আজঃ শনিবার ২০ জুন, ২০২৬

রাজশাহী কলেজের শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

রাজশাহী সংবাদদাতা

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহী কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শিমুলের ‘রহস্যজনক’ মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে রাজশাহী কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা

রাজশাহী কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শিমুলের ‘রহস্যজনক’ মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে রাজশাহী কলেজের সামনে সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরা।

রাজশাহী কলেজের ডিগ্রি প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শিমুলকে (২০) হত্যা করা হয়েছে দাবি করে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সড়ক অবরোধ করেছেন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে রাজশাহী কলেজ প্রাঙ্গণে বিক্ষোভ মিছিল করেন তাঁরা। পরে দুপুর ১২টার দিকে কলেজের সামনের ব্যস্ততম সড়ক অবরোধ করে বসে পড়েন শিক্ষার্থীরা।

অবরোধের কারণে সড়কের দুই পাশে যান চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে অবরোধ তুলে নেন শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিটি ‘সাধারণ শিক্ষার্থী’ ব্যানারে করা হলেও এতে ছাত্রদলের কলেজ শাখার নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে শিমুলকে উদ্ধার করে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে, পরে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তিন সদস্যের একটি অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেছে। পুলিশও ঘটনার কয়েকটি সূত্র ধরে তদন্ত করছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি।

শিমুলের লাশ উদ্ধারের ঘটনায় গতকাল শুক্রবার সন্ধ্যায় বিনোদপুর এলাকায় ঢাকা-রাজশাহী মহাসড়ক অবরোধ করা হয়। পরে শনিবার রাজশাহী কলেজেও কর্মসূচি পালন করা হয়।

রাজশাহী কলেজের ইতিহাস বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী জোবায়ের হোসেন বলেন, ‘শিমুলের মৃত্যুর পর এটাকে কেউ বলছে দুর্ঘটনা, কেউ বলছে মারধর করে মারা হয়েছে। এটা নিয়ে একটা ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে। মনে হচ্ছে, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো কিছু ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে। আমরা মনে করছি, এটা সরাসরি হত্যাকাণ্ড। তাঁকে আঘাত করে মারা হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে আজ এই কর্মসূচি। প্রকৃতই যদি দুর্ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে দ্রুত সেটা বের করা হোক। আর যদি এটা হত্যাকাণ্ড হয়ে থাকে, সেই হত্যার বিচার চাই।’

রাজশাহী কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক খালিদ বিন ওয়ালিদ বলেন, শিমুল ছাত্রদলের কর্মী ছিলেন, সেটা কোনো বিষয় নয়। বিষয়টা হচ্ছে তাঁদের কলেজের ছোট ভাই মারা গেছেন। তাঁরা সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবেই কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। শিমুলের সঙ্গে একজন মেয়ে ছিলেন। ওই দিন হাসপাতালে সবার সামনে ওই মেয়ে বলেছেন, শিমুলের মাথায় আঘাত করা হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ঘটনার তদন্ত করতে হবে। আগামীকাল রোববারও একই দাবিতে শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি পালন করবেন বলে তিনি জানান।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানি, খুবি শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের (খুবি)এক শিক্ষার্থীকে যৌন হয়রানিমূলক বার্তা পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে।
অ্যাগ্রোটেকনোলজি ডিসিপ্লিনের প্রধান অধ্যাপক রেজাউল ইসলামের বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ওই শিক্ষককে ইতোমধ্যে ডিসিপ্লিন-প্রধানের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘যৌন হয়রানি ও নিপীড়ন নিরোধ কেন্দ্র’।

এদিকে অভিযুক্ত শিক্ষকের স্থায়ী বহিষ্কারের দাবিতে বৃহস্পতিবার উত্তাল হয়ে ওঠে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস। ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল, শিক্ষকের কুশপুত্তলিকা দাহ এবং জুতা নিক্ষেপ কর্মসূচি পালন করেন।

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গরু চুরিতে গণপিটুনির শিকার যুবকের মৃত্যু

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলায় গরু চুরির অভিযোগে গণপিটুনির শিকার এক যুবক চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।মঙ্গলবার (২ জুন) ভোররাতে উপজেলার গোহালবাড়ি ইউনিয়নের গোয়ালবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত ফিরোজ আলী (৪০) চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার পিটিআই কলেজ বস্তি এলাকার মৃত নুর নবীর ছেলে। তবে তিনি গত পাঁচ বছর ধরে শ্বশুরবাড়ি গোহালবাড়ি গ্রামে বসবাস করছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাত আনুমানিক ৩টার দিকে গোয়ালবাড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো. এমরান হোসেনের গোয়ালঘরে গরু চুরির চেষ্টা হচ্ছে বলে পরিবারের সদস্যরা সন্দেহ করেন। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে ফিরোজ আলীকে আটক করা হয়। পরে চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে জড়ো হলে তাকে মারধর করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

গুরুতর আহত অবস্থায় ফিরোজ আলীকে উদ্ধার করে ভোলাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল আনুমানিক ৭টা ১০ মিনিটে তিনি মারা যান।খবর পেয়ে ভোলাহাট থানা পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করা হয়।

ভোলাহাট থানা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি তদন্তাধীন রয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আলোচিত খবর

আলোচিত রামিসা ধর্ষণ-হত্যা: সোহেল-স্বপ্না দম্পতির মৃত্যুদণ্ড

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঢাকার পল্লবীতে আট বছর বয়সি রামিসা আক্তার ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় আসামি সোহেল রানা ও স্বপ্না আক্তার দম্পতির মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। পাশাপাশি সোহেলের পাঁচ লাখ টাকা এবং স্বপ্নার দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আজ রোববার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে এ রায় ঘোষণা করেন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন।এ সময় কাঠগড়ায় আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ছিলেন। তাদের সাজা পরোয়ানা দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রায় ঘিরে সকাল থেকে আদালত এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।


রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা।এর মধ্য দিয়ে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে কম সময়ে ধর্ষণ-হত্যা মামলার বিচার কাজ শেষ হওয়ার নজির তৈরি হলো।বিচার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অতীতে এ ধরনের মামলার বিচার কাজ এতো কম সময়ে সম্পন্ন হয়নি। আলোচিত মামলাটি বিচার শুরু থেকে রায়ের পর্যায়ে এসেছে মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে।

আত্মপক্ষ শুনানি শেষে ৪ জুন যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন ঠিক করা হয়। যুক্তিতর্ক উপস্থাপনে রাষ্ট্রপক্ষে কৌঁসুলি আজিজুর রহমান দুলু আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে দাবি করে সর্বোচ্চ সাজা মৃত্যুদণ্ড চান। আসামিপক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মুসা কালিমূল্যাহ দুই আসামির পক্ষে যুক্তিতর্কে অংশ নেন। তিনি আসামিদের লঘুদণ্ড প্রার্থনা করেন।

যুক্তিতর্ক উপস্থাপনকালে সোহেল রানার দেওয়া জবানবন্দি পড়ে শোনান রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি দুলু। সেখানে উঠে আসে, সোহেলকে পালানোর সুযোগ করে দিয়েই সেদিন রুমের দরজা খোলেন স্বপ্না।গত ২০ মে সোহেল রানা দোষ স্বীকার করে ঢাকার মহানগর হাকিম আমিনুল ইসলাম জুনাইদের আদালতে জবানবন্দি দিয়েছিলেন।রামিসা ধর্ষণ ও হত্যা ঘটনার ১৯ দিনের মাথায় বিচারক রায় ঘোষণা করলেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ