আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

রেলওয়ে জার্নালিস্ট এসোসিয়েশনের অন্যরকম এক সমুদ্র বিলাস কক্সবাজারে

বিনোদন প্রতিবেদক:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

 

রেলওয়ে জার্নালিস্ট এ্যসোসিয়েশন (আরজেএ) আয়োজিত বার্ষিক বনভোজন উপলক্ষে বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্র সৈকতে (কক্সবাজার) নবীন-প্রবীণ সাংবাদিকদের উপস্থিতি, যেন মিলন মেলায় রুপান্তরিত হয়েছে।  কক্সবাজারের পাটোয়ার টেক সী বিচ, কলাতলী সী বিচ, লাভনী পয়েন্ট সী বিচ, সুগন্ধা বিচ ও ইনানী বিচসহ বিভিন্ন পয়েন্টে দুদিনব্যাপী উৎসবে মাতিয়েছেন বিভিন্ন মিডিয়ায় কর্মরত একঝাঁক পেশাদার সাংবাদিক।

সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, দৈনিক সকালের সময়’র চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান এস এম পিন্টুর নেতৃত্বে গত ৭ জানুয়ারি মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে নগরীর টাইগারপাস থেকে পিকনিক স্পটের উদ্দেশে আরজেএ’র সদস্যদের নিয়ে প্রথম গাড়িটি কক্সবাজারের উদ্দ্যেশে রওনা হয়।  ঠিক ২৫ মিনিট পরে নগরীর মুরাদপুর থেকে দ্বিতীয় গাড়িটি পিকনিক স্পটের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে।

 

আরজেএ লঘু সম্বলিত সাদা টি-শার্ট পড়ে গল্প,কবিতা, গান আর আড্ডায় দুটি গাড়ি মাতিয়ে রাখেন সংগঠনের সদস্যরা।  তবে প্রতিটি আনন্দঘন মুহুর্তে সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক জাহাঙ্গীর আলমকে মিস করেছে বনভোজন আয়োজন কমিটি ও সদস্যগণ।  সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বনভোজনের গাড়ি দুটি থামেন চকরিয়ায়। প্রথম বিরতি।  হাল্কা নাস্তা, ফটোসেশন আর ৩০ মিনিটের আড্ডা শেষে গাড়ি দুটি ফের ছুটে চলে পিকনিক স্পটের দিকে।

 

বেলা সাড়ে ১২টার দিকে পৌঁছে যায় গন্তব্যে।  এরপর ওয়াল্ডবিচ রিসোর্টে যার যার কক্ষ বুঝে নেন বার্ষিক বনভোজনে অংশ নেওয়া আরজেএ’র সদস্যগণ।  ফ্রেশ হয়ে দুপুর দেড়টার সময় মধ্যাহ্নভোজের জন্য সাংবাদিকরা আবারও মিলিত হন তারকামানের একটি হোটেলে।  খাবারের মেন্যু হিসেবে পছন্দের তালিকায় ছিল হরেক রকমের মজাদার ভোজ, যার যার পছন্দ অনুযায়ী মেনু নির্বাচন ।

খাওয়া দাওয়ার পালা শেষ।  এবার দর্শনীয় স্থান পরিদর্শণের পালা।  দুটো গাড়ি প্রথমে ছুটে চলে বাংলাদেশের প্রথম আইকনিক রেলওয়ে স্টেশনের দিকে।  বেলা সাড়ে ৩টার দিকে গাড়ি দুটি এসে থামেন কক্সবাজার রেলওয়ে স্টেশনে।  সাংবাদিকরা দল বেঁধে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কক্সবাজার জেলার ঝিলংজা ইউনিয়নের চান্দের পাড়ায় অবস্থিত ছয়তলা বিশিষ্ট রেলওয়ে স্টেশনটি ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং যে যার মতো করে সংবাদ প্রকাশের জন্য তথ্য সংগ্রহ করে ও ফটোসেশন করে স্মৃতিগুলো ধরে রাখার চেষ্টা করেন।

 

এরমধ্যেই সময় হয়ে এসেছে সূর্যাস্তের।  পশ্চিম আকাশে সূর্য লাল আভা ছড়িয়ে ডুব দেওয়ার মুহূর্তটি যেন মিস না হয় সেজন্য আবারও গাড়ি দুটি ছুটলো বিশ্বের দীর্ঘতম কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে।  ১৫ মিনিটের মধ্যেই পৌছে যায় গন্তব্যে।

 

এরপর বৈকালিক নাস্তা শেষে বালিপথ মাড়িয়ে সৈকতের কাছে এসে ক্যামেরা ও মোবাইল ফোনে ছবি এবং ভিডিও ধারণ করে আনন্দ উল্লাসে সময় কাটান গণমাধ্যমকর্মীরা।

 

এক ঝাঁক পেশাদার সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে সৈকতও যেন প্রাণ ফিরে পায়।  বনভোজন স্পটে ছোটছোট বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়ে কিছু সময় ঘুরাঘুরি এবং ফটোসেশান করেন আরজেএ’র সদস্যরা।

 

এসময় তাঁরা আগত পর্যটক, কর্তৃপক্ষ ও সৈকতে দায়িত্বরত প্রশাসনের সাথে কথা বলে নিউজের জন্য ছবি তোলে, ভিডিও ধারণ করে এবং বিভিন্ন তথ্যাদী সংগ্রহ করে মোবাইলে সংরক্ষণ করেন।

 

পিকনিক স্পটে পৌঁছে সাংবাদিকরা মেতে ওঠে নানান আনন্দ আয়োজনে।  কেউ কেউ মজেছেন নানা পদের খাবার-দাবারে।  এক পর্যায়ে অন্ধকার ঘনিয়ে আসে।  সকলে ফিরে যায় হোটেলে।  কিছুটা বিশ্রাম শেষে কক্সবাজারের বিখ্যাত আল গণি রেস্তোঁরায় ডিনার সেরে প্রথমদিনের আনন্দ আয়োজনের ইতি টানেন পিকনিক আয়োজক কমিটি।

পরদিন বুধবার (৮ জানুয়ারি) ঘড়ির কাঁটা যখন সকাল সাড়ে ৯টা।  তখন সবাই প্রস্তুত।  এরমধ্যেই পিকনিক আয়োজন কমিটি বনভোজনে অংশগ্রহণ করা সকল সদস্যদের হাতে তুলে দেন চমৎকার উপহার।  এরপর সকালের নাস্তা সেরে সৈকতের অন্যতম দর্শনীয় স্থান ইনানির উদ্দ্যেশে রওনা হয় রেলওয়ে জার্নালিস্ট এ্যাসোসিয়েশনের সদস্যদের বহনকারী গাড়ি দুটি।

 

মেরিন ড্রাইভ রোড ধরে চলছে।  দরিয়া নগর, হিমছড়ি ঝর্ণা ও পাহাড় ও ইনানী র‍য়েল রিসোর্টসহ বিভিন্ন পিকনিক স্পটেই মাঝে মাঝে থামছে গাড়ি।  ঘুরে ঘুরে ব্যস্ত সময় পার করছেন সাংবাদিকগণ।  কেউ কেউ দলবেঁধে পিকনিক স্পটের সীমানা পেরিয়ে চলে যাচ্ছেন সৈকতে।  ঘোরাঘুরির সঙ্গে চলতে থাকে সেলফিও।

সিনিয়ররা জড়ো হয়ে মেতে উঠেছেন খোশগল্পে।  তাদের আড্ডায় পারিবারিক বিষয়ের সঙ্গে পেশাজীবনের বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা উঠে আসছে আড্ডায়।  আবার কেউ কেউ বয়সকে দূরে ঠেলে মেতে ওঠেছেন কৈশোরের দুরন্তপনায়।

 

বুধবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর আড়াইটার দিকে কক্সবাজার সৈকতের পাটুয়ার টেক পিকনিক স্পটের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করতে করতেই বনভোজনের সংক্ষিপ্ত অনুভুতি প্রকাশ করেন আরজেএ’র সদস্যরা।  সংগঠনের সদস্য প্রতিদিনের বাংলাদেশ পত্রিকার আশিক আরেফিন ও সিএইচডি অনলাইন পোর্টালের মুন্নার সঞ্চলনায় প্রথমে অনুভুতি প্রকাশ করেন আরজেএ’র প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এস এম পিন্টু।


এরপর একে একে অনুভুতি প্রকাশ করেন জ্যৈষ্ঠ সাংবাদিক কামাল পারভেজ, মো. জাহাঙ্গীর আলম, দৈনিক বাংলাদেশ সমাচারের আব্দুল মতিন চৌধুরী রিপন, দৈনিক বাংলাদেশের আলো পত্রিকার সিনিয়র রিপোর্টার রাজীব সেন প্রিন্স, আমাদের নতুন সময়ের এম আর আমিন,  দৈনিক চট্টগ্রাম প্রতিদিনের মোস্তাফা জাহেদ, সরেজমিন বার্তার গাজী লিটন, দৈনিক সাঙ্গুর জাহিদুল ইসলাম, বাংলাদেশ টুডের মাজহার রানা, আরাফাত কাদের, রাকিব উদ্দিন, আবুল হাসনাত মিনহাজ, আব্দুল আউয়াল মুন্না, মিনহাজ প্রমূখ।

সমুদ্র বিলাস যাত্রায় সঙ্গী ছিলেন সংগঠনের সদস্য ও দৈনিক সংগ্রামের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান নুরুল আমিন মিন্টু, নয়া দিগন্তের সিনিয়র রিপোর্টার ওমর ফারুক।

সবশেষে ফের সমুদ্র সৈকত দর্শণ করে কক্সবাজার সদরের লালদিঘী পাড় এলাকার বার্মিজ মার্কেটে জড়ো হয় সাংবাদিকগণ।  পরিবার পরিজন ও প্রিয়জনের জন্য কক্সবাজারের ঐতিহ্যবাহী আচার, বাদাম ও শালসহ বিভিন্ন পণ্যসামগ্রী ক্রয় করেন যে যার মতো করে।  রাত পৌণে ৮টার দিকে কক্সবাজার ছাড়েন সাংবাদিকদের বহনকারী গাড়ি।  রাত সোয়া ১০টায় সংগঠনের সদস্যদের সৌজন্যে লোহাগাড়ায় হালাল ডাইন রেস্টুরেন্টের ভিআইপি চাইনিজ হলে ডিনার পার্টির আয়োজনে করেছের দৈনিক সকালের সময়ের কক্সবাজার জেলা প্রতিনিধি শাহেদ ফেরদৌস হিরু ও লোহাগাড়া প্রতিনিধি মুজাহিদ হোছাইন সাগর। ডিনার সেরে মধ্যরাতে চট্টগ্রাম শহরের এসে পৌছায় পিকনিকের গাড়ি বহর।  এভাবেই রেলওয়ে জার্নালিস্ট এ্যসোসিয়েশনের বনভোজন-২০২৫ সফলতার সাথেই সম্পন্ন হয়।

এবারের সমুদ্র বিলাস যাত্রায় সংগঠনের প্রত্যেক সদস্যদের জন্য স্পন্সর হিসেবে ল্যাপটপ ব্যাগ উপহার দিয়েছেন দুরন্ত বাজার সুপারশপ।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামের প্রকৃতি উদ্যান ও বিনোদনকেন্দ্রে ভ্রমণপিপাসুদের উপচে পড়া ভিড়

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের বিভিন্ন প্রকৃতি উদ্যান ও বিনোদনকেন্দ্রে ভিড় জমিয়েছেন হাজারো ভ্রমণপিপাসু। কোরবানির আনুষ্ঠানিকতা শেষে শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পর্যটকদের ঢলে প্রাণ ফিরে পেয়েছে এ অঞ্চলের পাহাড়, হ্রদ ও সমুদ্রতীরবর্তী এলাকাগুলো। ঈদুল আজহার ছুটিতে চট্টগ্রামের দর্শনীয় স্থানগুলোতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। রোববার বিকেল পর্যন্ত এ দৃশ্য দেখা গেছে।


নগরজীবনের একঘেয়েমি কাটিয়ে ঈদুল আজহার দিন বিকেল থেকে মুখরিত পতেঙ্গা সৈকত, ফয়’স লেক সি ওয়ার্ল্ড, চিড়িয়াখানা, পারকি সৈকত, জুলাই বিপ্লব পার্ক, আগ্রাবাদ জাম্বুরী পার্ক, লিংক রোড়, নেভাল একাডেমি, গুলিয়াখালী সি বিচ, ভাটিয়ারি সানসেট পয়েন্ট। সরেজমিনে দেখা গেছে, সাগরের ঢেউয়ের মায়ায় নগরীর পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে জড়ো হতে থাকেন দর্শনার্থীরা। কেউ মেতেছিলেন ঢেউয়ের মিতালিতে, কেউ ব্যস্ত ছিলেন ফ্রেমবন্দি হতে। স্পিডবোট ও ঘোড়ার পিঠে চড়ে ঘুরে বেড়ানোর আনন্দ সৈকতের আকর্ষণ আরো বাড়িয়ে দিয়েছিল।

চট্টগ্রাম নগরের কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ফয়’স লেক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক ও সি ওয়ার্ল্ডে দেখা গেছে দর্শনার্থীদের ছিল ব্যাপক সমাগম। ঈদের প্রাথমিক আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে পরিবারগুলো শুক্রবার থেকে ভিড় বাড়তে থাকে। ৩০ মে বিকেলে সেখানে হঠাৎ উপস্থিত হয়ে ভক্তদের চমকে দেন অভিনেত্রী ও গায়িকা নুসরাত ফারিয়া।বিকেল চারটার দিকে সি ওয়ার্ল্ড ওয়াটার পার্কে পৌঁছালে মুহূর্তেই দর্শনার্থীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছড়িয়ে পড়ে। অনেকেই মুঠোফোনে ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে শুরু করেন। ঈদ উপলক্ষে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নুসরাত ফারিয়া উপস্থিত সবার সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দর্শকদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।অনুষ্ঠানের একপর্যায়ে তিনি কুইজ পর্বে অংশ নেন এবং নিজের জনপ্রিয় গান ‘লোকে বলে’-এর কয়েকটি লাইন গেয়ে শোনান। গানের তালে নৃত্য পরিবেশনও করেন তিনি, যা উপস্থিত দর্শকদের বাড়তি আনন্দ দেয়।

চট্টগ্রামের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা উল্লেখ করে নুসরাত ফারিয়া বলেন, এখানকার খাবারের প্রতি তাঁর বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে। বিশেষ করে কালাভুনা ও মেজবানের প্রশংসা করে তিনি জানান, ঈদের দিনেও তিনি গরুর মাংসের কালাভুনা উপভোগ করেছেন।
কনকর্ড এন্টারটেইনমেন্ট কোম্পানি লিমিটেডের বিপণন ব্যবস্থাপক বিশ্বজিৎ ঘোষ বলেন, রোলার কোস্টার, ফেরিস হুইল ও পাইরেট শিপের মতো জনপ্রিয় পারিবারিক রাইডের পাশাপাশি এবার নতুন কয়েকটি আকর্ষণ যুক্ত করা হয়েছে। নতুন রাইডগুলোর মধ্যে রয়েছে টর্নেডো ৩৬০, এয়ারবোর্ন শট, ফ্লাইং বাস ও স্কাই হুপার। তিনি বলেন, ঈদের ছুটির পুরো সময় প্রতিদিন পাঁচ হাজারের বেশি পর্যটক আসেন।

কাছেই অবস্থিত চট্টগ্রাম চিড়িয়াখানা শিশুদের কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠেছে। চিড়িয়াখানার উপ-কিউরেটর শাহাদাত হোসেন শুভ বলেন, এই পাঁচ দিনে প্রায় ৬০ হাজার দর্শনার্থী হয়েছে। অর্থাৎ প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১২ হাজার মানুষ।তবে পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা ও সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত কর্মীদের পাশাপাশি অতিরিক্ত ২৪ জন কর্মী নিয়োগ করা হয়েছিল।
এদিকে নগরের বাইরে সীতাকুণ্ডের গুলিয়াখালী এবং আনোয়ারার পারকি সমুদ্রসৈকতেও দেখা গেছে ভ্রমণপিয়াসীদের উপচেপড়া ভিড়। সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী সানসেট পয়েন্ট দর্শনার্থীরা ভিড় করছেন। অনেকে দিনের শেষে মনোহর সূর্যাস্ত উপভোগ করতে এখানে জড়ো হন।

শনিবার সকাল থেকে ভাটিয়ারী বাজারে বিনোদন কেন্দ্রকে ঘিরে উপচে পড়া ভিড় আর যানজট দেখা দিয়েছে। রোববারও ছিল একই অবস্থা। এছাড়া মিরসরাইয়ে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম কৃত্রিম হ্রদ মহামায়া ইকোপার্কও প্রকৃতিপ্রেমীদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। পাহাড়ি ঝরনা ও স্বচ্ছ জলের মনোমুগ্ধকর সমন্বয় পর্যটকদের টানছে সেখানে।
পার্কটির ইজারাদার প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপক তাসলিম উদ্দিন তৌহিদ বলেন, বৃহস্পতিবার বিকাল থেকেই প্রায় ৫০০ পর্যটক সেখানে ভিড় করেন। তিনি বলেন, শুক্রবার থেকে ঈদের ছুটি কার্যত পূর্ণমাত্রায় শুরু হওয়ায় প্রতিদিন এক হাজারের বেশি দর্শনার্থীর লক্ষ্যমাত্রা আমরা সহজেই অতিক্রম করছি।

পর্যটকদের চাহিদা সামাল দিতে পার্কের সব ধরনের জলযান চালু রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৬৪টি কায়াকিং বোট, যা তরুণদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয়; ৫০ থেকে ৫৫টি ইঞ্জিনচালিত নৌকা এবং স্থানীয় জেলেদের পরিচালিত ১২ থেকে ১৪টি পিনাকল বোট।
ভ্রমণকারী মাহমুদুল হাসান বলেন, আমি চট্টগ্রাম শহরে থাকি, তবে ঈদের জন্য গ্রামে এসেছি। আবহাওয়া বেশ গরম হলেও পরিবারের সঙ্গে পাহাড় আর পানির মধ্য দিয়ে নৌকা চালানোর অভিজ্ঞতা সত্যিই দারুণ।

পর্যটকদের এই ঢল জেলার ১৫টি উপজেলাজুড়েই ছড়িয়ে পড়েছে। পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত, মিরসরাই অর্থনৈতিক অঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা এবং সীতাকুণ্ডের ব্যতিক্রমধর্মী গুলিয়াখালী সৈকতে উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। এ ছাড়া ডিসি পার্ক ও আরশিনগর ফিউচার পার্কেও দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ছিল সর্বোচ্চ।
এই বিপুলসংখ্যক পর্যটকের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ ট্যুরিস্ট পুলিশ নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে। পতেঙ্গা ও আশপাশের ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত নজরদারি দল মোতায়েন করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম ট্যুরিস্ট পুলিশের এসপি উত্তম প্রসাদ পাঠক জানান, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও নির্বিঘ্নে ঘোরাঘুরি নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ঈদের পর টানা এক সপ্তাহ পুলিশ এই বিশেষ সতর্ক অবস্থানে থাকবে।

ব্যয় বেড়েছে ১০ কোটি টাকা আগামী মাসে চালু হচ্ছে পারকি কমপ্লেক্স

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের আনোয়ারায় নির্মাণাধীন পারকি সৈকত পর্যটন কমপ্লেক্সের কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম সমুদ্রসৈকত পারকিকে আন্তর্জাতিকমানের পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের নেওয়া এ প্রকল্প আগামী জুনের মধ্যেই সম্পন্ন হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে আনোয়ারার পারকি সমুদ্রসৈকতে ১৩ দশমিক ৩৬ একর জমির ওপর আধুনিক পর্যটন কমপ্লেক্স নির্মাণকাজ শুরু হয়। শুরুতে ৬২ কোটি টাকা ব্যয়ে দুই বছরের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনা ছিল। তবে ধীরগতির কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করা সম্ভব হয়নি। পরে কয়েক দফা সময় ও ব্যয় বাড়িয়ে প্রকল্পের মোট ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭২ কোটি টাকা। সর্বশেষ সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের প্রকল্প পরিচালক মাজেদুর রহমান জানান, অবকাঠামোগত কাজ ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। বর্তমানে চলছে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ। আগামী জুনের মধ্যেই পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রকল্প এলাকায় কটেজ, বহুতল ভবন, প্রবেশদ্বার, সীমানাপ্রাচীর ও পার্কিং জোনের নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। এখন চলছে রং ও অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জার কাজ।

প্রকল্পে থাকছে ১০টি সিঙ্গেল কটেজ, চারটি ডুপ্লেক্স কটেজ, তিনতলাবিশিষ্ট মাল্টিপারপাস ভবন, রেস্তোরাঁ, সার্ভিস ব্লক, সাবস্টেশন ভবন, অভ্যন্তরীণ সড়ক, নিরাপত্তাকক্ষ, পিকনিক শেড, শিশুদের খেলাধুলার স্থান এবং একটি হ্রদ।

তবে প্রকল্পের কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অসন্তোষ রয়েছে। পারকি বিচ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম অভিযোগ করেন, শুরু থেকেই নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ ছিল। এছাড়া পানি নিষ্কাশনের দুর্বল ব্যবস্থার কারণে প্রকল্পের সীমানাপ্রাচীরের কিছু অংশ ধসে পড়ার ঘটনাও ঘটেছে।

যদিও এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রকল্পের সাইট ইঞ্জিনিয়ার অসীম শীল বলেন, ত্রুটিগুলো পরবর্তীতে সংস্কার করা হয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের ধীরগতির কারণেই কাজ শেষ হতে বেশি সময় লেগেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের আশা, পর্যটন কমপ্লেক্সটি চালু হলে পারকি সৈকতে পর্যটকের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। একই সঙ্গে এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ