স্মরণে শাহানশাহ হযরত শাহসূফি সৈয়দ মোহাম্মদ শাহাজাহান চৌধুরী মাইজভাণ্ডারী (ক.) হাবিবুল বাশার

প্রেস রিলিজ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

পঞ্চাশের দশকে হযরত গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারী (ক.) এর কুঞ্জে একটি পুষ্প প্রস্ফুটিত হয়। বলছি সৈয়দ মোহাম্মদ শাহাজাহান চৌধুরী মাইজভাণ্ডারী (ক.) এর কথা। জন্মের প্রারম্ভেই নানাজান সুলতানুল আউলিয়া অছিয়ে গাউছুল আজম সৈয়দ দেলাওর হোসাইন মাইজভাণ্ডারী (ক.) তাঁকে কোলে নিয়ে ভবিষ্যৎ আধ্যাত্মিক অবস্থান ইঙ্গিত করে মন্তব্য করেন। নাবগত শাহজাদার জন্মলগ্নের খুশির উল্লাসে হয়তো সে কথা অনেকের লক্ষ্যণীয় কিংবা ভাবার মতো ছিলো না।

প্রাইমারি স্কুল শেষ করে শাহনগর উচ্চ বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করে ১৯৬৭ তে নানুপুর আবু সোবহান উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ম্যাট্রিকুলেশন পাশ করেন। খুব সম্ভবত অষ্টম শ্রেণিতে থাকাকালীন পিতা আবদুল মজিদ চৌধুরী (র.) ইন্তেকাল করেছিলেন। তারপর দৌহিত্রকে নানাজান মাইজভাণ্ডার শরীফে নিয়ে যান আর সেখানে থেকেই ম্যাট্রিকুলেশনের পড়াশোনা ও পরীক্ষা সম্পন্ন করেন। নানাজানের ভক্ত, বাড়বকুণ্ডস্থ তৎকালীন ডিডিটি ফ্যাক্টরির ম্যানেজার জনাব হেদায়েত সাহেব একদা দরবারে পাকে জেয়ারত কার্য সম্পন্ন করে পীরের সাথে কথা বলার সময় প্রসঙ্গত তাঁর ব্যাপার উত্থাপিত হয়। উক্ত ফ্যাক্টরিতে চাকরির জন্য হেদায়েত সাহেব তাঁকে সঙ্গে দিয়ে দিতে বলেন। সাথে সাথে অছিয়ে গাউছুল আজম শাহনগর মানুষ পাঠিয়ে দৌহিত্রকে দরবারে

আনান। হেদায়েত সাহেবের সঙ্গে তাঁকে ডিডিটি ফ্যাক্টরিতে কার্যে নিয়োগের উদ্দেশ্যে পাঠিয়ে দেন। লেবার অফিসার হিসেবে তিনি সেখানে নিয়োগকৃত হন। প্রথমত অন্যান্য সিনিয়র অফিসারদের সাথে থাকার ব্যবস্থা করলেও পরবর্তীতে মুর্শিদের পরিবার তথা বংশধর হিসেবে হেদায়েত সাহেব তাঁর জন্য আলাদা একটি থাকার স্থান ব্যবস্থা করেন।

ফ্যাক্টরিতে অফিসার হিসেবে বেশ স্বাভাবিকভাবেই কাজকর্ম করে যাচ্ছিলেন। হঠাৎ একদিন খবর পাঠানো হলো তিনি রাতে ঘুমান না, বেশিরভাগ সময়ই জজবা অবস্থায় (অধ্যাত্ম ভাবে উত্তপ্ত) থাকেন। এরূপ স্বাভাবিক প্রকৃতি পরিবর্তিত হওয়ায় হেদায়েত সাহেব তাঁকে দরবার শরীফ নিয়ে আসেন। এখানেই মূলত তাঁর অবস্থা পরিবর্তনের সূত্রপাত। এরপর নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে চলতে থাকে জীবনাচরণ। আন্দরকিল্লা জেনারেল হাসপাতালে কদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন। এরপর পুনরায় চাকরিতে যোগদান করে কদিন বাদে নিজে হেঁটেই বাড়বকুণ্ড থেকে প্রত্যাবর্তন করেন। এরপর আবার হাসপাতালে ভর্তি করানো হলে ডাক্তার তাঁকে চাকরিতে প্রেরণ করতে বারণ করে দেন। বহু চিকিৎসা তদবির করেও কোনো কূল কিনারা হলো না। অলক্ষ্যতে ছিলো নানাজান হয়ে হযরত গাউছুল আজম মাইজভাণ্ডারীর (ক.) পবিত্র বেলায়তের সম্পর্ক। যার ফলশ্রুতি ঐহিক কোনো হিসাব-নিকাশে তাঁর পরিবর্তিত বৈশিষ্ট্যের অর্থ

খুঁজে না পাওয়া। আধ্যাত্মিক সম্পর্কটি প্রথমাবস্থায় নানাজান হতে প্রত্যয়ন এবং পরবর্তীতে তা প্রকাশ-বিকাশ, সংস্রব হয় বড় মামাজানের মাধ্যমে। বড় মামাজান বিশ্বঅলি শাহানশাহ হযরত শাহসূফি সৈয়দ জিয়াউল হক মাইজভাণ্ডারী (ক.) এর অধ্যাত্ম নজরে ছিলেন জ্যৈষ্ঠ বোনপুত্র এবং তিনিই তাঁর মুর্শিদ। বাড়বকুণ্ড ফেরত হওয়ার পর থেকে শুরু হয় নতুন অধ্যায়। ইবাদত-রেয়াজতে কঠোর পরিশ্রম সাধনায় গ্রহণ করেন উচ্চতর ঐশ অবস্থান। লব্ধ করেন অসীম শক্তি। সেসবের বর্ণনা সংক্ষিপ্ত কলেবরে তুলে ধরা সম্ভব নয়।
তাঁর সংস্পর্শে অসংখ্য ঐশী অনুগ্রহ প্রত্যাশী, ইচ্ছা পূরণ অভিলাষী, কঠিন রোগে জর্জরিত ইত্যাদি নানা প্রকারের মানুষ ভিড় জমে থাকতো। দেশের প্রখ্যাত রাজনীতিবিদসহ খ্যাতনামা বহু ব্যক্তিবর্গ তাঁর অনুগ্রহ প্রত্যাশী ছিলেন। দূর হতে করা মন্তব্য, মনে উদিত

ভাবনার কথা কিংবা কাঙ্খিত অভিলাষের ব্যাপারে তিনি বলে দিতেন তাঁরা ব্যক্ত করার আগেই। মনোবাঞ্ছা বলার প্রয়োজন হতো না, উপস্থিত হওয়া মাত্রই তিনি সে ব্যাপার সমাধান করে দিতেন। এ ঘটনা ছিলো নিত্যনৈমিত্তিক। বহু জটিল কঠিন ডাক্তার ফেরত রোগীকে ঐশী অনুগ্রহ দিয়ে সুস্থ করে দিয়েছিলেন। তাঁর দ্বারা বিদ্যার্থীদের উদ্দিষ্ট লাভ, ব্যবসা বাণিজ্যে বরকত প্রাপ্তি কিংবা চাকরি বাকরিতে কাঙ্ক্ষিত সফলতা অর্জন ইত্যাদি নানা প্রকারের অলৌকিক ঘটনা প্রকাশিত হয়েছে প্রত্যহ। সুউচ্চ মর্যাদার অধিকারী আল্লাহর এ মহান অলির সুদৃষ্টিতে মহান আল্লাহ অগণিত জনকে সৌভাগ্যবান করেছেন।

মাইজভাণ্ডারী অধ্যাত্ম ধারা খিজিরী প্রকৃতির। সসর্বসাধারণের বোধগম্য নয়। বেলায়তে খিজিরী অবস্থার অত্যুজ্জ্বল প্রদীপ ছিলেন শাহানশাহ হযরত শাহসূফি সৈয়দ মোহাম্মদ শাহাজাহান চৌধুরী মাইজভাণ্ডারী (ক.); যার প্রতিটি কর্ম, প্রতিটি মুহূর্তের ক্রিয়াকলাপ ছিলো দুর্বোধ্য ও রহস্যঘেরা- অর্থবাহী। প্রতিনিয়ত অসংখ্য আদম সন্তান তাঁর পবিত্র রওজা হতে অনুগ্রহ প্রাপ্ত হয়ে আল্লাহর রহমতের অধিকারী হচ্ছে।

প্রবন্ধকার- হাবিবুল বাশার

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

নাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে আলোচনা ও দোয়া মাহফিল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের হাটহাজারী উপজেলার নাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ে যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও মর্যাদায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) উপলক্ষে ফাতেহা শরীফ, আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডির সভাপতি লায়ন আলহাজ্ব সালাউদ্দিন আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন নাঙ্গলমোড়া শামছুল উলুম ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আলহাজ্ব ছালেহ আহম্মদ আনসারী। প্রধান বক্তা ছিলেন হাটহাজারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন।

অনুষ্ঠানে নাঙ্গলমোড়া শামছুল উলুম ফাজিল ডিগ্রি মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ জসিমউদ্দিন আল-কাদেরী, মাদ্রাসা গভর্নিং বডির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম, নাঙ্গলমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভাপতি সেলিম হাসান, অভিভাবক সদস্য তাজুল ইসলাম হৃদয় ও নেজামুল হকসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
এছাড়া নাঙ্গলমোড়া উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক সত্যজিত বড়ুয়া, সিনিয়র শিক্ষক নুরুল আবছার, ইব্রাহিম ও হারুন রশিদসহ শিক্ষক-কর্মচারী, শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অনুষ্ঠানে অংশ নেন।

সভাপতির বক্তব্যে লায়ন আলহাজ্ব সালাউদ্দিন আলী বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) সমগ্র মানবজাতির জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ আদর্শ। তাঁর জীবন ছিল সত্য, ন্যায়, ইনসাফ, মানবতা, ক্ষমা, সহনশীলতা ও মহানুভবতার অনন্য দৃষ্টান্ত।তিনি বলেন, মহানবী (সা.)-এর শিক্ষা ও আদর্শ ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সমাজজীবনে বাস্তবায়ন করতে হবে। অসহায়, দরিদ্র, বঞ্চিত ও নিপীড়িত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই মহানবী (সা.)-এর প্রতি প্রকৃত ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ ঘটাতে হবে।

তিনি আরও বলেন, মহানবী (সা.)-এর জীবন থেকে সততা, ধৈর্য, আত্মত্যাগ, পরমতসহিষ্ণুতা, দয়া ও ক্ষমার শিক্ষা নিয়ে নতুন প্রজন্মকে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে গড়ে তুলতে হবে।আলোচনা সভায় বক্তারা মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর পবিত্র জীবন, কর্ম ও আদর্শের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তাঁরা সমাজ থেকে অন্যায়, অবিচার, মাদক, হিংসা ও বিভেদ দূর করে মহানবী (সা.)-এর আদর্শে শান্তিপূর্ণ, মানবিক ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠনের আহ্বান জানান।


আলোচনা শেষে দেশ, জাতি ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। পরে উপস্থিত সবার মাঝে তবারক বিতরণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।

মাইজভাণ্ডারী গাউছিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্ষদ ঘোষিত “সাংগঠনিক সংলাপ ২০২৬” অনুষ্ঠিত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মাইজভাণ্ডারী গাউছিয়া হক কমিটি বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় পর্ষদ ঘোষিত “সাংগঠনিক সংলাপ ২০২৬” কর্মসূচির অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম মহানগর খ জোনের সাংগঠনিক সংলাপ সফলভাবে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অত্র জোনের আওতাধীন বিভিন্ন শাখা কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও দায়িত্বশীলদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আয়োজিত এ সংলাপ ছিল প্রাণবন্ত ও ফলপ্রসূ। চট্টগ্রাম মহানগর ‘খ’ জোনের সাংগঠনিক সমন্বয়কারী এডভোকেট কুতুবউদ্দিন আহমদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পর্ষদের সভাপতি আলহাজ্ব রেজাউল আলী জসিম চৌধুরী।

উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় পর্ষদের সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম দিদার এবং কেন্দ্রীয় সম্মানিত সদস্য যথাক্রমে মো. আলী, মীর শফিউল আলম নিজাম, কাজী নিজাম উদ্দিন, মাকসুদুর রহমান হাসনু, আশরাফুজ্জান আশরাফ, ফজলুর হক ফজু ও নাসির উদ্দীন সহ চট্টগ্রাম মহানগরের সাংগঠনিক সমন্বয়কারী মেজবাহ উদ্দিন, শফিকুল ইসলাম, শামশুল ইসলাম, বদিউর রহমান, ওমর ফারুক, আক্তার মিঞা, ফোরকান, মোকসুদুল আলম, সাজ্জাদ হোসেন। অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, নাতে রাসুল (সা.) ও মাইজভাণ্ডারী কালাম পরিবেশন করা হয়। স্বাগত বক্তব্য রাখেন খ জোনের সাংগঠনিক সমন্বয়কারী মোঃ সাজ্জাদ।

আলোচিত খবর

জাতীয় স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

জাতীয় স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে মহান মুক্তিযুদ্ধের বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন নতুন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

আজ শনিবার (২২ আগস্ট) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধের বেদিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এরপর তিনি শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন।শ্রদ্ধা নিবেদনের সময় তিন বাহিনীর একটি চৌকস দল ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতিকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করে। তখন বিউগলে করুণ সুর বেজে ওঠে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ