আজঃ মঙ্গলবার ৫ মে, ২০২৬

সাইবার স্পেসের হাতছানি :সম্ভাবনা নাকি সংকট?

সাদিয়া নুর ইউসরা আইন বিভাগ প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়,চট্টগ্রাম

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আধুনিক জীবনধারায় আমাদের তাৎক্ষণিক যোগাযোগ, সীমানাহীন ও প্রায় সীমাহীন তথ্যপ্রাপ্তি এবং বিস্তৃত উদ্ভাবনী সেবার সুযোগ করে দিয়েছে। সাইবার স্পেস ব্যক্তি জীবন থেকে শুরু করে জাতীয় ও বৈশ্বিক বিষয় পর্যন্ত ব্যাপকভাবে কার্যাবলী এবং সেবাকে পরিপূরক বা বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। তবে ব্যবসা, সরকার এবং সমাজের ইন্টারনেটের উপর নির্ভরশীলতা ক্রমবর্ধমান হওয়ায় এটি অপরাধীদের জন্য অর্থনীতি ও জীবনযাত্রা ব্যাহত করার প্রধান লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে। সাইবার অপরাধসমূহ অর্থনৈতিক ক্ষতি,ব্যাক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তার লঙ্ঘন, মানসিক চাপ ও নিরাপত্তাহীনতা, ব্যবসায়িক ক্ষতি,

জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি, পরিচয় চুরি,জালিয়াতি সর্বোপরি সমাজের উপর এক বিরূপ প্রভাব ফেলে। তাই সাইবার অপরাধের হুমকি মোকাবেলায় সচেতনতা, প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা ও আইনের কঠিন অনুশাসন বাস্তবায়ন করা বর্তমান প্রজন্মের কাছে চ্যালেঞ্জ স্বরূপ। এই প্রেক্ষাপটে, বর্তমান সরকার “সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৪ “প্রণয়ন করেছেন; যা সাইবার নিরাপত্তা জোরদার ও ডিজিটাল অপরাধ প্রতিরোধ করতে সক্ষম হবে বলে মনে করা হচ্ছে। প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়ায় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক উঠে এসেছে,তবে কিছু বিষয় পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে।

ধারা ৩৬ অনুযায়ী, পরোয়ানা ছাড়াই তল্লাশি, জব্দ ও গ্রেফতারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই সংক্রান্ত রিপোর্ট ট্রাইবুনালে দাখিলের নির্দিষ্ট কোন সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়নি। যেহেতু পরোয়ানা ছাড়া তল্লাশি করার ফলে ব্যক্তির হয়রানির সুযোগ থাকে, তাই এ ধরণের কার্যক্রমের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে রিপোর্ট জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত।

ধারা ৪৮ এর উপধারা (৩) অনুযায়ী,বাজেয়াপ্তযোগ্য সাইবার উপকরণের পাশাপাশি যদি কোনো বৈধ উপকরণ পাওয়া যায় তবে সেগুলোও বাজেয়াপ্ত করা হবে। এটি কতটুকু যৌক্তিক, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকে যায়। কেননা, বৈধ উপকরণ যদি অপরাধ সংগঠনে ব্যবহৃত না হয় তাহলে সেগুলো জব্দ করার কোন প্রয়োজন নেই। এই বিধান প্রয়োগ করলে কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যবসার কার্যক্রম অযথা বাধাগ্রস্ত হতে পারে।

এছাড়া খসড়াই হুইসেল ব্লোয়ারদের সুরক্ষা ব্যবস্থা রাখা হয়নি , যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সাইবার অপরাধ সম্পর্কে তথ্য প্রদানকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে তারা অপরাধ দমনে ভূমিকা রাখতে আগ্রহ প্রকাশ নাও করতে পারে। পাশাপাশি সাইবার হামলার শিকার প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গ্রাহকদের কাছে তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতা থাকা উচিত। নাগরিকের ডাটা,ডিজিটাল সম্পদ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সেটি গোপন না রেখে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রকাশ করা দরকার।

বিশ্বব্যাপী পরিবহন ও স্বাস্থ্য খাত সাইবার হামলার বড় লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। গণপরিবহন ও হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল অবকাঠামো সাইবার আক্রমণের শিকার হলে মানুষের নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে। তাই সাইবার সুরক্ষা কাউন্সিলে এ দুটি খাতের মন্ত্রণালয়কে যুক্ত করা প্রয়োজন।

“সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৪”এর খসড়ায় তথ্যের গোপনীয়তার বিষয়টা আংশিকভাবে আসলেও এটি অধিকার এবং প্রযুক্তির নিরাপত্তার মধ্যে কতটুকু ভারসাম্য রক্ষা করতে পেরেছে তা নিয়ে একটা আশংকা থেকেই যায়। প্রস্তাবিত সাইবার সুরক্ষা আইন আগের আইনের কিছু দুর্বলতা কাটিয়ে উঠলেও এটি যেন প্রকৃত অর্থে সঠিক প্রয়োগ ও অপব্যবহার রোধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণের মধ্যে সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করে,সেদিকে সরকার এবং সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সিগুলোর সজাগ দৃষ্টি কাম্য।

শেয়ার করুন-

Share on facebook
Share on whatsapp
Share on twitter
Share on linkedin

আরও খবর

ব্লাড ব্যাংকের যাত্রা শুরু ৪৬ বছরে পা রাখলো মেডিকেল সেন্টার হাসপাতাল

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালের ৪৬ বছর পূর্তি উদযাপন উপলক্ষে বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠান ও ব্লাড ব্যাংকের উদ্বোধন একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত হয়। সভাপতিত্ব করেন হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. মো মনিরুজ্জামান। এতে ডেঙ্গু রোগীদের ক্ষেত্রে রক্তের যথাযথ ব্যবহার বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈজ্ঞানিক সেমিনারের আয়োজন করা হয়। প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগের ডিভিশনাল ডিরেক্টর ডা. শেখ ফজলে রাব্বি। বিশেষ অতিথি ছিলেন অধ্যাপক ডা. মাসুদ আহমেদ, অধ্যাপক ডা. এ.এম. রায়হান উদ্দিন, অধ্যাপক ডা. হাফিজুল ইসলাম। হাসপাতালের জেনারেল ম্যানেজার মো.ইয়াছিন আরাফাতের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সহযোগী অধ্যাপক ডা. জেবুন নেসা, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মিজানুর রহমান (মিজান) এবং সহকারী অধ্যাপক ডা. আশরাফুল হক।

সেমিনারে বক্তারা ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসায় রক্ত ও রক্তজাত উপাদানের সঠিক ও প্রয়োজনীয় ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব প্রদান করেন। তারা বলেন, সঠিক সময়ে সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে ডেঙ্গুজনিত জটিলতা অনেকাংশে কমানো সম্ভব। অনুষ্ঠানের মাধ্যমে হাসপাতালের সেবার মান উন্নয়ন ও আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রসারে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন,মেডিকেল ডিরেক্টর ডা. তাহমিদ জুনায়েদ মাহমুদ, ডা. সাফওয়ান মাহমুদ, মার্কেটিং ম্যানেজার রতন কুমার নাথ, বিডিএম ম্যানেজার গোলাম রব্বানী, সার্ভিস ম্যানেজার লুৎফুর রহমান, আই টি ম্যানেজার মোঃ উছা, সহকারী ম্যানেজার মো. মিজানুর রহমানসহ হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকবৃন্দ এবং অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ।

শাহ আমানত বিমানবন্দরে জব্দ ২৭ লাখ টাকার বিদেশি সিগারেট

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অভিযান চালিয়ে বিপুল সংখ্যক সিগারেটের চালান জব্দ করা হয়েছে। মাস্কাট থেকে আগত সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইটের যাত্রী মো. শামসুদ্দিনের ব্যাগেজ তল্লাশি করে ২৮০ কার্টন সিগারেট উদ্ধার করা হয়। একই সময়ে আন্তর্জাতিক আগমন হলের ১ নম্বর লাগেজ বেল্টে যাত্রীবিহীন অবস্থায় আরও ১ হাজার ৬৫ কার্টন সিগারেট ও একটি ল্যাপটপ পাওয়া যায়। রোববার দিবাগত রাতে বিমানবন্দরের আন্তর্জাতিক আগমন হলে এ অভিযান পরিচালিত হয়।

শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রকৌশলী ইব্রাহিম খলিল বলেন, জব্দ করা সিগারেট থেকে সম্ভাব্য রাজস্বের পরিমাণ প্রায় ২৭ লাখ ৩০ হাজার টাকা। উদ্ধারকৃত সিগারেট ও ল্যাপটপ ডিপার্টমেন্টাল মেমোরেন্ডাম মূল্যে জব্দ করে চট্টগ্রাম কাস্টমস হাউসের হেফাজতে রাখা হয়েছে। আটক যাত্রীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে মৌখিকভাবে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

আলোচিত খবর

ক্রুড অয়েলের সরবরাহ স্বাভাবিক উৎপাদনে ফিরবে একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি

সোশ্যাল শেয়ার কার্ড

এই কার্ডটি সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন

দীর্ঘ এক মাস বন্ধ থাকার পর আবার চালু হতে যাচ্ছে দেশের একমাত্র রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি পিএলসি।মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দীর্ঘ সময় ধরে ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) আমদানি ব্যাহত হওয়ায় গত ১৪ এপ্রিল প্রতিষ্ঠানটির ক্রুড অয়েল প্রসেসিং ইউনিট বন্ধ হয়ে যায়। যার প্রভাব পড়ে পুরো রিফাইনারিতে। ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত তেল) সংকট কেটে যাওয়ায় উৎপাদনে ফিরছে রিফাইনারিটি।সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ৭ মে থেকে প্রতিষ্ঠানটির অপারেশন কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে। এদিকে, বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশন জানিয়েছে, চলতি মাসের শেষদিকে সংযুক্ত আরব আমিরাত থেকেও আরও এক লাখ টন ক্রুড অয়েল আসার কথা রয়েছে।
বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রিফাইনারিতে সাধারণত সৌদি আরবের এরাবিয়ান লাইট এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের মারবান ক্রুড অয়েল পরিশোধন করা হয়। প্রতিবছর চাহিদা অনুযায়ী প্রায় ১৫ লাখ মেট্রিক টন ক্রুড অয়েল আমদানি করা হয়ে থাকে। কিন্তু সাম্প্রতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিতে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় গত ১৮ ফেব্রুয়ারির পর আর কোনো ক্রুড অয়েল দেশে আসেনি।

এতে করে প্রথমবারের মতো উৎপাদন বন্ধ করতে বাধ্য হয় প্রতিষ্ঠানটি, যা ১৯৬৮ সালে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরুর পর নজিরবিহীন ঘটনা।পরবর্তীতে বিকল্প রুট ব্যবহার করে তেল আমদানির উদ্যোগ নেয় বিপিসি। এর অংশ হিসেবে লোহিত সাগর হয়ে সৌদি আরব থেকে ‘এমটি নিনেমিয়া’ নামের একটি জাহাজে এক লাখ টন ক্রুড অয়েল দেশে আনা হচ্ছে। জাহাজটি ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছাবে এবং ৬ মে থেকে তেল খালাস শুরু হবে। ইস্টার্ন রিফাইনারির উপ-মহাব্যবস্থাপক (প্ল্যানিং অ্যান্ড শিপিং) মো. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, সৌদি আরব থেকে আমদানি করা এক লাখ টন ক্রুড অয়েলবাহী একটি জাহাজ ৫ মে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছাবে। জাহাজ থেকে তেল খালাস শেষে ৭ মে থেকে পরিশোধন কার্যক্রম শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, আপাতত ক্রুড অয়েলের বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই। চলতি মাসেই আরও একটি জাহাজ তেল নিয়ে দেশে আসার কথা রয়েছে, ফলে সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে।

আরও পড়ুন

সর্বশেষ