আজঃ বুধবার ১৮ মার্চ, ২০২৬

চবিতে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় সাইকোথেরাপি সেন্টার স্থাপনের গুরুত্বারোপ

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এর সমাজ বিজ্ঞান অনুষদের মিলনায়তনে বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বক্তাগণ গুরুত্বারোপ করেন ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক একটি এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি সেন্টার স্থাপন করে শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের।
মানসিক স্বাস্থ্য ইস্যুতে কর্মরত নেটওয়ার্ক মেন্টাল হেলথ অ্যাডভোকেসি অ্যাসোসিয়েশন (মা), উন্নয়ন সংস্থা ইউনাইট থিয়েটার ফর সোশাল অ্যাকশন (উৎস) ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এর যৌথ উদ্যোগে ডিয়াকোনিয়া’র সহযোগিতায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান, উপ-উপাচার্য (শিক্ষা), বিশেষ অতিথি ছিলেন ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, উপ-উপাচার্য (প্রশাসন), অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়।
সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মজুমদার এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন উৎস’র নির্বাহী পরিচালক মোস্তফা কামাল যাত্রা। দিবসের প্রতিপাদ্য নিয়ে ধারণা পত্র উপস্থাপন করেন উৎস’র প্রোগ্রাম অফিসার রীপা পালিত ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন উৎস’র কর্মসূচি সমন্বয়কারী মুহাম্মদ শাহ্ আলম।
প্রধান অতিথি জনাব ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান বলেন: ‘কর্মস্থল হিসাবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় যতবেশি মানসিক স্বাস্থ্য বান্ধব হবে ততবেশি গুনগতমানের শিক্ষা নিশ্চিত হবে। কারণ মানসিক স্বাস্থ্য বান্ধব পরিবেশ না থাকলে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় একটি মানসিক স্বাস্থ্য বান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসাবে পরিচিত হতে পারবে না’।
বিশেষ অতিথি ছিলেন ড. মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন বলেন:‘করোনাকালীন সময়ে কেন্দ্রিয় চিকিৎসা কেন্দ্রে যেই মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সেবা শুরু করা হয়েছিল তাকে আরো সুসংগঠিত করার মাধ্যমে আমরা একটি স্বতন্ত্র মনোস্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করবো। এক্ষত্রে দাতা সংস্থাদের সহায়তা প্রত্যাশা করছি’। বিশেষ অতিথি ডা. মোহাম্মদ আবু তৈয়ব, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) বলেন: ‘মানসিক সমস্যার ঔষধী চিকিৎসার পাশাপাশি ঔষধবিহীন পদ্ধতিতে চিকিৎসা পদ্ধতি বিশ্বব্যাপী গুরুত্ব দিয়ে পরিচালনা করা হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি বিকল্প ধারার সৃজনশীল কলা পদ্ধতিভিত্তিক একটি এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা হয় তবে তা মনোস্বাস্থ্যসেবার সুযোগকে আরো প্রসারিত করবে। ওয়ান টু ওয়ান পদ্ধতিতে ২৮০০০ শিক্ষার্থী, ২০০০ শিক্ষক এবং ৩০০০ কর্মি, কর্মকর্তা মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গুনগত মান রক্ষা করে প্রদান করা কঠিন। সেক্ষেত্রে গ্রুপ সাইকোথেরাপি পদ্ধতিতে মনোস্বাস্থ্য সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপির বিকল্প নেই’।
মুক্ত আলোচনায় নাট্যকলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আরাফাতুল আলম বলেন: ‘এই বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষাকর্মি হিসাবে আমার উপলব্ধি হলো; শরীরের পাশাপাশি মনের স্বাস্থ্যের গুরুত্বও অপরিসীম। বিগত ১২ বছরে আমাদের এই প্রাণের বিশ্ববিদ্যালয়ের মানসিক ভাবে বিপর্যস্থ হয়ে ১৮জন শিক্ষার্থী তাদের নিজেদের প্রাণ বিষর্জন দিয়েছে। যদি আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের জন্য মানসিক স্বাস্থ্য বান্ধব অনুকুল পরিবেশ থাকতো তাহলে হয়তো এত প্রাণহানী হতো না। আমাদের প্রতিটা ফ্যাকাল্টিতেই একটি করে মানসিক স্বাস্থ্য বান্ধব কর্ণার থাকা প্রয়োজন যেখানে থিয়েটার থেরাপি, কাউন্সেলিং, সাইকোথেরাপি, এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপির প্রয়োগের মাধ্যমে মানসিকভাবে আক্রান্ত শিক্ষার্থীদের সেবা প্রদান করা যেতে পারে’।
ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান বলেন: ‘ভর্তির শুরুতেই ক্যাম্পাসে নতুন স্বপ্ন নিয়ে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। কিছুদিন যাওয়ার পরই হলে সিট পাওয়া নিয়ে চাপ, র‌্যাগিং, রাজনীতি, ক্যারিয়ার ভাবনার মারপ্যাচে আমাদের ভিতর হতাশা ভর করে। এই হতাশার ফলে আমাদের ভিতর যে চাপ তৈরী হয় তা প্রশমনের জন্য আমাদের এই বিশ্ববিদ্যালয়ে নেই কোন মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সহায়তা কেন্দ্র। ফলে অকালে অনেক মেধাবী চাপে শিক্ষা কার্যক্রম থেকে ঝড়ে যায়। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সহায়তা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত থাকতো তবে আমাদের ক্যাম্পাসকেন্দ্রিক জীবন অনেক সুন্দর ও আনন্দঘন হতো বলে আমি বিশ্বাস করি’।
উক্ত আলোচনা সভার সভাপ্রধান সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. মোহাম্মদ আলাউদ্দিন মজুমদার তার সমাপনী বক্তব্যে বলেন: ‘আজকের সেমিনার পত্রে যে সুপারিশগুলো করা হয়েছে তা বাস্তবায়নে বর্তমান প্রশাসন কার্যকরীভাবে উদ্যোগ নিলে শুধু শিক্ষার্থী নয়; শিক্ষক, কর্মচারী ও কর্মকর্তারাও একটি মানসিক স্বাস্থ্য বান্ধব কর্ম পরিবেশ পাবে। যা চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের গুনগত শিক্ষার মানকে আরো উন্নত করবে’।
উল্লেখ্য যে আলোচনার শুরুতে যে সেমিনার পত্রটি উপস্থাপন করা হয় তাতে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়কে একটি মানসিক স্বাস্থ্য বান্ধব শিক্ষালয় হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার জন্য নিম্নের শুপারিশগুলো উপস্থাপন করা হয়েছিল: ক) আবাসিক হলগুলোতে মানসিক স্বাস্থ্যবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার কার্যকর উদ্যোগ নেয়া ও মেন্টাল হেলথ সুপারভাইজার নিয়োগ করা;খ) অনুষদভিত্তিক ছাত্র পরামর্শক নিযুক্ত আছেন। একজন সম্মানিত অধ্যাপক অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করে থাকেন। এই পদায়নগুলো পূর্ণকালীন করে একজন সাইকোথেরাপিস্ট/ক্লিনিক্যাল সাইকোথেরাপিস্ট ও একজন এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপিস্ট নিয়োগ দেয়া হলে শিক্ষার্থীগণ সাবক্ষণিকভাবে পেশাদার কাউন্সিলিং সেবা পাবে।
গ) প্রাথমিকভাবে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ে একটি এক্সপ্রেসিভ সাইকোথেরাপি সেন্টার স্থাপন করা, যাতে করে কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মচারীদের গ্রুপভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করা যায়। ঘ) পর্যায়ক্রমে অনুষদভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা সেবা চালু করে মানসিক স্বাস্থ্য সেবা সহজলভ্য করা। ঙ) বিভাগভিত্তিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবার গুরুত্ব, প্রয়োজনীয়ত ও সেবা গ্রহণ বিষয়ক অরিয়েন্টেশন। চ) মানসিক স্বাস্থ্য সেবায় প্রফেশনাল গড়ে তুলতে এক্সপ্রেসিভ সাইকোথরাপি বিষয়ক উচ্চতর ডিগ্রি চালু করা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

সাপ্তাহিক বাণিজ্যিক রাজধানী পত্রিকার ইফতার মাহফিল ও “বাণিজ্যিক রাজধানী—প্রহসন নয়, বাস্তবায়ন চাই” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

পবিত্র মাহে রমজানের তাৎপর্য এবং “বাণিজ্যিক রাজধানী—প্রহসন নয়, বাস্তবায়ন চাই” শীর্ষক এক আলোচনা সভা শনিবার ১৪ মার্চ বিকেল ৪টায় নগরীর মোমিন রোডস্থ চট্টগ্রাম একাডেমির ফয়েজ নুর নাহার মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

পত্রিকার উপদেষ্টা ও টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব মোঃ নাছির উদ্দিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় নির্ধারিত প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম-৯ আসনের সংসদ সদস্য আবু সুফিয়ান, বিশেষ অতিথি ছিলেন বিজিসি ট্রাস্ট ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশের ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো: মঞ্জুরুল কিবরিয়া।

নগরীতে একাধিক ইফতার মাহফিল ও তীব্র যানজটের অনিবার্য কারণে নির্ধারিত অতিথিবৃন্দ উপস্থিত হতে না পারায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন পর্ষদ এর কার্যকরী সভাপতি আলহাজ্ব শাহসূফি শাহজাদা সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্যিক রাজধানী বাস্তবায়ন পর্ষদ এর সিনিয়র সহ-সভাপতি কাজী গোলাপ রহমান। প্রধান বক্তা ছিলেন উদ্যোক্তা, গবেষক ও সংগঠক সিআরবির সমন্বয়ক জিয়াউল হক খন্দকার।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দ সিরাজুদ্দৌলা বলেন, মাহে রমজান সংযম, আত্মশুদ্ধি ও মানবিকতার মাস। এই মাস মানুষের ভেতরের নৈতিক শক্তিকে জাগ্রত করে এবং সমাজে ন্যায়, সহমর্মিতা ও ভ্রাতৃত্ববোধ প্রতিষ্ঠায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে বাণিজ্যিক রাজধানীর দাবিটি অনেক সময় কেবল কথার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থেকেছে। এখন সময় এসেছে বাস্তব উদ্যোগের মাধ্যমে চট্টগ্রামকে সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানীতে রূপান্তর করার।

তিনি আরও বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্যের অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যানজট নিরসন এবং বাজার ব্যবস্থাপনার উন্নতির মাধ্যমে নগরীর অর্থনৈতিক কার্যক্রম আরও গতিশীল করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে অত্র সংগঠন ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে আগ্রহী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

সাপ্তাহিক বাণিজ্যিক রাজধানী পত্রিকার সম্পাদক ও দৈনিক ঘোষণা পত্রিকার বোয়ালখালী প্রতিনিধি আলমগীর রানার সঞ্চালনে অনুষ্ঠিত এ সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক আবদুল্লাহ মজুমদার।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাপ্তাহিক সোনার বাংলার চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ইমরান হোসেন। দৈনিক বর্তমান বাংলার প্রধান সমন্বয়কারী সিরাজুল মনির। মানবাধিকারকর্মী শাহজালাল।
উপস্থিত ছিলেন দৈনিক দেশবার্তার ব্যুরোচীফ মো: আনিসুর রহমান ফরহাদ, দৈনিক ঘোষণার বিশেষ প্রতিনিধি এস এম সামজাত, সূফি কথার বার্তা সম্পাদক আল সিরাজ ভাণ্ডারী, হাফিজুল মোর্শেদ, মো: রাশেদ, আলমগীর, আবুল বাশার, আবদুল্লাহ আল হাবিব, মো: রানা, শাফায়েত উদ্দিন, মো: নাছির, নুরুল আবসার, আবদুল মাবুদ, সুমাইয়া, জান্নাতুল ফেরদৌস, মো; সাঈদ, মো: ইভান প্রমুখ।

পবিত্র কোরআন তেলোয়াত করেন লেখক ও গবেষক এস এম ওসমান। নাতে রাসুল(দ:) পরিবেশন করেন এইচ এম নিজামুদ্দীন চৌধুরী আলিফ। সার্বিক সহযোগিতায় ছিলেন আদনান লাভলু, আরফাত শাওন, আবিদুর মাহিন, নিজামুদ্দিন আলিফ, আতিকুর আবির প্রমুখ।

সভাপতির বক্তব্যে আলহাজ্ব মোঃ নাছির উদ্দিন চৌধুরী বলেন, চট্টগ্রাম দেশের অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি। দেশের আমদানি-রপ্তানির বড় অংশই এই নগরীর মাধ্যমে পরিচালিত হয়। তাই “বাণিজ্যিক রাজধানী” শব্দটি যেন শুধু স্লোগান না হয়ে বাস্তবে রূপ পায়, সে লক্ষ্যে সরকার, সিটি কর্পোরেশন ও ব্যবসায়ী সমাজকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

বক্তারা আরও বলেন, মাহে রমজান আমাদের সংযম, সততা ও মানবিকতার শিক্ষা দেয়। এই শিক্ষাকে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারলে সমাজে ন্যায় ও সাম্য প্রতিষ্ঠা সম্ভব হবে। ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রেও সততা ও নৈতিকতার চর্চা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

আলোচনা সভায় বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ব্যবসায়ী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা রমজানের তাৎপর্য তুলে ধরে সমাজে নৈতিকতা, পারস্পরিক সহযোগিতা ও সম্প্রীতি বৃদ্ধির আহ্বান জানান। একই সঙ্গে চট্টগ্রামকে সত্যিকারের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে পরিকল্পিত উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

সভা শেষে দেশ, মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া, মোনাজাত ও ইফতারের আয়োজন করা হয়।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে বিআরটিএ’র সতর্ক সংকেত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা স্থাপন করেছে। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি বাঁকে উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব পতাকা বসানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এসব বাঁকে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত বছরের ঈদুল ফিতরের দিন সকালে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কয়েকজন নিহত হন। এরপর থেকেই বাঁকগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি ওঠে।

মহাসড়কে চলাচলকারী কয়েকজন বাস চালক জানান, রাতে বা কুয়াশার সময় হঠাৎ বাঁক সামনে চলে আসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। নতুন করে লাল পতাকা বসানোয় আগেভাগেই সতর্ক হওয়া সহজ হবে।তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অস্থায়ী পতাকা নয়-স্থায়ী সাইনবোর্ড, গতিসীমা নির্দেশনা, রিফ্লেক্টর ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী, যেসব স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লোহাগাড়ার চুনতির শেষ সীমানায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন বাঁক, লোহাগাড়া–চুনতির জাঙ্গালিয়া বাঁক, চুনতির ডেপুটি বাজারের আগে ও পরের বাঁক, চুনতি ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকা, লোহাগাড়া রাজাঘাটা, সাতকানিয়ার মিঠা দীঘি, চন্দনাইশের খানহাট পুকুর এবং পটিয়ার পাইরুল মাজারসংলগ্ন বাঁক।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথুয়াইনু চৌধুরী বলেন, ঈদের সময় এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিআরটিএর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাঁকের উভয় পাশে পাঁচটি করে মোট ১০টি লাল পতাকা বসানো হয়েছে। ফলে দূর থেকেই চালকেরা বিপজ্জনক বাঁক সম্পর্কে সতর্ক হতে পারবেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ