চট্টগ্রামে থমথমে হাজারি গলি, দোকানপাট সিলগালা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরের হাজারি গলিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। তবে পুরো এলাকায় এখনো থমথমে পরিস্থিতি, দোকানপাট সিলগালা। বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় নগরের দামপাড়ায় সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড ক্যাম্পে সংবাদ সম্মেলন করে যৌথবাহিনী। যৌথবাহিনীর পক্ষে টাস্কফোর্স-৪ এর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস আহমেদ গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি বলেন, যৌথবাহিনীর অভিযানে হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে এখন পর্যন্ত সন্দেহভাজন ৮০ জনকে আটক করা হয়েছে। বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ ও গোয়েন্দা তথ্য যাচাই-বাচাইয়ের মাধ্যমে প্রকৃত দুষ্কৃতকারীদের শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। আটক ব্যক্তিদের সংশ্লিষ্ট থানায় প্রয়োজনীয় জিজ্ঞাসাবাদসহ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আদালতে হস্তান্তরের বিষয়টিও প্রক্রিয়াধীন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং হাজারি গলিসহ নগরীর অন্যান্য এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই সেনাকর্তা বলেন, আইন তার নিজস্ব ধারায় চলবে। মাঠপর্যায়ে আমরা গোয়েন্দা তথ্য যাচাই বাছাই করছি। সে অনুযায়ী আমরা আইনি প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন করবো। সরকার পতনের পর যেসব শান্তিপূর্ণ সমাবেশ হয়েছে, সেসব সমাবেশে যেন শান্তি বিঘ্নিত না হয় আমরা সেজন্য সরকারের গাডলাইন অনুযায়ী কাজ করেছি।
হাজারি গলির দোকান সিলগালার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যেহেতু ওই এলাকায় সেনা ও পুলিশ সদস্যের ওপর এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে-সেই প্রেক্ষিতে ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দোকানগুলো সিলগালা করা হয়৷ আমরা সংশ্লিষ্টতা খুঁজে বেড়াচ্ছি। অতিসত্তর তদন্তকার্যক্রম শেষ করে দোকানগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম নিশ্চিত করা হবে।
আটক ব্যক্তিদের রাজনৈতিক পরিচয় রয়েছে কিনা—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন,‘দুষ্কৃতকারীদের কোনো পলিটিক্যাল পরিচয় আসলে আসে না। তাদের জাতি, ধর্ম, বর্ণ নেই।

সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (জনসংযোগ) কাজী মো. তারেক আজিজ ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়নের (র‌্যাব) প্রতিনিধি।
এদিকে, বুধবার সকালে সরেজমিনে দেখা গেছে, হাজারি গলির স্বর্ণ এবং ওষুধসামগ্রী বিক্রির দোকান বেশিরভাগই সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে। অনেক ওষুধ ক্রেতা ওষুধ কিনতে এসে ফেরত যাচ্ছেন। আর যেসব দোকান খোলা রয়েছে তারাও অবসর সময় কাটাচ্ছেন।
কয়েকজন দোকানির সাথে কথা বলে জানা গেছে, রাতের দিকে ওই এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হলেও সকাল নাগাদ তা শিথিল করা হয়েছে। সিলগালা করা দোকান কবে খুলবে তা নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারাও।
দেখা গেছে, টেরিবাজার মোড় হয়ে হাজারি গলি সড়কের প্রবেশ পথের গেট বন্ধ করে রাখা হয়েছে। সেখানে সতর্ক অবস্থানে দেখা গেছে পুলিশ সদস্যদের। অন্যদিকে, কেসিদে সড়কের মুখেই রাখা আছে পুলিশের একটি প্রিজন ভ্যান। ওই সড়কটি বর্তমানে চালু রয়েছে।
টাস্কফোর্স-৪ এর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস আহমেদ সংবাদ সম্মেলনে বলেন, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টায় ওসমান আলী নামে একজন ব্যক্তির ইসকনবিরোধী একটি ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে টেরিবাজার এলাকার হাজারি লেইনে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়। আনুমানিক ৫০০ থেকে ৬০০ জন দুষ্কৃতকারী হাজারি লেনে ওসমান আলী ও তার ভাইকে হত্যা এবং দোকান জ্বালিয়ে দেওয়ার উদ্দেশ্যে জড়ো হয়। স্থানীয় কন্ট্রোল রুম থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে দ্রুততম সময়ের মধ্যে সেনাবাহিনী, পুলিশ এবং বিজিবি সদস্যদের ৬টি টহল দল সেখানে পৌঁছায়। তিনি বলেন, বিশৃঙ্খলাকারীদের সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় জানমাল রক্ষা এবং মবজাস্টিস রোধে যৌথবাহিনী ওসমান আলী ও তার ভাইকে উদ্ধার করে। উত্তেজিত জনতাকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সমাধানের বিষয়টি আশ্বস্ত করা সত্ত্বেও একপর্যায়ে উগ্র বিশৃঙ্খলাকারীরা আরো আক্রমনাত্মক হয়ে ওঠে। দুর্বৃত্তরা এ সময় যৌথবাহিনীর ওপর অতর্কিতভাবে জুয়েলারির কাজে ব্যবহৃত এসিড-হামলা চালায় এবং ভারী ইটপাটকেলসহ ভাঙা কাঁচের বোতল ছুঁড়তে শুরু করে।
ফের হামলার কথা জানিয়ে লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফেরদৌস আহমেদ বলেন, ফলে সেনাবাহিনীর পাঁচজন সদস্য এবং ৭ পুলিশ সদস্য আহত হয়। আহত সেনাসদস্যরা বর্তমানে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, চট্টগ্রামে চিকিৎসাধীন। এছাড়া, ঘটনাস্থলে দুর্বৃত্তরা ইট ছুঁড়ে সেনাবাহিনীর একটি গাড়ির সামনের কাঁচ ভেঙে ফেলে। উদ্ধার অভিযানের পর দুর্বৃত্ত শনাক্তকরণে যৌথবাহিনীর ১০টি টহল দল আনুমানিক ৯টার দিকে ওই এলাকায় গেলে লুকিয়ে থাকা দুষ্কৃতকারীরা ফের যৌথবাহিনীর ওপর এসিড সদৃশ ছুঁড়তে শুরু করে। এ সময় যৌথবাহিনী ঘটনাস্থল থেকে ৮০ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করতে সক্ষম হয়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামকে ‘সেফ সিটি’ গড়ে তোলাই লক্ষ্য: ডা. শাহাদাত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) প্রশাসক ডা. শাহাদাত হোসেন বলেছেন, নগরকে পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও বাসযোগ্য করে তোলা শুধু সিটি করপোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। এজন্য সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নাগরিকদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা ও দায়িত্ববোধ তৈরি করা জরুরি। যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা না ফেলে নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রোববার (৮ নভেম্বর) চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের উদ্যোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল এলাকায় পরিচ্ছন্নতা অভিযান উদ্বোধনকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চমেক হাসপাতাল নগরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাই হাসপাতাল এলাকার পরিবেশ পরিচ্ছন্ন ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখা অত্যন্ত জরুরি। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ রোগীদের সুস্থতা এবং জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।তিনি বলেন, এ ধরনের স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগ শুধু একটি নির্দিষ্ট এলাকা পরিষ্কার করার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা তৈরি হয়।

প্রশাসক আরও বলেন, পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা প্রতিদিন নগরকে পরিষ্কার রাখতে নিরলস কাজ করছেন। তাদের প্রতি সম্মান ও সহমর্মিতা প্রদর্শনের পাশাপাশি প্রত্যেক নাগরিককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে সহযোগিতা করতে হবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় চট্টগ্রামকে ‘ক্লিন, গ্রিন, হেলদি ও সেফ সিটি’ হিসেবে গড়ে তোলাই লক্ষ্য।

চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক বেলায়েত হোসেন বুলুর সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার জমির উদ্দিন নাহিদ ও সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান জিয়ার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মাঈনুদ্দিন রাশেদ, মহসিন কবির আপেল, গোলাম সরোয়ার, মো. আলমগীর, কামরুল হাসান, আরিফুর রহমান চৌধুরী, সদস্য মফিজ উদ্দিন সুমন, শাহাদাত হোসেন সোহাগ, মো. জাহিদুল ইসলাম, জাফর হোসেন রনি, জাবেদ সাফায়াত সোবহান, পাঁচলাইশ থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক শফিউল আলম শফি এবং চকবাজার থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্যসচিব কুতুব উদ্দিন নয়নসহ মহানগর, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। পরে চমেক হাসপাতাল এলাকার বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করেন স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা।

চট্টগ্রামে মূল্যতালিকা না থাকায় ৮ প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম মহানগরে তদারকি অভিযান চালিয়ে আট প্রতিষ্ঠানকে মোট ২৫ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।রোববার (৮ নভেম্বর) কোতোয়ালি মোড় ও ফলমুন্ডি এলাকায় পরিচালিত এ অভিযানে নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ফয়েজ উল্ল্যাহ। তিনি জনস্বার্থে এ ধরনের তদারকি কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন।
অভিযানে কোতোয়ালি মোড় সংলগ্ন দারুল আমান হোটেলকে অপরিচ্ছন্ন পরিবেশে খাদ্যপণ্য উৎপাদন, সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের দায়ে ৮ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

এ ছাড়া মূল্যতালিকা না থাকায় ফারুকের ফলের দোকানকে এক হাজার এবং সোহেলের ফলের দোকানকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।ফলমুন্ডি এলাকায় মূল্যতালিকা না থাকায় আবুল বাশারের ফলের দোকানকে এক হাজার এবং ইয়াকুব আলী ফল বিতানকে ৩ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।অন্যদিকে, যথাযথভাবে ক্রয়-বিক্রয়ের ভাউচার সংরক্ষণ না করায় শাহ মহসেন আউলিয়া ফার্মকে ৬ হাজার এবং মেহেদী এন্টারপ্রাইজকে ৪ হাজার টাকা জরিমানা করে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

আলোচিত খবর

বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙ্গা জবাব দেওয়া হবে – জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন-দেশের ভেতরে ও বাইরে থেকে যারা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে যারা ষড়যন্ত্র করছে, তাদের প্রত্যেককে একে একে জবাব দেওয়া হবে। আজ ৭ নভেম্বর শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে বিএনপির আয়োজিত শোভাযাত্রার আগে এক সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বহু বছর পর দেশের মানুষ মুক্তভাবে বিপ্লব ও সংহতি দিবস পালনের সুযোগ পেয়েছে। তবে দেশের বিরুদ্ধে আবারও একটি মহল ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। অতীতের মতো এবারও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা চলছে। কিন্তু এ দেশের মানুষকে কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দমিয়ে রাখা যাবেনা।

১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশের মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিল। স্বাধীনতার পেছনে মানুষের প্রত্যাশা ছিল একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করা। কিন্তু স্বাধীনতার পর থেকেই দেশের ভেতরে ও বাইরে বিভিন্ন মহল বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব মেনে নিতে পারেনি। তারা সাধারণ মানুষকে দাবিয়ে রাখা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।

১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার মধ্য দিয়ে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ববিরোধী অপশক্তিকে পরাজিত করা হয়েছিল। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আবারও গণতন্ত্রের সূচনা হয়। তবে স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার মেনে নিতে না পারা একটি মহল বিভিন্ন সময়ে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করেছে। বারবার জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষ আবারও তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়েও জনগণের সেই অধিকার বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার ও সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার করেছে। ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের মতো ২০২৪ সালের ৫ আগস্টও জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে অপশক্তিকে পরাজিত করেছে।তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আন্দোলন শুধু দেশের সার্বভৌমত্ব ও গণতান্ত্রিক অধিকার পুনরুদ্ধারের মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না, একই সঙ্গে ছাত্র-জনতা স্বৈরাচারী শক্তিকেও দেশ থেকে বিতাড়িত করেছে। বাংলাদেশের মানুষ অতীতেও অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে জনগণের আন্দোলন ও অর্জন থামিয়ে রাখা যাবে না।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতের মতো আবারও একটি মহল দেশ নিয়ে ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছে। তারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব বাধাগ্রস্ত করতে চায়। একই সঙ্গে জনগণের ভোটের রাজনীতি ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনব্যবস্থা বন্ধ করার চেষ্টা করছে। তবে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর, ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনা প্রমাণ করে, এ দেশের মানুষ অন্যায়ের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হতে জানে।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি জাতীয় ঐক্যের ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে কোনো বিভেদ থাকা উচিত নয়। জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
অতীতের বিভিন্ন আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থানের মতো এবারও ষড়যন্ত্রকারীদের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিটি ষড়যন্ত্রের জবাব একে একে দেওয়া হবে। কোনো শক্তিই বাংলাদেশের মানুষকে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করতে পারবে না।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ