আজঃ মঙ্গলবার ১৬ ডিসেম্বর, ২০২৫

বৈষম্য বিরোধী ব্যবসায়ী ও সাধারন শ্রমিক জনতা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিগত ১৫ বছরে স্বৈরাচারী সরকারের অপশাসনে ক্ষতিগ্রস্থ ও বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্প ও কারখানা দ্রুত চালু করে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করার দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রামে। আজ বিকেলে জামাল খান চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব চত্বরে এ মানব বন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সাধারণ ব্যবসায়ী ও শ্রমিকরা তাদের নয় দফা দাবি তুলে ধরেন। বলেন, বিগত ১৫ বৎসর ভিন্ন মতাদর্শের কারনে ফ্যাসিবাদ সরকারের অন্যায় অত্যাচার ও নির্যাতনে প্রায় বন্ধ অবস্থায় ছিল দেশের অনেক শিল্প মালিক। দরবেশ বাবা খ্যাত সালমান এফ রহমান এবং ব্যাংক খেকো এস আলম সিন্ডিকেট এর ইশারা ছাড়া কেউ কোন ধরনের লোন সুবিধা পায়নি। তাদের অত্যাচারে বন্ধ হয়ে গেছে দেশের হাজারও শিল্প কল কারখানা ও ব্যবসআ প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে এস আলম গ্রুপ ও তাদের দোসরদের কারনে চট্টগ্রামের প্রায় ৬ শতাধিক শিল্প কল কারকানা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। হাজার হাজার শ্রমিক তাদের কর্মসংস্থান হারিয়েছে। এসব শিল্প কল কারখানার শ্রমিকেরা এখন পরিবারবর্গ নিয়ে মানবেতর দিন যাপন করতেছে। তাই আপনার মাধ্যমে সরকারের কাছে বন্ধ কারখানা দ্রুত চালু করে হাজার হাজার পরিবারের জীবন বাঁচানোর জন্য ৯ দফা দাবী তুলে ধরছি। ১। ইউক্রেন রাশিয়ার যুদ্ধকালীন সময় বৈদেশিক বানিজ্যে ডলার সংকট ও অন্যান্য অসুবিধার কারনে এক বিপর্যয় নেমে আসে। এসময় ব্যংকিং সুবিধা স্বৈরাচার সরকারের গড়া সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রন করে তারা সুবিধা লুটে নেয়। তাদের সিন্ডিকেটের বাহিরে থাকা ব্যবসায়ী, শিল্পপতিরা ব্যবসায় সমতা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়। ২। কভিড-১৯ এর সময় সময় ব্যবসায়িরা আর একটি বিপর্যয়ের মুখোমুখী হয়। এ সময় ও তথাকথিত অবৈধ সরকারের দোসররা একচেটিয়া এক তরফা ভাবে ব্যাবসা নিজেদের নিয়ন্ত্রনে রাখে এবং ব্যাংকিং লোন নেওযার সুবিধা তারাই ভোগ করে। ৩। বিগত ১৫ বছরে অবৈধ স্বৈরাচারী সরকারের বৈষম্যের শিকার হয়ে বন্ধ হয়ে যাওয়া সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান শল্প কল কারখানা দ্রুত চালু করার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহন করে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। ৪। ফ্যাসিবাদ সরকারের সিন্ডিকেটের লুটপাটে অংশ না নেওয়ায়, রাষ্ট্রযন্ত্র ব্যবহার করে বিভিন্ন হয়রানী মূলক মিলা দিয়ে খতিগ্রস্থ করা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল মুক্ত করতে হবে। পাশাপাশি অন্যায় ভাবে করা মামলা বাতিল রতে হবে। ৫। খতিগ্রস্থ সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কারখানা পূর্নবাসনের লক্ষ্যে নতুন আর্থিক নীতি মালা গ্রহন করতে হবে। ৬। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানার সাথে জড়িত সকল কর্মকর্তা/কর্মচারীদের চাকুরী নিশ্চিত করে সকল সুযোগ সুবিধা ও নিরাপত্তা দিতে হবে। ৭। অবৈধ ফ্যাসিবাদী সরকার বিশেষ ব্যবসায়ী ও গোষ্ঠীকে অন্যায় ভাবে সহযোগীতা করায় প্রকৃত ব্যবসায়ীরা হারিয়ে গেছে। সুতরাং স্বৈরাচারী সিন্ডিকেট ভেঙ্গে দিয়ে প্রকৃত ব্যবসায়ীদের ফিরিয়ে আনতে হবে। ৮। ক্ষতিগ্রস্থ সকল ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও শিল্প কারখানা দ্রুত চালুর উদ্দেশ্যে কমিশণ গঠন করে পূর্ণবাসন নীতিমালা গ্রহন করতে হবে। ৯। সামগ্রীকভাবে দেশের আইন শৃঙ্খ পরিস্থিতি উন্নতির জন্য আর্থিক খাতের বিকল্প নাই, তাই আর্থিক খাত শক্তিশালী করার জন্য দ্রুত কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে। অতএব, দেশের অর্থনৈতিক কর্মকান্ড সচল করার স্বার্থে ও বেকার জনগোষ্টির কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আমাদের নৈতিক ও যুক্তিসংগত দাবীগুলো সুবিবেচনা করে তাহা অনুমোদন করার জন্য আপনার মাধ্যমে অর্ন্তবর্তীকালীন সরকারের মাননীয় প্রধান উদেষ্টার নিকট সর্নিবদ্ধ অনুরোধ করছি। মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, শাহা আলম হাওলাদার সভাপতি মহানগর, হিউম্যান হলার এসোসিয়েশন, খুরশেদ আলম (ঝার গ্রুপ), শারুদ নিজাম ( মুখপাত্র বিপণী বিতান) , মুস্তফা কামাল, শ্রমিক প্রতিনিধি, সাহাব উদ্দিন হাসান বাবু ( চেয়ারম্যান, স্বাধীন), মুহাম্মদ কবির হোসেন ( সাধারণ সম্পাদক, নির্মাণ শ্রমিক ইউনিয়ন খুলশি). রুবেল হোসেন ( সভাপতি বাংলাদেশ নির্মাণ শ্রমিক ফেডারেশন), মনি আকতার ( গার্মেন্টস শ্রমিক নেত্রী) ছবির ক্যাপশান – বৈষম্য বিরোধী ব্যবসায়ী ও সাধারন শ্রমিক জনতা মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখছেন শাহা আলম হাওলাদার

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাকুরী স্থায়ী হচ্ছেনা চট্টগ্রাম ওয়াসার কর্মচারীদের, কাফনের কাপড় পরে বিক্ষোভ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘদিন কাজ করার পরও চাকুরী স্থায়ী না করে নতুন করে জনবল নিয়োগের উদ্যোগে কাফনের কাপড় পরে চট্টগ্রাম ওয়াসার সামনে বিক্ষোভ করেছেন দৈনিক ভিত্তিতে কর্মরত কর্মচারীরা। বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম ওয়াসার মূল ফটকের সামনে অবস্থান নেন তারা।
আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম ওয়াসার উপ-ব্যবস্থাপনা পরিচালক (প্রশাসন) শারমিন আলমের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।
বিক্ষোভকারীদের দাবি, মামলা থাকার পরও ওয়াসায় দৈনিক ভিত্তিতে কর্মরতদের স্থায়ী না করে উল্টো নতুন করে পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন কাজ করার পরও তাদের স্থায়ী না করে নতুন করে জনবল নিয়োগের উদ্যোগ পরিকল্পিত। এসময় তারা অনতিবিলম্বে স্থায়ী নিয়োগের দাবি জানান।

তারা আরও বলেন, ওয়াসার ক্রান্তিকালে আমাদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আমাদের বৈধতা দেওয়ার পরে অন্যদের নিয়োগ দিতে হবে। মামলা চলমান থাকার পরও কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে বিজ্ঞপ্তি ছাড়ে। হাইকোর্টকে অমান্য করে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রতিবাদে আমরা এখানে মিলিত হয়েছি। বিগত বছরগুলোতেও আমরা বৈষম্যের শিকার ছিলাম এখনও বৈষম্যের শিকার। চট্টগ্রাম ওয়াসায় বিভিন্ন পদে অস্থায়ী ভিত্তিতে কর্মরত আছেন দুই শতাধিক কর্মকর্তা-কর্মচারী।

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার চাঁদাবাজিসংক্রান্ত নৌপরিবহণ উপদেষ্টার বক্তব্যের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার চাঁদাবাজিসংক্রান্ত নৌপরিবহণ উপদেষ্টার বক্তব্যের ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। কারা চাঁদা নেন, তাদের নাম প্রকাশের জন্য উপদেষ্টার প্রতি দাবি জানিয়েছেন তিনি।বুধবার (১০ ডিসেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অন্তবর্তী কমিটির বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

প্রেসক্লাবের কর্ণফুলী হলে এ অনুষ্ঠান হয়।গত সোমবার ঢাকায় এক অনুষ্ঠানে নৌপরিবহণ উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাখাওয়াত হোসেন তার বক্তব্যে চট্টগ্রাম বন্দরে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই কোটি টাকার চাঁদাবাজি হয় বলে অভিযোগ করেন। যদিও টাকার পরিমাণটি তিনি অনুমানের ভিত্তিতে বলেছেন বলে জানান। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক-বর্তমান কোনো মেয়রের নাম উল্লেখ না করে তিনি ‘মেয়র কম, বন্দররক্ষক বেশি’ এমন মন্তব্যও করেন, যা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘নৌপরিবহণ উপদেষ্টার বক্তব্যের পর কিছু পত্রিকা লিখেছে, মেয়ররা নাকি চাঁদার ভাগ পেতেন। আমি তা দেখেই তাৎক্ষণিক উনাকে ফোন করি। তিনি বললেন- অতীতে যারা মেয়র ছিলেন তারা জড়িত ছিলেন। আমি বললাম- তাহলে নাম বলুন, কারা তারা?’অতীতে কারা চাঁদা নিতো, সুনির্দিষ্ট করে বলতে না পারলে চট্টগ্রামে আসতে দেব না, এটা ফোনেই উনাকে বলেছি। আমি চট্টগ্রামের মেয়র হিসেবে সুনির্দিষ্ট নাম পেলে সেই চাঁদাবাজদের প্রতিহত করব। সেই সৎ সাহস আমার আছে।’

তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি তো দূরের কথা, বন্দর নিয়ে আমি কখনো কাউকে ফোন বা তদবির করিনি। প্রতিদিন যদি দুই-আড়াই কোটি টাকা চাঁদা ওঠে, মাসে ৬০ কোটি, বছরে ৭২০ কোটি টাকা হয়। অথচ সিটি করপোরেশনকে ন্যায্য ২০০ কোটি টাকার হোল্ডিং ট্যাক্স দেওয়া হয় না। বন্দরের ভারী মালবাহী ট্রাক-ট্রেইলারের চাপ সড়কের ওপর ভয়াবহ প্রভাব ফেলছে। আমার রাস্তাগুলো ৭-৮ টন বহনক্ষম। সেখানে ২০-৪০ টনের গাড়ি চলছে। প্রতি বছর ৪০০-৫০০ কোটি টাকা শুধু রাস্তায় খরচ করতে হয়। ন্যায্য ট্যাক্স না দিয়ে উলটো চাঁদাবাজির অভিযোগ করা হচ্ছে, যা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।’সাংবাদিকদের উদ্দেশে মেয়র বলেন, ‘সাংবাদিকতা হবে বস্তুনিষ্ঠ। যে সাংবাদিকতায় মানুষের চরিত্রহনন হয়, তার দায় সাংবাদিকদেরও নিতে হয়। প্রেসক্লাবের উচিত অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।’

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির সদস্য সচিব জাহিদুল করিম কচি’র সভাপতিত্বে ও সদস্য গোলাম মওলা মুরাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে নগর জামায়াতের সেক্রেটারি নুরুল আমীন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক আবু সুফিয়ান, জামায়াত নেতা মোহাম্মদ উল্লাহ, ডা. এ কে এম ফজলুল হক, এনসিপি নেত্রী সাগুফতা বুশরা মিশমা এবং প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ওসমান গনি মনসুর, জ্যেষ্ঠ্য সাংবাদিক শামসুল হক হায়দরী, কাজী আবুল মনসুর, মুস্তফা নঈম, সালেহ নোমান, শেখর ত্রিপাঠি, জালাল উদ্দিন চৌধুরী, কামরুল ইসলাম চৌধুরী, শহিদুল ইসলাম, ফারুক আব্দুল্লাহ, ফারুক মুনির, মুজাহিদুল ইসলাম, নিজাম উদ্দিন, মোস্তফা কামাল পাশা, ফরিদ উদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম, লতিফা আনসারি রুনা, সোহাগ কুমার বিশ্বাস, ইবেন মীর, শরিফুল রুকন, মাহফুজুর রহমান, সরোজ আহমেদ, নুরুল আমিন মিন্টু, শাহাদাত হোসেন আবু সায়েম, জহুরুল আলম, আজিজা হক পায়েল, কিরণ শর্মা, আফসানা নুর নওশীন, অভীক ওসমান ও গিয়াস উদ্দিন বক্তব্য দেন।

চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের নতুন ব্যবস্থাপনা কমিটি:
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার আবাসিক সম্পাদক জাহিদুল করিম কচি এবং সাধারণ সম্পাদক হয়েছেন বৈশাখী টিভির ব্যুরো প্রধান গোলাম মাওলা মুরাদ।বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের অন্তর্বর্তীকালীন কমিটির বর্ষপূর্তি অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার সাইফুল্লাহ চৌধুরী এ কমিটি ঘোষণা করেন।—

কমিটিতে সিনিয়র সহ-সভাপতি মুস্তফা নঈম, সহ-সভাপতি ডেইজি মওদুদ, যুগ্ম সম্পাদক মিয়া মো. আরিফ, অর্থ সম্পাদক আবুল হাসনাত, সাংস্কৃতিক সম্পাদক রূপম চক্রবর্তী, ক্রীড়া সম্পাদক রুবেল খান, গ্রন্থাগার সম্পাদক শহীদুল ইসলাম, সমাজসেবা ও আপ্যায়ন সম্পাদক হাসান মুকুল, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ফারুক আবদুল্লাহ নির্বাচিত হয়েছেন। এছাড়া কমিটিতে কার্যকরী সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সালেহ নোমান, রফিকুল ইসলাম সেলিম, সাইফুল ইসলাম শিল্পী এবং আরিচ আহমেদ শাহ।

আলোচিত খবর

আরব আমিরাতে ভিসা সংকটে বড় হুমকির মুখে বাংলাদেশি শ্রমবাজার।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মধ্যপ্রাচ্যের  অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে ভিসা জটিলতায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। নতুন ভিসা ইস্যু বন্ধ থাকা এবং অভ্যন্তরীণ ভিসা পরিবর্তনের সুযোগ না থাকায় বিপাকে পড়েছেন প্রবাসীরা। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালালেও কবে ভিসা উন্মুক্ত হবে— সে বিষয়ে নিশ্চিত কিছু জানাতে পারছে না বাংলাদেশ মিশন। বিষয়টি সম্পূর্ণ নির্ভর করছে আমিরাত সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর।

ভিসা জটিলতা শ্রমবাজারের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রভাব পড়ছে প্রবাসীদের কর্মসংস্থান, আয়-রোজগার এবং দেশের রেমিট্যান্স প্রবাহে। বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশি কর্মীদের বিরুদ্ধে ভিসার মেয়াদ শেষে অবৈধভাবে বসবাস, লিঙ্গ পরিবর্তন, সনদ জালিয়াতিসহ নানা অভিযোগ ওঠায় ভিসা নীতিতে কড়াকড়ি করেছে আমিরাত সরকার। এতে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন বাংলাদেশিরা।

এদিকে দুবাইয়ে স্কিল ভিসা চালু থাকলেও সেখানেও কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। গ্র্যাজুয়েশন সনদ ছাড়া বাংলাদেশিদের ভিসা দেওয়া হচ্ছে না। সনদকে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সত্যায়ন, পরে দূতাবাস বা কনস্যুলেটের যাচাই এবং শেষে আমিরাতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন নিতে হচ্ছে। দীর্ঘ ও জটিল এ প্রক্রিয়ায় হতাশ কর্মপ্রত্যাশীরা।

বাংলাদেশ মিশনের তথ্যানুসারে, স্কিল ভিসায় সনদ জালিয়াতি ঠেকাতে তিন মাস আগে চালু করা হয়েছিল বারকোড ব্যবস্থা। তবে অল্প সময়ের মধ্যেই সেটিও জাল করে ফেলার অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে ইউএই সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযোগ আসছে। রাষ্ট্রদূতের মতে, বাংলাদেশিদের মানসিকতা না বদলালে ভিসা সংকট নিরসন সম্ভব নয়।

আবুধাবি বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত তারেক আহমেদ বলেন, “গত সাত মাস ধরে ভিসা ইস্যুতে চেষ্টা চালিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি।কবে হবে সেটিও অনিশ্চিত। আমরা কাজ চালিয়ে যাচ্ছি, তবে বিষয়টি পুরোপুরি আমাদের নিয়ন্ত্রণে নেই। ”

 

জনশক্তি বিশেষজ্ঞদের মতে, ভিসা পরিবর্তনের জটিলতা দ্রুত সমাধান না হলে অনেক বাংলাদেশি কর্মীকে দেশে ফিরে যেতে হতে পারে। অনেকেই জানেন না, ভিসা বাতিল হলে কী পদক্ষেপ নিতে হবে। এতে প্রবাসীদের মানসিক চাপ বাড়ছে। বিশেষ করে বর্তমানে যারা আমিরাতে অবস্থান করছেন, তারা পড়েছেন চরম অনিশ্চয়তায়।

বাংলাদেশি প্রবাসী সংগঠকরা মনে করেন, এ অচলাবস্থা কাটাতে সরকারের কূটনৈতিক প্রচেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসীদেরও ভিসা নীতিমালা মেনে চলা জরুরি। নইলে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ শ্রমবাজারে বাংলাদেশ বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়বে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ