আজঃ বৃহস্পতিবার ১৯ মার্চ, ২০২৬

চট্টগ্রামে দীর্ঘ যানজট, ফের কর্মবিরতিতে প্রাইম মুভার চালকরা

চট্টগ্রাম ব্যুরো:

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের পণ্যবাহী প্রাইম মুভার চালকরা ফের কর্মবিরতিতে নেমেছেন। সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট ডিসি পার্কে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলার জেরে কর্মবিরতি করছেন বলে জানিয়েছেন চালক-শ্রমিকরা। এর ফলে পতেঙ্গা থেকে আগ্রাবাদমুখী সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১০টা থেকে তারা কর্মবিরতি শুরু করেন।

বন্দর ট্রাফিক বিভাগ বলছে, যানজট নিরসনে তাদের কিছুই করণীয় নেই। চট্টগ্রামের যদিও চট্টগ্রাম জেলা প্রাইম মুভার ও ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন।

সকাল ১১টার দিকে নগরের সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রাইম মুভার গাড়িগুলো সড়কের একপাশে পার্ক করে রাখা। গাড়িতে ছিলেন না চালকরা। তাদের একাংশ ইমাম শরীফ ফিলিং স্টেশন সংলগ্ন চট্টগ্রাম জেলা প্রাইম মুভার ও ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়নের অফিসের সামনে জড়ো হয়েছেন।

কর্মবিরতির কারণ জানতে চাইলে এক শ্রমিক বলেন, গতকাল (বুধবার) ডিসি অফিসে (জেলা প্রশাসন) মিটিং হয়েছে। সেখানে আমাদের আশ্বস্ত করা হয়েছিল। কিন্তু আজ শুনি রাতে অজ্ঞাত আসামিদের নামে মামলা দেওয়া হয়েছে। আমাদের যেকোনো সময় এই মামলায় পুলিশ গ্রেফতার করতে পারে। আমরা এই মামলা প্রত্যাহার চাই, অন্যথায় গাড়ি চলবে না।

আরেক শ্রমিক বলেন, এখন বাজে সকাল সাড়ে ১১টা। আমরা এখানে কর্মবিরতি পালন করছি আমাদের কোনো নেতা এখনো আসেনি। আমাদের বিরুদ্ধে মামলা দিয়ে আমাদের ফাঁসানো হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চট্টগ্রাম জেলা প্রাইম মুভার ও ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি সেলিম খান এবং সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়েরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও সম্ভব হয়নি।

প্রাইম মুভার শ্রমিকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, ডিসি পার্কে ঘটা সংঘর্ষের ঘটনায় বুধবার সীতাকুণ্ড থানায় মামলা হয়েছে। যার ফলে গাড়ি চালক-সহযোগীরা গ্রেপ্তার আতঙ্কে আছেন। এই অবস্থায় তারা গাড়ি চালাতে রাজি না। তবে এই কর্মবিরতি শুধুমাত্র প্রাইম মুভার চালকদের এমনটাই জানিয়েছেন তারা।

জানা গেছে, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড থানার ফৌজদারহাটে ডিসি পার্কে সংঘর্ষের ঘটনায় মামলা হয়েছে। চট্টগ্রাম জেলা প্রাইম মুভার ও ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছেন।

মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সীতাকুণ্ড থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মজিবুর রহমান। তিনি বলেন, ওই রাতে সংঘর্ষের ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার বাদী হয়েছেন চট্টগ্রাম জেলা প্রাইম মুভার ও ট্রেইলার শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আবুল খায়ের। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখানে হয়তো বোঝার ভুল হয়েছে। চালকদের মারধর, মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা হয়েছে। তাদের তো কর্মবিরতিতে যাওয়ার কথা না।

এদিকে, লরি চালকরা রাস্তার পাশে গাড়ি পার্ক করে চলে যাওয়ায় পতেঙ্গা থেকে আগ্রাবাদগামী সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে কর্মজীবী ও সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছে। যাত্রীবাহী বাস থেকে যাত্রীদের নেমে পায়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা গেছে। তবে আগ্রাবাদ হয়ে পতেঙ্গাগামী সড়কটিতে যানজট লক্ষ্য করা যায়নি।
কাভার্ডভ্যান চালক সোলায়মান বলেন, গত দুইদিন ধরে বন্দরের ভেতর গাড়ি। ঢাকা নিয়ে যাওয়ার কথা পণ্য। কিন্তু কর্মবিরতির কারণে গাড়ি নিয়ে বের হতে পারছি না। ভেবেছিলাম গতকাল সমাধান হয়েছে। কিন্তু আজ আবার কি হয়েছে কে জানে!

জানতে চাইলে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-কমিশনার (বন্দর) কবীর আহম্মদ যানজটের বিষয়ে কিছুই জানেন না বলে জানিয়েছেন। কর্মবিরতির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিবেদককে উল্টো প্রশ্ন করে বসেন, সব জেনেও কেন জিজ্ঞেস করছেন। যানজট নিরসনে ট্রাফিক বিভাগ থেকে কি করণীয় জানতে চাইলে তিনি বলেন, তাঁর কিছুই করণীয় নেই।

এর আগে, সীতাকুণ্ডের ফৌজদারহাট এলাকায় ডিসি পার্কে সংঘর্ষের ঘটনার জেরে মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা থেকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেন লরি-ট্রাক চালক-শ্রমিকরা। পরে এ ঘটনায় নগরের কাস্টমস এলাকায় ট্রাক, প্রাইম মুভার ও লরি চালকরা সড়কে মিছিল করতে থাকেন সল্টগোলা ক্রসিং এলাকায় রাস্তার উভয় পাশের গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেন। পরে বুধবার ভোর সারে ৪টার দিকে সেনাবাহিনী-পুলিশের

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, চট্টগ্রামের সমন্বয়ক ও প্রাইমমুভার ট্রেইলার চালক-শ্রমিক সংগঠনের নেতাদের যৌথ বৈঠক শেষে অবরোধ তুলে নিলেও চার দফা দাবিতে চালক-শ্রমিকরা কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। এর ২৩ ঘণ্টার মাথায় জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সন্ধ্যা থেকে দীর্ঘ দুই ঘণ্টা বৈঠকের পর তারা কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করে নেয়। কিন্তু সীতাকুণ্ডে সংঘর্ষের জেরে মামলা হওয়ায় শুধুমাত্র লরি চালকরা ফের এই কর্মবিরতি শুরু করে।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

চট্টগ্রামে শেষ সময়ে ঘরমুখো মানুষের স্রোত, রেল ষ্টেশন-টার্মিনালে উপচেপড়া ভিড়।

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

ঈদের সাতদিনের ছুটিকে কেন্দ্র পরিবার পরিজনের সাথে ঈদের আনন্দ বাগাভাগি করতে বন্দরনগরী ছেড়ে যাচ্ছে মানুষ। মহানগরের বাস টার্মিনালগুলো ও রেলওয়ে স্টেশনে ঘরমুখো মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখ পড়ার মতো। বুধবার ভোর থেকেই চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। যথাসময়ে ছেড়ে যাচ্ছে একের পর এক ট্রেন। এছাড়া ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে বাস টার্মিনালেও ভিড় করেন যাত্রীরা।

পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারছেন বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই। এদিকে চট্টগ্রাম অনেকটা ফাঁকা হতে শুরু করেছে। নগরের বিভিন্ন ব্যস্ত রাস্তায় নেই আগের চিরচেনা যানজটের দৃশ্য। যানজটহীন স্বস্তিতে গাড়ি নিয়ে ঘুরছেন নগরবাসী।
চট্টগ্রাম জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ট্রাফিক) শেখ মো. সেলিম বলেন, এখানে নিরাপত্তার কোনও শঙ্কা নেই। পুলিশের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রার জন্য। প্রয়োজনীয় যা যা ব্যবস্থা করা দরকার তা নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনেও পুলিশ কাজ করছে। যাত্রীদের ভাড়ার বিষয়েও আমরা তদারকি করছি।

বুধবার মহানগরের কদমতলী, বহদ্দারহাট ও নতুন ব্রিজ জিইসি বাস কাউন্টারে গিয়ে দেখা যায়, যাত্রীর চাপ বেশি। টিকিট পাচ্ছেন না অনেকে। দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা পর সকালে ছেড়ে যাওয়া ফিরতি গাড়ি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন কেউ কেউ। যাত্রীর চাপের তুলনায় বাস টার্মিনালে গাড়ির সংকট দেখা গেছে। তবে কাউন্টার বসে থাকা কর্মকর্তারা বলছেন, যে গাড়িগুলো গেছে সেগুলো ফিরে এলেই এই টিকিটের সংকট থাকবে না। যাত্রীর তুলনায় গাড়ি কম।
চট্টগ্রাম রেলস্টেশনে যাত্রীরা বলছেন, কোনও ভোগান্তি নেই। তারা নির্বিঘ্নে যথাসময়ে ট্রেনে উঠছেন এবং ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও কিছু কিছু ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে যাত্রীরা যেতে পারছেন। সকালে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশন থেকে ময়মনসিংহের উদ্দেশ্যে ছেড়ে গেছে বিজয় এক্সপ্রেস ট্রেন। অন্য ট্রেনগুলোও যথাসময়ে ছেড়ে গেছে। তাই স্টেশনে যাত্রীদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে না। দূরপাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও খোলা ট্রাকে কম ভাড়ায় গন্তব্যে যাচ্ছে লোকজন।

চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে বিআরটিএ’র সতর্ক সংকেত

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের দুর্ঘটনাপ্রবণ বাঁকগুলোতে সতর্ক সংকেত হিসেবে লাল পতাকা স্থাপন করেছে। ঈদুল ফিতর সামনে রেখে ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নিরাপদ করতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের এই গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ৯টি বাঁকে উভয় পাশে সারিবদ্ধভাবে এসব পতাকা বসানো হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত কয়েক বছরে এসব বাঁকে একাধিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। বিশেষ করে গত বছরের ঈদুল ফিতরের দিন সকালে লোহাগাড়ার জাঙ্গালিয়া এলাকায় একটি ভয়াবহ দুর্ঘটনায় কয়েকজন নিহত হন। এরপর থেকেই বাঁকগুলোতে নিরাপত্তা বাড়ানোর দাবি ওঠে।

মহাসড়কে চলাচলকারী কয়েকজন বাস চালক জানান, রাতে বা কুয়াশার সময় হঠাৎ বাঁক সামনে চলে আসায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে। নতুন করে লাল পতাকা বসানোয় আগেভাগেই সতর্ক হওয়া সহজ হবে।তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু অস্থায়ী পতাকা নয়-স্থায়ী সাইনবোর্ড, গতিসীমা নির্দেশনা, রিফ্লেক্টর ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থাও জরুরি। পাশাপাশি অতিরিক্ত গতিতে গাড়ি চালানো নিয়ন্ত্রণে নিয়মিত নজরদারি বাড়ানোর তাগিদ দেওয়া হয়েছে।

বিআরটিএর তালিকা অনুযায়ী, যেসব স্থানে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেশি, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে লোহাগাড়ার চুনতির শেষ সীমানায় বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য সংলগ্ন বাঁক, লোহাগাড়া–চুনতির জাঙ্গালিয়া বাঁক, চুনতির ডেপুটি বাজারের আগে ও পরের বাঁক, চুনতি ফরেস্ট অফিস সংলগ্ন এলাকা, লোহাগাড়া রাজাঘাটা, সাতকানিয়ার মিঠা দীঘি, চন্দনাইশের খানহাট পুকুর এবং পটিয়ার পাইরুল মাজারসংলগ্ন বাঁক।

বিআরটিএ চট্টগ্রাম জেলা সার্কেলের সহকারী পরিচালক (ইঞ্জিনিয়ারিং) উথুয়াইনু চৌধুরী বলেন, ঈদের সময় এই মহাসড়কে যানবাহনের চাপ কয়েকগুণ বেড়ে যায়। তাই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকগুলোতে আগাম সতর্কতা নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বিআরটিএর চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ের উদ্যোগে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রতিটি বাঁকের উভয় পাশে পাঁচটি করে মোট ১০টি লাল পতাকা বসানো হয়েছে। ফলে দূর থেকেই চালকেরা বিপজ্জনক বাঁক সম্পর্কে সতর্ক হতে পারবেন।

আলোচিত খবর

আরও পড়ুন

সর্বশেষ