আজঃ মঙ্গলবার ২২ এপ্রিল, ২০২৫

রেলওয়ে জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের অন্যরকম এক সমুদ্র বিলাস কক্সবাজারে

বিনোদন প্রতিবেদক:

 

রেলওয়ে জার্নালিস্ট এ্যসোসিয়েশন (আরজেএ) আয়োজিত বার্ষিক বনভোজন উপলক্ষে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে (কক্সবাজার) নবীন-প্রবীণ সাংবাদিকদের উপস্থিতি, যেন মিলন মেলায় রুপান্তরিত হয়েছে।  কক্সবাজারের পাটোয়ার টেক সী বিচ, কলাতলী সী বিচ, লাভনী পয়েন্ট সী বিচ, সুগন্ধা বিচ ও ইনানী বিচসহ বিভিন্ন পয়েন্টে দুদিনব্যাপী উৎসবে মাতিয়েছেন বিভিন্ন মিডিয়ায় কর্মরত একঝাঁক পেশাদার সাংবাদিক।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, দৈনিক সকালের সময়’র চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান এস এম পিন্টুর নেতৃত্বে গত ৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে নগরীর টাইগারপাস থেকে পিকনিক স্পটের উদ্দেশে আরজেএ’র সদস্যদের নিয়ে প্রথম গাড়িটি কক্সবাজারের উদ্দ্যেশে রওনা হয়।  ঠিক ২৫ মিনিট পরে নগরীর মুরাদপুর থেকে দ্বিতীয় গাড়িটি পিকনিক স্পটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

 

আরজেএ লঘু সম্বলিত সাদা টি-শার্ট পড়ে গল্প,কবিতা, গান আর আড্ডায় দুটি গাড়ি মাতিয়ে রাখেন সংগঠনের সদস্যরা।  তবে প্রতিটি আনন্দঘন মুহুর্তে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমকে মিস করেছে বনভোজন আয়োজন কমিটি ও সদস্যগণ।  সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বনভোজনের গাড়ি দুটি থামেন চকরিয়ায়। প্রথম বিরতি।  হাল্কা নাস্তা, ফটোসেশন আর ৩০ মিনিটের আড্ডা শেষে গাড়ি দুটি ফের ছুটে চলে পিকনিক স্পটের দিকে।

 

বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পৌঁছে যায় গন্তব্যে।  এরপর ওয়াল্ডবিচ রিসোর্টে যার যার কক্ষ বুঝে নেন বার্ষিক বনভোজনে অংশ নেওয়া আরজেএ’র সদস্যগণ।  ফ্রেশ হয়ে দুপুর দেড়টার সময় মধ্যাহ্নভোজের জন্য সাংবাদিকরা আবারও মিলিত হন তারকামানের একটি হোটেলে।  খাবারের মেন্যু হিসেবে পছন্দের তালিকায় ছিল হরেক রকমের মজাদার ভোজ, যার যার পছন্দ অনুযায়ী মেনু নির্বাচন ।

খাওয়া দাওয়ার পালা শেষ।  এবার দর্শনীয় স্থান পরিদর্শণের পালা।  দুটো গাড়ি প্রথমে ছুটে চলে বাংলাদেশের প্রথম আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনের দিকে।  বেলা সাড়ে ৩টার দিকে গাড়ি দুটি এসে থামেন কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে।  সাংবাদিকরা দল বেঁধে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কক্সবাজার জেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের চান্দের পাড়ায় অবস্থিত ছয়তলা বিশিষ্ট রেলওয়ে স্টেশনটি ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং যে যার মতো করে সংবাদ প্রকাশের জন্য তথ্য সংগ্রহ করে ও ফটোসেশন করে স্মৃতিগুলো ধরে রাখার চেষ্টা করেন।

 

এরমধ্যেই সময় হয়ে এসেছে সূর্যাস্তের।  পশ্চিম আকাশে সূর্য লাল আভা ছড়িয়ে ডুব দেওয়ার মুহূর্তটি যেন মিস না হয় সেজন্য আবারও গাড়ি দুটি ছুটলো বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে।  ১৫ মিনিটের মধ্যেই পৌছে যায় গন্তব্যে।

 

এরপর বৈকালিক নাস্তা শেষে বালিপথ মাড়িয়ে সৈকতের কাছে এসে ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনে ছবি এবং ভিডিও ধারণ করে আনন্দ উল্লাসে সময় কাটান গণমাধ্যমকর্মীরা।

 

এক ঝাঁক পেশাদার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সৈকতও যেন প্রাণ ফিরে পায়।  বনভোজন স্পটে ছোটছোট বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে কিছু সময় ঘুরাঘুরি এবং ফটোসেশান করেন আরজেএ’র সদস্যরা।

 

এসময় তাঁরা আগত পর্যটক, কর্তৃপক্ষ ও সৈকতে দায়িত্বরত প্রশাসনের সাথে কথা বলে নিউজের জন্য ছবি তোলে, ভিডিও ধারণ করে এবং বিভিন্ন তথ্যাদী সংগ্রহ করে মোবাইলে সংরক্ষণ করেন।

 

পিকনিক স্পটে পৌঁছে সাংবাদিকরা মেতে ওঠে নানান আনন্দ আয়োজনে।  কেউ কেউ মজেছেন নানা পদের খাবার-দাবারে।  এক পর্যায়ে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে।  সকলে ফিরে যায় হোটেলে।  কিছুটা বিশ্রাম শেষে কক্সবাজারের বিখ্যাত আল গণি রেস্তোঁরায় ডিনার সেরে প্রথমদিনের আনন্দ আয়োজনের ইতি টানেন পিকনিক আয়োজক কমিটি।

পরদিন বুধবার (৮ জানুয়ারি) ঘড়ির কাঁটা যখন সকাল সাড়ে ৯টা।  তখন সবাই প্রস্তুত।  এরমধ্যেই পিকনিক আয়োজন কমিটি বনভোজনে অংশগ্রহণ করা সকল সদস্যদের হাতে তুলে দেন চমৎকার উপহার।  এরপর সকালের নাস্তা সেরে সৈকতের অন্যতম দর্শনীয় স্থান ইনানির উদ্দ্যেশে রওনা হয় রেলওয়ে জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের বহনকারী গাড়ি দুটি।

 

মেরিন ড্রাইভ রোড ধরে চলছে।  দরিয়া নগর, হিমছড়ি ঝর্ণা ও পাহাড় ও ইনানী র‍য়েল রিসোর্টসহ বিভিন্ন পিকনিক স্পটেই মাঝে মাঝে থামছে গাড়ি।  ঘুরে ঘুরে ব্যস্ত সময় পার করছেন সাংবাদিকগণ।  কেউ কেউ দলবেঁধে পিকনিক স্পটের সীমানা পেরিয়ে চলে যাচ্ছেন সৈকতে।  ঘোরাঘুরির সঙ্গে চলতে থাকে সেলফিও।

সিনিয়ররা জড়ো হয়ে মেতে উঠেছেন খোশগল্পে।  তাদের আড্ডায় পারিবারিক বিষয়ের সঙ্গে পেশাজীবনের বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা উঠে আসছে আড্ডায়।  আবার কেউ কেউ বয়সকে দূরে ঠেলে মেতে ওঠেছেন কৈশোরের দুরন্তপনায়।

 

বুধবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে কক্সবাজার সৈকতের পাটুয়ার টেক পিকনিক স্পটের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে করতেই বনভোজনের সংক্ষিপ্ত অনুভুতি প্রকাশ করেন আরজেএ’র সদস্যরা।  সংগঠনের সদস্য প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার আশিক আরেফিন ও সিএইচডি অনলাইন পোর্টালের মুন্নার সঞ্চলনায় প্রথমে অনুভুতি প্রকাশ করেন আরজেএ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম পিন্টু।


এরপর একে একে অনুভুতি প্রকাশ করেন জ্যৈষ্ঠ সাংবাদিক কামাল পারভেজ, মো. জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের আব্দুল মতিন চৌধুরী রিপন, দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার রাজীব সেন প্রিন্স, আমাদের নতুন সময়ের এম আর আমিন,  দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের মোস্তাফা জাহেদ, সরেজমিন বার্তার গাজী লিটন, দৈনিক সাঙ্গুর জাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ টুডের মাজহার রানা, আরাফাত কাদের, রাকিব উদ্দিন, আবুল হাসনাত মিনহাজ, আব্দুল আউয়াল মুন্না, মিনহাজ প্রমূখ।

সমুদ্র বিলাস যাত্রায় সঙ্গী ছিলেন সংগঠনের সদস্য ও দৈনিক সংগ্রামের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান নুরুল আমিন মিন্টু, নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার ওমর ফারুক।

সবশেষে ফের সমুদ্র সৈকত দর্শণ করে কক্সবাজার সদরের লালদিঘী পাড় এলাকার বার্মিজ মার্কেটে জড়ো হয় সাংবাদিকগণ।  পরিবার পরিজন ও প্রিয়জনের জন্য কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী আচার, বাদাম ও শালসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী ক্রয় করেন যে যার মতো করে।  রাত পৌণে ৮টার দিকে কক্সবাজার ছাড়েন সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়ি।  রাত সোয়া ১০টায় সংগঠনের সদস্যদের সৌজন্যে লোহাগাড়ায় হালাল ডাইন রেস্টুরেন্টের ভিআইপি চাইনিজ হলে ডিনার পার্টির আয়োজনে করেছের দৈনিক সকালের সময়ের কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি শাহেদ ফেরদৌস হিরু ও লোহাগাড়া প্রতিনিধি মুজাহিদ হোছাইন সাগর। ডিনার সেরে মধ্যরাতে চট্টগ্রাম শহরের এসে পৌছায় পিকনিকের গাড়ি বহর।  এভাবেই রেলওয়ে জার্নালিস্ট এ্যসোসিয়েশনের বনভোজন-২০২৫ সফলতার সাথেই সম্পন্ন হয়।

এবারের সমুদ্র বিলাস যাত্রায় সংগঠনের প্রত্যেক সদস্যদের জন্য স্পন্সর হিসেবে ল্যাপটপ ব্যাগ উপহার দিয়েছেন দুরন্ত বাজার সুপারশপ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

বাঙালির প্রাণের উৎসবে জেগেছে বন্দরনগরী।

চট্টগ্রামে প্রখর রোদ উপেক্ষা করে বাংলা নতুন বছরকে বরণ করেছে আনন্দ-উচ্ছ্বাসে। চিরায়ত গান, কবিতা, নৃত্য, শোভাযাত্রাসহ লোকজ নানা অনুষঙ্গে চট্টগ্রাম মহানগরীর বর্ষবরণের বিভিন্ন আয়োজনে যোগ দিয়েছে সর্বস্তরের হাজার, হাজার মানুষ। বাঙালির প্রাণের উৎসবে জেগেছে বন্দরনগরী।বর্ষবরণের আয়োজন থেকে মুক্ত বাংলাদেশে বাঙালির চিরায়ত সাংস্কৃতিক চেতনা ধারণ করে বিভেদ-বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার ডাক দেওয়া হয়েছে।

প্রতিবছরের মতো এবারও চট্টগ্রামে বর্ষবরণের বড় আসর বসেছে সিআরবির শিরিষতলায়। নগরীর ডিসি হিলে গত ৪৬ বছর ধরে আরেকটি বড় আয়োজন হয়ে আসছিল। কিন্তু রোববার রাতে মঞ্চে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় সেই আয়োজন বাতিল করা হয়েছে। এরপরও চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিসহ আরও বিভিন্নস্থানে বর্ণিল উৎসব দেখা গেছে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের শিক্ষার্থীদের বের করা শোভাযাত্রায় আরও প্রাণময় হয়ে ওঠে পহেলা বৈশাখের আয়োজন।
নগরীর সিআরবির শিরিষতলায় এবার পহেলা বৈশাখ উদযাপনের সপ্তদশ আয়োজন শুরু হয় সোমবার সকাল ৭টায় ভায়োলিনিস্ট চিটাগংয়ের বেহালা বাদনের মধ্য দিয়ে। ‘নববর্ষ উদযাপন পরিষদ চট্টগ্রামের’ উদ্যোগে দিনব্যাপী এই আয়োজনে উদীচী চট্টগ্রাম, সঙ্গীত ভবন, সুরাঙ্গন বিদ্যাপীঠ বাংলাদেশ রেলওয়ে সাংস্কৃতিক ফোরাম, স্বরলিপি সাংস্কৃতিক ফোরাম, সৃজামী, অদিতি সঙ্গীত নিকেতনসহ বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা সম্মিলিত গান পরিবেশন করেন।
এছাড়া বোধন আবৃত্তি পরিষদ, শব্দনোঙ্গর, তারুণ্যের উচ্ছ্বাসসহ কয়েকটি সংগঠনের শিল্পীরা বৃন্দআবৃত্তি পরিবেশন করেন। ওড়িষি অ্যান্ড টেগোর ডান্স মুভমেন্ট সেন্টার, নৃত্যনীড়, রাগেশ্রীসহ বিভিন্ন সংগঠনের শিল্পীরা নৃত্য পরিবেশন করেন।

নববর্ষ উদযাপন পরিষদ, চট্টগ্রামের সাধারণ সম্পাদক ফারুক তাহের বলেন, পহেলা বৈশাখ আমাদের প্রাণের উৎসব। সকল মত-পথের ঊর্ধ্বে উঠে এদিনটি আমাদের এক হয়ে নিজেদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে আঁকড়ে ধরার প্রেরণা দেয়। আমরা একেকজন একেক ধর্মের অনুসারী হতে পারি। পহেলা বৈশাখ, পহেলা ফাল্গুন, পৌষপার্বণ, নবান্ন এগুলো আমাদের চিরায়ত সংস্কৃতি।

পরিষদের সহ-সভাপতি নুরুল আফসার মজুমদার স্বপন বলেন, এবার নতুন প্রেক্ষাপটে মুক্ত বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখ উদযাপন হচ্ছে। আমরা যে ইনক্লুসিভ বাংলাদেশ চাই, সকল মতের সম্মিলন, সহাবস্থান চাই, সেটাই এবারের আয়োজনে আমাদের প্রেরণা। মানুষের মধ্যে কোনো বিভেদ-বৈষম্য থাকবে না, আমরা একটি বৈষম্যমুক্ত সমাজ গড়তে চাই আমাদের চিরায়ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে ভিত্তি করে। আপামর মানুষের এই সংস্কৃতি যেদিন সারা বাংলাদেশে আমরা ছড়িয়ে দিতে পারব, সেদিনই আমরা সুন্দর স্বদেশ পাব।

এদিকে সকাল ১০টায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউটের পক্ষ থেকে নগরীর বাদশা মিয়া সড়কের ক্যাম্পাস থেকে পহেলা বৈশাখের শোভাযাত্রা বের হয়। বাদশা মিয়া সড়ক থেকে আলমাস মোড়, কাজির দেউড়ি, জামালখান হয়ে সার্সন রোড দিয়ে শোভাযাত্রা আবার চারুকলা ক্যাম্পাসে গিয়ে শেষ হয়। শিক্ষার্থীদের তৈরি জাতীয় মাছ ইলিশ এবং টেপা পুতুলের ঘোড়ার মোটিফ স্থান পায় ঢোলবাদ্যের তালে তালে এগিয়ে যাওয়া শোভাযাত্রায়। মুখোশ হিসেবে ছিল বাঘ, মহিষ ও খরগোশ। শোভাযাত্রায় চারুকলার শিক্ষকদের পাশাপাশি সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীরা অংশ নেন বলে জানিয়েছেন আয়োজকদের অন্যতম সদ্য স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা ছাত্র যাদব দেবনাথ।

অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, ধর্মীয় ভেদাভেদহীন, অসাম্প্রদায়িক একটি বাংলাদেশ আমাদের চাওয়া। এই বাংলাদেশ হোক সকল মানুষের। আমরা যেন সবাই মিলেমিশে এই বাংলাদেশকে গড়তে পারি। শোভাযাত্রাকে ঘিরে বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন হয় চারুকলা ইনস্টিটিউটের আশপাশজুড়ে। শোভাযাত্রা যে পথে গেছে সেখানেও পুলিশের কড়া প্রহরা দেখা গেছে।

বেলা ১২টায় নগরীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতি উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের নেতৃত্বে বর্ষবরণের শোভাযাত্রা বের হয়। চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপিও নগরীর নাসিমন ভবনে দলীয় কার্যালয়ে বর্ষবরণের অনুষ্ঠান হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমি, জেলা প্রশাসন, সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বর্ষবরণের আয়োজন করা হয়েছে। তবে সিএমপি বর্ষবরণের আয়োজনকে ঘিরে নগরীজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

শিল্পকলায় অরিন্দমের ডলু নদীর হাওয়া মঞ্চায়িত।

চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমী মিলনায়তনে ৯ এপ্রিল সন্ধ্যা ৭টায় চট্টগ্রামের অন্যতম নাট্য সংগঠন অরিন্দম নাট্য সম্প্রদায়ের ৩১ তম প্রযোজনা স্বনামধন্য লেখক শহীদুল জহির এর গল্প ডলুয়া নদীর হাওয়া অবলম্বনে নাটকের উদ্ধোধনী মঞ্চায়ন অনুষ্ঠিত হয়।

নাটকটি নির্মাণ ও মঞ্চ পরিকল্পনা করেন আমিনুর রহমান মুকুল। এতে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেন মুনির হেলাল,সাবিরা সুলতানা বিনা,বিবি আয়েশা সুমী,সঞ্জয় ধর, পার্থ চক্রবর্তী, ইনান ইলহাম, চৈতি সাহা, সত্যজিৎ নন্দী, মাশরুর উশ শহীদ, জোবাইদা ইয়াসমিন সাকি, রাজদ্বীপ চৌধুরী, শিমলী দাশ, কাশপি আচার্য্য পুর্ণা, সুশান্ত চৌধুরী, সপ্তর্ষী চাকমা প্রমুখ। আবহ সঙ্গীত

পরিকল্পনায় ছিলেন মইনউদ্দিন কোহেল, গীত ও সুর রচনা করেন ড. দীপংকর দে, আলোক পরিকল্পনায় ছিলেন ফইয়াজ নুর রাকিন, পোশাক ও দ্রব্যসামগ্রী পরিকল্পনায় ছিলেন সাবিরা সুলতানা ও বিবি আয়েশা। রুপসজ্জা করেন শাহরিয়ার হাসান। পোষ্টার করেন দীপংকর দস্তিদার। ডলু নদীর হাওয়া গল্পটি একটি রহস্যময় আবহে গড়ে উঠেছে যেখানে ডলু নামের একটি নদী এবং তার আশেপাশের জনপদ গল্পের কেন্দ্রবিন্দু। চট্টগ্রামের সাতকানিয়া অঞ্চলের ডলু নদী তীরবর্তী এক দম্পতিকে ঘিরে আবর্তিত। তৈমুর আলী চৌধুরী ও সমর্তবানু ওরফে এলাচিং এই গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র।

শহীদুল জহিরের অন্যান্য গল্প বা উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্রটি যেমন প্রবীণ হয় এ গল্পটিও তাই। তৈমুর ও সমর্ত বানুর দাম্পত্য জীবনের প্রায় ৪০ বছর পর এ গল্পের প্লট উম্মোচিত হয়। তারপর ধীরে ধীরে প্রকাশিত হতে থাকে তাঁদের সম্পর্কের অতীত এবং বর্তমান। যেখানে পরপর অনেকগুলো শর্তের উপর দাঁড়িয়ে থাকে তাঁদের জীবন ও পরিণতি। তাঁদের প্রেম, বিয়ে এবং দাম্পত্যের রহস্যময়তা যেমন এই গল্পের প্রতিপাদ্য, তেমনি চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের জীবনধারা, সংস্কৃতি, বিশ্বাস ও এ গল্পের বাস্তব ভিত্তি।

আলোচিত খবর

কালিয়াকৈরে ”হোপ ফর চিলড্রেন” এর উদ্যোগে বিনামূল্যে বীজ ও চারা বিতরণ

গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার কালামপুর মডেল পাবলিক স্কুল মাঠে সোমবার সকালে
বিলিভার্স ইষ্টার্ন চার্চ কতৃক পরিচালিত হোপফর চিলড্রেনের উদ্যোগে ৭০ জন রেজিস্টার শিশুদের পরিবার ও উপকারভোগীদের মাঝে বিনামূল্যে বিভিন্ন প্রকারের বীজ, সার ও চারা বিতরণ করা হয়েছে।
বিলিভার্স ইস্টার্ন চার্চ এর ডিকন জয়দেব বর্মনের সভাপতিত্বে ও হোপ ফর চিলড্রেনের প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর বাপ্পি খৃষ্টদাস এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন হোপ ফর চিলড্রেন এর ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর সজীব ত্রিপুরা, বিশেষ অতিথি ছিলেন ন্যাশনাল সিএস কো-অর্ডিনেটর তপানা ত্রিপুরা,উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোঃ শওকত হোসেন,বিশিষ্ট সমাজসেবক শাহ আলম হোসেন।
এসময় প্রধান অতিথি বলেন হোপফর চিলড্রেন শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পুষ্টি নিয়ে কাজ করছে। কালামপুর গ্রামে রেজিস্ট্রার শিশু ও গরীব শিশুরা যাতে পুষ্টিকর খাবার পায় তার জন্য হোপ ফর চিলড্রেনের মাধ্যমে বাড়ির আঙিনায় শাক-সবজি চাষের জন্য বীজ বিতরন করা হয়েছে।
বীজ বিতরণ অনুষ্ঠানের প্রশিক্ষণ প্রদান করে

আরও পড়ুন

সর্বশেষ