে কেন পাহারা দিতে হবে ? আমরা এমন দেশ গড়তে চাই যেখানে সব ধর্মের মানুষ তাদের উৎসব অনুষ্ঠান করবে নির্বিঘ্নে।
সাবেক সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী আরও বলেন, কোনো সংখ্যালঘু-সংখ্যাগুরু হবে না। আমরা বাংলাদেশি, আমরা এক। আমাদের জন্মনিবন্ধন-জাতীয় পরিচয়পত্র-সংস্কৃতি-খাবার-ব্যবহার সবই এক, তাহলে বিভেদ কেন?
আমরা সবাই বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করেছি। তাই শিক্ষার অধিকার, ধর্মীয় আচরণের অধিকার, খাবারের অধিকার, বসবাসের অধিকার, কথা বলার অধিকার সবার সমান হতে হবে। কারো বেশি, কারো কম হতে পারবে না। এজন্য আমাদের সংবিধানে পরিবর্তন আনতে হবে। আমরা সবাই বাংলার সন্তান-সে হিসেবে সংবিধান রচিত হতে হবে।
পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের সভাপতিত্বে ও সাংবাদিক বিপ্লব পার্থের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন, ইসকন প্রবর্তক শ্রীকৃষ্ণ মন্দিরের অধ্যক্ষ লীলারাজ গৌর দাস, পাচুরিয়া তপোবন আশ্রমের অধ্যক্ষ রবীশ্বরানন্দ পুরী, বাঁশখালী ঋষিধামের মোহন্ত শচ্চিতানন্দ পুরী ও অক্ষরানন্দ পুরী, নন্দনকানন ইসকন মন্দিরের সহ-সভাপতি আকিঞ্চন গৌরদাস, হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্টের সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব ধর তমাল ও উত্তর জেলার সদস্য সচিব জুয়েল চক্রবর্তী, চট্টগ্রাম মহানগর শিবিরের সভাপতি ফখরুল ইসলাম বাবু, হাটহাজারী উপজেলা জামায়াতের আমীর সিরাজুল ইসলাম ও হাটহাজারী পৌরসভার আমীর মিজানুর রহমান এবং হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান-ঐক্য পরিষদের গোবিন্দ প্রসাদ মহাজন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরো ৫৩ হাজার টন ডিজেল নিয়ে বন্দরে এলো ২ জাহাজ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আরো ৫৩ হাজার ৬০০ টন ডিজেল নিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে এসে পৌঁছেছে দুটি জাহাজ। শনিবার চীন ও ভারত থেকে আসা এসব জাহাজগুলোর স্থানীয় শিপিং এজেন্ট প্রাইড শিপিং লাইন এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) সূত্রে জানা গেছে, এপ্রিল মাসে ২০টি জাহাজে করে মোট ৬ লাখ ৫ হাজার ২২৭ টন জ্বালানি আমদানি করা হয়েছিল।মে মাসেও ১ লাখ টন ক্রুড অয়েলসহ মোট ৬ লাখ টন জ্বালানি আমদানির লক্ষ্যমাত্রা নিশ্চিত করেছে প্রতিষ্ঠানটি।

প্রাইড শিপিং লাইনের তথ্যমতে, চীন থেকে লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ ‘লিলা কিংস্টন’ ১৯ হাজার টন ডিজেল নিয়ে গত শুক্রবার বিকাল ৩টায় বহির্নোঙরে পৌঁছে। শনিবার ভোরে আরো ৩৪ হাজার ৬০০ টন ডিজেল নিয়ে পানামার পতাকাবাহী জাহাজ ‘প্রাইভেট সোলানা’ এসে কুতুবদিয়া এঙ্করেজে ভিড়েছে। প্রাইড শিপিং লাইনের ম্যানেজিং পার্টনার নজরুল ইসলাম বলেন, ডলফিন জেটিতে বর্তমানে দুটি জাহাজ আছে এবং বহির্নোঙরে অপেক্ষমান আছে আরো দুইটি। একটি জাহাজ থেকে লাইটারিং চলমান আছে। নতুন আরো দুইটি জাহাজ আসায় বর্তমানে বন্দরে জ্বালানি তেলবাহী জাহাজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে সাতটিতে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ