আজঃ সোমবার ৯ মার্চ, ২০২৬

পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা প্রয়োজন

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাই কমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ এর নেতৃত্বে বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সাথে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। বৃহস্পতিবার সকালে ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টারস্থ কনফারেন্স হলে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) ও চিটাগাং চেম্বারের প্রশাসক মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা’র সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন দূতাবাসের ট্রেড ইনভেস্টমেন্ট অ্যাটাশে জাইন আজিজ, ট্রেড এন্ড ইনভেস্টমেন্ট অথরিটি অব পাকিস্তান’র সহকারি

পরিচালক সারাং গুল, পাকিস্তানের রিশাদ মতিন গ্রুপের পরিচালক সাজিয়া মতিন, সল্ট হাউস পাকিস্তান’র মোহাম্মদ শফিক, সাংগো এন্টারপ্রাইজ’র বাবর আমিন মালিক, আদিল ট্রেডার্স’র মোহাম্মদ আদিল, রোশান গ্রুপের খালিদ ইজাজ কোরেশি, বাংলাদেশ ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার এসোসিয়েশন’র মুহাম্মদ ফরহাদ উদ্দিন, অনুরা এন্টারপ্রাইজ’র মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম, মায়া এক্সপোর্টার এন্ড ইমপোর্টার’র মোঃ মশিউর রহমান সৈকত, রয়েল বিচ রিসোর্ট’র মোহাম্মদ জয়নাল

আবেদিন ও জামি এন্টারপ্রাইজ’র মোঃ সাইফুল ইসলাম বক্তব্য রাখেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে পাকিস্তান দূতাবাসের কর্মকর্তাবৃন্দ ও ফ্রেশ ফ্রুটস ইমপোর্টার এসোসিয়েশন’র সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
পাকিস্তান হাই কমিশনার সৈয়দ আহমেদ মারুফ বলেন-পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অংশহিসেবে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা প্রয়োজন। এজন্য বিজনেস টু বিজনেস সম্পর্কোন্নয়নের কোন বিকল্প নেই। উভয়দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য থাকলেও বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে এ বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে হবে। শুধুমাত্র পাকিস্তান থেকে রপ্তানি বাড়ানোর কথা চিন্তা না করে বাংলাদেশ থেকেও কিভাবে রপ্তানি বাড়ানো যায় সে লক্ষ্যেও কাজ করা প্রয়োজন। তিনি বলেন-গত কয়েক মাস ধরে পাকিস্তানের সাথে বাংলাদেশের বাণিজ্যিক সম্পর্কে ব্যাপক পরিবর্তন

লক্ষ্যণীয়। এরই অংশহিসেবে দু’দেশের মধ্যে সরাসরি নৌ-যোগাযোগ শুরু হয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি বাংলাদেশ সরকার পাকিস্তান থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানি করার উদ্যোগ নিয়েছে। তিনি দু’দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সম্পর্কোন্নয়নে ঢাকা-ইসলামাবাদ সরাসরি ফ্লাইট চালুর উদ্যোগ গ্রহণ এবং ব্যবসার নতুন নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনের জন্য চট্টগ্রামের ব্যবসায়ীদের পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণ জানান।
চেম্বার প্রশাসক মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা বলেন-বাংলাাদেশের সাথে পাকিস্তানের ধর্মীয়, ঐতিহাসিক ও ঐতিহ্যগতভাবে মিল রয়েছে। দু’দেশের মধ্যে বাণিজ্য সম্পর্ক থাকলেও বাংলাদেশ থেকে উল্লেখযোগ্য পণ্য পাকিস্তানে রপ্তানি হয় না। যেখানে পাকিস্তান বাংলাদেশের ১৯তম আমদানিকারক দেশ এবং পাকিস্তান থেকে

প্রতিবছর প্রায় ৭০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি হয়। তাই উভয়দেশই বাণিজ্য বাধা বিশেষ করে ননট্যারিফ বাধা দূর করে সাফটা এবং ডি-৮ পিটিএ কার্যকর করার মাধ্যমে বাণিজ্য ঘাটতি দূর করার আহবান জানান তিনি। চেম্বার প্রশাসক বলেন-বাংলাদেশ এবং পাকিস্তান কৃষি নির্ভর দেশ। তাই উভয়দেশের এই সেক্টরে উন্নয়নের জন্য প্রযুক্তিগত এবং নলেজ শেয়ারের উপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি পাকিস্তানি ব্যবসায়ীদের এই সফরের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে কৃষি ক্ষেত্রে টেকসই উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত বিনিময় ও যৌথ বিনিয়োগের আহবান জানান।
দূতাবাসের ট্রেড ইনভেস্টমেন্ট অ্যাটাশে জাইন আজিজ বলেন-আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের ক্ষেত্রে যেকোন সমস্যা সমাধানে প্রস্তুত পাকিস্তানি দূতাবাস। এজন্য আমদানির ক্ষেত্রে কোন সমস্যা উদ্ভূত হলে বাংলাদেশের দূতাবাসের মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের আহবান জানান তিনি।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্য বক্তারা বলেন-বাংলাদেশে রয়েছে পাকিস্তানি খেজুর ও মাল্টাসহ পাকিস্তানি ফলের চাহিদা। তাই এসব ফল গুণগতমান বজায় রেখে রপ্তানির আহবান জানান ব্যবসায়ীরা। একই সাথে পাকিস্তানের সাথে ধর্মীয় মিল থাকায় বাংলাদেশের পর্যটন স্পটগুলোতে পাকিস্তানিদের আমন্ত্রণ জানান তারা।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

তারুণ্যের বাস্তব ভাবনায় মাহে রামাদান – তাজকিয়ার সেমিনার ও কেন্দ্রীয় ইফতার মাহফিল  অনুষ্ঠিত।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পবিত্র মাহে রামাদানে যুবসমাজকে আত্মশুদ্ধি, সংযম ও নৈতিকতার চর্চায় উদ্বুদ্ধ করার লক্ষ্যে তারুণ্য নির্ভর সংগঠন ‘তাজকিয়া’র উদ্যোগে “তারুণ্যের বাস্তব ভাবনায় মাহে রামাদান” শীর্ষক এক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (০৬ মার্চ, ২০২৬) নগরীর থিয়েটার ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম মিলনায়তনে এই সেমিনারের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন-

লেখক ও গবেষক মাহাদী গালিব। তিনি তার সারগর্ভ আলোচনায় উল্লেখ করেন, “পবিত্র মাহে রামাদান কেবল ইবাদতের মাস নয়, বরং এটি আত্মসমালোচনা, আত্মনিয়ন্ত্রণ ও নৈতিক উৎকর্ষ সাধনের এক অনন্য সুযোগ।” তিনি তরুণদের উদ্দেশে বলেন, “আধুনিক যুগের নানা বিভ্রান্তি, ইন্টারনেট নির্ভর জীবন ব্যবস্থা এবং  ব্যস্ততার মধ্যেও রামাদানের চেতনাকে ধারণ করে আত্মশুদ্ধির পথে অগ্রসর হওয়াই প্রকৃত সফলতা।”
আলোচনায় তিনি আরও উল্লেখ করেন, “তরুণ সমাজ যদি রামাদানের শিক্ষা, সংযম, সহমর্মিতা ও আত্মশুদ্ধি যদি নিজেদের জীবনে বাস্তবভাবে ধারণ করতে পারে, তবে ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে সমাজ জীবনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

সেমিনারে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়,স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার  শিক্ষার্থীসহ তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।তাছাড়া, উক্ত সেমিনারে আরো উপস্থিত ছিলেন শাহানশাহ্ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) ট্রাস্টের সম্মানিত সচিব জনাব এ. ওয়াই. এমডি. জাফর, তাজকিয়ার প্রধান উপদেষ্টা প্রকৌশলী  সৈয়দ আবু নাসের নূর অন্তু,…….
তাজকিয়ার সাবেক কেন্দ্রীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ ও শাখা প্রতিনিধিবৃন্দ,বিভিন্ন স্কুল-কলেজের শিক্ষক, বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দ,মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ এর বিভিন্ন শাখা পর্যায়ের শুভাকাঙ্ক্ষীবৃন্দ, বিভিন্ন তরুণ সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ। তারা রামাদানে নিজেদের করণীয়, সময় ব্যবস্থাপনা, ইবাদতের ধারাবাহিকতা এবং নৈতিক জীবন গঠনের নানা দিক নিয়ে মতামত ব্যক্ত করেন।

উক্ত আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন তাজকিয়া কেন্দ্রীয় পর্ষদ এর সম্মানিত সভাপতি জনাব মোঃ রমিজ আলী।
অনুষ্ঠানের আয়োজকরা জানান, যুব সমাজের মাঝে আত্মশুদ্ধি, নৈতিকতা ও ইতিবাচক জীবনদর্শন গড়ে তুলে ‘ঐশী প্রেমের জাগরণ সৃষ্টি’ করতে ভবিষ্যতেও তাজকিয়ার পক্ষ থেকে এই ধরনের সেমিনার ও সচেতনতামূলক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।

পরিশেষে মিলাদ-কিয়াম ও মুনাজাত পরবর্তীতে সম্মিলিতভাবে ইফতার গ্রহণ পরবর্তী উক্ত আয়োজনের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন ডাঃ জাফর উল্লাহ চৌধুরী।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন ডাঃ জাফর উল্লাহ চৌধুরী।

আলোচিত খবর

চরম বিপাকে হাজার হাজার যাত্রী শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গত ৮ দিনে এই বিমানবন্দর থেকে মধ্যপ্রাচ্যগামী ও সেখান থেকে আসা মোট ৮০টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করা হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের অস্থির যুদ্ধাবস্থায় দুবাই, আবুধাবি, শারজাহ ও দোহার এয়ারফিল্ডগুলো গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বন্ধ রয়েছে। শনিবার নতুন করে বাতিল হয়েছে আরো ১২টি ফ্লাইট। এই টানা ৮ দিন ধরে ফ্লাইট বাতিলে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজার হাজার যাত্রী, যাদের বড় একটি অংশ মধ্যপ্রাচ্য প্রবাসী শ্রমিক। অনেক যাত্রী দূর-দূরান্ত থেকে বিমানবন্দরে এসে ফ্লাইট বাতিলের খবর শুনে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি তাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে যুদ্ধাবস্থার কারণে দুবাই, আবুধাবি ও দোহার মতো গুরুত্বপূর্ণ এয়ারফিল্ডগুলো বন্ধ থাকায় এই অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং এয়ারফিল্ডগুলো খুলে দিলেই পুনরায় নিয়মিত ফ্লাইট চালু করা সম্ভব হবে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, অনেক প্রবাসী তাদের ছুটির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। যথাসময়ে কর্মস্থলে ফিরতে না পারলে চাকরি হারানোর ভয় কাজ করছে তাদের মনে।অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে যারা দেশে ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন, তারা সেখানের এয়ারফিল্ডে আটকা পড়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। টিকিটের টাকা ফেরত পাওয়া বা রি-শিডিউল করা নিয়ে এয়ারলাইনস অফিসগুলোতে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইব্রাহীম খলিল জানান, শনিবার সারাদিনে ১২টি আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ১টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার।এয়ার আরাবিয়ারের ২টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার। ইউএস-বাংলা এয়ারলাইনসের ১টি অ্যারাইভাল ও ২টি ডিপার্চার। সালাম এয়ারের ১টি অ্যারাইভাল ও ১টি ডিপার্চার।
পুরো সূচি বিপর্যস্ত হলেও শনিবার সীমিত কিছু ফ্লাইট সচল রয়েছে। এর মধ্যে সালাম এয়ারের মাস্কাট-চট্টগ্রাম রুটে দুটি (ওভি-৪০১ ও ওভি-৪০২) এবং বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের মদিনা (বিজি-১৩৮) ও মাস্কাট (বিজি-১২২) থেকে আসা দুটি ফ্লাইট অবতরণ করেছে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ