আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

উপকূলীয় অঞ্চলে জলবায়ু সুবিচারের দাবীতে সাতক্ষীরায় যুবদের নদীবন্ধন

ইব্রাহীম হোসেন সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বেঁচে থাকার অধিকার, চাই জলবায়ু সুবিচার’, জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বন্ধ করো, ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ চাই, ‘ক্ষতিকারক কৃষি চর্চায় বিনিয়োগ বন্ধ করো’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘ক্লাইমেট জাস্টিস নাউ’ নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধি করাসহ এমন ধরনের নানা স্লোগান এবং নিজেদের তৈরীকৃত ব্যানার, প্লেকার্ড, ফেস্টুন নিয়ে তুমুল বৃষ্টি উপেক্ষা করে নিজেদের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াইয়ে নদীর পাড়ে নদীবন্ধন করেন শ্যামনগরের যুবরা।সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের দাতিনাখালী ওয়াপদা বেড়িঁবাধের ভাঙনকূলে উপকূলীয় অঞ্চলের অর্ধশতাধিক যুব এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠী এ নদীবন্ধনে অংশ নেন। বেসরকারি গবেষণা উন্নয়ন প্রতিষ্ঠান বারসিক (বাংলাদেশ রিসোর্স সেন্টার ফর ইন্ডিজেনাস নলেজ) এর সহায়তায়, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বনজীবি ইয়ুথ টিম ও উপজেলা যুব স্বেচ্ছাসেবী সমন্বয় কমিটি আয়োজিত বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে জলবায়ু সুবিচারের দাবীতে বৈশ্বিক জলবায়ু ধর্মঘটের সাথে সংহতি প্রকাশ করে আয়োজিত এ নদীবন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বনজীবি ইয়ুথ টিম’র সভাপতি মো. শামীম হোসেন।বারসিক’র যুব সংগঠক স.ম. ওসমান গনী সোহাগ এর সঞ্চালনায় নৌবন্ধনে আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা সবুজ সংহতির শেফালী বিবি, এসএসএসটি’র আহবায়ক প্রকাশ মন্ডল, যুব স্বেচ্ছাসেবক আব্দুর রহমান, আল-মামুন, মোঃ তাওহিদ হোসেন, জুলেখা আক্তার, তানিয়া পারভীন, শরিফা খাতুন, নাছরিন আক্তার প্রমুখ।এসময় পরিবেশের জন্য হুমকি প্রকল্পগুলো সম্বন্ধে উপজেলা যুব স্বেচ্ছাসেবী সমন্বয় কমিটি’র কার্যকরী সদস্য শামীম হোসেন বলেন, ‘ভবিষ্যতের জন্য জলবায়ু ও জ্বালানি সুরক্ষিত একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই।’ সর্বোচ্চ কার্বন নির্গমনকারী আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও দেশগুলির কাছে অবিলম্বে জীবাশ্ম-তহবিল বন্ধ করাসহ জলবায়ু সংকটের কারণে ঝুঁকিতে থাকা সম্প্রদায়গুলোর জন্য জলবায়ু ক্ষতিপূরণের অর্থায়ন নিশ্চিত করতে হবে। পরিবেশের ক্ষতি করে এমন প্রকল্পগুলো বন্ধ এবং জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ না করে টেকসই প্রকল্পে বিনিয়োগের জন্য সরকার ও বিনিয়োগকারীদের আহ্বান জানান তিনি।

বারসিক শ্যামনগর রিসোর্স সেন্টার এর আঞ্চলিক সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) রামকৃষ্ণ জোয়ারদার তার বক্তব্যে বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সাথে বাংলাদেশেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাবে বৈশ্বয়িক পরিবর্তন ঘটছে। বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর লাগামহীন কার্বন নিঃসরণ ও ফসিল ফুয়েলের ব্যবহার, আমাদের মতো নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে দিন দিন সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশ হিসেবে পরিণত করছে। সবুজ পৃথিবী গড়ে তুলতে বিশ্ব জলবায়ু ধর্মঘট এর সপ্তাহব্যাপী কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আজকের এ নদীবন্ধন। আমাদের প্রত্যেককেই নিজ নিজ জায়গা থেকে জলবায়ু সুবিচার চাইতে হবে। নতুবা আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখিন হবে। আসুন আমরা ফসিল ফুয়েলের নানাবিধ ব্যবহার কমিয়ে দিয়ে নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়িয়ে সকল প্রাণের জন্য একটি বাসযোগ্য সবুজ পৃথিবী বিনির্মাণ করি।

স্থানীয় সমাজকর্মী মোঃ বুলবুল হৃদয় বলেন, জীবাশ্ম জ্বালানি বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ এবং দ্রæত জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে কাজ করে। কল-কারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন খাতে প্রতিনিয়ত যে হারে জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহার হয়, তার ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ছাড়া পশ্চিমা বিশ্বের সম্পদশালী দেশগুলো জীবাশ্ম জ্বালানিতে বিনিয়োগ বাড়াচ্ছে। তাদের পুঁজিবাদী মনোভাবের কারণেই পৃথিবী আজ ধ্বংসের মুখে।

সবুজ সংহতির কার্যকরী সদস্য ও নারী বনজীবি শেফালী বিবি তার বক্তব্যে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারনে আমরা যারা বনে যাই তারা নানা ধরনের সমস্যায় পড়ি। বিগত বছরের তুলনায় এবছর মধু কম হয়েছে। তাছাড়া বর্ষাকাল না হলেও অতিবৃষ্টি হয়, যেকোন সময় ঝড় হয় তখন বন বিভাগ থেকে পাশ দেয়না, আমরা মাছ-কাঁকড়া ধরতে যেতে পারি না। আমাদের লোনা পানিতে নেমে নদীতে জাল টানতে হয়। মহিলাদের অনকে শারিরীক সমস্যা দেখা দেয়। বেড়িঁবাধ গুলোর করুণ অবস্থা। আমাদের সরকার যদি এখনই জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে সামনে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে।

নদীবন্ধনে বাংলাদেশের মতো জলবায়ু-সংবেদনশীল দেশগুলোকে এখনই জলবায়ু পরিবর্তনজনিত সর্বনাশা সব প্রভাব মোকাবেলা করতে হচ্ছে, এ দিকে দৃষ্টি রেখে যুব স্বেচ্ছাসেবক ও জলবায়ুকর্মীরা বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছ থেকে আরও বেশি, আরও উচ্চাকাঙ্খী জলবায়ু অর্থায়ন নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেয়। তারা বৈশ্বিক গ্রিনহাউজ গ্যাস নির্গমনের বড় অংশীদার ধনী দেশগুলোর প্রতি জলবায়ু তহবিলে তাদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি যত দ্রুত সম্ভব পূরণের তাগাদা দেয়; তবে এই অর্থায়নের নামে ‘গ্লোবাল সাউথের’ দেশগুলোর ওপর যেন ঋণ চাপিয়ে দেওয়া না হয় তা নিয়েও সতর্ক করেছে তারা। এমন অর্থায়ন বিপদে থাকা দেশগুলোর ঋণের বোঝা আরও বাড়িয়ে তুলবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দেড় মাসের শিশু নিয়ে কারাগারে যাওয়া মায়ের মুক্তি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুলকে হত্যাচেষ্টার মামলায় দেড় মাসের মেয়েকে নিয়ে কারাগারে যাওয়া যুব মহিলা লীগের কর্মী শিল্পী বেগম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন।বুধবার বেলা ১২টার কিছু আগে কাশিমপুর কারাগার থেকে তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। এসময় পরিবারের সদস্যরা সেখানে উপস্থিত ছিলেন।শিল্পীর আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখী বলেন, গতকাল দুপুরে জামিন নামঞ্জুর করে শিল্পীকে কারাগারে পাঠানো হয়। সন্ধ্যায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করলে জামিন পান তিনি।

শিল্পীর স্বামী রহিম হোসেন সোহাগ বলেন-গরমে বাচ্চাটা একটু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। ওর মা তো আগে থেকেই অসুস্থ। টেনশনের কারণে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েছে।শিল্পী বেগম ঢাকা মহানগর উত্তর যুব মহিলা লীগের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রয়েছে।

তেজকুনিপাড়ার রেলওয়ে কলোনি এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।মঙ্গলবার ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।স্বজনরা সে সময় বলেছিলেন, গত ৪ মার্চ ঢাকার আদ-দ্বীন হাসপাতাল সি সেকশনের মাধ্যমে শিল্পীর সন্তানের জন্ম হয়। এর পর বাথরুমে পড়ে বাঁ হাত ভেঙে যায় শিল্পীর।

জামিন নাকচ হওয়ার পর শিল্পী বলেন-সিজারের কাটা জায়গায় এখনো ব্যথা করে। বাচ্চাকে ঠিকমত খাওয়াতে পারি না। ও তো মরে যাবে।দেড় মাসের শিশুকে নিয়ে কারাগারে মা’– এমন খবর প্রচারের পর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি নিয়ে নানামুখি আলোচনা শুরু হয়। সন্ধ্যায় ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক দিক বিবেচনা করে শিল্পীকে জামিন দেন।

রাতুলের হত্যা চেষ্টা মামলার বিবরণে বলা হয়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন চলাকালে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চানখারপুল এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তাহমিদ মুবিন রাতুল। সহপাঠীরা তাকে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যান৷ সেখানে ছাত্রলীগের অসংখ্য নেতা-কর্মী তাদের আক্রমণ করেন।

পরে আসামি শিল্পীর নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় এজাহারভুক্ত আসামিরাসহ অচেনা ১২০/১৩০ জন ওই শিক্ষার্থীর তেজগাঁওয়ের বাসায় হামলা চালায়। বাসার আসবাবপত্র ও ইলেকট্রনিক্স জিনিসপত্র ভাংচুর করায় পাঁচ লাখ টাকার ক্ষতি হয়। তিন লাখ টাকার বিভিন্ন মালামাল লুটপাট ও চুরি করে নিয়ে যান আসামিরা। শিল্পী ও অন্য আসামিরা ওই শিক্ষার্থীর বাবা সোহেল রানাকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন বলেও মামলায় অভিযোগ করা হয়।

এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ জানুয়ারি সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালসহ ১০৩ জনের নাম উল্লেখ করে অচেনা ১২০/১৩০ জনকে আসামি করে শিক্ষার্থী রাতুলের মা শাহনুর খানম তেজগাঁও থানায় মামলা করেন।

গ্যাস সরবরাহ কম, জ্বালানি সংকট চাকা ঘুরছেনা চট্টগ্রামের ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রের, চরম ভোগান্তি।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামে ১০টি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ থাকায় নগরের বিভিন্ন এলাকায় লোডশেডিং বেড়েছে, ফলে ভ্যাপসা গরমে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন বাসিন্দারা। বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রভাব পড়েছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রায়, এমনকি দেখা দিয়েছে পানির সংকটও।জ্বালানি সংকটের কারণে এসব বিদ্যাৎকেন্দ্রগুলোর চাকা বন্ধ রয়েছে। যার ফলে বিদ্যুৎ ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। উৎপাদন কমে আসলেও গরমের কারণ বাড়ছে চাহিদা। ফলে লোডশেডিং আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।

এদিকে লোডশেডিংয়ের কারণে জনজীবনে বাড়ছে ভোগান্তি। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। এছাড়া চট্টগ্রামের বিভিন্ন উপজেলায় ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছে না বলে জানিয়েছে ভুক্তভোগীরা। নগরীর রাহাত্তারপুল এলাকার বাসিন্দা হুমায়ুন কবির বলেন, বৈশাখ মাসের গরমে বিদ্যুৎ ছাড়া টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে।ফটিকছড়ির ব্যবসায়ী হামিদুল ইসলাম বলেন, দিনে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। দোকানে অনলাইনভিত্তিক কাজ করতে হয়। বিদ্যুৎ ছাড়া কাজ করা যায় না। আমরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছি।পিডিবির চট্টগ্রাম নির্বাহী প্রকৌশলী ফাহমিদা জামান জানান, গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়া ও জ্বালানি সংকটের কারণে কয়েকটি বিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী লোডশেডিং কমবেশি হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সূত্র জানায়, গত শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামে বিদ্যুতের চাহিদা ছিল ১ হাজার ২১১ দশমিক ২০ মেগাওয়াট। উৎপাদন হয় ১ হাজার ৩৫৩ দশমিক ৫০ মেগাওয়াট। তবে এর মধ্যে ১৪২ দশমিক ৩০ মেগাওয়াট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করায় স্থানীয়ভাবে ৬৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং করতে হয়। এর আগে বেলা ১১টায় চাহিদা ছিল ১ হাজার ২৯১ দশমিক ৬০ মেগাওয়াট, বিপরীতে সরবরাহ পাওয়া যায় ১ হাজার ২০০ দশমিক ৭০ মেগাওয়াট। তখন লোডশেডিংয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ৯০ দশমিক ৯০ মেগাওয়াট।

পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি কেন্দ্র উৎপাদনের বাইরে রয়েছে। এর মধ্যে এনলিমা (১১৬ মেগাওয়াট), জুডিয়াক (৫৪ মেগাওয়াট), জুলধা-২ ও ৩ (প্রতিটি ১০০ মেগাওয়াট), রাউজান ১ ও ২ (প্রতিটি ২১০ মেগাওয়াট) এবং কক্সবাজারের উইন্ড প্ল্যান্ট উল্লেখযোগ্য। পিডিবির প্রতিবেদন অনুযায়ী, শুক্রবার বেলা ১১টায় ১১টি ও সন্ধ্যা ৭টায় ১৫টি বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ছিল শূন্যের কোঠায়। এরমধ্যে ১০ বিদ্যুৎকেন্দ্রে সকাল-সন্ধ্যা উৎপাদনের বাইরে ছিল। এর মধ্যে বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র মাতারবাড়ী কোল পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে সকালে কিছু উৎপাদন মিললেও সন্ধ্যায় তা শূন্যে নেমে আসে। কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিটের মধ্যে সচল রয়েছে মাত্র দুটি।

বর্তমানে চট্টগ্রামের বিদ্যুৎ সরবরাহ মূলত নির্ভর করছে কয়েকটি কেন্দ্রের ওপর। সন্ধ্যার হিসাব অনুযায়ী বাঁশখালীর এসএস পাওয়ার প্ল্যান্ট থেকে ৬১২ মেগাওয়াট, শিকলবাহা কেন্দ্র থেকে ২১৮ মেগাওয়াট এবং মিরসরাইয়ের বি-আর পাওয়ার কেন্দ্র থেকে ১৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাওয়া গেছে।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ