আজঃ বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

হালদার চরে শত শত একর জমিতে মরিচ চাষ, বাম্পার ফলন

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র হালদা নদীর তীরে মরিচের বাম্পার ফলন হয়েছে। এতে কৃষকের মনে খুশির জোয়ার বইছে। শুধু নদীর তীর নয়, নদীর জেগে উঠা চরেও মরিচের চাষাবাদ করেন কৃষকরা। এখানকার উৎপাদিত মরিচ অন্য এলাকার জমি থেকে উৎপাদিত মরিচের চেয়ে কদর বেশি। সুস্বাদু রান্নার প্রধান উপাদান মসল্লা। মসল্লার প্রধান উপকরণ শুকনো মরিচ।হালদার পাড়ের লাল মরিচ এখন দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জিত হয়। ভারত, পাকিস্তান শ্রীলঙ্কা, সৌদি আরব ও দুবাইয়ে হালদা নদীর তীরের উৎপাদিত মরিচের সুনাম রয়েছে। প্রবাসীরা দেশে ছুটি শেষ করে প্রবাসে যাওয়ার সময় তারা ব্যাপক পরিমাণ এখানকার উৎপাদিত লাল মরিচ ক্রয় করে মিলে গুঁড়ো করে নিয়ে যান।
গত মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা গেছে, চট্টগ্রাম জেলার রাউজান উপজেলার নোয়াজিশপুর ইউনিয়নের পশ্চিম ফতেহ নগর, নদীম পুর, ইন্দিরা ঘাট, গহিরা ইউনিয়নের কাজী পাড়া, কোতোয়ালী ঘোনা, রাউজান পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের বদুর ঘোনা, মঘাশাস্ত্রি বড়ুয়া পাড়া, অংকুরী ঘোনা, পশ্চিম গহিরা বড়ুয়া পাড়া, দক্ষিন গহিরা, মোবারক খীল জামতল, পশ্চিম বিনাজুরী, কাগতিয়া,কাসেম নগর, গোলজার পাড়া, আজিমের ঘাট, ডোমখালী, মগদাই, পশ্চিম আবুর খীল, খলিফার ঘোনা, উরকিরচর, মইশকরম, হারপাড়া, সার্কদা, মোকামী পাড়া, কচুখাইন, হাটহাজারী উপজেলার ফরহাদাবাদ, ধলই, লাঙ্গলমোড়া, ছিপাতলী, মেখল, মির্জাপুর, গুমানমর্দন, গড়দুয়ারা, মাদ্রাসা, দক্ষিন মার্দ্রাসা এলকায় হালদা নদীর তীরে ফসলি জমিতে শুস্ক মৌসুমে মরিচ চাষাবাদ করেছেন কৃষকরা। কৃষকরা হালদা নদী থেকে সেচের মাধ্যমে পানি ব্যবহার করেন মরিচ ক্ষেতে।
রাউজান উপজেলা কৃষি অফিসার মাসুম কবির বলেন, রাউজানের বিভিন্ন এলাকায় দুইশত ত্রিশ হেক্টর জমিতে মরিচ ক্ষেতের চাষাবাদ করেছেন কৃষকরা। তার মধ্যে হালদা নদীর তীরের ১ শত হেক্টর ফস্ল জমিতে মরিচ ক্ষেতের চাষাবাদ করছেন কৃষকরা। প্রতি হেক্টর মরিচ চাষাবাদ করতে খরচ হয় আটার হাজার পাঁচশত টাকা। প্রতি হেক্টর মরিচ ক্ষেতের ফলন থেকে কাচাঁ মরিচ উৎপাদিত হয় পাচঁ মেট্রিক টন। উৎপাদিত কাচাঁ মরিচের বর্তমান বাজার মুল্য অনুসারে বিক্রি করে দুই লক্ষ নব্বই হাজার টাকা আয় করেন তারা। প্রতি হেক্টর মরিচ ক্ষেতের জমি থেকে শুকনা মরিচ উৎপাদিত হয় এক মেট্রিক টন। প্রতি হেক্টরের উৎপাদিত এক মেট্রিক টন শুকনা মরিচ বর্তমান বাজার মুল্য অনুসারে বিক্রি করে কৃষকেরা তিন লক্ষ ত্রিশ হাজার টাকা আয় করেন বলে উপজেলা কৃষি অফিস জানায়।
হালদা পাড়ের মরিচ চাষি নুরুল আলমের সাথে কথা বলে জানা যায় আমাদের হালদা পাড়ের লাল মরিচ খুব সুস্বাদু ও ঝাল-মিষ্টি। তাই দেশ-বিদেশে সুনাম অর্জন করেছে। তিনি বলেন, আমি গত বছর ৬০ শতক জমিতে চাষ করেছি। ফলনও খুবই ভালো হয়েছে। এবছরও ৮০ শতক জমিতে মরিচ ক্ষেতের চাষাবাদ করেছি ।
হাটহাজারী পুর্ব জেবরা মিঠাছড়ার কুল এলাকার বাসিন্দা নজরুল ইসলাম সওদাগর বলেন, মিঠছড়া খালের পাড়ে ৮ শতক জমিতে উন্নত জাতের মরিচ ক্ষেতের চাষাবাদ করেছি। ৮ শতক জমিতে মরিচ ক্ষেতের চাষাবাদ করতে ১৩ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। গাছে মরিচ ধরেছে। হাটহাজারী উপজেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের দেওয়া তথ্যমতে হাটহাজারী উপজেলার হালদা নদীর তীরের ফসলি জমিতে প্রতিবছর ২২০ হেক্টর জমিতে হালদা মরিচ চাষ হয়। আবার হালদা নদীর বাইরেও ভালো মরিচ চাষ হয়ে থাকে। সেগুলোও মিষ্টি ও সুস্বাদু। হাটহাজারী বাজারে প্রতি রোববার ও বৃহস্পতিবার বাজার বসে। এই দুইদিন দেশের বিভিন্ন জেলা হতে আগেভাগে মরিচ ক্রেতারা চলে আসে মরিচ কিনতে।
জানা গেছে, পাইকারি বিক্রেতারা হাটহাজারী বাজার থেকে ক্রয় করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তারা মেশিনে সেগুলো প্যাকেটজাত করে। বিশেষ করে হাটহাজারির বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকেরা হালদা নদীর চরে শত শত একর জমিতে মরিচ চাষ করে থাকেন।
মৌসুমী প্রাকৃতিক অবস্থা ভালো থাকলে মরিচ চাষিরা প্রতি মৌসুমে ৭০ হাজার থেকে প্রায় এক লক্ষ টাকার উপর পর্যন্ত মরিচ বিক্রি করে থাকে। এই লাল মরিচ চাষের শুরুতে প্রায় বিশ থেকে ত্রিশ হাজার টাকার মতো ব্যয় হলেও লাভ হয় তার দ্বিগুণ। সপ্তাহে দুইদিন হাটহাজারী নাজিরহাট কাটিরহাট বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় বাজার বসে ব্যবসায়ীরা হাটহাজারীতে এসে পাইকারি মূল্য মরিচ কিনে নিয়ে যান। রাউজানের হাট বাজারেও হালদা এ মরিচ বিক্রয় করেন কৃষকরা।
হাটহাজারী ও রাউজান উপজেলার অন্যান্য বাজারগুলোর চেয়ে হাটহাজারী বাজারে অতি শুলভ মূল্যে এখানকার মরিচ পাওয়া যায়। হাটহাজারীর হালদা পাড়ের লাল মরিচ প্রায় প্রতিকেজি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। বেশি চাহিদার কারণে এই মরিচের মূল্য বেশি বলে জানান ব্যবসায়ী ও কৃষকরা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভাঙ্গুড়ায় অবৈধভাবে মাটি কাটার অভিযোগে ৪ জনকে অর্থদন্ড ও কারাদণ্ড।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়নের মাগুড়া গ্রামে বকার বিলে অভিযান পরিচালনা করেন ভাঙ্গুড়া উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান।এই অভিযানে ফসলি জমির মাটি বিক্রি করার অভিযোগে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা সহ চারজন কে অর্থদন্ড ও কারাদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।


সাজাপ্রাপ্তরা হলেন- উপজেলা কৈডাঙ্গা নতুনপাড়া গ্রামের মৃত মকবেল প্রামাণিকের ছেলে ইকবাল হোসেন (৩২) ও মৃত আবু তাহের খাঁর ছেলে মিজানুর রহমান (৪৩), মাগুড়া গ্রামের পূর্বপাড়ার মো. আসাদুজ্জামানের ছেলে মো.নাইমুল ইসলাম সুজন (২৪) এবং দণ্ডপ্রাপ্ত সুজন খান (২৮) পুঁইবিল গ্রামের মো. সুলতান খানের ছেলে।তিনি দিলপাশার ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েকদিন ধরে ভাঙ্গুড়া উপজেলার দিলপাশার ইউনিয়ন মাগুড়া গ্রামের বকার বিলে অবৈধভাবে ফসলি জমির মাটি কেটে দেধারছে বিক্রি করছে। এমন খবরের ভিত্তিতে মঙ্গলবার বিকালে সেখানে অভিযান চালিয়ে চার জন কে গ্রেফতার করে ভাঙ্গুড়া থানা পুলিশ।

এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত বসিয়ে দিলপাশার ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মো.সুজন খানকে ৫০ হাজার টাকা অর্থদন্ড ও অন্যদের কে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।ভাঙ্গুড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস,এম মোস্তাফিজুর রহমান চার জন কে অর্থদন্ড ও কারাদণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

ভাঙ্গুড়া উপজেলার সহকারি কমিশনার(ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মিজানুর রহমান বলেন, বালুমহাল এবং মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ২০১০ এর ১৫(১) ধারায় এসব ব্যক্তিদের অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। ফসলি জমি রক্ষায় এ অভিযান অবশ্যই অব্যাহত থাকবে।

আজ নির্বাচনি ইশতেহার ঘোষণা করবে জামায়াত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে আজ ইশতেহার ঘোষণা করবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি গণমাধ্যমে পাঠানো এক আমন্ত্রণপত্র থেকে এ তথ্য জানা যায়।আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়েছে, বুধবার ৪ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে জামায়াতের নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করা হবে।

আলোচিত খবর

র‌্যাব নাম বদলে হচ্ছে এসআইএফ।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতিসংঘের পাশাপাশি বিভিন্ন মানবাধিবকার সংগঠন বহুদিন ধরে পুলিশের বিশেষ বাহিনী র‌্যাব বিলুপ্ত করার আহ্বান জানিয়ে এলেও তার বদলে নাম বদলের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান বা র‌্যাবের নতুন নাম হবে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স বা এসআইএফ।

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির সভা শেষে তিনি সাংবাদিকদের বলেন-ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে প্রধান উপদেষ্টা অনুমোদন দিয়েছেন। শিগগিরই একটি সরকারি আদেশ জারি হবে।নামের সঙ্গে পোশাকেও পরিবর্তন আসছে জানিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন-ইতোমধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসআইএফ সদস্যদের নতুন পোশাকে দেখতে পাবেন।বিএনপি নেতৃত্বাধীন চার দলীয় জোট সরকারের সময়ে জঙ্গিবাদের উত্থান ও আইনশৃঙ্খলার ক্রমাগত অবনতির মধ্যে ২০০৪ সালের ২৬ মার্চ পুলিশ, সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমান বাহিনী, আনসার ও ভিডিপি, বিজিবি ও কোস্ট গার্ড সদস্যদের নিয়ে র‌্যাব গঠিত হয়।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ