৫৮ নাবিক উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন

বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া পয়েন্টে এলপিজির জাহাজে আগুন

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বসুন্ধরা গ্রুপের এলপিজি বহনকারী একটি লাইটারেজ জাহাজে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। বঙ্গোপসাগরের কুতুবদিয়া পয়েন্টে রোববার দিনগত রাত ১টার দিকে বিস্ফোরণ হয়ে এই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। ভোর পর্যন্ত উদ্ধারকাজ চালিয়ে ওই জাহাজে থাকা ৫৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করেছে কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব।
কুতুবদিয়া কোস্ট গার্ড পূর্ব জোনের কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট শাকিব মেহবুব জানান, কুতুবদিয়ার কৈয়ারবিল পয়েন্টে নোঙর করা সুফিয়া নামে এলপিজি বহনকারী একটি লাইটারেজ জাহাজে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। খবর পেয়ে কোস্ট গার্ড ও নৌবাহিনী আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। জাহাজটিতে আগুন লাগার পরপরই এর পাশে থাকা মাদার ট্যাংকারে আগুন ধরে যায়। তবে মাদার ট্যাংকারটির আগুন কয়েক ঘণ্টার মধ্যে নেভানো সম্ভব হলেও লাইটারেজের আগুন এখনো পুরোপুরি নেভেনি।
জানা যায়, জাহাজে আগুন লাগলে নাবিকরা সাগরে লাফ দেয়। পরে নাবিকদের উদ্ধার করা হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে আগুন লাগার কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যায়নি। কুতুবদিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোহাম্মদ শাহাদাত হোসেন জানিয়েছেন, বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে।
খবর পেয়ে রাতেই উদ্ধারকাজ শুরু হয়েছে উল্লেখ করে নৌবাহিনী কর্তৃপক্ষ জানায়, আগুন নিয়ন্ত্রণে এবং জাহাজে থাকা ক্রুদের উদ্ধারে যোগ দিয়েছে নৌবাহিনীর জাহাজ। পাশাপাশি চট্টগ্রাম থেকে আগুন নিয়ন্ত্রণে যুক্ত হয়েছে কোস্ট গার্ড ও বন্দরের জাহাজ।
স্থানীয়রা জানায়, বি-এলপিজি সুফিয়া’ নামের জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহিনোঙরে অবস্থান করছিল। রাত ১টার দিকে জাহাজটি বিস্ফোরণ হয়ে আগুন ধরে যায়। এদিকে আগুন নেভাতে কাজ করছে চট্টগ্রাম বন্দরের চারটি উদ্ধারকারী জাহাজ, মাদার ভেসেলের (বড় জাহাজ) নিজস্ব টাগবোট এবং নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের টিম।
এ ঘটনায় চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৯ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে জানিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক জানান, দুই জাহাজের আগুন নেভানো গেছে।তবে লাইটার জাহাজ থেকে মাঝেমধ্যে আগুন বের হচ্ছে। লাইটারেজ জাহাজের ৩১ জন নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মাদার ভেসেল ‘ক্যাপটেইন নিকোলাস’ থেকেও উদ্ধার করা হয়েছে ২৭ জন নাবিককে। তারা সবাই এখন বিপদমুক্ত। তিনি আরও জানান, এখনো আমাদের উদ্ধারকারীদল, নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ড সেখানে কাজ করছে।
ঘঠিত তদন্ত কমিটির ৯ সদস্যের প্রধান করা হয়েছে বন্দরের সদস্য (হার্বার অ্যান্ড মেরিন) কমোডর এম ফজলার রহমানকে। এই কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে। কমিটিতে নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, ডিজিএফআই, এনএসআই, নৌপরিবহন অধিদপ্তরসহ অন্যান্য সংস্থার প্রতিনিধিরা আছেন।
বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড ইস্ট জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন জহিরুল হক বলেন, লাইটারেজের শুধু পেছনের দিকের একটি অংশে আগুন জ্বলছে। বাকিটা নেভানো সম্ভব হয়েছে। ট্যাংকারটির পেছনের একটি অংশে কার্গোহোল্ডে পর্যাপ্ত গ্যাস রয়ে যাওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে সময় লাগছে। আগুন নিভে যাওয়ার পর আবারও জ্বলে উঠছে। তাই আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করতে আরো কিছুটা সময় লাগবে বলে তিনি জানান

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন বন্ধে যাত্রীরা ফেরত পেল প্রায় ৮৮ লাখ টাকা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টানা ভারী বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের জানআলী হাট ও ষোলশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী রেললাইন প্রায় ২ ফুট পানির নিচে তলিয়ে যায়। যার কারণে এই রুটে ট্রেন চলাচল পাঁচদিন বন্ধ থাকায় বড় অঙ্কের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানায়, শুধু টিকিটের মূল্য বাবদই যাত্রীদের প্রায় ৮৮ লাখ টাকা ফেরত দিতে হয়েছে। একই সঙ্গে ১১ হাজারের বেশি টিকিট বাতিল করে মূল্য ফেরত দেওয়া হয়েছে। ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় পরবর্তী কয়েক দিনের অগ্রিম টিকিট বিক্রিও ব্যাহত হয়েছে।

বাংলাদেশ রেলওয়ে (পূর্বাঞ্চল)-এর মহাব্যবস্থাপক মো. সুবক্তগীন বলেন, অতিবৃষ্টিতে চট্টগ্রাম নগরীর প্রায় ৫০০ মিটার রেললাইন দুই ফুট পানিতে তলিয়ে গেলেও অবকাঠামোর বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি। যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই ট্রেন চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছিল। এ সময়ে ঢাকা-কক্সবাজার রুটের দুই জোড়া ট্রেন কেবল ঢাকা-চট্টগ্রাম পর্যন্ত চলাচল করেছে।

জানা গেছে, ভারী বর্ষণে রেললাইন ডুবে যাওয়ায় গত ৭ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল পুরোপুরি বন্ধ ছিল। ফলে এই রুটের অগ্রিম বিক্রি হওয়া ১১ হাজার ৩৩৭টি টিকিট ফেরত নিতে হয়েছে রেল কর্তৃপক্ষকে। এসব টিকিটের বিপরীতে যাত্রীদের ফেরত দেওয়া হয়েছে ৮৭ লাখ ৮৫ হাজার ৩৪৪ টাকা। টিকিট ফেরতের এই তাৎক্ষণিক ক্ষতির পাশাপাশি ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় ওই সময়ে নতুন করে অগ্রিম টিকিট বিক্রি করা সম্ভব হয়নি। ফলে পরবর্তী দিনগুলোতেও এই রুটে প্রত্যাশিত সংখ্যক যাত্রী পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের অনেক যাত্রী কক্সবাজার ভ্রমণ বাতিল করায় পরোক্ষভাবে রেলওয়ের অন্যান্য দূরপাল্লার রুটেও যাত্রীসংখ্যা কমেছে।

চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আবু জাফর মজুমদার বলেন, সাধারণত রেললাইনের ওপর চার ইঞ্চি পর্যন্ত পানি থাকলে ট্রেন চলাচল সম্ভব। কিন্তু এবার রেললাইন অন্তত দুই ফুট পানির নিচে তলিয়ে গিয়েছিল।
তিনি বলেন, টানা তিন দিন রেললাইন পানির নিচে থাকায় পানি নেমে যাওয়ার পরও নিরাপত্তার স্বার্থে লাইন পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করতে কিছুটা সময় লেগেছে। পরে ১২ জুলাই ‘অ্যাডভান্সড পাইলটিং’ বা সীমিত গতিতে এই রুটে পুনরায় ট্রেন চলাচল শুরু হয়।

দিল্লি হাইকমিশনের নতুন প্রেস মিনিস্টার হলেন সাইদুর রহমান

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দিল্লি হাইকমিশনের নতুন প্রেস মিনিস্টার হলেন সাইদুর রহমান

আলোচিত খবর

নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন ৩১ জুলাই পর্যন্ত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্তির সুযোগ পাচ্ছেন নিবন্ধিত না হওয়া নাগরিকরা। আগামী ৩১ জুলাই পর্যন্ত নতুন ভোটার হওয়ার আবেদন গ্রহণ করা হবে। ইসি জানিয়েছে, ২০০৮ সালের ৩১ জুলাই বা তার আগে জন্মগ্রহণকারী যেকোনো ব্যক্তি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আবেদন করলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন। স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখেই এ কার্যক্রম পরিচালনা করছে নির্বাচন কমিশন।

এদিকে নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৯ আগস্ট খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা এবং উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে তালিকাটি প্রদর্শন করা হবে। তালিকায় নাম বাদ পড়া বা তথ্যগত ভুল থাকলে সংশ্লিষ্টরা ২৪ আগস্ট পর্যন্ত নতুন অন্তর্ভুক্তি বা তথ্য সংশোধনের আবেদন করতে পারবেন। সব আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ১০ আগস্ট খসড়া ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করা হবে। এরপর আপত্তি গ্রহণ ও যাচাই-বাছাই শেষে ২৭ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটকেন্দ্রের তালিকা প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন। এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সিনিয়র সহকারী সচিব মো. রশিদ মিয়া স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে জানানো হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ জানিয়েছেন, আগামী অক্টোবর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ ও পৌরসভা নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। এ লক্ষ্যে আগস্টের মাঝামাঝি বা শেষ সপ্তাহে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে।

বর্তমানে দেশে মোট ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ভোটার ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন

আরও পড়ুন

সর্বশেষ