রাজশাহীতে আমের গাছে এসেছে অসংখ্য মুকুল

মো: গোলাম কিবরিয়া রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার রাজশাহীর আমগাছগুলো আগেভাগেই মুকুলে ছেয়ে গেছে। চাষিরা পোকামাকড় থেকে এসব গাছ বাঁচাতে বালাইনাশক দিচ্ছেন। সেইসঙ্গে আমের ভালো ফলন হওয়ার আশা করছেন। এজন্য গাছের যত্নে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে এই আনন্দের মাঝে ঘন কুয়াশায় মুকুল নষ্টের শঙ্কাও রয়েছে তাদের। যদিও মুকুল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা কম বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

চাষিরা বলছেন, গত বছর জেলার গাছগুলোতে মুকুল কম এসেছিল। এবার আগেভাগেই বেশি মুকুল আসতে শুরু করেছে। ইতিমধ্যে অধিকাংশ গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে মুকুল।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের কর্মকর্তারা বলছেন, কুয়াশার পর রোদ থাকায় নষ্টের পরিবর্তে মুকুল আরও সতেজ হবে। এজন্য কিছু ছত্রাক জাতীয় কীটনাশক ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে চাষিদের।

সরেজমিনে কয়েকটি আমবাগান ঘুরে দেখা যায়, বাগানগুলোর অধিকাংশ গাছে মুকুল এসেছে। যেসব গাছে এখনও আসেনি, সেগুলোর বাড়তি যত্ন নিচ্ছেন চাষিরা। এ ছাড়া ফড়িয়ারাও বাগানে বাগানে ঘুরতে শুরু করেছেন। আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে মুকুল দেখে বাগান কেনা শুরু হবে বলে জানিয়েছেন তারা।

তবে আশঙ্কার কথা জানিয়ে চাষিরা বলছেন, আগাম মুকুল আসলে কুয়াশার কবলে পড়ার শঙ্কা বেশি থাকে। ঘন কুয়াশা দীর্ঘস্থায়ী হলে মুকুলে ‘পাউডারি মিলডিউ’ নামে এক ধরনের রোগ দেখা দেয়। এতে মুকুল ঝরে পড়ে। যার প্রভাব পড়ে ফলনে। এজন্য কীটনাশক ব্যবহার করছেন কেউ।
এবার আগেভাগেই বেশি মুকুল আসতে শুরু করেছে

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্যমতে, এ বছর রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ ও নাটোর জেলায় ৯৩ হাজার ২০০ হেক্টর জমিতে আমচাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে আনুমানিক প্রায় সাড়ে ১২ লাখ মেট্রিক টন। এর মধ্যে রাজশাহী জেলায় ১৭ হাজার ৯০০ হেক্টর জমিতে আমের বাগান আছে। গত বছর এই অঞ্চলে মোট ১২ লাখ ৭ হাজার ২৬৩ টন আম উৎপাদন হয়।

বুধপাড়া, পবা, চারঘাট ও বাঘা উপজেলার আমের বাগানগুলোতে আগাম মুকুল এসেছে। এর মধ্যে বুধপাড়া, চারঘাটের নিমপাড়া, ভায়ালক্ষ্মীপুর, চারঘাট সদর, সারদা, শলুয়া এবং বাঘা উপজেলার মনিগ্রাম, বাউসা, গড়গড়িয়া ইউনিয়নের অনেকের বাগানে মুকুল এসেছে বলে জানান চাষিরা।

বুধপাড়া এলাকার চাষি আয়নাল হক বলেন, ‌‘এবার আবহাওয়া ভালো। তেমন শীত নেই, কুয়াশাও কম। অনেক সময় কুয়াশার কারণে মুকুলের ক্ষতি হয়। কিন্তু এ বছর সেই ঝুঁকি কম। তাই আশা করছি, গাছে ভালো মুকুল আসবে। বর্তমানে লক্ষণভোগ ও গোপালভোগ জাতের গাছগুলোতে মুকুল দেখা যাচ্ছে।’

সাত বিঘা জমিতে আমের বাগান রয়েছে নিমপাড়া ইউনিয়নের কালুহাটি গ্রামের বাহাদুর রহমানের। তিনি বলেন, ‘গত দুই বছর বাগানে মুকুল আসেনি। ফলে অনেক গাছ কেটে ফেলেছি। এখন যেসব গাছ আছে সেগুলোতে আগেভাগেই মুকুল এসেছে। কুয়াশায় মুকুল নষ্ট না হলে এবার আমের ভালো ফলন হবে।’

অধিকাংশ গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে উঁকি দিচ্ছে মুকুল।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ভিপি ক্ষমা না চাইলে সারা দেশের সাংবাদিকদের সম্পৃক্ত করে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সব ধরনের কর্মসূচি বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সাংবাদিক সংগঠনের সদস্যরা। একই সঙ্গে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাকসু ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ প্রকাশ্যে নিঃশর্ত ক্ষমা না চাইলে সারা দেশের সাংবাদিকদের সম্পৃক্ত করে কঠোর কর্মসূচিরও হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে।

২৯ জুলাই বিকেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (রাবিসাস) ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রেস ক্লাবের সম্মিলিত এক প্রতিবাদলিপিতে এ ঘোষণা দেয়া হয়।

বোয়ালখালীতে বন্যায় ১৮৮ হেক্টর ফসলি জমি ও সাড়ে ৫ কোটি টাকার মাছের ক্ষয়ক্ষতি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

টানা ভারী বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে সৃষ্ট বন্যায় চট্টগ্রামের বোয়ালখালীতে কৃষি ও মৎস্য খাতে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। উপজেলার ১৮৮ হেক্টর ফসলি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। একই সঙ্গে প্রায় ৭০ শতাংশ পুকুর ও মাছের খামার প্লাবিত হওয়ায় ভেসে গেছে কোটি কোটি টাকার মাছ। এতে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন কৃষক ও মৎস্যচাষিরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে বোয়ালখালীতে ২৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধানের বীজতলা এবং ৪ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। দুর্যোগের আগে ৫৫ হেক্টর জমিতে বীজতলা প্রস্তুত করা হলেও তার বেশিরভাগই বর্তমানে পানির নিচে তলিয়ে রয়েছে।

এ ছাড়া বন্যার পানিতে ২৩ হেক্টর আউশ ধান ও ১১০ হেক্টর গ্রীষ্মকালীন সবজিক্ষেত নষ্ট হয়ে গেছে। অনেক এলাকায় এখনও পানি জমে থাকায় প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

রবিবার (১৯ জুলাই) উপজেলার চরনদ্বীপ, পোপাদিয়া শ্রীপুর-খরণদ্বীপ, আমুচিয়া, করলডেঙ্গা, সারোয়াতলী,শাকপুরা ও পশ্চিম গোমদণ্ডী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উঁচু জমি থেকে পানি নামতে শুরু করলেও নিম্নাঞ্চল এখনো প্লাবিত রয়েছে।

পোপাদিয়া সৈয়দপুর কৃষক রমজান জানান, ৩০ কানি জমিতে আমন চাষের জন্য বৃষ্টির তিন দিন আগে ১৫ আড়ি ধানের বীজতলা করেছিলেন। কিন্তু টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে পুরো বীজতলা তলিয়ে গেছে। এখন নতুন করে বীজতলা তৈরি করতে অতিরিক্ত অর্থ ও শ্রম ব্যয় করতে হবে। এতে আমনের আবাদও পিছিয়ে যাবে।

আমুচিয়া ইউনিয়নের মৎসউদ্যোগক্তা বেলাল জানান দুই কানি পুকুর মাছ চাষ করেছি কিন্তু টানা বষর্নে বন্যার পানিতে আমার সব মাছ তলিয়ে গেছে তার হিসাব মতে ক্ষয়ক্ষতির পরিমান সাড়ে তিন লক্ষ টাকা।

একই ধরনের ক্ষতির কথা জানিয়েছেন আমুচিয়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুল জলিল, মাসুদ নিহাল করিম সহ আরও অনেক কৃষক।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শাহানুর ইসলাম বলেন, বৃষ্টিজনিত ফসলের ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে। বর্তমান পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকলে আমনের বীজতলার ব্যাপক ক্ষতি হতে পারে। মাঠ পর্যায়ে উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের তালিকা করে সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।

অন্যদিকে উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বোয়ালখালী পৌরসভাসহ ৯টি ইউনিয়নে প্রায় ২ হাজার ১০০টি ছোট-বড় মাছের পুকুর রয়েছে। এর মধ্যে প্রদর্শনী পুকুরসহ প্রায় ৯৫০টি পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। এতে মৎস্য খাতে প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকার ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।

উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাঈম হাসান বলেন, টানা ভারী বৃষ্টিতে উপজেলার প্রায় ৭০ শতাংশ পুকুর ও মৎস্য খামার পুরোপুরি বা আংশিক তলিয়ে গেছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। উপজেলা মৎস্য দপ্তর নিয়মিত ক্ষতিগ্রস্ত চাষিদের খোঁজখবর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা প্রদান করছে।

আলোচিত খবর

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আহমেদ পদত্যাগ করেছেন

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। আজ শুক্রবার ২৪ জুলাই বিকেলে তিনি গণমাধ্যমকে নিজেই পদত্যাগের বিষয়টি নিশ্চিত করেন জাতীয় সংসদের স্পিকারের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র এরই মধ্যে পৌঁছানো হয়েছে।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র গ্রহণের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে সংসদ ভবনে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছেন।

কয়েক দিন ধরেই রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনা চলছিল। বঙ্গভবন সূত্রে জাবা যায়, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন এবং পদত্যাগপত্রও প্রস্তুত করেছেন। তবে স্পিকার বিদেশ সফরে থাকায় তা জমা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। একই সঙ্গে ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নেন। তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। তার পাঁচ বছরের মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত থাকার কথা ছিল। দায়িত্ব পালনকালে তিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করান।

২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিভিন্ন মহল থেকে তার পদত্যাগের দাবি ওঠে। তখন তিনি পদত্যাগ করেনননি। গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়। তবে সংসদ ভেঙে দেওয়া, অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন অব্যাহত রাখেন।

২২ তম এরাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে নতুন নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হলো। নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার আগ পর্যন্ত সংবিধান অনুযায়ী স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন।

রাষ্ট্রপতি হওয়ার আগে মো. সাহাবুদ্দিন জেলা ও দায়রা জজ এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মুক্তিযুদ্ধের সময় পাবনা জেলার স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে প্রশিক্ষণ নিয়ে মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ