চট্টগ্রাম-নাজিরহাট ট্রেন নিয়মিত।। দোহাজারী রুটে বন্ধ

এম মনির চৌধুরী রানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইনে ডেমু ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকা ‘রহস্যজনক’ মনে করছেন ওই রুটের যাত্রীরা। তাদের প্রশ্ন নাজিরহাট লাইনে ট্রেন নিয়মিত চালু থাকলে দোহাজারী লাইনে কেন বন্ধ? অথচ এই রুটে ট্রেন চললে সড়কপথের তুলনায় যাত্রীদের যাতায়াত ও পণ্যপরিবহন খরচ কমে যাবে কয়েকগুণ। এছাড়া এলাকায় উৎপাদিত পণ্য পরিবহনে উন্মোচিত হবে নতুন দিগন্ত। এদিকে ওই রুটে ডেমু-ট্রেন পুনরায় চালুর দাবি জানিয়ে রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলের মহাব্যবস্থাপক মুহাম্মদ নাজমুল ইসলামের কাছে সম্প্রতি স্মারকলিপি দিয়েছেন সমাজসেবক ও মানবাধিকারকর্মী ডা. শাখাওয়াত হোসাইন হিরু। এ সময় সঙ্গে ছিলেন নজরুল ইসলাম আলমদার, আবুল হোসেন ছাবের, ফিরোজুল আলম চৌধুরী পলাশ প্রমুখ।
ডা. শাখাওয়াত বলেন, ‘আমি পটিয়ার খানমোহনা স্টেশনের বাসিন্দা। শৈশব থেকে দেখে আসছি, চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেললাইনে চার জোড়া ট্রেন চলাচল করত। একটি ডেমু ট্রেনও চলতো। সর্বশেষ ডেমুটিও বন্ধ হয়ে গেছে। চাকরি, ব্যবসা ও শিক্ষার জন্য দোহাজারী থেকে চট্টগ্রাম শহরে নিয়মিত আসা যাওয়া করেন হাজারো লোক। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ডেমু ট্রেন চালুর প্রতিশ্রুতি দিলেও এখনো তা বাস্তবায়িত হয়নি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ইতোপূর্বে রেলওয়ের বিভিন্ন সভায় আমি ডেমু ট্রেন চালুর দাবি জানিয়ে আসছি। জানা গেছে, পাহাড়তলী লোকোশেড থেকে একটি ডেমু ট্রেন মেরামত শেষে শিগগিরই রেলপথে যুক্ত হবে। এটি চট্টগ্রাম-দোহাজারী রুটে চালু করলে ওই রুটের যাত্রীরা উপকৃত হতেন। শাখাওয়াত বলেন, ‘নাজিরহাট লাইনে ট্রেন নিয়মিত চালু থাকলে আমাদের চট্টগ্রাম-দোহাজারী লাইনে কেন বন্ধ থাকবে? অভিযোগ রয়েছে, দোহাজারী লাইনের অনেক যাত্রী বিনা টিকিটে ট্রেনে ভ্রমণ করেন। এতে সরকার রাজস্ব হারায়। ক্ষতিগ্রস্ত হয় রেলওয়ে। যাত্রীদের টিকিট ছাড়া ট্রেনে না চড়ার অনুরোধ জানিয়ে শাখাওয়াত বলেন, ‘আপনারা একটি শক্তিশালী যাত্রী কল্যাণ সমিতি গঠন করুন। যা নাজিরহাট যাত্রী সমিতির মতো কার্যকর ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, ‘নাজিরহাট লাইনের যাত্রীরা দোহাজারী লাইন থেকে রেলওয়েতে আয় (রাজস্ব) অনেক বেশি দিচ্ছে। সেজন্য কারিগরি ত্রুটি ছাড়া কখনও নাজিরহাট লাইনে ট্রেন বন্ধ থাকে না কিংবা এ যাবত বন্ধ হয়নি। যাত্রীদের প্রতি শাখাওয়াতের অনুরোধ, ‘যদি তাড়াহুড়ো করে ট্রেনে উঠে পড়েন তাহলে পরবর্তী স্টেশনে নেমে হলেও টিকিট করবেন কিংবা নিজ নিজ গন্তব্যে নেমে টিকিট করে নিবেন। এদিকে চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ভিআইপি লাউঞ্জে সম্প্রতি একটি অংশীজন সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ছালেহ আহম্মদ-হাসান বানু ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান ডা. মুহাম্মদ শাখাওয়াত হোসাইন হিরু ছাড়াও বক্তব্য দেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কমিশনার আনজুমান আরা বেগম। এতে রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সভায় ডা. শাখাওয়াত বলেন, ‘পটিয়া দোহাজারীর বুকের ওপর দিয়ে ট্রেন যদি কক্সবাজারে চলাচল করতে পারে; তাহলে দোহাজারী লাইনে কেন ট্রেন চলবে না ।
তিনি অবিলম্বে দোহাজারী লাইনে ডেমু ট্রেন এবং নাজিরহাট লাইনের মত সাধারণ ট্রেনও চলাচলের ব্যবস্থা করার দাবি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দুই অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যু: বিচার ও যৌতুকপ্রথা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন


চট্টগ্রামের পটিয়ায় দুই অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা এবং যৌতুকপ্রথা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে জাতীয় ছাত্র শক্তি পটিয়া উপজেলা শাখা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে পটিয়া থানার মোড় চত্বরে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে সংগঠনের নেতাকর্মী, নিহত দুই নারীর পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে বক্তব্য দেন জাতীয় ছাত্র শক্তি পটিয়া উপজেলা শাখার আহ্বায়ক আশরাফুল ইসলাম তৌকির, মুখ্য সংগঠক মিছকাত আহমেদ, সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব সাকিবুল ইসলাম সাকিব এবং যুগ্ম আহ্বায়ক মো. আব্দুল্লাহ আশরাফুল (সিফাত)।বক্তারা বলেন, যৌতুকের দাবিতে নারীর ওপর নির্যাতন ও প্রাণহানির ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যৌতুকপ্রথা নারীর নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার পথে বড় বাধা। এ সামাজিক ব্যাধি নির্মূলে পরিবার ও সমাজের সবাইকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসতে হবে।

তারা আরও বলেন, পটিয়ায় দুই অন্তঃসত্ত্বা নারীর মৃত্যুর ঘটনা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্‌ঘাটন করতে হবে। তদন্তে জড়িতদের শনাক্ত করে প্রচলিত আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।
সমাবেশ থেকে যৌতুকপ্রথা নির্মূল, নারীর প্রতি নির্যাতন প্রতিরোধ এবং দুই নারীর মৃত্যুর ঘটনায় ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

নোয়াখালীতে সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ফ্ল্যাট বাড়ি দখল ও হামলার অভিযোগ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নোয়াখালী পৌরসভার মাইজদীতে নিজের মালিকানাধীন ফ্ল্যাটবাড়ি দখল, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ তুলেছেন কাজী আজিজ উল্যা নামে এক ব্যক্তি। তার অভিযোগ, বাড়ির দখল নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে ও তার বৃদ্ধ মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা নিজেদের বসতবাড়িতে ফিরতে পারছেন না। এ ঘটনায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও ন্যায়বিচার দাবি করেছেন তিনি।বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) দুপুরে নোয়াখালী রিপোর্টার্স ইউনিটি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কাজী আজিজ উল্যা।

ভুক্তভোগী কাজী আজিজ উল্যা নোয়াখালী পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের স্টেডিয়াম পাড়ার কাজী বাড়ির বাসিন্দা। তার দাবি, ৯৮ নম্বর মাইজদী মৌজায় ৫ দশমিক ৫ শতাংশ জমির ওপর পাঁচতলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট একতলা ফ্ল্যাটবাড়ি নির্মাণ করে দীর্ঘদিন ধরে পরিবার নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন তিনি। বাড়িটির নাম আজিজ টাওয়ার।

লিখিত বক্তব্যে কাজী আজিজ অভিযোগ করেন, বেগমগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এবং সমাজসেবা অধিদপ্তরের দুর্নীতিবাজ মাঠকর্মী এবিএম আবদুল মতিন চৌধুরী ২০২৩ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর বোনের কাছ থেকে এক শতাংশ জমি কেনেন। পরে তিনি আরো দেড় শতাংশ জমির জাল দলিল তৈরি করে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তাঁর ফ্ল্যাটবাড়ির একটি অংশ দখলের চেষ্টা করেন। এতে বাধা দেওয়ায় বিভিন্ন সময়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়।

কাজী আজিজ বলেন, ২০২৩ সালের ১৩ মে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের দাপট দেখিয়ে আবদুল মতিন চৌধুরী ও তার স্ত্রী আজিজুর নাহারের নেতৃত্বে একদল লোক তার ফ্ল্যাটবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। ওই সময় তিনি বাড়িতে ছিলেন না। তার বৃদ্ধ মা সারেজাহান বেগম ও বোন সেলিনা আক্তার বাধা দিতে গেলে তাদের মারধর করা হয়। পরে বাড়িটির একতলা ইউনিট দখল করে নেওয়া হয়। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়ে আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেছেন বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর আবদুল মতিন চৌধুরী বাড়ি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে গেলে তিনি পুনরায় বাড়ির দখল বুঝে নিয়ে বসবাস শুরু করেন। তবে গত ১ সেপ্টেম্বর আবদুল মতিন চৌধুরী, তাঁর স্ত্রী, ছেলেরা এবং বিভিন্ন এলাকার ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের নিয়ে আবারও বাড়িটিতে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন কাজী আজিজ। এ সময় তাকে ও তার বৃদ্ধ মাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয় এবং পুনরায় বাড়িটি দখল করা হয়।

কাজী আজিজের অভিযোগ, বর্তমানে বাড়ির ভেতরে ছাত্রলীগ ও যুবলীগের নেতাকর্মীদের অবস্থান করিয়ে তাঁকে প্রবেশে বাধা দেওয়া হচ্ছে। একাধিকবার বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এতে বৃদ্ধ মাকে নিয়ে চরম দুর্ভোগ ও নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটছে তাঁদের।

কাজী আজিজ উল্যা তার বসতবাড়ি দখল, হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত আবদুল মতিন চৌধুরীর বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করেও সংযোগ না পাওয়ায় তার বক্তব্য জানা যায়নি।

আলোচিত খবর

১২ লাখ ৭০ হাজার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ আগামীকাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফল আগামীকাল শনিবার প্রকাশিত হতে যাচ্ছে। এর মধ্য দিয়ে এ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া সারা দেশের ১২ লাখ ৭০ হাজারেরও বেশি শিক্ষার্থীর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটছে।আগামীকাল সকাল ১১টায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সভাকক্ষে আনুষ্ঠানিকভাবে এ ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে ফল প্রকাশ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহদী আমিন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দুই বিভাগের সচিব, সকল বোর্ডের চেয়ারম্যানসহ মন্ত্রণালয় ও বোর্ডের পরীক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনের পরপরই পরীক্ষার্থীরা একযোগে নিজ নিজ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, নির্ধারিত ওয়েবসাইট এবং এসএমএসের মাধ্যমে তাদের কাঙ্ক্ষিত ফলাফল জানতে পারবেন। অনলাইনে https://eduboardresults.gov.bd I https://educationboardresults.gov.bd ওয়েবসাইট থেকে রোল ও রেজিস্ট্রেশন নম্বর দিয়ে ফল জানা যাবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ