আজঃ বৃহস্পতিবার ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

জামিন শুনানি হবে।। চিন্ময় ব্রহ্মচারীকে আসামি না করায় নাখোশ আইনজীবীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে চিন্ময়কাণ্ডে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যায় পরিবারের দায়ের করা মামলায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন সহকর্মীরা। মামলায় বহিস্কৃত ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে আসামি না করায় ক্ষোভও ঝেড়েছেন তারা। এদিকে বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও বহিষ্কৃত ইসকন নেতা চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদনের শুনানি হবে মঙ্গলবার।
চট্টগ্রাম মহানহর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার মফিজুর রহমান জানান, মহানগর দায়রা জজ মো. সাইফুল ইসলামের আদালতে ৩ ডিসেম্বর এই জামিন শুনানি হবে। আদালত সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, শুনানির এই দিন আগেই ধার্য হয়েছিল। বুধ ও বৃহস্পতিবার আইনজীবীদের আদালত বর্জন ও কর্মবিরতি কর্মসূচি পালিত হয়। সপ্তাহ শেষে রোববার আদালতের কার্যক্রম শুরু হলে শুনানির তারিখ জানা যায়।এর আগে ২৬ নভেম্বর রাষ্ট্রদ্রোহের এ মামলায় জামিন নাকচ করে চিন্ময় দাশকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন চট্টগ্রামের ষষ্ঠ মহানগর হাকিম আদালতের বিচারক কাজী শরীফুল ইসলাম। ওই আদেশের পর আদালত প্রাঙ্গণে প্রিজন ভ্যান ঘিরে বিক্ষোভ করে সনাতনী সম্প্রদায়ের লোকজন। আড়াই ঘণ্টা পর পুলিশ সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে চিন্ময় দাশকে কারাগারে নিয়ে যায়।
অন্যদিকে রোববার দুপুরে আদালত প্রাঙ্গণে আইনজীবীরা শোকর‌্যালি বের করেন। র‌্যালি শেষে সংক্ষিপ্ত সভায় জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি এড. নাজিম উদ্দিন চৌধুরী তাঁর বক্তব্যে চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীকে আসামী না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
আইনজীবী নেতা নাজিম বলেন, ইসকনের সন্ত্রাসী চিন্ময় দাসকে গ্রেফতার করা নিয়ে গত ২৬ নভেম্বর এই কোর্ট বিল্ডিংয়ে পর্যায়ক্রমে যে ঘটনাগুলো হয়েছে এবং এড. সাইফুল ইসলাম আলিফকে হত্যার পর যে মামলাগুলো করা হয়েছে প্রতিটি মামলায় চিন্ময় দাসকে আসামি করতে হবে। গতকাল যে মামলা হয়েছে আমরা মনে করি সমস্ত মামলায় চিন্ময় দাসকে এক নম্বর আসামি করতে হবে। আমরা আইনজীবীরা মানবো না যদি চিন্ময় দাসকে এক নম্বর আসামি করা না হয়।
‘চিন্ময়কাণ্ডে’ পুলিশকে ফের দোষারোপ করে আইনজীবী সমিতির শীর্ষ এ নেতা বলেন, আমি সবসময় বলে এসেছি, ঘটনার জন্য পুলিশকে দায়ী করি। আমরা চট্টগ্রামে অনেক রাজনৈতিক নেতাকে গ্রেফতার করে আনতে দেখেছি। পুলিশ তাদের রাজনৈতিক সমর্থক কাউকে কাছে ভিড়তে দেয়নি। কিন্তু চিন্ময় দাসকে যখন প্রিজন ভ্যানে তোলা হল তখন এই চিন্ময়ের সন্ত্রাসী সমর্থকরা গাড়ি আটকে রেখেছিল। আমরা দেখেছি, চিন্ময় দাস পুলিশের মাইক ব্যবহার করেছে। সেই মাইক ব্যবহার করে উস্কানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। চিন্ময় দাসের ওই বক্তব্যের পরে, তার নির্দেশনার মধ্য দিয়ে পর্যায়ক্রমে সমস্ত ত্রাস, ভাঙচুর, মসজিদে হামলা, তাণ্ডব—সর্বোপরি আমার ভাই আলিফকে হত্যা করেছে।
আইনজীবী আলিফ হত্যা মামলার চার্জশিট দ্রুত দেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, যে হত্যা মামলা হয়েছে সেই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ রয়েছে। এছাড়া প্রত্যক্ষদর্শী-সাক্ষী রয়েছে। আমি পুলিশকে অনুরোধ করবো—এই মামলার চার্জশিট দিতে দেরি হওয়ার কথা নয়। যারা গ্রেফতার হয়নি; তাদের গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনুন। আমরা আমাদের প্রিয় ভাই আলিফের হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত ঘরে ফিরে যাব না।
এর আগে, আইনজীবী আলিফ হত্যার প্রতিবাদে বুকে কালোব্যাচ ধারণ করে তাঁর সহকর্মীরা একটি শোকর‌্যালি করেন। এটি আদালত চত্বরের সোনালি ব্যাংক কার্যালয়ের সামনে থেকে লালদিঘী, হকার্স মার্কেট ঘুরে আদালত চত্বরের দোয়েল ভবনের সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় তাঁরা ‘চিন্ময় জঙ্গি, দিল্লির সঙ্গী’, ‘আমার সোনার বাংলায়, ইসকনের ঠাঁই নাই’ এসব স্লোগান দিতে থাকেন।
তবে গত ২৬ নভেম্বর আইনজীবী আলিফ হত্যার ঘটনায় ২৭ এবং ২৮ নভেম্বর জেলা আইনজীবী সমিতির কর্মসূচি অনুযায়ী কর্মবিরতি পালন করেছেন চট্টগ্রাম আদালতের আইনজীবীরা। পরবর্তীতে ২৯ এবং ৩০ নভেম্বরও ছিল সরকারি ছুটি। কর্মবিরতি পালনকালীন আদালতের সব কার্যক্রম বন্ধ থাকায় কোনো মামলার শুনানি হয়নি। মামলাগুলোর আদেশ শুনানি রাখা হয়েছিল পরবর্তী তারিখে। সেসময় আগেভাগে জানা বিচারপ্রার্থীরা সেবা নিতে না গেলেও অনেকেই গিয়ে ফিরে গেছেন।
চারদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকলেও রোববার সকালে থেকে আবারও কাজে যোগ দিয়েছেন আইনজীবীরা। সরেজমিনে সকাল ১০টার দিকে আদালত ভবনে গিয়ে দেখা যায়, প্রতিটি এজলাসের সামনে ছিলেন বিচারপ্রার্থী এবং বিভিন্ন আসামির স্বজনদের ভিড়। সময়মতো হয়েছে বিভিন্ন মামলার শুনানিও।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ১৬টি থানার বিপরীতে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত আছে ৮টি। সকাল সোয়া ১০টার দিকে দ্বিতীয় তলায় এসব আদালতে গিয়ে দেখা গেছে, আইনজীবীরা তাদের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। প্রতিটি এজলাসের বাইরেই ছিল বিচারপ্রার্থীদের জটলা। কেউ এসেছেন জামিন নিতে আবার কেউ এসেছেন সাক্ষী দিতে।
বিবি কুলসুম নামে এক বিচারপ্রার্থী বলেন, আমার ছেলে পাঁচলাইশ থানার একটি মাদক মামলায় কারাগারে আছে। আইনজীবীর মাধ্যমে জামিন আবেদন করা হয়েছে। গত ২৮ তারিখ জামিন শুনানির দিন ধার্য্য ছিল। কিন্তু আইনজীবীদের কর্মবিরতি ছিল ওইদিন। আইনজীবী আজ আসতে বলায় এসেছি।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) মফিজ উদ্দিন বলেন, কর্মবিরতি এবং সরকারি ছুটি মিলিয়ে চারদিন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় বিচারপ্রার্থীদের আনাগোনা বেড়েছে। আর আজ আইনজীবীরা কাজে যোগ দেয় আদালত ভবনের কর্মচাঞ্চল্যতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন মামলার শুনানিও সময়মতো হচ্ছে।
জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি নাজিম উদ্দিন চৌধুরী বলেন, যেহেতু চারদিন কার্যক্রম বন্ধ ছিল তাই আজ একটু চাপ বেশিই ছিল। তবে আটকে থাকা শুনানি কার্যক্রম প্রায়ই শেষ হয়েছে। আর সামনে অবকাশকালীন ছুটিতে আদালত বন্ধ থাকবে। তাই বাকিগুলোও দ্রুত শেষ করা হবে।
এর আগে গত মঙ্গলবার কোতোয়ালী থানায় বিএনপির সাবেক এক নেতার দায়ের করা রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেফতার চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের জামিন নামঞ্জুর করা হয়। পরে তাকে কারাগারে পাঠানোর জন্য প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়। তখন চিন্ময়ের অনুসারীরা প্রিজন ভ্যান আটকে দেন। তাঁরা এ সময় প্রায় তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন। একপর্যায়ে পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) লাঠিপেটা করে ও সাউন্ড গ্রেনেড ছুড়ে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সঙ্গে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারীদের সংঘর্ষ হয়। পরে চট্টগ্রাম আদালত ভবনে প্রবেশপথের বিপরীতে রঙ্গম সিনেমা হল গলিতে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়।
এর প্রতিবাদে ওইদিন রাতেই কর্মবিরতির ঘোষণা দেন জেলা আইনজীবী সমতির নেতৃবৃন্দ। পরে কর্মবিরতি আরও একদিন বাড়িয়ে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত করা হয়। রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাশ ব্রহ্মচারীর জামিন আবেদনের শুনানি মঙ্গলবার মহানগর দায়রা জজ মো. সাইফুল ইসলামের আদালতে হওয়ার কথা রয়েছে।
চিন্ময়কাণ্ডে আদালত এলাকায় সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও পুলিশের কাজে বাধাদানের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করেছে। এছাড়া গত শনিবার আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফের বাবা বাদী হয়ে ৩১ জনের নাম উল্লেখ করে একটি হত্যা মামলা এবং পাশাপাশি আলিফের ভাই খানে আলম বাদী হয়ে যানবাহন ভাঙচুর ও জনসাধারণের উপর হামলার ঘটনায় ১১৬ জনকে আসামি করে বিস্ফোরক আইনে আরেকটি মামলা করেছেন নগরের কোতোয়ালী থানায়।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করলেন মার্কিন রাষ্ট্রদূত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম মহানগরের দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত ওয়ার সেমেট্রি পরিদর্শন করেছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এ পরিদর্শন কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়। পরিদর্শনকালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে আত্মোৎসর্গকারী শহীদ সেনাদের স্মৃতির প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এ সময় চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

মতবিনিময়কালে ওয়ার সেমেট্রির ঐতিহাসিক গুরুত্ব, সংরক্ষণ ব্যবস্থা, নান্দনিক পরিবেশ এবং পরিবেশগত দিক নিয়ে আলোচনা হয়। এ সময় রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি. ক্রিস্টেনসেন চট্টগ্রাম নগরের উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ, স্বাস্থ্যসেবা ও নাগরিক সেবাখাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতার সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করেন বলে জানা যায়।

বোয়ালখালীতে অবৈধ ব্রিজ নির্মাণ বন্ধ করলেন ইউএনও।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রাম কসকবাজার আরকান সড়কের বোয়ালখালীর গোমদণ্ডী ফুলতলার দক্ষিণ পাশে রায়খালী খালের ওপর অবৈধভাবে একটি পাকা ব্রিজ নির্মাণের কাজ বন্ধ করে দিয়েছে উপজেলা প্রশাসন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খালের ওপর অনুমোদনহীনভাবে ব্রিজটি নির্মাণ করা হলে বর্ষা মৌসুমে খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে মারাত্মক প্রতিবন্ধকতার ও ভয়াবহ বন্যা সহ জলাবদ্ধতার ঝুঁকি দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে একই সাথে চাষবাদ ব্যাপক ক্ষতির ঝুঁকি মধ্যে রয়েছে ।

বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) অবৈধ ব্রিজ নির্মাণের কয়েকটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করা হলে বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে এবং উপজেলা প্রশাসনের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে রবিবার (২৫ জানুয়ারি) বিকেলে বোয়ালখালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) কানিজ ফাতেমা ঘটনাস্থলে সরেজমিনে পরিদর্শনে করেন ।

পরিদর্শনকালে তারা খালের ওপর অবৈধভাবে ব্রিজ নির্মাণের সত্যতা পান। এ সময় খালের স্বাভাবিক পানি প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে নির্মাণকাজের অপচেষ্টা পরিলক্ষিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের নিজ দায়িত্বে সোমবারের মধ্যে নির্মাণাধীন ব্রিজটি অপসারণ বা ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন প্রশাসন ।


এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মেহেদী হাসান ফারুক জানান, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে নির্দেশনা প্রতিপালন না করা হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তিনি আরও বলেন, জনস্বার্থ রক্ষা ও জলাবদ্ধতা নিরসনে উপজেলা প্রশাসন সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে রয়েছে।

আলোচিত খবর

ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

অনেক জল্পনা – কল্পনার অবসান ঘটিয়ে প্রায় দুই দশক ধরে ব্যাপক আলোচনার পরে ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। ভারত-ইইউ মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত হল যখন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ব্যবসা- বাণিজ্যে সম্পর্কের টানাপড়েন চলছে। এই চুক্তির মধ্যদিয়ে ইউরোপের ২৭টি দেশের সঙ্গে জনসংখ্যার বিচারে বিশ্বের বৃহত্তম দেশ ভারতের পণ্যের মুক্ত বাণিজ্য চলবে। ভারত এবং ইইউ সম্মিলিতভাবে বিশ্বের ২৫ শতাংশ মোট দেশজ উৎপাদন তাদের দখলে রেখেছে। দু’পক্ষের কাছে আছে দুশো কোটি ক্রেতার এক অতি বৃহৎ বাজার।

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট এবং ইইউ-র সদস্য দেশগুলি এই চুক্তিতে মান্যতা দিলে তারপরেই এবছরেরই পরের দিকে চুক্তি সই হতে পারে।এই চুক্তি বাস্তবায়িত হলে বিভিন্ন পণ্য ও পরিষেবায় বিপুল অঙ্কের শুল্ক কম হবে, আবার সামরিক ক্ষেত্রেও ভারত আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে।

ইউরোপীয় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট এন্তোনিয়ো লুই সান্তোস দ্য কোস্টা এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উর্সুলা ভন ডের লেয়ন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দিল্লিতে এক শীর্ষ বৈঠকে মিলিত হন।ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন – আজ ভারতের ইতিহাসে বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করেছে। আজ ২৭ তারিখ আর এটা অত্যন্ত আনন্দের সংবাদ যে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭টি দেশের সঙ্গে ভারত এই মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সম্পন্ন করল।
সংগৃহীত –

আরও পড়ুন

সর্বশেষ