চট্টগ্রাম বন্দরে আনা এমন ১২টি গাড়ির বর্ণনামূলক তালিকা (ইনভেন্ট্রি) তৈরির কাজ শুরু

ব্যবহারের উপযোগী থাকলে তোলা হবে নিলামে

নিজস্ব প্রতিবেদক

আমদানিকারক পাহাড়তলী থানাধীন উত্তর কাট্টলীর প্রতিষ্ঠান মেসার্স জি এম ইন্টারন্যাশনাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করে প্রায় ১৫ বছর পর্যন্ত খালাস করা হয়নি ১২টি গাড়ি। গাড়িগুলোর মধ্যে কোনটি ব্যবহার উপযোগী থাকলে নিলামে তোলা হবে। আর জরাজীর্ণ হলে ধ্বংস করা হবে বলে জানা গেছে। এদিকে আমদানি করেও খালাস না পি সেডে থাকা ওই ১২টি গাড়ি চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তর হতে সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা এমন ১২টি গাড়ির বর্ণনামূলক তালিকা (ইনভেন্ট্রি) তৈরির কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিলাম শাখা। তবে ১২টি গাড়ির বর্ণনামূলক তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে গত ৪ নভেম্বর থেকে। যা রোববার (১৭ নভেম্বর) শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে গাড়িগুলো যদি উৎপাদনের ৫ বছরের মধ্যে আমদানি করা না হয় তবে নিয়ম অনুযায়ী নিষিদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হবে। সেক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পত্র পাওয়া সাপেক্ষে নিলামে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপ-কমিশনার সাঈদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, তালিকায় একটি নষ্ট হয়ে যাওয়া কার রয়েছে। যেটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নগরীর শেখ মুজিব রোডের প্রতিষ্ঠান মেসার্স কে কে অটোমোবাইলস। এটি ২০১৪ সালের অক্টোবরে আমদানি করা হয় এবং ২০১৫ সালের নভেম্বরে নিলামের জন্য কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া তালিকায় একটি পিকআপ ও আরসি ভ্যান গাড়ি রয়েছে। যার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নাম জানা যায়নি। এরমধ্যে পিকআপটি ২০১০ সালের ডিসেম্বরে এবং আরসি ভ্যান গাড়িটি ২০১১ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। এরপর খালাস না হওয়ায় এতো বছর ধরেই বন্দরের অভ্যন্তরে পড়ে রয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের ইনভেন্ট্রি তালিকা থেকে জানা যায়, ১২টি গাড়ির মধ্যে রয়েছে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া একটি মাইক্রোবাস। যার আমদানিকারক পাহাড়তলী থানাধীন উত্তর কাট্টলীর প্রতিষ্ঠান মেসার্স জি এম ইন্টারন্যাশনাল। গাড়িটি খালাস না হওয়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০০৯ সালের মার্চে নিলামের জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে ওই গাড়িটি হস্তান্তর করে। এছাড়া রয়েছে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমদানিকৃত একটি পিকআপ। যার আমদানিকারক নগরীর শেখ মুজিব রোডের প্রতিষ্ঠান মেসার্স হেলাল অটোমোবাইলস। গাড়িটি খালাস না হওয়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০০৯ সালে নিলামের জন্য এটি কাস্টমসকে হস্তান্তর করে। অন্যদিকে তালিকায় রয়েছে দুটি কনটেইনার পরিবহনকারী যান প্রাইম মুভার। যার আমদানিকারক নগরীর মোমিন রোডের প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাসিমা অটোস। গাড়ি দুটি ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। যা খালাস না হওয়ায় নিলামের জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে ২০১৪ সালের জুলাইয়ে হস্তান্তর করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে আমদানি হওয়া ড্রাম ট্রাকও রয়েছে তালিকায়। যার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাবিদ অটোস। এটিও কাস্টমসের কাছে ২০১৪ সালের জুলাইয়ে হস্তান্তর করা হয় নিলামের জন্য।
কাস্টমসের ইনভেন্ট্রি তালিকা থেকে আরো জানা যায়, ২০১১ সালের জুনে আমদানি হওয়া দুটি কার রয়েছে এই তালিকায়। যার একটির আমদানিকারক নগরীর শেখ মুজিব রোডের প্রতিষ্ঠান এইচ আর মোটরস এবং অন্যটির আমদানিকারক নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি। কার দুটি খালাস না হওয়ায় নিলামের জন্য ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ও নভেম্বরে কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তালিকায় একটি জিপ গাড়িও আছে। যেটি ২০১৪ সালের এপ্রিলে আমদানি করে নগরীর শেখ মুজিব রোডের চিশতিয়া মার্কেটের প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস এফ অটোমোবাইলস। নিলামের জন্য গাড়িটি ২০১৪ সালের জুলাইয়ে কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমদানি হওয়া আরেকটি পিকআপ রয়েছে তালিকায়। যার আমদানিকারক নগরীর শেখ মুজিব রোডের প্রতিষ্ঠান মেসার্স হেলাল অটোমোবাইলস। এটি নিলামের জন্য ২০০৯ সালের জুলাইয়ে কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বর্তমান অস্থির বিশ্বে বুদ্ধের মহান বাণীই শান্তি ফেরাতে পারে: সাংসদ নুরুল আমিন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মিরসরাই উপজেলাধীন পাঁচটি বৌদ্ধ গ্রামের বৌদ্ধ বিহারের ভিক্ষু, বৌদ্ধ ধর্মের প্রতিনিধি এবং সাধারণ বৌদ্ধ জনগণের সাথে সাথে মিরসরাইয়ের সংসদ সদস্য নুরুল আমিনের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অদ্য ২২ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বিকেলেলে মিরসরাই উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন সংসদ সদস্য নুরুল আমিন। ভিক্ষু মহাসভার সহ-সভাপতি শ্রীমৎ প্রিয়ানন্দ মহাথেরের সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য রাখেন লক্ষ্মীপুর জেলার কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক পুষ্পেন্দু বড়ুয়া।

অগ্রণী ব্যাংকের ডিজিএম বিজয় বড়ুয়ার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, অবসরপ্রাপ্ত যুগ্ম সচিব পুলক কান্তি বড়ুয়া, চট্টগ্রাম মেডিকেলের নেফ্রোলজি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. বিপ্লব কুমার বড়ুয়া, দমদমা নবাবপুর ধর্মকীর্তি বৌদ্ধ বিহারের আজীবন অধ্যক্ষ বিশ্বনাগরিক ড. ধর্মকীর্তি মহাথেরো এবং শাষন বংশ মহাথরসহ প্রতিটি বৌদ্ধ গ্রামের বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ।
প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমান অস্থির বিশ্বে বুদ্ধের মহান বাণীই শান্তি ফেরাতে পারে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার সারাদেশে ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট পরবর্তী অস্থির সময়ে মিরসরাই উপজেলার বিভিন্ন বৌদ্ধ গ্রামে বৌদ্ধ বিহারের নিরাপত্তা ও বৌদ্ধ জনগোষ্ঠীর নিরাপত্তায় বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদলের সাধারণ কর্মীরা উনার নির্দেশে অতন্ত্র প্রহরী হিসেবে কাজ করেছিল। তিনি মিরসরাই উপজেলার প্রতিটি বৌদ্ধ বিহারে তিন লক্ষ টাকা করে অনুদান প্রদানের প্রতিশ্রুতি প্রদান করেন। পরিশেষে সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে সভার সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে দুর্ঘটনা মা-মেয়ের পৌঁছানো হলো না গন্তব্যে, পথেই সব শেষ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে নিয়ন্ত্রণ হারানো একটি মাইক্রোবাসের দুর্ঘটনায় একসঙ্গে প্রাণ হারালেন মা ও মেয়ে। বুধবার (২১ অক্টোবর) সকাল সাড়ে আটটার দিকে ওই মহাসড়কের চট্টগ্রামমুখী লেনে বাড়বকুণ্ড বিদ্যুৎ উন্নয়ন কেন্দ্রের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছেন মাইক্রোবাসের আরও চার যাত্রী। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে গন্তব্যের বেশ কাছাকাছি চলে এসেছিলেন তারা। আর কিছুক্ষণ পরই হয়তো পৌঁছাতেন কাঙ্ক্ষিত স্থানে। কিন্তু পথেই সব শেষ।

নিহত দুজন রোজী আক্তার (৬০) ও তার মেয়ে নাজমা খাতুন (৪২)। রোজীর বাড়ি জয়পুরহাট পৌরসভার বাদশা গ্রামে। তার স্বামী মৃত নজিবুর রহমান। আর মেয়ে নাজমার শ্বশুরবাড়ি একই জেলার জামালগঞ্জ গ্রামে। মেয়েটির স্বামীর নাম আসলাম হোসেন। জয়পুরহাট থেকে একসঙ্গে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন নিহত দুজন।

পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সকালে যাত্রীবাহী মাইক্রোবাসটি চট্টগ্রামের দিকে যাচ্ছিল। বাড়বকুণ্ড বিদ্যুৎ উন্নয়ন কেন্দ্রের সামনে পৌঁছালে চালক হঠাৎ গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন। মুহূর্তেই গাড়িটি সড়ক থেকে ছিটকে পাশের একটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে গাড়ির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। গুরুতর আহত হন ভেতরে থাকা যাত্রীরা। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয়রা ছুটে এসে উদ্ধার করেন তাদের। আহতদের চিকিৎসার জন্য দ্রুত চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করেন। সেখানকার জরুরি বিভাগের চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে রোজী ও নাজমাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, দুর্ঘটনায় আহত বাকি চার জনের মধ্যে মো. আলতাফ হোসেন (৫২) নামের একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি বাকি তিনজনের নাম-পরিচয়। বর্তমানে চিকিৎসাধীন তারা।

বার আউলিয়া হাইওয়ে থানার এসআই জামান জানান, চালক নিয়ন্ত্রণ হারানোর কারণেই মাইক্রোবাসটি বৈদ্যুতিক খুঁটিতে ধাক্কা দেয় বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনায় মা ও মেয়ের মৃত্যু হয়েছে এবং চারজন আহত হয়েছেন।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে; চট্টগ্রামে প্রধানমন্ত্রী

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব নাগরিকের সমান অধিকার নিশ্চিত করে শান্তিপূর্ণ ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে চট্টগ্রাম নগরের জেএম সেন হলে শারদীয় দুর্গাপূজার মণ্ডপ পরিদর্শন শেষে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা করে অংশ নেননি। সবার লক্ষ্য ছিল দেশকে স্বাধীন করা, গণতন্ত্র রক্ষা করা এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা করা।তিনি বলেন, আমরা মুসলমান হই, হিন্দু হই, বৌদ্ধ হই কিংবা খ্রিস্টান হই, ধর্ম আমাদের নিজস্ব বিষয়। কিন্তু আমরা প্রত্যেকেই বাংলাদেশের নাগরিক।

যে ধর্মেরই হই না কেন, যেহেতু এই দেশে আমরা জন্মেছি, এই দেশে বড় হচ্ছি, তাই আমাদের পরিচয় আমরা বাংলাদেশি।তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে লাখ লাখ মানুষ মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন।

অনেকে শহীদ হয়েছেন। সেদিন কেউ দেখেননি কে মুসলমান, কে হিন্দু, কে বৌদ্ধ কিংবা কে খ্রিস্টান। সবাই দেশকে স্বাধীন করার লক্ষ্য নিয়ে লড়াই করেছেন। একইভাবে বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র রক্ষা ও জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও মানুষ ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে রাজপথে নেমেছেন।

২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই সময় স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখ লাখ মানুষ রাজপথে নেমে এসেছিলেন। নারী-পুরুষ, শিশু, তরুণসহ বিভিন্ন বয়সের মানুষ আন্দোলনে অংশ নেন। গুলিবিদ্ধ কিংবা আহত ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় জানতে চেয়ে কেউ তাঁদের পাশে দাঁড়াননি। হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার ক্ষেত্রেও ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, আমার ভাই শহীদ হয়েছে, আমার ভাই আহত হয়েছে। বাকিরা তাঁদের ধরাধরি করে হাসপাতালে নিয়ে গেছেন। কেউ জিজ্ঞেস করেননি, কী তাঁর ধর্ম পরিচয়। এসব ঘটনা প্রমাণ করে, মানুষের অধিকার ও মানবিকতার প্রশ্নে ধর্মীয় পরিচয় মুখ্য নয়।প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ কিংবা সংখ্যালঘু পরিচয়ের ভিত্তিতে নাগরিকদের বিচার করা উচিত নয়।

তিনি নিজেকে উদাহরণ হিসেবে তুলে ধরে বলেন, রাজনৈতিক কারণে তাঁকে দীর্ঘদিন বিদেশে থাকতে হয়েছে। বাংলাদেশে তিনি সংখ্যাগরিষ্ঠ ধর্মের অনুসারী হলেও লন্ডনে অবস্থানের সময় সেই পরিচয় তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠ করেনি। তাই সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু পরিচয় নয়, একজন মানুষ বাংলাদেশের নাগরিক কি না, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

তারেক রহমান বলেন, দেশের আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। রাষ্ট্রের ওপর প্রত্যেক নাগরিকের সমান অধিকার রয়েছে। রাষ্ট্র একজন নাগরিককে যে অধিকার ও সুযোগ দেবে, অন্য নাগরিকও তা পাবেন। ধর্মীয় পরিচয়ের কারণে কারও অধিকার খর্ব করা যাবে না।

মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র রক্ষার আন্দোলন এবং জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এসব আন্দোলনে যাঁরা জীবন দিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যাশা ছিল এমন একটি বাংলাদেশ, যেখানে সবাই শান্তিতে বসবাস করবেন এবং মিলেমিশে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকে যদি সেই বাংলাদেশ গড়তে হয়, আপনাদের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে আমি আপনাদের সকলের সহযোগিতা চাই। আপনি হিন্দু হোন, মুসলমান হোন, বৌদ্ধ হোন কিংবা খ্রিস্টান হোন, যাই হোন না কেন, আপনার সহযোগিতা আমার দরকার। কারণ আপনার সহযোগিতা ছাড়া আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব না।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন, চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের প্রশাসক মাহবুবের রহমান শামীমসহ বিভিন্ন সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য ও নেতারা।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ