আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

চট্টগ্রাম বন্দরে আনা এমন ১২টি গাড়ির বর্ণনামূলক তালিকা (ইনভেন্ট্রি) তৈরির কাজ শুরু

ব্যবহারের উপযোগী থাকলে তোলা হবে নিলামে

নিজস্ব প্রতিবেদক

আমদানিকারক পাহাড়তলী থানাধীন উত্তর কাট্টলীর প্রতিষ্ঠান মেসার্স জি এম ইন্টারন্যাশনাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি করে প্রায় ১৫ বছর পর্যন্ত খালাস করা হয়নি ১২টি গাড়ি। গাড়িগুলোর মধ্যে কোনটি ব্যবহার উপযোগী থাকলে নিলামে তোলা হবে। আর জরাজীর্ণ হলে ধ্বংস করা হবে বলে জানা গেছে। এদিকে আমদানি করেও খালাস না পি সেডে থাকা ওই ১২টি গাড়ি চট্টগ্রাম বন্দরের অভ্যন্তর হতে সরানোর উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। ২০০৮ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে আনা এমন ১২টি গাড়ির বর্ণনামূলক তালিকা (ইনভেন্ট্রি) তৈরির কাজ শুরু করেছে চট্টগ্রাম কাস্টমস কর্তৃপক্ষের নিলাম শাখা। তবে ১২টি গাড়ির বর্ণনামূলক তালিকা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে গত ৪ নভেম্বর থেকে। যা রোববার (১৭ নভেম্বর) শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। অন্যদিকে গাড়িগুলো যদি উৎপাদনের ৫ বছরের মধ্যে আমদানি করা না হয় তবে নিয়ম অনুযায়ী নিষিদ্ধ হিসেবে বিবেচিত হবে। সেক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পত্র পাওয়া সাপেক্ষে নিলামে তোলা হবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম কাস্টমসের উপ-কমিশনার সাঈদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, তালিকায় একটি নষ্ট হয়ে যাওয়া কার রয়েছে। যেটির আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান নগরীর শেখ মুজিব রোডের প্রতিষ্ঠান মেসার্স কে কে অটোমোবাইলস। এটি ২০১৪ সালের অক্টোবরে আমদানি করা হয় এবং ২০১৫ সালের নভেম্বরে নিলামের জন্য কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এছাড়া তালিকায় একটি পিকআপ ও আরসি ভ্যান গাড়ি রয়েছে। যার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নাম জানা যায়নি। এরমধ্যে পিকআপটি ২০১০ সালের ডিসেম্বরে এবং আরসি ভ্যান গাড়িটি ২০১১ সালের জানুয়ারিতে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। এরপর খালাস না হওয়ায় এতো বছর ধরেই বন্দরের অভ্যন্তরে পড়ে রয়েছে।
চট্টগ্রাম কাস্টমসের ইনভেন্ট্রি তালিকা থেকে জানা যায়, ১২টি গাড়ির মধ্যে রয়েছে ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া একটি মাইক্রোবাস। যার আমদানিকারক পাহাড়তলী থানাধীন উত্তর কাট্টলীর প্রতিষ্ঠান মেসার্স জি এম ইন্টারন্যাশনাল। গাড়িটি খালাস না হওয়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০০৯ সালের মার্চে নিলামের জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে ওই গাড়িটি হস্তান্তর করে। এছাড়া রয়েছে ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমদানিকৃত একটি পিকআপ। যার আমদানিকারক নগরীর শেখ মুজিব রোডের প্রতিষ্ঠান মেসার্স হেলাল অটোমোবাইলস। গাড়িটি খালাস না হওয়ায় বন্দর কর্তৃপক্ষ ২০০৯ সালে নিলামের জন্য এটি কাস্টমসকে হস্তান্তর করে। অন্যদিকে তালিকায় রয়েছে দুটি কনটেইনার পরিবহনকারী যান প্রাইম মুভার। যার আমদানিকারক নগরীর মোমিন রোডের প্রতিষ্ঠান মেসার্স নাসিমা অটোস। গাড়ি দুটি ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। যা খালাস না হওয়ায় নিলামের জন্য কাস্টমস কর্তৃপক্ষকে ২০১৪ সালের জুলাইয়ে হস্তান্তর করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে আমদানি হওয়া ড্রাম ট্রাকও রয়েছে তালিকায়। যার আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান মেসার্স হাবিদ অটোস। এটিও কাস্টমসের কাছে ২০১৪ সালের জুলাইয়ে হস্তান্তর করা হয় নিলামের জন্য।
কাস্টমসের ইনভেন্ট্রি তালিকা থেকে আরো জানা যায়, ২০১১ সালের জুনে আমদানি হওয়া দুটি কার রয়েছে এই তালিকায়। যার একটির আমদানিকারক নগরীর শেখ মুজিব রোডের প্রতিষ্ঠান এইচ আর মোটরস এবং অন্যটির আমদানিকারক নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকার প্রতিষ্ঠান মেসার্স মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি। কার দুটি খালাস না হওয়ায় নিলামের জন্য ২০১১ সালের সেপ্টেম্বরে ও নভেম্বরে কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তালিকায় একটি জিপ গাড়িও আছে। যেটি ২০১৪ সালের এপ্রিলে আমদানি করে নগরীর শেখ মুজিব রোডের চিশতিয়া মার্কেটের প্রতিষ্ঠান মেসার্স এস এফ অটোমোবাইলস। নিলামের জন্য গাড়িটি ২০১৪ সালের জুলাইয়ে কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। ২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে আমদানি হওয়া আরেকটি পিকআপ রয়েছে তালিকায়। যার আমদানিকারক নগরীর শেখ মুজিব রোডের প্রতিষ্ঠান মেসার্স হেলাল অটোমোবাইলস। এটি নিলামের জন্য ২০০৯ সালের জুলাইয়ে কাস্টমসের কাছে হস্তান্তর করে বন্দর কর্তৃপক্ষ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ব্লাড ব্যাংকের যাত্রা শুরু ৪৬ বছরে পা রাখলো মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের ৪৬ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধন একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো মনিরুজ্জামান। এতে ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের যথাযথ ব্যবহার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের ডিভিশনাল ডিরেক্টর ডা. শেখ ফজলে রাব্বি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ডা. মাসুদ আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এ.এম. রায়হান উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. হাফিজুল ইসলাম। হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার মো.ইয়াছিন আরাফাতের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেবুন নেসা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান (মিজান) এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক।

সেমিনারে বক্তারা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় রক্ত ও রক্তজাত উপাদানের সঠিক ও প্রয়োজনীয় ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন। তারা বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. তাহমিদ জুনায়েদ মাহমুদ, ডা. সাফওয়ান মাহমুদ, মার্কেটিং ম্যানেজার রতন কুমার নাথ, বিডিএম ম্যানেজার গোলাম রব্বানী, সার্ভিস ম্যানেজার লুৎফুর রহমান, আই টি ম্যানেজার মোঃ উছা, সহকারী ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমানসহ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকবৃন্দ এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

অবৈধ স্থাপনা, খাল দখলের বিরুদ্ধে সতর্কবার্তা দিলেন চসিক মেয়র

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেছেন। এ সময় তিনি খাল-নালা পরিষ্কার কার্যক্রম তদারকির পাশাপাশি অবৈধ দখল ও নাগরিক অসচেতনতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। সোমবার সকালে মেয়র প্রথমে বহদ্দারহাট কাঁচা বাজার সংলগ্ন সড়ক পরিদর্শন করেন।

এ সময় সড়কের ওপর গড়ে ওঠা অবৈধ স্থাপনা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করে দ্রুত উচ্ছেদের নির্দেশ দেন মেয়র। পরে বহদ্দারহাট এলাকায় চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) চলমান খাল সংস্কার কাজ ঘুরে দেখেন এবং পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা বাঁধগুলো অপসারণের নির্দেশনা দেন। স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলের সুবিধার্থে সেখানে একটি বেইলি ব্রিজ নির্মাণেরও নির্দেশ দেন মেয়র।এরপর তিনি ৪ নম্বর চান্দগাঁও ওয়ার্ডের ফরিদার পাড়া এলাকায় পরিচালিত নালা ও খাল পরিষ্কার অভিযান পরিদর্শন করেন। পরে ৬ নম্বর ওয়ার্ডের খাজা রোড এলাকায় নালা-খাল পরিষ্কার কার্যক্রম পরিদর্শন করেন তিনি।

চসিক সূত্র জানায়, বর্ষা মৌসুমকে সামনে রেখে নগরীর বিভিন্ন ওয়ার্ডে মাসব্যাপী নালা-নর্দমা ও খাল পরিষ্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। জলাবদ্ধতা কমাতে মাঠপর্যায়ে তদারকি বাড়ানোর পাশাপাশি পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাকে সচল রাখতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আরো বলেন, শুধু প্রকল্প বাস্তবায়ন করলেই হবে না, নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। মানুষ যত্রতত্র ময়লা ফেললে খাল-নালা আবারও ভরাট হবে এবং জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হবে। পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে। নগরবাসীর সহযোগিতা ছাড়া স্থায়ী সমাধান সম্ভব নয়।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ