আজঃ সোমবার ১৬ মার্চ, ২০২৬

লোডিং ঠিকাদার রীট করে সার সরবরাহের বিঘ্ন করেছেন।

সরবরাহে অসন্তোষ, ডিলারদের  সার উত্তোলন বন্ধের হুমকি 

সার উত্তোলন বন্ধের হুমকি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

৮ জেলায় ৮১২ ডিলার একমত পোষণ

সরবরাহে অসন্তোষ, ডিলারদের

  1. সার উত্তোলন বন্ধের হুমক

 ছবি-১

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম ইউরিয়া সার কারখানা লিমিটেডের (সিইউএফএল) সার সরবরাহ নিয়ে ডিলারদের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করায় তারা সার উত্তোলন বন্ধের হুমকি দিয়েছেন। ৮ জেলায় ৮১২ ডিলার এ বিষয়ে একমত পোষণ করেছেন। চলতি মাসের প্রথম থেকে প্রতি ট্রাকে ১৫ টনের স্থলে ১০ টন করে সার সরবরাহ দেওয়ায় এ ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার এসোসিয়েশন চট্টগ্রাম জেলা ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাবুবুল আলম খান জানিয়েছেন  ১৫ টন সার সরবরাহ দেওয়া না হলে আগামী ১ নভেম্বর থেকে সার উত্তোলন বন্ধ করে দেবে।

তিনি বলেন, ডিলাররা সার উত্তোলন বন্ধ করার কারণে ৮ জেলায় ইউরিয়া সারের সংকট সৃষ্টি হলে তার দায়ভার কোনো ডিলার বহন করবে না। এ ব্যাপারে ৮ অক্টোবর সিইউএফএল’এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং ৯ অক্টোবর চট্টগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক বরাবর আবেদনও করা হয়। যার অনুলিপি বিসিআইসি চেয়ারম্যানকেও দেওয়া হয়। কিন্তু বিসিআইসি’র চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

ডিলাররা সার উত্তোলন বন্ধ করে দিলে কৃষিতে প্রভাব পড়বে কিনা জানতে চাইলে চট্টগ্রাম কৃষি অধিপ্তরের উপ-পরিচালক মো.আবদুস সোবহান জানান, চলতি আমন মৌসুমে তেমন প্রভাব পড়বে না। তবে বোরো মৌসুমে প্রভাব পড়ার আশংকা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, ডিলারদের বিষয়টি অবহিত হওয়ার পর বিসিএসআইকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য আমাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

এসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ডিলারদের আগে থেকেই সিইউএফএল থেকে প্রতি ট্রাকে ১৫ মে. টন করে ইউরিয়া সার সরবরাহ দেওয়া হতো। কিন্তু ১ অক্টোবর থেকে প্রতি ট্রাকে ১০ মে. টন করে ইউরিয়া সার সরবরাহ দেওয়া হচ্ছে। যদি প্রতি ট্রাকে ১০ মে. টন সার দেওয়া হয়, তাহলে বাকি ৫ মে.টন সারের জন্য ডিলারদেরকে আলাদাভাবে সরবরাহ খরচ দিতে হয়। বস্তার মধ্যে বারবার হুক (ছিদ্র হয়ে যায়) মারা হয়। এতে ডিলারদের সার উত্তোলন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে সরকারের নির্ধারিত দামে সার বিক্রি করে ডিলাররা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এ কারণে ভবিষ্যতে ডিলাররা সার উত্তোলন করতে অনীহা প্রকাশ করবে। যদি ডিলাররা সার উত্তোলন বন্ধ করে দেয় তাহলে চট্টগ্রামসহ নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি, বান্দরবান ও কক্সবাজার জেলায় ইউরিয়া সারের সংকট সৃষ্টি হবে। এ আট জেলায় বছরে আনুমানিক সারের চাহিদা রয়েছে সাড়ে তিন লাখ টন।

জানা গেছে, সিইউএফএলএ দৈনিক ইউরিয়া সার উৎপাদন হয় ১১শ মেট্টিকটন। চট্টগ্রাম বিভাগের ৮ জেলা চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, নোয়াখালী, ফেনী ও লক্ষীপুরে আনুমানিক ২ লাখ টন সার ডিলারদের কাছে সরবরাহ করা হয়। ৮ জেলায় ডিলারের সংখ্যা ৮১২। ডিলাররা প্রতি টন ১২৫০ টাকা সিইউএফএলকে পরিশোধ করে প্রতি টন ১৩৫০ টাকা দরে কৃষকদের কাছে বিক্রি করেন। এদিকে সিইউএফএল থেকে লক্ষীপুর একটি ট্রাকের ভাড়া ২২ হাজার টাকা। অন্যদিকে সিইউএফএল থেকে চট্টগ্রাম জেলার বিভিন্ন উপজেলায় পরিবহন ভাড়া প্রতি ট্রাক ৯ হাজার টাকা। এক্ষেত্রে ১৫ টনের স্থলে ১০ টন সার পরিবহনের একই ভাড়া গুনতে হয় ডিলারদের। ফলে ডিলাররা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবার কারণে সার উত্তোলন বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ ব্যাপারে সিইউএফএল’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক মিজানুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, লোডিং ঠিকাদার টেন্ডারের নিয়ম অনুযায়ী ১৫ টন হিসেবে  ১ লক্ষ টন লোডিং করেছে। বাকি আড়াই লক্ষ টন সার ১০ টন হিসেবে লোডিং করার কথা রয়েছে। এ হিসেবে সাড়ে ৩ লক্ষ  টন সার লোডিং করার কথা রয়েছে।  টেন্ডারের নিয়ম অনুযায়ী ঠিকাদারকে লোডিং করতে হবে। রাতারাতি টেন্ডারের নিয়ম পাল্টে দেয়া সম্ভব নয়।লোডিং ঠিকাদার  ও  ডিলাররা ১৫  ও ১০ গাড়ি ভাড়া একই উল্লেখ করে সিইউএফএল কতৃপক্ষের কাছে জানালে, কতৃপক্ষ ১৫ টন করে নতুন একটি টেন্ডার

করার প্রক্রিয়া শুরু করেন।।লোডিং ঠিকাদার এনিয়ে একটি রীট করে জটিলতা সৃষ্টি করেন।  বর্তমানে ডিলারদের আবেদনের বিষয়টি বিবেচনা করে এ ব্যাপারে অতি সহসা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ হয়েছে।

 বর্তমান দেশের সার্বিক পরিস্থিতি এবং ডিলার-কৃষকদের কথা বিবেচনা করে সিইউএফএল থেকে প্রতি ট্রাকে ১০ মে.টনের পরিবর্তে প্রতি ট্রাকে ১৫ মে.টন করে ইউরিয়া সার দেওয়ার জন্য ২৭ অক্টোবর চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে অবহিত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

জেলা পরিষদের ৪২ প্রশাসক নিযুক্ত। 

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দেশের ৪২টি জেলা পরিষদে নতুন প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে সরকার। রোববার (১৫ মার্চ) নিয়োগ দেওয়া পর  প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ফের অনিশ্চয়তায় সিসিসিআই নির্বাচন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শীর্ষ ব্যবসায়িক সংগঠন চিটাগং চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) নির্বাচন অনিশ্চয়তায় পড়েছে। দুপক্ষের আইনি বিরোধের কারণে উচ্চ আদালতের নির্দেশে নির্ধারিত ৪ এপ্রিলের নির্বাচনও স্থগিত হয়ে গেছে। তবে আদালত আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনালকে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন।
তথ্যটি নিশ্চিত করে রিটকারী ব্যবসায়ী মোহাম্মদ বেলালের পক্ষে আইনজীবী আশফাকুর রহমান বলেন, আদালত আগামী ২৬ এপ্রিলের মধ্যে এফবিসিসিআইয়ের বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি ট্রাইব্যুনালকে বিরোধ নিষ্পত্তি করে সিদ্ধান্ত দিতে বলেছেন। পাশাপাশি হাইকোর্টের সর্বশেষ আদেশ আমলে না নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন।

চেম্বার সূত্রে জানা যায়, ৩ মার্চ প্রায় পাঁচ মাস স্থগিত থাকার পর চট্টগ্রাম চেম্বারের দ্বিবার্ষিক নির্বাচনের নতুন তফশিল ঘোষণা করা হয়েছিল। তফশিল অনুযায়ী আগামী ৪ এপ্রিল নগরের আগ্রাবাদ এলাকার ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারে ভোট গ্রহণের কথা ছিল। ২৬ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আইনি মতামতের ভিত্তিতে সাধারণ ও সহযোগী গ্রুপের ১৮ জন পরিচালক নির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়। তবে আদালতের নতুন আদেশে সেই নির্বাচনও স্থগিত হয়ে গেল।

এর আগে, গত বছরের ৪ সেপ্টেম্বর টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের আটটি সংগঠনকে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় নির্দেশ দেয়। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম গার্মেন্টস অ্যাকসেসরিজ গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ বেলাল হাইকোর্টে রিট করেন এবং এফবিসিসিআইতেও অভিযোগ করেন।
রিটের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ অক্টোবর হাইকোর্ট দুই শ্রেণিকে বাদ দিয়ে নির্বাচন পরিচালনার নির্দেশনা দিয়ে রুল জারি করেন এবং মন্ত্রণালয়ের ৪ সেপ্টেম্বরের চিঠির ওপর স্থগিতাদেশ দেন। পরে আপিলের পর ৩০ অক্টোবর আদালত দুই সপ্তাহের জন্য নির্বাচন স্থগিত করেন।

পরবর্তীতে গত ১১ ডিসেম্বর হাইকোর্ট ছয়টি টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপের ছয় প্রতিনিধিকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন। এ আদেশের বিরুদ্ধেও আপিল করেন রিটকারী মোহাম্মদ বেলাল। সেই আপিলের শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত এফবিসিসিআইয়ের ট্রাইব্যুনালে বিরোধ নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন এবং মৌখিকভাবে বলেন, ৪ এপ্রিল নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সুযোগ নেই।

প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম চেম্বারের নির্বাচনে সাধারণ শ্রেণি থেকে ১২ জন, সহযোগী শ্রেণি থেকে ৬ জন এবং টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ৩ জন করে মোট ৬ জন পরিচালক নির্বাচিত হন। এভাবে ২৪ সদস্যের পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়। পরে নির্বাচিত পরিচালকদের ভোটে একজন সভাপতি ও দুজন সহসভাপতি নির্বাচিত হন।এবার টাউন অ্যাসোসিয়েশন ও ট্রেড গ্রুপ শ্রেণি থেকে ছয়জন পরিচালক বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার পথে ছিলেন। তবে দুপক্ষের আইনি বিরোধের কারণে নির্ধারিত সময়েও নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি এবং নতুন তফশিল ঘোষণার পরও তা আবার স্থগিত হয়ে গেছে।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ