আজঃ বুধবার ৬ মে, ২০২৬

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনায় তদন্ত শুরু অপরাধ ট্রাইবুন্যালের

নিজস্ব প্রতিবেদক

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে চট্টগ্রাম নগরীতে সংগঠিত সহিংসতা ও প্রাণহানির ঘটনায় তদন্ত শুরু করেছে। বুধবার রাতে নগরীর দামপাড়ায় চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে ট্রাইবুন্যালের দুই প্রসিকিউটর ও দুই তদন্ত কর্মকর্তা আন্দোলন অংশ নেওয়া ও আহতদের সঙ্গে কথা বলেছেন।
এ সময় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যালের

প্রসিকিউটর সাইমুল রেজা তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, শহরে যারা আন্দোলন করেছেন তাদের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করেছি। বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেছি, কী ধরনের অপরাধ সংগঠিত হয়েছে। সেগুলোর মাধ্যমে সঠিক চিত্র বোঝার চেষ্টা করছি যাতে আমাদের তদন্ত কার্যক্রম সঠিকভাবে পরিচালিত হয়।সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রথমে আমরা প্রায় ৩০ জনের সঙ্গে কথা বলেছি, যার মধ্যে দুজন গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিও ছিল।
আন্দোলনে কারা গুলি ছুঁড়েছিল সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে রেজা বলেন, এখানে স্থান ভেদে ভিন্নতা আছে। আন্দোলনকারীরা বলেছেন কোথাও কোথাও পুলিশ তাদের ওপর গুলি ছুঁড়েছে আবার কোথাও কোথাও রাজনৈতিক দলের কর্মীরা গুলি ছুঁড়েছে।

গত জুলাই-আগস্টে সরকার পতন আন্দোলনে প্রাণহানির ঘটনাকে গণহত্যা বিবেচনা করে ট্রাইব্যুনালে বিচারের উদ্যোগ নিয়েছে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তবর্তী সরকার। যে আদালতটি ২০১০ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আমলে স্থাপন করা হয় মুক্তিযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য।

তিনি আরও বলেন, গণআন্দোলনে সরকার পতনের পর ট্রাইব্যুনালে ব্যাপক রদবদল করা হয়েছে। বিচারক পালটানো হয়েছে, তদন্ত সংস্থাতেও এসেছে নতুন মুখ। সংশোধন করা হয়েছে আইনও।
প্রসিকিউটর রেজা বলেন, শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনতার বিরুদ্ধে যে মানবতা বিরোধী অপরাধ সংগঠিত হয়েছে, ২০২৫ সালের মধ্যে সেটার ন্যায় বিচার নিশ্চিত করে রায়ের দিকে ধাবিত হওয়া আমাদের লক্ষ্য। সেটার জন্য প্রয়োজন সাক্ষ্য প্রমাণাদি এবং আইনের আলোকে সঠিক তথ্য

সংগ্রহ করে পরবর্তীতে সেটির শুনানির জন্য প্রস্তুত করা। তারই অংশ হিসেবে আমরা দেশের বিভিন্ন স্থানে যেখানে মানবতা বিরোধী অপরাধ সংগঠিত হয়েছে সেখানে যাচ্ছি।৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর মামলা বাণিজ্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মানবতা বিরোধী অপরাধ এটা ‘ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস’। এটার একটা বিশেষ সংজ্ঞা আছে। হত্যাকাণ্ড বা গুরুতর জখম বা নৃশংস আচরণ যখন সারা দেশব্যাপী সিস্টেমেটিক প্যাটার্নে হবে তখন সেটা আন্তর্জাতিক অপরাধের আলোকে মানবতা বিরোধী অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত হবে।

সারা দেশে জুলাই গণঅভূত্থ্যানের সময় যে অপরাধ হয়েছে সেগুলো বেশকিছু মামলা পুলিশ স্টেশন এবং ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হয়েছে। সেগুলো আমাদের এখতেয়ারভুক্ত নয়। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুন্যাল প্রসিকিউটর আব্দুল্লাহ আল নোমান।

প্রসিকিউটর রেজা আারো বলেন, গুম, খুনসহ কিছু সুনির্দিষ্ট বিষয়ে সারা দেশব্যাপী তথ্য নিয়ে আমরা প্রমাণ করব যে সুপরিয়র কমান্ড রেসপনসিবিলিটি ছিল। মানে এখানে কারো দিক থেকে একটা সুপ্রিম কমান্ড এসেছে এবং বাকীরা সিস্টেমেটিকলি এটা পালন করেছে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ব্লাড ব্যাংকের যাত্রা শুরু ৪৬ বছরে পা রাখলো মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের ৪৬ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধন একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো মনিরুজ্জামান। এতে ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের যথাযথ ব্যবহার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের ডিভিশনাল ডিরেক্টর ডা. শেখ ফজলে রাব্বি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ডা. মাসুদ আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এ.এম. রায়হান উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. হাফিজুল ইসলাম। হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার মো.ইয়াছিন আরাফাতের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেবুন নেসা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান (মিজান) এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক।

সেমিনারে বক্তারা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় রক্ত ও রক্তজাত উপাদানের সঠিক ও প্রয়োজনীয় ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন। তারা বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. তাহমিদ জুনায়েদ মাহমুদ, ডা. সাফওয়ান মাহমুদ, মার্কেটিং ম্যানেজার রতন কুমার নাথ, বিডিএম ম্যানেজার গোলাম রব্বানী, সার্ভিস ম্যানেজার লুৎফুর রহমান, আই টি ম্যানেজার মোঃ উছা, সহকারী ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমানসহ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকবৃন্দ এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে জব্দ ২৭ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক সিগারেটের চালান জব্দ করা হয়েছে। মাস্কাট থেকে আগত সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইটের যাত্রী মো. শামসুদ্দিনের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ২৮০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক আগমন হলের ১ নম্বর লাগেজ বেল্টে যাত্রীবিহীন অবস্থায় আরও ১ হাজার ৬৫ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ পাওয়া যায়। রোববার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক আগমন হলে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, জব্দ করা সিগারেট থেকে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। উদ্ধারকৃত সিগারেট ও ল্যাপটপ ডিপার্টমেন্টাল মেমোরেন্ডাম মূল্যে জব্দ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক যাত্রীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ