আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

চট্টগ্রামে পাহাড়ধস রোধ করা প্রশাসনের চ্যালেঞ্জ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অনেককিছু পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে বিশেষত কোন ঋতুচক্রই এখন আর সময় নির্ধারিত নয়, বিভিন্ন কারণে পাহাড়ধস রোধ করা প্রশাসনের জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে প্রভাবশালী চক্রের দখলদারিত্ব অন্যদিকে বিপুল সংখ্যাক জনগোষ্ঠীকে নির্দিষ্ট স্থানে পুনবার্সন প্রক্রিয়া বেশ জটিল। আগাম সতর্কবার্তাকে জনগণ দৃশ্যমান অবস্থার প্রেক্ষিতে বিবেচনা করে থাকে তার পূর্বে অনুমেয় বিষয়গুলো জনগণ সাধারণত গ্রহণ করেনা। চট্টগ্রামে প্রশাসনের বেশকিছু সেইফ স্পেস রয়েছে কিন্তু প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ কে সফল করতে সকল সংস্থার সহযোগিতা বিশেষ করে এনজিও সংস্থার সহযোগিতা প্রয়োজন। পাশাপাশি সফটওয়ার ডেভেলপমেন্ট, গবেষণা পত্র, মোটিভেশান, প্রিপাডনেস, রেসকিউ, কো-অর্ডিনেশন প্রয়োজন রয়েছে। রোববার সকালে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সভাকক্ষে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সহায়তায় সেভ দ্য চিলড্রেন এবং ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল এ্যাকশন ইপসা, রাইমস (টেকনিক্যাল পার্টনার)’র বাস্তবায়নে একটি প্রকল্পের অবহিতকরণ সভায় এই মন্তব্য করেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন প্রশাসক মো. তোফায়েল ইসলাম।
সভার শুরুতে শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান ইপসার পরিচালক (সমাজ উন্নয়ন) নাছিম বানু, প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন সেভ দ্য চিলড্রেন ম্যানেজার ফাতেমা মেহেরুন্নেছা, প্যানেল আলোচক ও আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন চসিক প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, পরিবেশ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের উপ পরিচালক শেলিনা আক্তার, বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নুরুল করিম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. ইকবাল সরোয়ার (ভূগোল), ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, চট্টগ্রাম উপ পরিচালক দীনমনি শর্মা, সহকারী পরিচালক মো. আবদুল্লাহ, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নগর পরিকল্পবাবিদ আবদুল্লাহ আল ওমর, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক কিশোয়ার জাহান চৌধুরী, সেভ দ্য চিলড্রেন ম্যানেজার (এন্টিসিপেটোরী এ্যাকশন) জাবেদ মিয়াদাঁদ, চসিক সমাজ, বন ও বস্তি উন্নয়ন কর্মকর্তা সৈয়দ মঈনুল হোসেন জয়, ইপসা প্রজেক্ট ম্যানেজার সানজিদা আক্তার, প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর ড. প্রবাল বড়ুয়া, লালখান বাজার ওয়ার্ড সচিব মো. মুজিবুর রহমান, সিপিপি নগর কো অর্ডিনেটর মো. ঈসা প্রমূখ।
প্রসঙ্গত, পাহাড়ধসে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ ওয়ার্ড হিসেবে বিবেচিত চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনবের ৩টি ওয়ার্ড যথাক্রমে ১৪নং লালখান বাজার ৯নং উত্তর পাহাড়তলী, ৭নং পশ্চিম ষোলশহর ওয়ার্ডে এবং বাঁশখালী উপজেলার সাধনপুর ও পুকরিয়া ইউনিয়নে (জুলাই-২০২৪ থেকে ফেব্রুয়ারি-২০২৬) প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। মূলত এই প্রকল্পটি প্রকল্পভূক্ত এলাকায় পাহাড়ধসের জন্য আগাম সতর্কতা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করার একটি পদক্ষেপ। পাহাড়ধসের প্রভাব কমাতে সময়মত এবং কার্যকর সতর্কতা নিশ্চিত করা এবং এর সমস্যা, গ্যাপ শনাক্ত করে এবং কংক্রিট সমাধান প্রস্তাব করে। এছাড়াও প্রকল্পের মাধ্যমে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি, নগর স্বেচ্ছাসেবক, শিশু ও যুব সংগঠকক, রিসোর্স পুল, ইন্টারপ্রিটার পুল সহ বিভিন্ন গ্রুপ ভিত্তিক প্রশিক্ষণ, কনসালটেশন সভা, ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে সচেতনতা আনয়ন, ভয়েস মেসেজ ও সেক্টর ভিত্তিক আবহাওয়া বার্তা প্রদান, ঝুঁকি নিরূপণ প্রতিবেদন তৈরি, স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে এডভোকেসী, গবেষণা কর্ম এবং কমিউনিটি পর্যায়ে হাইজিন কিডস, কিচেন কিডস প্রদান, শর্ত ও শর্তবিহীন ক্যাশ সাপোর্ট, রেইন গেইজ, মাটির আদ্রতা পরিমাপক ডিজিটাল ডিভাইস স্থাপন সহ বিভিন্ন সহায়তা প্রদান করবে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ব্লাড ব্যাংকের যাত্রা শুরু ৪৬ বছরে পা রাখলো মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের ৪৬ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধন একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো মনিরুজ্জামান। এতে ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের যথাযথ ব্যবহার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের ডিভিশনাল ডিরেক্টর ডা. শেখ ফজলে রাব্বি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ডা. মাসুদ আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এ.এম. রায়হান উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. হাফিজুল ইসলাম। হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার মো.ইয়াছিন আরাফাতের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেবুন নেসা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান (মিজান) এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক।

সেমিনারে বক্তারা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় রক্ত ও রক্তজাত উপাদানের সঠিক ও প্রয়োজনীয় ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন। তারা বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. তাহমিদ জুনায়েদ মাহমুদ, ডা. সাফওয়ান মাহমুদ, মার্কেটিং ম্যানেজার রতন কুমার নাথ, বিডিএম ম্যানেজার গোলাম রব্বানী, সার্ভিস ম্যানেজার লুৎফুর রহমান, আই টি ম্যানেজার মোঃ উছা, সহকারী ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমানসহ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকবৃন্দ এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে জব্দ ২৭ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক সিগারেটের চালান জব্দ করা হয়েছে। মাস্কাট থেকে আগত সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইটের যাত্রী মো. শামসুদ্দিনের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ২৮০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক আগমন হলের ১ নম্বর লাগেজ বেল্টে যাত্রীবিহীন অবস্থায় আরও ১ হাজার ৬৫ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ পাওয়া যায়। রোববার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক আগমন হলে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, জব্দ করা সিগারেট থেকে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। উদ্ধারকৃত সিগারেট ও ল্যাপটপ ডিপার্টমেন্টাল মেমোরেন্ডাম মূল্যে জব্দ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক যাত্রীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ