আজঃ সোমবার ২২ জুন, ২০২৬

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় মোবাইল কোর্টে জরিমানা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

আনোয়ারা উপজেলার ছত্তার হাটে বাজারে বিভিন্ন দোকানে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করছেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হুছাইন মুহাম্মদ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে বাজার মনিটরিংয়ের অংশ হিসেবে শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম জেলার আনোয়ারা উপজেলার ছত্তার হাট ও জয়কালী হাটে মুদিমাল, সব্জির দোকান ও অন্যান্য পণ্য সামগ্রীর দোকানে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। মোবাইল কোর্ট চলাকালীন সময়ে অধিক মূল্যে পণ্য বিক্রি, পণ্যের মূল্য তালিকা না থাকা ও ভোক্তাদের সাথে প্রতারণাসহ বিভিন্ন কারণে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯ লঙ্ঘনের দায়ে ৪ দোকানীকে মোট ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করে তা আদায় করা হয়েছে। তন্মধ্যে নান্টু ষ্টোরকে ৪ হাজার টাকা, শরীফ স্টোরকে ৪ হাজার টাকা, বিসমিল্লাহ ষ্টোরকে ২ হাজার ও শেখ কুতুব ষ্টোরকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হুছাইন মুহাম্মদের নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে আনোয়ারা থানার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সহযোগিতা করেন।
আনোয়ারা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হুছাইন মুহাম্মদ জানান, এক শ্রেণির অসাধু সিন্ডিকেটের কারণে সাম্প্রতিক সময়ে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যে মূল্য মানুষের ক্রয়-ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্য বৃদ্ধির কারণে জনমনে নাভিশ্বাস উঠেছে। বিভিন্ন ধরণের সবজিসহ চাল, ডাল, ডিম, পেঁয়াজ, রসুন, আদা, তেল, মসলা ও অন্যান্য নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখতে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ফরিদা খানমের নির্দেশে উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক নিয়মিত বাজার মনিটরিং অব্যাহত রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে উপজেলার ছত্তার হাট ও জয়কালী হাটের বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে মোবাইল কোর্ট অভিযান পরিচালনা করে ৪ প্রতিষ্ঠানকে ১৪ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে না আসা পর্যন্ত জনস্বার্থে এ ধরণের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানান তিনি।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

রূপগঞ্জে কারখানায় ডাকাতির ঘটনায় মালামাল উদ্ধার \ দুই ডাকাত গ্রেফতার

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার দুইটি প্রিন্টিং কারখানায় ডাকাতি হওয়া মেশিনারিজ উদ্ধার ও ডাকাতদলের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। আজ ২২ জুন ভোরে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ও আকবর শাহ থানা এলাকা থেকে ডাকাতি হওয়া মালামাল উদ্ধার ও তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলো চট্টগ্রামের আকবরশাহ থানার নিউ শহীদলেন এলাকার শামসুল আলমের ছেলে মুরাদ হাসান (৩৫) ও বোয়ালমারী থানার সর্বাতুলি এলাকার নাসির মিয়ার ছেলে রাসেল আহমেদ (৩২)।

পুলিশ জানায়, গত ১২ জুন রাতে রূপগঞ্জ উপজেলার তারাবো পৌরসভার বরাবো এলাকার নিপুন সিনথেটিক লেদার ইন্ডাস্ট্রিজ ও এসডিকে প্রিন্টিং এন্ড প্যাকেজিং কারখানায় ২০-২৫ সদস্যের একদল ডাকাত নিজেদের ডিবি পুলিশ পরিচয়ে ভেতরে প্রবেশ করে। পরে নৈশ্য প্রহরী আব্দুল মালেক, মোবাশ্বির ও হৃদয় হাসানকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তারা চার ঘণ্টা থেকে পাঁচ ঘণ্টা লুটপাট চালায়। ডাকাতরা কারখানায় থাকা প্রিন্টিং মেশিন, কম্প্রেসার, রোলার, সেপ্রয়ার, ল্যাপটপ, শ্রমিকদের বেতনের নগদ টাকাসহ ৬৪ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।

ডাকাতির ঘটনায় কারখানার মালিক ইকবাল হায়দার চৌধুরী বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। আধুনিক প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে ডাকাতির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে। পুলিশ গতকাল ২২ জুন রবিবার ভোরে চট্টগ্রামের পাহাড়তলী ও আকবর শাহ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাতি হওয়া দুইটি কম্প্রেসার ও দু’টি মোটর উদ্ধার এবং ডাকাতদলের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করে।

রূপগঞ্জ থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, গ্রেফতারকৃতদের নারায়ণগঞ্জ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতার ও লুট হওয়া বাকি মালামাল উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে : জেলা প্রশাসক চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জীবনমানের উন্নয়ন নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রের পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। রোববার চট্টগ্রাম প্রাইমারি টিচার্স ট্রেনিং ইনস্টিটিউটে (পিটিআই) ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও হিসাব সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটরদের জন্য আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অফিস ও আর্থিক ব্যবস্থাপনা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কোর্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন। জেলা প্রশাসক বলেছেন, কেবল নিজের চাকরি জীবনে কে কত সুবিধা পেয়েছেন বা নিজের জীবনে কত পরিবর্তন এনেছেন, সেটি বড় বিষয় নয়; বরং রাষ্ট্র ও সমাজকে কী দিতে পেরেছেন, সেটিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, আমরা সবাই একটি সুন্দর সমাজ ও সুন্দর রাষ্ট্র চাই।কিন্তু নিজের পরিবর্তনের প্রশ্নে আমরা অনেক সময় অনাগ্রহী থাকি। আমি চাই অন্যদের পরিবর্তন হোক, কিন্তু নিজের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন চাই না। এই সংকীর্ণ মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসতে হবে।
প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, শেখা একটি চলমান প্রক্রিয়া।প্রশিক্ষণ থেকে অর্জিত জ্ঞান চর্চার মাধ্যমে বাস্তব কাজে প্রয়োগ করতে না পারলে তার কোনো মূল্য থাকে না। সময়ের সঙ্গে প্রযুক্তি যেমন পরিবর্তিত হচ্ছে, তেমনি পরিবর্তিত হচ্ছে মানুষের প্রত্যাশা ও সেবার মানদণ্ডও।

ফলে সরকারি সেবাকে মানুষের চাহিদা ও প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে।জাতীয় স্থানীয় সরকার ইনস্টিটিউটের (এনআইএলজি) আয়োজনে এবং চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের বাস্তবায়নে অনুষ্ঠিত প্রশিক্ষণে জেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের ১৬০ জন কর্মকর্তা অংশগ্রহণ করেন। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনের সভাপতিত্বে ও জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফারজানা রহমান মীমের সঞ্চালনা অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এস এম আমিরুল মোস্তফা, চট্টগ্রামের মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপপরিচালক আতিয়া চৌধুরী।

জেলা প্রশাসক আরো বলেন, আমি চাকরি জীবনে কী পেলাম, আমার জীবনের কত উন্নতি হলো, আমার সন্তান কোথায় পড়াশোনা করল-এসবের চেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, আমি রাষ্ট্রকে কী দিলাম। জনগণের করের অর্থে বেতন নিয়ে, রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করে আমরা সমাজের জন্য কী অবদান রাখতে পেরেছি, সেটি প্রত্যেকের ভেবে দেখা উচিত।তিনি বলেন, সরকারি চাকরি কেবল একটি পদ বা দায়িত্ব নয়; এটি জনগণের প্রতি অঙ্গীকার। তাই সেবাগ্রহীতারা যেন সরকারি দপ্তরে এসে হয়রানি বা অবহেলার শিকার না হন, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশে জেলা প্রশাসক আরও বলেন, মানুষ পৃথিবীতে দ্বিতীয়বার আসার সুযোগ পায় না। তাই কর্মজীবন শেষে যেন আফসোস না থাকে যে আরও ভালো কিছু করা যেত। সমাজ ও রাষ্ট্রের জন্য ইতিবাচক অবদান রেখে যাওয়ার মধ্যেই একজন মানুষের প্রকৃত সার্থকতা নিহিত। কোনো প্রশিক্ষণ, কোনো নির্দেশনা বা কোনো আইন একা পরিবর্তন আনতে পারে না। পরিবর্তন তখনই আসে, যখন মানুষ নিজের ভেতরে দায়িত্ববোধ, নৈতিকতা, মানবিকতা ও বিবেককে ধারণ করে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ