আজঃ রবিবার ২১ জুন, ২০২৬

গাজীপুরে এক সাংবাদিককে মিথ্যা চাঁদাবাজি মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে তদন্তের নির্দেশনা আইজিপি’র

সুরুজ্জামান রাসেল গাজীপুর প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুরে দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মোঃ আনোয়ার হোসেনকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগে মেট্টোপলিটন সদর থানার সাবেক ওসি সৈয়দ রাফিউল করিম ও এসআই আবু ছাঈদের বিরুদ্ধে তদন্তে নির্দেশনা দিয়েছেন বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি।

গত রবিবার (১৯মে ২০২৪) সন্ধ্যায় আনোয়ার সংবাদ সংগ্রহ করার জন্য রাজেন্দ্রপুর হোটেল এক্সে যায়। ঐসংবাদিকের তথ্যের ভিত্তিতে উল্লেখিত তারিখের কয়েকদিন পূর্বে হোটেল এক্সসহ আরও কয়েকটি হোটেলকে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ১০ লক্ষ টাকা জরিমানা করেছিল। পূর্ব বিরোধের জেরে গাজীপুরের বনখড়িয়া এলাকার মাটি বিক্রেতা আইনুদ্দিন ও রাজেন্দ্রপুর এলাকার মাসুমের স্ত্রী মাহমুদা তাদের নিজস্ব বাহিনীর ২০/২৫ জন সন্ত্রাসী দিয়ে পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আনোয়ারকে জোরপূর্বক আটক করে মাহমুদার হুকুমে আনোয়ারকে ধরে গজারী বনে নিয়ে গিয়ে মারধর করতে থাকে। তখন প্রতক্ষদর্শী শ্রী সৌরভ মজুমদার ৯৯৯ ফোন করে এই বিষয়ে জানালে তাৎক্ষণিক সদর থানার এসআই আবু ছাঈদ সাদা রংয়ের নোয়া গাড়ি দিয়ে আসে। জঙ্গল থেকে আনোয়ারকে উদ্ধার করে। আনোয়ার ও মাহমুদাকে পুলিশের গাড়িতে করে সদর থানায় নিয়ে যায়।

ইতিপূর্বে সদর থানার সাবেক ওসি সৈয়দ রাফিউল করিমের বিভিন্ন অনিয়মের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রচার এবং আনোয়ারের স্ত্রী নারী পুলিশ কনস্টেবল রুবিনার সাথে সাংসারিক জীবনে বনিবনা না হওয়ায় পূর্ব থেকেই আনোয়ারকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর আপ্রাণ চেষ্টা করেছিল। পুলিশ মাহমুদা ও আনোয়ারকে থানায় নিয়ে আসার পর পুলিশ আনোয়ারকে অমানবিক শারীরিক নির্যাতন করে। আনোয়ারের শারীরিক পরিস্থিতি অবনতি হওয়ায় পুলিশ গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। ঐদিন রাতেই সদর থানার পুলিশের যোগসাজশে মাহমুদার স্বামী মাসুমের গাড়ির কাউন্টারের সুপারভাইজার ইব্রাহীমকে বাদী করে মিথ্যা ঘটনা সাজিয়ে চাঁদা বাজি মামলা রুজু করে। পুলিশ এমামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে রিমান্ডের আবেদনসহ আনোয়ারকে কোর্টে সোপর্দ করে।

এঘটনায় গত শনিবার (১২ অক্টোবর) পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ৪৪.০১.০০০০.১০১.৩৯.০৩৩.২৪/৩৮৭০ নং স্মারকে উক্ত চাঁদা বাজির মিথ্যা মামলা রুজু করার অভিযোগে সদর থানার সাবেক ওসি ও এসআই এর বিরদ্ধে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারকে তদন্তের নির্দেশনা দিয়েছেন।

এঘটনায় ৯৯৯’এর সংবাদ দাতা শ্রী সৌরভ মজুমদার বলেন, গত রবিবার (১৯মে ২০২৪) সন্ধ্যার পর আইনুদ্দিন ও মাহমুদার বাহিনীর সদস্যরা আনোয়ারকে জঙ্গলে ধরে নিয়ে মারধোর করতে থাকে। তখন আমি ৯৯৯’এ ফোন দিয়ে জানালে পুলিশ এসে গজারী বন থেকে আনোয়ারকে উদ্ধার করে। মাহমুদা ও আনোয়ারকে এসআই আবু ছাঈদ থানায় নিয়ে যায়। আমি ৯৯৯ ফোন করায় পুলিশের এসআই আবু ছাঈদ আমার বাড়ীতে গিয়ে আমাকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকী প্রদান করিতেছে।

এবিষয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের অপরাধ উত্তর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) নাজির আহমেদ জানান, উক্ত বিষয়ে অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মোঃ শাহাদত হোসেন সুমা অনুসন্ধান করছেন। যা বর্তমানে তদন্তাধীন।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জে শারীরিক প্রতিবন্ধী দম্পতির মার্কেটসহ বাড়ি দখলের অভিযোগ উঠেছে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেন ও ছোট জামাই সোহেলের বিরুদ্ধে। সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ করেছেন বড় জামাই এ.কে আজাদ। আজ শনিবার (২০ জুন) সকালে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শহরের হুজরাপুরে অবস্থিত চাঁপাই প্রেসক্লাবে হল রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এমন অভিযোগ তুলে ধরেন তিন।

লিখিত বক্তব্য এ. কে আজাদ জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরাতলা ইউনিয়নের মহিপুরে অবস্থিত মার্কেটসহ বাড়ি দখলের বিরোধের জেরে আদালতে মামলা দায়ের করা হলে উক্ত আর.এস দাগ নং ১১৪৯ জমির উপরে আদালত ১৪৪ ধারা জারি করেন। এর পরেও মোশাররফ হোসেন ও তার ছোট জামাই সোহেল রানা আদালতের আইন অমান্য করে ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে গত ১ বছর ধরে তার নামে থাকা একটি মার্কেটসহ বাড়ী জোর পূর্বক দখল করে নেন। সে সঙ্গে বাড়ি ও মার্কেটের প্রতিমাসে ৩০ হাজার টাকা শশুর এবং তার ছোট জামাই উত্তোলন করে আসছেন। মার্কেটসহ বাড়ির বর্তমান মালিক এ.কে আজাদ দখল ছাড়তে বললে বিভিন্ন প্রকার হত্যার হুমকি দিচ্ছেন বলে এমন অভিযোগ করেন তিনি।

উক্ত ঘটনার বিষয়ে জানতে অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মোশারফ হোসেনের মুঠোফোনে ঘটনার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি জানান, তার বিরুদ্ধে আনিত সব অভিযোগ সম্পন্ন মিথ্যা।

বিএসএফের টাকার টোপে সীমান্তের দরিদ্ররা সহযোগিতা করছেন পুশ-ইনে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

সীমান্তজুড়ে পুশ-ইন ইস্যু নতুন করে উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে, বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলা দিয়ে নারী-পুরুষকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। তবে কড়া নজরদারির কারণে অনেক প্রচেষ্টা ব্যর্থ হলেও এ কাজে সীমান্ত এলাকার কিছু দরিদ্র মানুষকে অর্থের প্রলোভনে ব্যবহার করা হচ্ছে।

জানা গেছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার রোকনপুর সীমান্তে গিয়ে জানা গেছে, সীমান্তঘেঁষা নদীপথগুলো এখন নতুন কৌশলের অংশ হয়ে উঠেছে। আগে যেসব এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া কিংবা স্থলপথে কড়াকড়ি ছিল, এখন সেখানে নদীপথকে ব্যবহার করে রাতের অন্ধকার কিংবা ভোরের সময় পুশ-ইনের চেষ্টা করা হচ্ছে। এমন একাধিক ঘটনার তথ্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছেও এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সীমান্ত এলাকায় বসবাসকারী দরিদ্র কিছু বাংলাদেশিকে টাকার প্রলোভন দেখিয়ে এসব কাজে ব্যবহার করছে বিএসএফ।

সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইন কার্যক্রমে কিছু বাংলাদেশি নাগরিকের সম্পৃক্ততার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী- একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিএসএফের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে এসব পুশইনে সহায়তা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অভিযোগ রয়েছে, সীমান্তের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, বিজিবির টহলের সময় ও অবস্থান সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ, এমনকি সুবিধাজনক রুট দেখিয়ে দেওয়ার মতো কাজেও কিছু লোককে ব্যবহার করা হচ্ছে। এতে একজনকে পুশ-ইন করতে পারলে দেওয়া হচ্ছে ১০ হাজার টাকা। এতে সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ফাঁকি দিয়ে পুশ-ইনের চেষ্টা আরও সংগঠিতভাবে চালানো হচ্ছে।

তবে সীমান্তে যেকোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ ও পুশইনের চেষ্টা ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বিজিবি। সীমান্তজুড়ে নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের সীমান্ত দিয়ে অবৈধভাবে কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না এবং যেকোনো পুশ-ইনের চেষ্টা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ