আজঃ বুধবার ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬

গাজীপুরে সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা মামলা: জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

সুরুজ্জামান রাসেল গাজীপুর প্রতিনিধি:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

গাজীপুর মহানগরের কাশিমপুর থানার সুরাবাড়ি গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধের তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া ও ঘটনাস্থলে অনুপস্থিত সাংবাদিকদের নামে কাশিমপুর থানার মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও সাংবাদিকদের ফাঁসানোয় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর ২০২৪) সকাল ১১টায় গাজীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয় প্রাঙ্গনে গাজীপুরে কর্মরত সাংবাদিকেরা মানববন্ধন ও গাজীপুরের জেলা প্রশাসক বরাবরে স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

মানববন্ধন চলাকালে সংবাদ সংস্থা এনএনবি’র সম্পাদক জুলীয়াস চৌধুরীর সভাপতিত্ত্বে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তারা বলেন, তদন্ত না করে সাংবাদিকদের নামে মামলাটি গ্রহণ করায় পুলিশের পক্ষপাতিত্বের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। বক্তারা সাংবাদিকদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোয় জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান

মানববন্ধন থেকে সাংবাদিকদের নামে মিথ্যা মামলা অবিলম্বে সম্পূর্ণরূপে প্রত্যাহার করার দাবি জানানো হয়। অন্যথায় কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে আল্টিমেটাম দেওয়া হয়।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুরাবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা দেওয়ান মোজাম্মেল হক একাধিক জাল দলিল তৈরি করে দখলকৃত জমি নিজের নামে নামজারি করিয়ে নেন। ওই জমিতে মো. মাহবুবুর রহমান বিশ্বাস পোল্ট্রি এন্ড ফিশ ফিডস্ লিমিটেডের নামে একটি বিতর্কিত প্রতিষ্ঠান চালু করেন। ওই জমির প্রকৃত মালিক হাবেল মিয়া ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা এই জালিয়াতি ঠেকাতে আদালতের দ্বারস্থ হন। আদালত যাচাই-বাছাই শেষে জমির জাল দলিল বাতিল করেন।

এরপর, হাবেল মিয়া গং জমি পুনরুদ্ধারের জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে মিস কেস দায়ের করেন (পিটিশন মোকদ্দমা নম্বর: ৫৪৮/২০২৪ এবং ৫৪৯/২০২৪)। ভূমি অফিস থেকে ২১ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে সরেজমিনে তদন্তের নোটিশ প্রদান করা হয়।

ভূমি অফিসের এই তদন্ত কার্যক্রম উপলক্ষ্যে দেওয়ান মোজাম্মেল হক ও তাঁর সহযোগীরা ২১ নভেম্বর ২০২৪ সকালে জমিতে ও জমির আশেপাশে সশস্ত্র লোকজন জড়ো করেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কায় বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহ করতে ঘটনাস্থলে যান এবং তথ্যচিত্র ও ভিডিও ধারণ করে ফিরে আসেন।

পরের দিন, ২২ নভেম্বর ২০২৪ ভোরে সাংবাদিকরা জানতে পারেন, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের কাশিমপুর থানায় গভীর রাতে মাহবুব গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের ফ্রোজেন ফুড শাখার পারচেজ অফিসার মো. শামীম হোসেন বাদী হয়ে একটি মামলা [নম্বর: ২৪/২৪০ (55GNM)] দায়ের করেছেন। মামলায় দৈনিক জনবাণী পত্রিকার গাজীপুর প্রতিনিধি নাশিদ আহমেদ তুষারকে ১৫ নম্বর আসামিকরা হয়। দৈনিক জনবাণী পত্রিকা ও চ্যানেল এস টেলিভিশনের কাশিমপুর প্রতিনিধি ও কাশিমপুর থানা প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মো. জামাল আহাম্মেদ প্রধানিয়াকে ২৯ নম্বর আসামি করা হয়। দৈনিক স্বাধীন বাংলা পত্রিকার স্টাফ রিপোর্টার মো. হাসমত হাসুকে ৩০ নম্বর আসামি করা হয়। গাজীপুর জেলার স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক কণ্ঠবানীর মফস্বল সম্পাদক নসির উদ্দিনকে করা হয় ৩২ নম্বর আসামি।

অদ্ভুত বিষয় হলো, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার খোরশেদ আলমেকে ১৬ নম্বর আসামি করা হয়। তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না। দৈনিক অগ্নিশিখা পত্রিকার কাশিমপুর প্রতিনিধি ও কাশিমপুর থানা প্রেসক্লাবের আইন বিষয়ক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন ফারুক, তিনিও ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন না, তাকে ৩১ নম্বর আসামি করা হয়।

তরিঘড়ি করে কাজ সারতে সকল সাংবাদিকেরই নামের ভুল বানান, আংশিক নাম ও মোবাইল ফোন নম্বর উল্লেখ করে মামলাটি দায়ের করা হয়।

দৈনিক জনবাণী পত্রিকা ও চ্যানেল এস টেলিভিশনের কাশিমপুর প্রতিনিধি ও কাশিমপুর থানা প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মো. জামাল আহাম্মেদ প্রধানিয়া বলেন, ‘প্রতিপক্ষের হামলার শিকার মো. মালেক ওরফে মালু’র ৯৯৯ এ ফোনের প্রেক্ষিতে কাশিমপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর ও দ্বিতীয় কর্মকর্তা বিপ্লব হোসেন ফারুক সঙ্গীয় পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। এর পর পরই ঘটনাস্থলে আসেন কাশিমপুর থানার সাব-ইন্সপেক্টর ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান। তখন থেকেই আমরা সাংবাদিকেরা তাদের (পুলিশ) সঙ্গে থেকে বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করি। এবং আমরা সাংবাদিকেরা পুলিশের সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থল ত্যাগ করি। তার পরও কেন আমাদের নামে মামলা হলো তা বোধগম্য নয়।

আরমান হোসেন, দৈনিক স্বাধীন বাংলার স্টাফ রিপোর্টার মো: হাসমত, দৈনিক স্বাধীন বাংলার সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার হোসনে আরা হীরা, দৈনিক জনবাণীর রিপোর্টার ও কাশিমপুর থানা প্রেসক্লাবের কোষাধ্যক্ষ মো: জামাল আহাম্মেদ প্রধানিয়া, দৈনিক স্বদেশ বিচিত্রার স্টাফ রিপোর্টার আব্দুর রাজ্জাক রাজু, দৈনিক এই বাংলার দপ্তর সম্পাদক (গাজীপুর) মো: নাসির উদ্দিন, দৈনিক সময়ের কণ্ঠের নিজস্ব প্রতিনিধি মো: হাসান আলি, সিএনএন বাংলা টিভির সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মো: হাইউল উদ্দিন খান, দৈনিক ভোরের ডাকের গাজীপুর মহানগর সংবাদদাতা মো: আল-আমিন হোসেন, মুভি বাংলা টিভির কাশিমপুর প্রতিনিধি আল মনসুর সরকার, বাংলা টিভির কাশিমপুর প্রতিনিধি মো: হাসান সরকার, টপ নিউজ প্রতিদিনের প্রকাশক সামছুদ্দিন জুয়েল, দৈনিক আজকের বাংলার গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মো: গোলাম রসুল (দিনার), দৈনিক সকালের সময়ের বাসন (গাজীপুর) প্রতিনিধি মো: সালাহ উদ্দিন আহমেদ, দৈনিক মুক্ত খবরের বিশেষ প্রতিনিধি মো: সাজুদ্দিন সরকার, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের রিপোর্টার মো: মেহরাব হোসেন, আমার প্রাণের বাংলা পত্রিকার বিশেষ প্রতিনিধি আবু সালেক ভুইয়া, দৈনিক একুশে সংবাদের বিশেষ প্রতিনিধি মো. রাজু আহাম্মেদ, দৈনিক আমাদের সময়ের কালীগঞ্জ প্রতিনিধি ও দৈনিক দেশান্তরের সম্পাদক ও প্রকাশক মো. রফিকুল ইসলাম রফিক।

উপস্থিত ছিলেন, এটিএন বাংলার গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি মাজাহারুল আলম মাসুম, দৈনিক কন্ঠবাণীর সম্পাদক জান-এ-আলম, দৈনিক ভয়েস অফ এশিয়ার স্টাফ রিপোর্টার এম.এ ফিরোজ (লাভলু), দৈনিক যায়যায়দিনের গাজীপুর মহানগর প্রতিনিধি বায়েজীদ হোসেন, দৈনিক মর্নিং গ্লোরির গাজীপুর জেলা প্রতিনিধি শফিকুল ইসলাম জিতু, গাজীপুর প্রেসক্লাবের সাবেক দপ্তর সম্পাদক জাহিদ হোসেন বকুল, গাজীপুর প্রেসক্লাবের সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মাসুদ রানা, ভাষাটিভির সম্পাদক আতিকুল ইসলাম, এবিসি নিউজের ফটোজার্নালিষ্ট স্বপন চন্দ্র দাস, জনতার ক্রাইমের সম্পাদক ও প্রকাশক মো: জাহাঙ্গীর আলম ভোরের কণ্ঠের সম্পাদক ও প্রকাশক মো. আব্দুল বারী, দৈনিক মাতৃজগতের স্টাফ রিপোর্টার শাহানাজ পারভীন, দৈনিক বর্তমান কথার স্টাফ রিপোর্টার মো: ফয়জুল ইসলাম আরিফ, দৈনিক বর্তমান কথার রিপোর্টার মো: মাহবুব আলম, আসক ফাউন্ডেশনের কেন্দ্রীয় কো-অর্ডিনেটর বাংলাদেশ ও দৈনিক সন্ধ্যাবাণীর ক্রাইম রিপোর্টার মোছা: নাছিমা আক্তার রেনু প্রমুখ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, যত পরিকল্পনা গ্রহণ করি, এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দুটি বিষয় কড়াকড়িভাবে নজর দিতে হবে। একটি হলো, মানুষের নিরাপত্তা। যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। অতীতে বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, আমাদের কেউ অন্যায় করলেও, আমরা ছাড় দিইনি। রোববার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে চট্টগ্রাম মহানগরের পলোগ্রাউন্ড মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, আগামীতে সরকারে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে। আরেকটি বিষয়টি হচ্ছে দুর্নীতি। বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে।


অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই আগামীতে দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। তারেক রহমান বলেন, আগামীতে বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন। ধানের শীষে ভোট দিন।
এবার ভোটের আগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন, তারপর কেন্দ্রে যাবেন। সেখানে ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। গত ১৫ বছর আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আবার এরকম একটি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই এবার ধানের শীষে ভোট দেন।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অনেক সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু তাতে কারও পেট ভরবে না। কারও লাভ হবে না। বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাই আমরা কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যাতে করে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পায়।


তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রামের একটি বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন খাল-নালা বন্ধ হওয়ার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আমরা খাল কাটতে চাই। আপনারা কী আমাদের সঙ্গে খাল কাটা কর্মসূচিতে যোগ দিতে চান?। চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড রয়েছে। যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো বিএনপির আমলে হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আবার আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেন, তাহলে আরও ইপিজেড করা হবে। সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম হবে বাণিজ্যিক রাজধানী।

ফরিদপুরে স্কুল শিক্ষার্থী সুরাইয়া হ-ত্যা-র বিচার দাবিতে হাজারো মানুষের অংশগ্রহণে মানববন্ধন।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পাবনার ফরিদপুর উপজেলায় অষ্টম শ্রেণীর শিক্ষার্থী মোছা. সুরাইয়া খাতুন হ-ত্যা-র প্রতিবাদ ও হ-ত্যা-র সাথে জড়িতদের ফাঁ-সি-র দাবিতে বি-ক্ষো-ভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।
ফরিদপুর উপজেলার জন্তিহার খেলার মাঠে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও গ্রামবাসীদের আয়োজনে এ মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়।


এ সময় জন্তিহার গ্রামের বাসিন্দা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রদল নেতা, শিক্ষক সাংবাদিক ও সমাজকর্মী এস এম নাহিদ হাসানের ছায়া নির্দেশনায়, মানববন্ধনে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কালিয়াকৈর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও ফরিদপুর উপজেলার জন্তিহার গ্রামের কয়েক হাজার মানুষ অংশগ্রহণ করে। ব্যানার-ফ্যাস্টুন হাতে ঘণ্টাব্যাপী চলা মানবন্ধনে বক্তারা নি-হ-ত সুরাইয়ার হ-ত্যা-র সাথে জড়িতদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের দাবি জানান। তা না হলে, আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষণা দেন বক্তারা।

আলোচিত খবর

গণভোটের পক্ষে-বিপক্ষে প্রচার করতে পারবেন না নির্বাচনি কর্মকর্তারা: ইসি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে দায়িত্বে থাকা কোনো নির্বাচনি কর্মকর্তা গণভোটে কোনো পক্ষেই প্রচারণা চালাতে পারবেন না বলে জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

তবে ভোটারদের গণভোটে অংশগ্রহণে উদ্বুদ্ধ করার অনুমতি থাকবে বলে জানিয়েছে কমিশন।
মঙ্গলবার ২৭ জানুয়ারি নির্বাচন ভবনের নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার।

তিনি বলেন-রিটার্নিং অফিসার কমিশনেরই লোক। সেজন্য আমাদের কাছে এলেও প্রাথমিক পর্যায়ে সেটা রিটার্নিং অফিসার আমাদের মাঠ পর্যায়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং ইলেক্টোরাল ইনকোয়ারি ও বিচারক কমিটি প্রত্যেকটা আসনে রয়েছে। আমাদের জয়েন্ট ডিস্ট্রিক্ট জাজ পর্যায়ের বিচারকরা রয়েছেন। তারা তাৎক্ষণিকভাবে সেগুলো আমলে নিচ্ছেন। তাদের বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।

মোবাইল কোড প্রতিদিনই মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে চলেছেন এবং প্রতিদিনই আমরা রিপোর্ট দেয়া হচ্ছে। এরই মধ্যে ৫০-৭০টি কেস রুজু হয়েছে। কোথাও জরিমানা হচ্ছে কোথাও শোকজ হচ্ছে। মানে কার্যক্রম একার্যক্রম জোরশোরে চলছে।

গণভোটের প্রচারের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার বলেন-আমাদের বক্তব্য হচ্ছে গণভোটের জন্য আমরা উদ্বুদ্ধ করছি। নির্বাচনি কাজের দায়িত্বে যারা থাকবেন, তারা আইনগতভাবে কোনো পক্ষে কাজ করবেন না। এটি রিটার্নিং অফিসার (জেলা প্রশাসক), অ্যাসিস্টেন্ট রিটার্নিং অফিসার (ইউএনও) এবং অন্যান্য যারা নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করবেন, তারা গণভোটের প্রচার করবে। কিন্তু পক্ষে-বিপক্ষে যাবে না।

সরকার এবং সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা গণভোটের ‘হ্যাঁ’ পক্ষে অবস্থান নিয়ে প্রচারণা করছেন। এটা আসলে কতটা আইনসঙ্গত বলে মনে করছেন? এমন প্রশ্নের জবাবে ইসির এই কর্মকর্তা বলেন-নির্বাচন কমিশনার হিসেবে আমি কোনো মন্তব্য করতে রাজি না। আমরা স্বাধীন। আমরা একটা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান। আমরা কারও কাছে দায়বদ্ধ না।

সিসিটিভির বিষয়ে তিনি বলেন -সিসিটিভির আপডেট এখনো আমাদের কমিশনে আসেনি। আমরা এটা ফিল্ড লেভেল থেকে তথ্য নিয়ে কতগুলো কেন্দ্রে সিসিটিভি স্থানীয়ভাবে দিতে পারতেছে বা পারে নাই, এই তথ্যগত বিষয়টা আমরা নেব। যেহেতু আরো সময় আছে সেই সময়ের ভেতরে এই তথ্য আমাদের কাছে আসলে আপনাদেরকে জানানো হবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ